somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু : নেপথ্যে কোটি টাকার লেনদেন.....

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল-আরাফাহ ব্যাংকে কোটি টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের দায় চাপানোর চেষ্টা হয়েছিলো ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল হকের ওপর। ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তা ওই লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তারা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে এনামুলকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ কারণেই উপায়ন্তর না দেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন এনামুল। অবৈধ ওই ব্যাংক লেনদেনের সাথে এনামুলও জড়িত ছিলেন কি-না সেটি নিশ্চিত হয়া যায়নি। তদন্ত সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত সোমবার ঢাকার মতিঝিলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ভবনের ৭ম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান ব্যাংকটির ফার্স্ট অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক। ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহত এনামুলের মানিব্যাগে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে ৪ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এনামুল লিখে যান- এদের জন্যই তাকে দুনিয়া ছেড়ে যেতে হলো। ওই চিরকুটে আরও কিছু কথা তিনি লিখে গেছেন যা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। চিরকুটে লেখা ৪ জনের মধ্যে একজন তার সহকর্র্মী ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল আলীম খান। ৭ম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ার কয়েক মিনিট আগেও তাকে ফোন করেন এনামুল। তবে তাকে ঠিক কি বলেছিলেন তা জানা যায়নি। অবশ্য আনোয়ারুল দাবি করেছেন এনামুল তাকে ফোন করে বলেন, আমি দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছি, আমাকে আপনি মাফ করে দেবেন। আল-আরাফাহ ব্যাংকের দিলকুশা ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানকেও মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে ফোন করেন এনামুল। তাকেও বলেন, আমি দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছি। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও। তবে তাদের দুজনের সাথে ঠিক কী কথা হয়েছিলো তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই দুকর্মকর্তাসহ গত সোমবার এনামুল যাদের সাথে কথা বলেছিলেন সেসব কথোপকথনের রেকর্ড উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ওদিকে গতকাল আল-আরাফাহ ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফার্স্ট অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়রুল আলীম খানকে গতকাল প্রায় ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথম দফায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মতিঝিল থানায় দ্বিতীয় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকরামুল হক বলেন, পুলিশ আমাকে দিয়েই আলীমকে ডাকিয়ে আনে। আমার কক্ষেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এনামুলের সাথে তার কি কথাবার্তা হতো, কেনো তাকে ফোন করল, ফোনে কি বলেছিলো এসব বিষয়েই পুলিশ তাকে প্রশ্ন করে। গতকাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ৮ম তলায় আনোয়ারুল আলীমের সাথে দেখা করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। বলেন, আমি কোনো কথাই বলবো না। এমনিতেই পুলিশ আমার সাথে আসামির মতো আচরণ করছে। রাতভর থানায় বসিয়ে রেখে পুলিশ তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া চিরকুটে তার নাম নেই বলেও দাবি করেন আলীম। এছাড়া মুন্না, রাকিব ও রফিক নামের আরও ৩ জনের নাম চিরকুটে রয়েছে বলে পুলিশ যে তথ্য দিয়েছে তা বানোয়াট এবং মিথ্যা বলে দাবি করেন আলীম।
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মতিঝিল জোনের উপপুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। চিরকুটে রফিক, মুন্না, রাকিব ও আলীম এ ৪টি নাম আছে। এদের মধ্যে আলীমের পরিচয় ও পদবী সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও অপমৃত্যুর মামলাই হয়নি। পরিবারকে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। তারা অভিযোগ করলে পুলিশ আরও শক্তিশালীভাবে তদন্ত করতে পারে। তবে পরিবার অভিযোগ না করলেও পুলিশের পক্ষ থেকেই মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি। যোগাযোগ করা হলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকরামুল হক বলেন- রাকিব, মুন্না ও রফিক আমার ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী কি-না তা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রধান শাখায় প্রায় সাড়ে ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন সবার নাম জানা আমার পক্ষে সম্ভবও নয়। তবে এ নামগুলো আমি যাচাই করব।
ঘটনার তদারক কর্মকর্তা বাবুল আখতার ভূঁইয়া বলেন, চিরকুটে যে ৪ জনের নাম পাওয়া গেছে তারা সবাই নিহত এনামুলের সহকর্মী এবং আল-আরাফাহ ব্যাংকের কর্মকর্তা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সময়ের অভাবে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে। নিহতের স্ত্রী সেলিনা সাহিদ লিনা বলেন, আমার স্বামী বেশ চাপা স্বভাবের ছিলেন। তিনি অফিসের বিষয় আমাকে বলতেন না। তবে ব্যাংকে কিছু ঝামেলা চলছে তা আমি বুঝতে পেরেছিলাম।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×