বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যুদ্ধাপরাধ। গতবছর ২৬মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল ও তদন্ত সংস্থার নাম ঘোষণা ছিল চমকের বিষয়। কবে, কখন ওই নাম ঘোষণা করা হবে তা নিয়ে চলছিল নানামূখি আলোচনা। শেষ পর্যন্ত ওই তালিকা প্রকাশ করা হলেও বিচারের তালিকা কতদূর তা নিয়ে চলছে সংশয়। বিচার সম্ভব কিনা, বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইন আছে কিনা, কিভাবে বিচার করা যেতে পারে এমনতর নানান বিষয় ও অভিমতকে প্রসঙ্গ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে। তারমধ্যে ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস কমিটির ভূমিকা গবেষণাধর্মী হিসাবে সংগঠনটির আহবায়ক ডা. এম. এ হাসান ( ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি পাকিস্থানী বাহিনীর গুলিতে তার বড় ভাই লে. সেলিম নিহত হন। সেসময় আরো অসংখ্য মানুষ নিহত হন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে স্বাধীনতা লাভের পর। সেই থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অপরাধ সমুহের বিচার নিয়ে কাজ করার জন্য নানা তথ্য যোগাড় শুরু করেন। ওই ধারাবাহিকতায় ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত আল বেরুনী হাসপাতালটি বিক্রি করে দেন কাজ চালিয়ে যাবার জন্য।) যেসব কাজ করেছেন বিভিন্ন সময়ে তা থেকে কানাডিয়ান বেঙ্গলী টাইমসে প্রকাশিত সাক্ষাতকারটি অনুলিখন করা হয়েছে সাপ্তাহিক গাজীপুর দর্পণের পাঠকের জন্য।
যুদ্ধ মানে নিষ্ঠুরতা এবং মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসন। তবুও কখনো যুদ্ধ করতে হয় নিজেদের বাঁচাবার জন্য, আত্মরক্ষা করবার জন্য, একটি জাতিকে টিকিয়ে রাখবার জন্য। তাই প্রতিরোধ যুদ্ধের সঙ্গে আগ্রাসী যুদ্ধের রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। প্রতিটি আগ্রাসী যুদ্ধই রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। একে রাষ্ট্র পরিচালিত সংঘবদ্ধ সর্বোচ্চ পর্যায়ের সন্ত্রাস বলা যেতে পারে। খৃস্টপূর্ব তিন শতক থেকে অর্থাৎ আলেকজান্ডার এর সময় থেকে বিশ শতক পর্যন্ত কমপক্ষে দেড় ডজন বড় মাপের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে। এসব যুদ্ধের কোনো কোনোটি চলেছে শতবর্ষব্যাপী কিংবা তারও বেশি সময় ধরে। জাতিগত সংঘাতসহ সব ধরনের যুদ্ধ এবং সংঘাতগুলো পর্যালোচনা করলে অনুধাবন করা যায় যে সব যুদ্ধই মানব বিধ্বংসী ও মানবতাবিরোধী। তবে ভয়ঙ্কর যুদ্ধগুলোর মধ্যেও কিছু নিয়মনীতি মানা হয়েছে। অনেক যুদ্ধেই সাধারণ মানুষ, নিরস্ত্র মানুষ, আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধা, যুদ্ধবন্দী, নারী ও শিশুদের খুব কম আঘাত করা হয়েছে। গত দুশ’ বছরের যুদ্ধগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যেখানেই জাতিগত বিদ্বেষ, ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা, যুদ্ধ এবং ভায়োলেন্সের কারণ হিসেবে কাজ করেছে সেখানেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো ব্যাপকহারে সংঘটিত হয়েছে। প্রতিটি প্রতিশোধ যুদ্ধ ও প্রতিহিংসাপূর্ণ আঘাতের সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জেনেভা কনভেনশনের মাধ্যমে যুদ্ধের নিয়মনীতি, যুদ্ধবন্দী এবং নিরীহ জনসাধারণসহ নারী ও শিশুর প্রতি আচরণগুলোকে সংযত ও সীমিত করার আইন পাশ করেছিল লিগ অফ নেশনস। একই সঙ্গে ব্যক্তি এবং স্থাপনার ওপর আক্রমণগুলোকেও সংযত ও সীমিতকরনের আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ যুদ্ধের এসব আইন কানুন এবং জেনেভা কনভেনশনের বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও আমরা