somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট এবং সৈয়দ আশরাফুল ও মতিয়া চৌধুরীর কঠোর প্রতিক্রিয়া

২০ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টের সরকারি বিরোধিতায় মানুষ স্তম্ভিত
পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ড সম্পর্কে সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের প্রতিক্রিয়ায় জনগণকে স্তম্ভিত করেছে। অনেকের এমনকি �ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না' ধরনের প্রবাদের কথাও মনে পড়ে গেছে। প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মুখপাত্র এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও আগ বাড়িয়ে দৃশ্যপটে হাজির হয়েছেন। দু'জনই সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তুলে ধরেছেন তাদের আপত্তির নানাদিক। সরকার এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি ও নেতৃবৃন্দকে জড়িত করার উদ্দেশ্য নিয়েই নাকি রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে- এমন অভিযোগও করেছেন তারা। মূলকথায় তারা সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টকে প্রকারান্তরে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিডিআর বিদ্রোহের নামে গত ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডসহ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য সেনাবাহিনী তার নিয়মানুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ২০ সদস্যের সে তদন্ত কমিটিই গত ১০ মে রিপোর্ট পেশ করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের হাতে রাত ১১টায় রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন। এর একটি কপি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাওয়ার কথা। তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য ছিল নিহত সেনা অফিসারদের পরিবারগুলোকে সহায়তা করা। দুর্ঘটনায় কোনো অফিসারের মৃত্যু হলে পরিবারকে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য যে ধরনের তদন্ত কমিটি করা হয় এটা ছিল সে ধরনেরই একটি কমিটি। গাইডলাইন এবং কঠিন টার্মস অব রেফারেন্সের কারণে তদন্ত কমিটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত যেমন করতে পারেনি, তেমনি তার রিপোর্টও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি। তদন্তকালে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে এলেও এখতিয়ার না থাকায় রিপোর্টে সে সবের উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষ কিছু রাজনীতিক ও ব্যক্তির জড়িত থাকার ব্যাপারে জানতে পারলেও এখতিয়ার ছিল না বলে তাদের ব্যাপারে কমিটি কোনো কথা বলতে পারেনি। রিপোর্টেও এসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রিপোর্টে যেটুকু এসেছে তার সবই আসলে হত্যাকান্ডের পর পর এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। জনগণও সেসব জেনে গেছে। কিন্তু যেটা এখনো অপ্রকাশিত রয়ে গেছে তা হলো, হত্যাকান্ডের পেছনে ঠিক কারা বা কোন শক্তি ছিল।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই হত্যাকান্ড কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না। এর পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনা করাও হয়েছিল অনেক আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে। বিডিআরের মধ্যে কিছু বিষয়ে ক্ষোভ ছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা তা জানতো এবং সে ক্ষোভকেই তারা কাজে লাগিয়েছে। বিডিআর সদস্যরাও বিভিন্ন সময়ে নিয়ম-শৃংখলা ভঙ্গ করে বিশেষ কিছু রাজনীতিক ও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছে। সে সব রাজনীতিক ও ব্যক্তির নাম এবং তাদের সঙ্গে বিডিআর সদস্যরা কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে- সবই জানতে পেরেছে তদন্ত কমিটি। আওয়ামী লীগের একজন নেতার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবেই জানা গেছে। নির্বাচনের আগে তিনি পিলখানায় বহুবার বৈঠক করেছেন এবং এমপি হতে পারলে তাদের সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন। তার সঙ্গেও ঘাতকদের বৈঠকের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেনা অফিসারদের হত্যা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের আগে জানানো হয়নি। কথা ছিল কয়েকজনকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা হবে। কিন্তু গোপন পরিকল্পনায় যারা অংশ নিয়েছিল তারা হঠাৎ গুলী বর্ষণ শুরু করে। প্রথম ব্রাশ ফায়ারে ১৩ জন অফিসারের মৃত্যু ঘটেছিল। তখনই পূর্ব পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। নিজেদের বাঁচানোর জন্য বাকি সেনা অফিসারদের হত্যা করে তারা। তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা ছিল ঘটনায় সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে ফেলা। সেনাবাহিনী জড়িয়ে পড়লে দেশে বিশৃংখলার সৃষ্টি হতো এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়তো। এতে সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে যেতো। