somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামাতি কুযুক্তি

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সম্প্রতি বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলা যায় যখন তখনও নানান আলোচনা চালু আছে। পক্ষে বিপক্ষে নানান মতের অভাব নেই। যারা বিরোধিতা করে, কেন করে সেই বিষয়ই এখানে আলোচনা করার চেষ্টা। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে জামাতসহ বেশ কিছু লোকের নানান ধরনের বক্তব্য শুনা যাচ্ছে। বিচার করা সম্ভব কি না? এত বছর পরে বিচার করার কোন বাস্তবতা আছে কি না? আমাদের আইনে বিচার করার সুযোগ কতটুকু? তাহলে তাই দেখা যাক। সব কিছু বাদ দিচ্ছি, ওয়ার ক্রাইম ট্রাইবুনাল অ্যাক্টের ধারা ৩ এর ৫ নম্বর উপধারা কি বলে? গণহত্যায় সহযোগীতা করা কিংবা যে কোনো ভাবে সমর্থন জানানো ও যুদ্ধাপরাধ । ২৫ মার্চ রাত থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কি কাজ করছিল? পাকিস্তান সেনাবাহিনী কি গণহত্যা চালাচ্ছিলোনা? ২৫ মার্চ রাতে শুধু মাত্র ঢাকাতেই কত হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিলো পাকবাহিনী? ২৫ মার্চের পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে কারা পাকবাহিনীকে সমর্থন জানিয়েছিলো? পাকবাহিনীকে সমর্থন জানিয়ে গোলাম আজম নিজামীদের শত শত বিবৃতি আছে । ১৯৭১ এর মে মাসে খুলনায় জামায়াতের ৯৬ সদস্য নিয়ে যে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয় সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে সেই বাহিনী টিক্কা খানের সামরিক অধ্যাদেশ বলে নিয়মিত বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নথিবদ্ধ হয়। এরা সেনাবাহিনীর মতোই বেতনভুক্ত ছিলো । রাজাকার ছাড়া আলবদর ও আলশামস নামে বাহিনীগুলো গঠিত হয় এগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কারা ছিলো? রাজাকার আলবদর আলশামস বাহিনী তৈরী হয়েছিলো পাকবাহিনীর সহযোগীতা করার জন্য । পাকবাহিনী নয় মাস জুড়ে গণহত্যা চালিয়েছিলো । সুতরাং পাকবাহিনী যদি গণহত্যার জন্য দায়ী হয় তাহলে এদের সহযোগী বাহিনী সমুহ এবং এইসব বাহিনীতে যুক্ত জামাতের নেতৃবৃন্দ সেই দায় এড়াবে কি করে? দায় এড়াতে হলে তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিকৃত ভুখন্ডে পাকিস্তান আর্মি কোন গণহত্যা চালায়নি । সংখ্যাটা ৩০ লক্ষ না হয়ে ৩০ হাজার কিংবা ৩ হাজার ও যদি হয় সেটা গণহত্যা হবে, গণহত্যা হলে যুদ্ধাপরাধ হবে, যুদ্ধাপরাধ হলে পাকিস্তান আর্মি ও তার সহযোগী ও সমর্থক জামাত ও যুদ্ধাপরাধী বলেই বিবেচিত হবে । এবার দেখা যাক, নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য জামায়াত যে সব যুক্তি দেখায় সেগুলোর অসারতা কতটুকু। প্রথমতঃ জামায়াত ইদানিং বলছে, শেখ মুজিব যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ১৯৫ জন পাকিস্তানী সৈন্যকে হস্তান্তর করেছিলেন শিমলা চুক্তির আওতায় । সুতরাং ওই ১৯৫ জন্য ছাড়া আর কেউ যুদ্ধাপরাধী নয়, খুবই হাস্যকর যুক্তি । ওই ১৯৫জন পাকিস্তানী সৈন্য এতোবড় হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলো ? ১৬ ডিসেম্বরে আত্নসমর্পন করা ৯৩,০০০ পাক আর্মি তাহলে নির্দোষ ছিলো ? বস্তুতঃ এই ১৯৫ ছিলো একটা স্মারক সংখ্যা মাত্র । ১৬ ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান সরকার তার সেনাবাহিনীকে ফিরিয়ে নিলেও রাজাকার আল বদরদের ফিরিয়ে নেওয়ার কোন চুক্তি হয়নি । সুতরাং ওই চুক্তির আশ্রয়ে জামাতিদের বাঁচার সুযোগ নেই । এখানে আরো বলা যেতে পারে, শেখ মুজিবের সকল সিদ্ধান্তই ধ্রুব নয় । শেখ মুজিব যদি দালালদের ক্ষমা করেও থাকেন তাহলে ও সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে, কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, বাকশালের মতো সিদ্ধান্ত যদি বাতিল হতে পারে তাহলে দালাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল হতে আপত্তি কেনো ? যে শেখ মুজিবের রাজনীতির চরম বিরোধী জামাত, নিজেদের জান বাঁচানোর সেই শেখ মুজিবের দোহাই দেয়া জামাতি রাজনীতির দৈন্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়। দ্বিতীয়তঃ জামাতিরা বলে, তারা যদি আসলেই অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে গত ৪০ বছরে কেনো কেউ তাদের বিচার করলোনা ? এই বিচার না করাই নাকি তাদের নিরপরাধের প্রমাণ ? বিচার না হলেই কি অপরাধী নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে যায় ? অপরাধ কি পুরাতন হয়? পৃথিবীতে বহু হত্যা, বহু অপরাধের বিচার হয়নি । কারবালার মর্মান্তিক হত্যাকান্ড ঘটালো যে ইয়াজিদ তার ও তো বিচার হয়নি, বিচার হয়নি চেংগিস, হালাকু খানদের, বিচার হয়নি জালিওয়ানোয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের । এইসব বিচার না হওয়ার পেছনে অনেক রাজনীতি আছে । বিচার হয়নি বলেই ইতিহাস ইয়াজিদকে নির্দোষ ঘোষণা করেনি, বিচার হয়নি বলেই জামাতিরা নিজেদের নির্দোষ দাবী করতে পারেনা । চতুর্থতঃ গোলাম আজমের নাগরিকত্ব মামলার রায়কে উদাহরণ হিসেবে টেনে জামাতিরা নিজদের নির্দোষ প্রমাণ করতে চায় জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার আইন অনুযায়ি (ধারা ১৩) জন্মসুত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব বাতিল কিংবা কাউকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া বা দেশে ঢুকতে বাধা দেয়া যায়না । আদালতের রায়ে গোলাম আজম নাগরিকত্ব পেয়েছে কারণ মামলা ছিলো নাগরিকত্বের, যুদ্ধাপরাধের নয়। এই মামলার রায় কোনভাবেই প্রমাণ করে না যে সে যুদ্ধাপরাধী নয় । বরং এই মামলার রায় তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার করাকে আরো সহজতর করেছে, কারণ এখন সে বাংলাদেশের নাগরিক । বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাইলেই তার নাগরিকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিচার কার্য সম্পাদন করতে পারে এর জন্য কোন কুটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই । জামাতিদের বাঁচানোর জন্য কেউ কেউ দাবী তুলছেন প্রচলিত আইনে বিচার করার । পৃথিবীর কোথাও গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রচলিত আইনে হয়নি । নুরেমবার্গ কিংবা বসনিয়া গণহত্যার জন্য সার্বিয়ান জেনারেলদের বিচার সবই বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে হয়েছে। তাই প্রচলিত আইনে বিচার করা একটা চরম ফাঁকিবাজি মাত্র । এর মাধ্যমে জনগনের চোখে ধুলো দেবার আয়োজন করা হবে । তাই সচেতন সকলকে দাবী উত্থাপন করতে হবে বিশেষ ট্রাইবুন্যালের । রাষ্ট্রকে নিজে বাদী হতে হবে কারণ জামাতিদের অপরাধ ছিলো স্বয়ং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে । আর যুদ্ধাপরাধীর বিচার করাই শেষ কথা নয়, বন্ধ করতে হবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি । যেহেতু নিরংকুশ ভাবে সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোই এদেশের জন্মযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো সেহেতু এ দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চলতে পারেনা । যে রাজনীতি রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিতা করেছিলো, সেই রাজনীতি রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করবে এমন ইউটোপিয়া থেকে বের হয়ে আসা খুব জরুরী।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×