দেখেছি সভ্য, অসভ্য সব ধরনের শক্তিমানরাই নিজেদের হীনস্বার্থ ও প্রতিহিংসার কারণে আঘাত করেছে সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধাপরাধ আইন সেই সমস্ত অপরাধকে বিবেচনায় আনে যা কি না যুদ্ধের সময়ে সংঘটিত হয়। এতে আক্রমণকারী ও তার সহায়ক শক্তি জেনেভা কনভেনশন ভঙ্গ করে, যুদ্ধ ও সংঘাতে প্রযোজ্য আইনের সীমা অতিক্রম করলে তা যুদ্ধাপরাধ বলে পরিগণিত হয়। উদাহরণস্বরূপ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হত্যা বা বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে আক্রমণ করে যুদ্ধ সংঘটন বৈধ নয়। শক্রর দেহ খন্ড বিখন্ড করণ, তাকে বন্দী করে নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, সাধারণের সম্পত্তি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ সবই অবৈধ। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ প্রতিরক্ষাবিহীন স্থান ও স্থাপনার ওপর আঘাতও যুদ্ধাপরাধ। এমনকি লক্ষবস্তুর বাইরে সীমাহীন আঘাতের মাধ্যমে ধ্বংস সাধন, হত্যা ও শারীরিক ক্ষতিসাধনও যুদ্ধাপরাধ। অন্যায়ভাবে আটকিয়ে অথবা পরিকল্পিতভাবে কষ্ট ও দুর্ভোগ সৃষ্টিও যুদ্ধাপরাধ। জেলে হত্যাকান্ড ও নারী নির্যাতন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধগুলোর অন্যতম। এটা মানবতার বিরুদ্ধেও অপরাধ। মানবতাবিরোধী অপরাধ আইনের পরিধি অনেক বিস্তৃত। সেখানে হত্যা, ধর্ষণ, গুম থেকে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭১ এ পাকিস্থানি যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের দোসররা এ দেশের মাটিতে প্রায় ৫৩ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে। মোটা দাগে তারা ১৭ ধরনের যুদ্ধাপরাধ, ১৩ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ৪ ধরনের গণহত্যাসংক্রান্ত অপরাধ ঘটায়। ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত রেজুলেশন ২৬০(৩) এর অধীনে গণহত্যাকে এমন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় যা বিশ্বময় প্রতিরোধে সকল রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। এই গণহত্যা বলতে বোঝায় এমন কর্মকান্ড যার মাধ্যমে একটি জাতি, ধর্মীয় সস্প্রদায় বা নৃতাত্ত্বিকগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস নেয়া হয়েছে বা হচ্ছে। এটি প্রতিষ্ঠিত যে, ১৯৭১ এ এ দেশের মাটিতে ব্যাপক হত্যাকান্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঘুমন্ত বাঙালি জাতির ওপর অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্থানি বর্বর বাহিনী ও তাদের দোসররা যে যুদ্ধ শুরু করে তা কোনো অভ্যন্তরীণ সংঘাত, নাগরিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ দমন বা দাঙ্গা ছিল না। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ দমনও ছিল না। এটা ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা এবং একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করবার নিষ্ঠুরতম প্রক্রিয়া। বেপরোয়া হত্যা, গণধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ এবং অন্যায়ভাবে নিরপরাধ মানুষগুলোকে বন্দী করে পাকিস্থানি শাসকেরা অন্যতম বৃহৎ একটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকর্ম সম্পন্ন করে। এরপর তারা প্রতারণামূলকভাবে একটি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধকে বিদ্রোহ বলে অভিহিত করে তাদের সীমাহীন অপরাধগুলোকে লঘু করার চেষ্টা করে।
