প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, বিএনপি'র ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল থেকে আসা কর্মীরাই এ ধরণের সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সহিংস কার্যকলাপের ব্যাপারে বিরোধীদলীয় নেত্রীর সমালোচনার জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিডিআর বিদ্রোহ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর নিজ নিজ সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিন মঙ্গলবার প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়।
শেখ হাসিনা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের ব্যাপারে বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অন্তর্কলহের কারণে গত কয়েকমাসে বেশ কিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আদর্শগত বিষয়ের চেয়ে ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদা ও টেণ্ডারবাজিই এর মূল কারণ বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সংগঠনের নেতারা বলেছেন, ছাত্রলীগে নতুন যোগ দেওয়া 'বহিরাগতরাই' এজন্য দায়ী।
দৃশ্যত ছাত্রলীগের অব্যাহত কোন্দল ও সহিংসতার জন্যই গত ৩ এপ্রিল শেখ হাসিনা সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও সংসদে শেখ হাসিনা দাবি করেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী কোন ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকতে পারেন না বলেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে খালেদা সংসদে বলেন, "ছাত্রলীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হলগুলো দখল করে নিচ্ছে। ..দেশে শান্তি, স্থিতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে তারা ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রক্ত ঝরছে।"
শেখ হাসিনা বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতাকে ইঙ্গিত করে বলেন, "যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদত দেয়, যারা যুদ্ধাপরাধীদের মদত দেয়, পিলখানার ঘটনা তাদের দ্বারাই ঘটানো সম্ভব। উনি (খালেদা জিয়া) যে চেয়ারে বসে আছেন, সে চেয়ারে জাতির জনকের হত্যাকারীদের বসিয়েছিলেন। "
হাসিনা বলেন, "যখনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলা হয়েছে, তখনই এ ঘটনা ঘটলো। সরকারের মাত্র ৫০ দিনের মাথায় পিলখানার ঘটনা ঘটে। আমরা দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে সঙ্কটের সমাধান করেছি।"
তিনি বলেন, তারাই (বিএনপি) যুদ্ধাপরাধীদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাদের পুনর্বাসিত করেছে। তাদেরকে সংসদে বসিয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সরকারের পদক্ষেপের ব্যাপারে সংসদে খালেদা জিয়ার সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিণতির কথা ভেবেই সেনাবাহিনীকে অভিযান চালাতে বলা হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,"সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করতে বলিনি। এটা করলে কী অবস্থা হতো সেটা কি তিনি ভেবে দেখেছেন?
"তিনি (খালেদা) অনেক খবর রাখেন। কিন্তু বিডিআর এর কাছে কোন ভারী অস্ত্র ছিলো না এ কথাটা কি ঠিক? সেখানে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিলো, তারা হেলিকপ্টারে গুলি চালায়।"
হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন,"সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে নির্বাচনে সহায়তা করেছিল বলেই কি তাদের হত্যা করা হয়েছে?"
সোয়া একঘন্টার বক্তব্যে পিলখানার ঘটনার তদন্ত যেন সঠিকভাবে হতে পারে সেজন্য বিরোধীদলের সহায়তাও চান তিনি।
খালেদাকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, "সকাল নয়টা ৩৫ বা ৩৭ মিনিটে যখন গোলাগুলি শুরু হলো তখন তিনি কালো কাঁচের গাড়িতে করে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন?"
হাসিনা বলেন, "নীতি ও আদর্শের মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু রাজনীতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে একসাথে লড়াই করতে হবে।"
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, "ধৈর্য্য ধরুন। এমন কিছু করবেন না যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দেশের ইমেজ বিদেশে নষ্ট হয়। ২০০৭ এ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। আপনাকে ও আমাকে জেলে যেতো না।"
হাসিনা আরো বলেন, "জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমাদের সময় দিতে হবে জনগণের মঙ্গল করতে। খারাপ কিছু করবেন না। এর ফল ভালো হয় না। এর ফল আমরা পেয়েছি।"
বিএনপির জ্যেষ্ঠ সাংসদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, "কারা বিডিআর সদস্যদের পোষাক পড়ে হত্যা করিয়েছেন? কারা এই পরামর্শ দিয়েছে? অর্থ সরবরাহ করেছে? আমি তো শুনেছি ওনার পাশে যিনি বসে আছেন তিনিই এগুলো করেছেন। পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর তিনি সেখানে ভারতের পতাকা উড়িয়েছিলেন।"
প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, তার সরকার দূর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক
তাহলে কি ছাত্রলীগ ধোয়া তুলসি পাতা! যদি শিবির বা ছাত্রদল এ সকল কাজ করবে তাহলে আপনি কেন ছাত্রলীগ এর সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন? অন্যের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে কিভাবে ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রনে আনা যায় সেই চেস্টা করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


