সেই বিষাদের ছায়া ঢেকে থাকায় শোরগোল করে আমার আর কোনোদিন জন্মদিন পালন করা হয়ে উঠল না ।
না আজ আমার জন্মদিন নয়, তবে দিনটা কাছিয়ে আসছে । জন্মদিন আর নববর্ষ এ দুটো দিন অবিমিশ্র সুখের দিন নয় । মনে করিয়ে দেয় এ দুই দিবস যে আরো একটি বছর চলে গেল আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে ।
সত্যি বলতে কী আমি শীতঋতুর জমানো ভক্ত । ল্যাংড়া আম খাওয়ার আনন্দও আমাকে মগজ-গ্রীষ্মের উষ্ণ দাবদাহের দালালী করাতে পারবে না । তার সাথে কাঁঠাল পাকানো গুমোট । ওয়াহ্ !
তবু মে মাসটা এলে আমি চাঙ্গা হয়ে উঠি । আমি বেশ কিছূ মোড় ঘোরানো ঘটনা ঘটেছে আমার এই মাসে । আর মে মাস আসলেই মনে পড়ে মে ফ্লাওয়ারের কথা ।
না, এপ্রিল ফুল নয়, মে'র ফুল আসলেই ফুল এবং ভীষনভাবে ইউনিক । একটা ফুট খানেক লম্বা ডাঁটার মাথায় বছরের একটাই ফুল ফোটে, এবং শুধু মে মাস জুড়েই থাকে ফুলটা । বড় সড় একটা ঝাড়নের মত, মস্ত লালচে গোলাপী ফুলটা । প্রতি বছর একটা করে কন্দ বা বাল্ব বাড়ে । একটা করে অতিরিক্ত ডাঁটা বাড়ে, একটা করে অতিরিক্ত ফুল ।
মে মাস গেলেই শুকিয়ে মরে যেতো ফুলটা । ওয়ানটাইম প্রস্ফুটন পার অ্যানাম ।
নিজের হাতে বাবা লাগিয়েছিলেন গাছটা । প্রতিবছর একটা করে অতিরিক্ত ফুল ফুটতো আর আমি ভাবতাম একটা স্পেশাল জন্মদিনের উপহার মিলল বোধহয়! দুঃখ করে একবার বলেছিলেন "বুদ্ধি করে তোর জন্মের সময় যদি লাগাতাম গাছটা! তাহলে তোর যত বয়স বাড়তো ততগুলো ফুল ফুটতো ঝোপটাতে!"
বাবার মৃত্যুর পরে ভাবতাম ঝোপটা একটা স্মারক হয়ে থাকল ।
বাগান সহ সেই বাড়ি ছেড়ে কংক্রিটের খাঁচায় এসেছি কবে । থানকুনি থেকে মর্নিং গ্লোরি, কাঠগোলাপ আর কোনের দেয়াল ঘেঁষে সেই মে ফ্লাওয়ারের ঝাড় এখন কেবলই স্মৃতি ।
তবু মে মাস এসেছে । আমার স্মৃতির বাগানে তো সবসময়েই মে ফ্লাওয়ার ফোটে ।
(কারো কাছে মে ফ্লাওয়ার ফুলটা থাকলে লিখতে পারেন, )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