হানাদার পাকিস্থানি সেনারা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও সামগ্রিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্মূল করার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে এদেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের। এ কারণে তারা যেমন স্থানে স্থানে হানা দিয়ে বেছে তরুণদের আটকিয়ে, চোখ বেঁধে নিয়ে গেছে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের জন্য, তেমনি ঘরে ঘরে হানা দিয়ে তাদের সহযোগী শক্তি আলবদর বেছে দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ ও গুম করে নির্মমভাবে তাদের হত্যা করেছে দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য। সাধারণ অর্থে এ অপরাধকর্ম গণহত্যা বলে বিবেচিত হলেও আইনগতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের বিষয়টি ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি অফ মার্ডার এর আওতাধীন হবে। এতে ন্যায়বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না এবং বিচারের সময়সীমা সকল প্রতিবন্ধকতা মুক্ত থাকবে। গণহত্যা প্রমাণের বিষয়টি শক্ত বিষয় হলেও '৭১ এ বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকান্ডগুলোকে গণহত্যা বলে অস্বীকার করার কোনো পথ নেই। যেখানে হিন্দুকে হিন্দু বলে হত্যা করা হয়েছে বা হিন্দু নারীর স্বামীকে হত্যা করে তাদের পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, হিন্দুর জন্ম ঠেকানোর জন্য তখন তা গণহত্যা বলেই প্রতিষ্ঠিত হবে। এমন ঘটনা অসংখ্য ঘটেছে। বাঙালিকে যখন বাঙালি বলে নিধন করা হয়েছে তখনো তা গণহত্যা বলেই বিবেচিত হবে। এ পর্যন্ত গণকবর ও গণহত্যার স্পট আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ৯২০টি। ৮৮টি নদী ও ৬৫টি ব্রীজের উপরে হত্যা নির্যাতনের শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। চার লাখ ষাট হাজার নির্যাতিত নারীর পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে। পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে বর্বর পাকিস্থানি বাহিনী ও তার দোসররা '৭১ এর নয় মাসে এক কোটিরও বেশি বাঙালিকে ঘর ছাড়া করে ফোর্স মাইগ্রেশনে বাধ্য করে। এটাই তো একটা বড় যুদ্ধাপরাধ। প্রমাণ রয়েছে যে প্রথম ছয় মাসে হত্যা ও ধর্ষণের পর সম্মান ও সম্পদ লুট করে ভিটেমাটিতে আগুন দিয়ে ৬৯.৭১ লাখ হিন্দুকে দেশ ছাড়া করে তারা এথনিক ক্লিনজিং এর কাজটি সমাধা করেছিল। তারা দেশে প্রায় তিন হাজার হিন্দুকেও জোর করে ধর্মান্তরিত করেছিল। যুদ্ধের নয় মাস পাকিস্থানি সেনারা যে কতোভাবে আমাদের নারীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তা ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ না করলে বোঝা যাবে না। শহর ও গ্রামের যুবতী নারীকে এরা কখনো বন্দী করে নিয়ে গেছে নিজেদের ক্যাম্পে ও বাংকারে। দিনের পর দিন সেখানে তাদের আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করেছে, ইচ্ছা মতো সম্ভোগ করেছে। তাদের ঘাঁটি ও ক্যাম্পের আশপাশের অনেককে বাধ্য করেছে দিনের পর দিন তাদের কাছে হাজিরা দিতে। কখনো স্বামীহারা মেয়েদের তারা নির্দেশ দিয়েছে নিজ ঘরে থাকবার জন্য, পাহারার ব্যবস্থা করেছে যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে অন্য কোথাও। এরপর এসব মেয়েকে কাউকে কাউকে পাকিস্থানি সেনাদের সম্মিলিত সম্ভোগের জন্য যৌনকর্মীর মতো ব্যবহার করেছে। এসব নারীকে অসংখ্য পাকিস্থানি আর্মি সম্ভোগ করেছে, ইচ্ছা মতো তাদের এক স্থান থেকে আর এক স্থানে নিয়ে গেছে, ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরিয়েছে। ক্যাম্পের পরিবর্তন হলে তাদের সঙ্গে নিয়ে গেছে পরবর্তী গন্তব্যে। ১৯৭১-এর নয় মাসে বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত যাবতীয় অপরাধের জন্য আমরা দায়ী করতে পারি