এ্যামনে কয়দিন চলতে পারে বলেন তো। জীবনটা নিয়ে, আমার নিজেকে নিয়েও তো চলা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসের কাজ করি মহা উৎসাহ নিয়ে কিন্তু তারপর তো এই দেহমন অচল হয়ে যায়। আজকে ভাবলাম ভালো ভালো আম কিনে বাসায় দিয়ে আসবো, কখন যাব, রাস্তার জ্যাম, অফিসে অনেকে নেই, ইত্যাদি ইত্যাদিতে কিচ্ছু করতে পারলাম না। বিকালে বাইরে গিয়ে মিটিং, কখন যে শেষ হবে ভেবে মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
বাসার লোকজন সহানুভূতিশীল। অর্থের প্রয়োজন তো ভীষনভাবে আছেই। টাকা ছাড়া সংসার অচল হয়ে যাবে, ছোট বড় সবাই সে ব্যাপারে ওয়াকেবহাল।
আম্মা একদিন ফোন করে বললেন যে বাসার নীচের গার্ডদের, ময়লা যে পরিস্কার করে তাকে যেন ভালভাবে আম কাঁঠাল খাওয়ানো হয়। তাদের সর্দারকে না খুঁজে পেয়ে সেটাও এখনও করিনি।
কালকে একটার পর একটা মিটিং ছিল। অনেকে দেরি করে আসেন, কথা শেষ করতে পারেন না। দুপুরে কিছু খেতেই পারলাম না। এদিকে বাসা থেকে উনি কি কি যেন বলছেন (খুব জরুরী কিছুই) কিন্তু কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা। এতে উনি রেগেও যেতে পারতেন। এক ফাঁকে মিটিং ওয়ালাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পাশের রুমে গিয়ে তাঁকে বুঝিয়ে বল্লাম। তিনি বুঝলেন, কিন্তু আমাকে যা করতে বলছেন (জরুরি অবশ্যই) তা আমি কখন করবো, ভাই।
আম্মা বলেন ছুটির দিনে এসে আমার সাথে ভাত খাবেন। তিনি আমার খুব কাছাকাছি থাকেন। এই বয়সেও নিজেকে সবলই রেখেছেন। কিন্তু আমার ছুটি কোথায়। তাই আম্মার সাথে বহু প্রতিক্ষীত ভাত আর খাওয়া হয়না। কাল রাতে আমি যখন অফিস প্রোগ্রামে, আম্মা ফোন করে বলতে চাচ্ছিলেন যে নিজামী এন্ড গং গ্রেফতার হয়েছে। আমি যেন বেশি রাত না করি।
ঘরের উনি তো সহজে ধৈর্য্য হারা হননা। কিছু অভিযোগও করেন না।
গত পরশু দেখি বাসায় ফিরে আম্মা দিব্যি অত রাতে এসে নাতনি পরিবৃত হয়ে ভাত খাচ্ছেন। আমাকে দেখে হাসলেন। আমিও বললাম ' এইভাবেই চলে আসবা। আর দেখো যদি অন্ততঃ মাসে কয়েকটা দিন আমাদের সাথে থাকতে পারো, রাতে হলেও তো একটু গল্প হবে।' আম্মা নিজের বিছানা ছাড়া কোথাও ঘুমান না। তাই কিছু না বলে তিনি মিষ্টি হাসেন।
মেয়েদেরকে বল্লাম, অফিস বলেছে নতুন লোক নেবে, ঝামেলা থাকবেনা। ওরা বলে 'ওতে কিচ্ছুই হবেনা। তুমি ঠিক নতুন কাজ খুঁজে বের করবা।' তাই ভাবি এখন ফাঁকি মারার কায়দা শিখতে হবে। এই যেমন এই পোস্ট টা লিখলাম ফাঁকি মেরে!!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



