'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম'
বর্তমান বিশ্বে পর্দাহীনতা বা কে কত বেশী খোলামেলা, বেহায়াপনা
ও উলঙ্গপনা দেখাতে পারে তার নিত্য নুতন প্রতিযোগিতা চলছে ও তার জন্য কলা কৌশল বের করা হচ্ছে। বাড়ীতে মেয়ে কিংবা স্ত্রীকে একজন বেগানা পুরুষের পাশে বসে আলাপ-আলোচনা ও গল্প-গুজব করতে দেখেও বাড়ীর গার্জিয়ান পিতা বা স্বামী কিছুই বলেন না। বরং তিনি যেন এরুপ একাকী আলাপ-আলোচনায় খুশীই হন। মহিলাদের কোন বেগানা
পুরুষের সাথে একাকী বাইরে যাওয়াও দাইয়ুছী বা পর্দাহীনতার ভিতর গণ্য।
এছাড়া যে সমস্ত অশ্লীল গান-বাজনা, উলঙ্গ ও নির্লজ্জ ছবি সম্বলিত ক্যাসেট, ফিল্ম, সিডি ও পত্র-পত্রিকা যা শান্তিপূর্ণ একটা সমাজ বা পরিবেশকে কলুষিত করে ও অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায় সেগুলি আমদানী করা ও বাড়ীতে স্থান দেওয়াও দাইয়ূছী কাজের অন্তর্ভূক্ত।
'দাইয়ূছ' একটি আরবী শব্দ । শরীয়াতের পরিভাষায়, যে নারী বা পুরুষ
পর্দা মানেনা তাকে দাইয়ূছ বলা হয়।আমাদের মধ্যে একটা ভুল ধারনা
বিদ্যমান , আর তা হলো দাইয়ুছ বলতে আমরা শুধুমাত্র পর্দাহীন নারীকেই বুঝি। কিন্তু পর্দা কি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই শরীয়াত নির্ধারিত করেছে?
অবশ্যই না । বরং নারীর পর্দার আয়াত নাযিলের পূর্বেই পুরুষের পর্দা ফরয করা হয়েছে। হয়ত আমরা অনেকেই জানিনা অথবা জানলেও না
জানার ভান করি অথবা মানিনা। ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রসূল (সঃ) বলেছেন, " আল্লাহ তা'য়ালা ৩ ব্যক্তির জন্য জান্নাতকে হারাম করে
দিয়েছেন।
(১) মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি,
(২) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং
(৩) 'দাইয়ূছ' অর্থাৎ যে নিজ পরিবারের মধ্যে বেপর্দা ও বেহায়াপনাকে জিইয়ে রাখে, এ ব্যপারে কোন সতর্কতা অবলম্বন করেনা।"
আহমাদ ২/৬৯, ছহীহুল জামে হাদীছ নং ৩০৪৭ ।
আমরা এমন এক বর্তমান সময়ের মুসলিম, যারা আল্লাহ এবং তাঁর
প্রেরিত রসূলকে বিশ্বাস করি, কিন্তু মানিনা। আসুন আমরা যারা মানিনা
তারা সকলে ধর্মকে জেনে বুঝে মানার চেষ্টা করি। আমরা যেন 'দাইয়ূছের' অন্তর্ভূক্ত না হই, এ জন্য যা আমাদের করনীয় তা যেন আমরা যথার্থভাবে
করতে মহান রব আমাদের সকলকে সে তৌফিক দান করুন । আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