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করাও পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেয়া হয়েছে। ঘাতকরা এ সময়েরই সদ্ব্যবহার করেছিল।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টে সাধারণভাবে নতুন কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন যখন তার দুই সঙ্গী- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজম এমপিকে সঙ্গে নিয়ে তথাকথিত শান্তি আলোচনা চালাচ্ছিলেন ঘাতকরা তখন একদিকে সেনা অফিসারদের কচুকাটা করছিল অন্যদিকে লাশগুলোকে গণকবরে ঢোকাচ্ছিল। কয়েকজন অফিসারের লাশ তারা ড্রেনেও ফেলে দিয়েছিল। এসবই জনগণ জেনে গেছে। প্রমাণিত হয়েছে যে, শান্তি আলোচনার নামে আসলে ঘাতকদের যথেষ্ট সময় দেয়া হয়েছিল। এতদিন পর এসব বিষয়ে নতুন করে এসিড টেস্টের কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না।
কিন্তু তা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীনরা হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠায় স্বভাবতই জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ মে যুবলীগের সমাবেশে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তা সাধারণ মানুষকে পর্যন্ত স্তম্ভিত করেছে। তিনি সরাসরি বলে বসেছেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট নাকি �উদ্দেশ্যপ্রণোদিত'! তিনি বলেছেন, রিপোর্টটি যদি সত্য হয় তাহলে বলবো, সত্যকে আড়াল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটা করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য নাকি জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী-এমপি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে জড়িত করা। দলের নেতাকর্মীদের �তৈরি থাকার' আহবান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মনে হচ্ছে, বিডিআর ঘটনা নিয়ে ধূম্রজাল ছড়িয়ে আওয়ামী লীগ, প্রকারান্তরে সরকারকে জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিডিআর ঘটনা নিয়ে টেলিভিশনে টকশো'র নামে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট হাতে নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টকে সৈয়দ আশরাফ অসম্পূর্ণ ও নতুন একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, বিডিআর ঘটনার পেছনে কি মোটিভ ছিল রিপোর্টে তার উল্লেখ নেই। ঘটনার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী বা স্বাধীনতা বিরোধীরা জড়িত কি না তার উল্লেখ নেই। ওই সয় পিলখানায় সেনা অভিযান চালালে কি পরিণতি হতো, এতে হতাহতের পরিমাণ কি হতে পারতো বা সাধারণ মানুষের কি পরিস্থিতি হতো তাও বলা হয়নি। কারা নৌকায় করে বিডিআর সদস্যদের নদী পার করে দিল তারও উল্লেখ নেই রিপোর্টে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও দারুণ শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্রোহীরা ছাই, কমলা ও হলুদ রঙের যে রুমাল মুখে বেঁধেছিল সেগুলো নাকি বাংলাদেশে তৎপর বিশেষ একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর তিনটি স্তরের পরিচিতি চিহ্ন। কিন্তু সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্টে এই রুমালের কোনো বিশ্লেষণ নেই। কিভাবে রুমালগুলো পিলখানায় পৌঁছালো রিপোর্টে তারও উল্লেখ করা হয়নি। লক্ষ্যণীয় যে, মতিয়া চৌধুরী নিজেও কিন্তু জঙ্গি গোষ্ঠীটির নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু অভিযোগ তুলেই দায় সেরেছেন!
ক্ষমতাসীনদের কথার পিঠে কথা উঠেছে সঙ্গত বিভিন্ন কারণেই। কিছু কিছু সংবাদপত্রে রিপোর্টের অংশ বিশেষ প্রকাশিত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। হবে কি না তাও জানা যায়নি। সুতরাং অমন একটি অপ্রকাশিত ও রাষ্ট্রীয় গোপন রিপোর্টের বিরুদ্ধে বিশেষ করে মন্ত্রীরা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন না। অন্যদিকে মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ ও মতিয়া চৌধুরী প্রতিক্রিয়া তো জানিয়েছেনই, পয়েন্ট ধরে ধরে অনেক দুর্বলতাও তুলে ধরেছেন। এ থেকে পরিষ্কার হয়েছে, রিপোর্টটি তিনি ও মতিয়া চৌধুরী তো বটেই, ক্ষমতাসীনদের আরো অনেকেই ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছেন। আপত্তি উঠেছে, কারণ, সেনাবাহিনীর এই তদন্ত রিপোর্টে আসলে নতুন কোনো তথ্যেরই উল্লেখ পাওয়া যায়নি। মানুষের মনেও এসব কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সৈয়দ আশরাফ রীতিমতো �ডিফেন্সিভে' চলে গেছেন- যেটা সাধারণত ঘাতক-অপরাধীরা করে থাকে।