পাকিস্থান সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পাকিস্থান সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ফোর্স রাজাকার, আলবদর, আলশামস, ইপিসিএফ ও রেঞ্জার্সসহ পাকিস্থান সিভিল আর্মড ফোর্সের সব সদস্য, তাদের দোসর, শান্তি কমিটির সদস্য এবং বিহারিদের। আমরা যেমন দায়ী করতে পারি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ ইয়াহিয়া, টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী, জাহানজের আরবার প্রমুখ শীর্ষ পাকিস্থানি কর্মকর্তাদের, তেমনি দায়ী করা যায় তাদের অধস্থন সেনা অফিসার মেজর নাদের পারভেজ ও মেজর শেরওয়ানির মতো ব্যক্তিকে। যে সব রাজাকার, আলবদর, আল মুজাহিদ, ইপিসিএফ এর সদস্য পাকিস্থাানি সেনাদের দোসর হয়ে হত্যা, ধর্ষণ ও গুম সাধনে সরাসরি অংশ নিয়েছে বা এসব নষ্টকর্মে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে তাদের বিচার হতে হবে। '৭১ যারা পাকিস্থানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে তাদের অনেকেরই ধারণা যে নিজ হাতে গুলি না চালালে বা ধর্ষণ কাজে নিজে অংশ নিতে না চাইলে আইনের বিচারে তারা নিষ্কলুষ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, যে সব অক্সিলারি ফোর্সের সদস্য হত্যা, ধর্ষণে সহায়তা করেছে এবং অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে তাদের প্রত্যেকেই ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। জেনে বুঝে ঘাতক আলবদর বাহিনীর সদস্য হওয়ার কারণে তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের অধিকাংশ সদস্যেরই বিচার হতে হবে ন্যায়ের স্বার্থেই। তৎকালীন জামায়াতে ইসলাম, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, পিডিপি ও জামায়াতে উলেমার যেসব নেতা এবং শান্তি কমিটির সদস্য বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে মুক্তিকামী জনতা নির্মূলে প্রণোদনা সৃষ্টি করেছে, অস্ত্র নিয়ে বা অস্ত্র ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি বিনাশে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছে, স্বাধীন বাংলাদেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংঘটিত করেছে তারা সবাই আর্ন্তজাতিক আইনের সংজ্ঞায় ক্ষমাহীন অপরাধ সাধন করেছে। ফলে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কেউ আইনের ফাঁক গলিয়ে বের হতে চাইলেও মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য তাকে অভিযুক্ত করা সম্ভব।
গণহত্যা যেখানে হোক, যেভাবে হোক, যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন তার বিচার হতে হবে। প্রতিশোধ নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নয়, ন্যায়ের জন্য এবং মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যই বিচার হতে হবে। এই বিচারে রাষ্ট্র হবে বাদী। অপরাধটি সমগ্র বিশ্ব ও মানবতার বিরুদ্ধে হওয়ার কারণে সমগ্র বিশ্ব সমাজের দায়বদ্ধতা রয়েছে এই বিচার সম্পাদনের ব্যাপারে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের রয়েছে বাধ্যবাধকতা। তবে গণহত্যাকান্ডের বিচারের জন্য প্রথম উদ্যোগটি নিতে হবে দেশের ভেতর থেকেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের সংবিধানে ঘোষিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর অধীনে বিচারের সুযোগ রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে ক্ষমা করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের নেই। এজন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা করে সবকিছুর সমন্বয় করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