কথাটা অকারণে বলা হচ্ছে না। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সৈয়দ আশরাফুল সর্বতোভাবে শুধু নিজেদের বাঁচানোর ব্যাপারেই ব্যতিব্যস্ত থেকেছেন। দোষ খুঁজেছেন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের। অথচ রিপোর্টে এমন একটি তথ্যেরও উল্লেখ নেই যা জনগণ আগেই জেনে যায়নি। সংবাদপত্রে তো নাম ধরে ধরেই আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের সম্পর্কে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যারা ওই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনীকে কোনোভাবে জড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার বিষয়টিও তো নতুন কোনো খবর নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি স্বয়ং জানিয়েছিলেন, ঢাকা থেকে দিল্লীর কাছে �সুনির্দিষ্ট অনুরোধ' গিয়েছিল। ভারত সরকারও রাতারাতি প্যারাস্যুট রেজিমেন্টকে বাংলাদেশের সীমান্তে এনে জড়ো করেছিল। বিমান বাহিনী প্রস্তুত অবস্থায় ছিল অন্তত দুটি বিমান বন্দরে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে কারা বিতর্কিত ও ধ্বংস করতে চায়, বাংলাদেশে সেনাবাহিনী না থাকলে কাদের লাভ হবে- এ প্রশ্নের উত্তর এদেশের কিশোর-বালকদেরও জানা রয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে এ বিষয়ে বরং সংযম অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মাত্র দু-চারজনের নাম এসে যাওয়াতেই একেবারে তেড়ে উঠেছেন সৈয়দ আশরাফুলরা। তারা সেই সাথে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আবিষ্কারের জন্য উঠে-পড়ে লেগেছেন। এবারের বক্তব্যেও সৈয়দ আশরাফুল যথারীতি প্রাণ বাঁচানোর এবং ক্ষয়ক্ষতি কম রাখার উদ্দেশ্যকে সামনে এনেছেন। উল্টো অভিযোগ করেছেন, তদন্ত রিপোর্টে নাকি বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ রিপোর্টে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, ৪৬ ব্রিগেডকে অভিযান চালাতে দেয়া হলে এত সেনা অফিসারকে হত্যা করা সম্ভব হতো না। তাছাড়া হত্যাকান্ডের পর পর একাধিক সাবেক সেনাপ্রধানসহ সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঘাতকরা সেনাবাহিনীর সামনে ১০ মিনিটও দাঁড়াতে পারতো না। সুতরাং সাধারণ মানুষের প্রাণহানিও ঘটতো না। সৈয়দ আশরাফুল নৌকায় করে বিডিআর জওয়ানদের পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশ তো সরকারের। তারা তখন তাদের প্রতিহত করেনি কেন? পুলিশের ওপর কি তাহলে বিশেষ কারো নির্দেশ ছিল? নৌকায় কারা পার করে দিয়েছিল- সে প্রশ্নের উত্তরও কিন্তু ক্ষমতাসীনদের পক্ষে যায় না। ১৫ কোটি টাকার কথা বলেও সৈয়দ আশরাফুল চমৎকৃত করেছেন। টাকা বিলি-বণ্টনের ব্যাপারটা শুধু আওয়ামী লীগের লোকজনই জেনে যান কিভাবে- সেটা একটি গুরুতর প্রশ্নই বটে। কারণ, বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় �কোটি কোটি টাকা' ছড়ানোর খবরটি প্রথম জানা গিয়েছিল জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছ থেকে। এখন আবার টকশো'র জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট সম্পর্কে জানা যাচ্ছে সৈয়দ আশরাফের কাছে! ওদিকে তিন রঙের রুমাল নিয়ে বলতে গিয়ে মতিয়া চৌধুরীও তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি লক্ষ্যই করেননি যে, বিডিআরের বার্ষিক দরবার উপলক্ষে ওই সব রঙের ফেস্টুন ও পতাকায় গোটা পিলখানা রঙিন হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং জঙ্গি কোনো সংগঠনের রুমাল �সাপ্লাই' করার প্রয়োজন থাকতে পারে না। বড় কথা হলো, এতই যখন জানেন, তখন জঙ্গি সংগঠনটির নাম-ঠিকানা প্রকাশ করাটাও মতিয়া চৌধুরীর দায়িত্ব ছিল। আর সেই কথিত জঙ্গিদের ধরার জন্য সেনাবাহিনীকে অভিযানের অনুমতি দেয়া হলো না কেন, তাদেরকে সেনা অফিসারদের হত্যার সুযোগই বা দেয়া হলো না কেন। এর কারণ কি, তা কি মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়? করলে আর ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে না!

স্তম্ভিত করার পাশাপাশি সব মিলিয়ে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধও করেছেন সৈয়দ আশরাফুল তথা ক্ষমতাসীনরা। দায়িত্ব যেখানে ছিল সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডের বিচারের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া, আওয়ামী লীগ সরকার সেখানে সকল উপায়ে জটিলতা সৃষ্টি করে চলেছে। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির ব্যাপারে প্রথম থেকেই সন্দেহ-সংশয় দানা বেঁধেছে। সেনাবাহিনীর সংক্ষিপ্ত পরিসরের তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে লাফিয়ে উঠেও ক্ষমতাসীনরা জাতিকে সন্দেহের গভীরেই ঠেলে দিয়েছেন। কথা শুধু এটুকুই নয়। তদন্ত রিপোর্টের মধ্যে নতুন ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করার এবং নেতাকর্মীদের প্রতি �তৈরি থাকার' নির্দেশ দেয়ার মধ্যেও কিন্তু অন্য রকম ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে!
২০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×