কালকে বিকেলে যখন ধড়াম ধড়াম করে বাজ পড়ছিলো, ভয়ংকরভাবে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল তখন এক হতভাগা তার অফিসঘরে, যার একপাশটা শুধুই কাঁচের তৈরী, সেই ঘরে ভয় পাওয়ারও সময় পাচ্ছিল না। পাগলের মত কাজ করেই যাচ্ছিল। এরকম মনে হচ্ছিল তার যে মরে গেলে তো গেলামই কিন্তু ভয় পাওয়ার কোন অবসর এখন নাই।
সেই 'হতভাগা' বলতে আমার কথাই বলছিলাম আর কি।
রাতে যখন বাসায় রওনা হলাম, সেজ বোন ফোন করল। এই কেমন আছি, ইত্যাদি। তাকে বল্লাম, 'এভাবে আর কতদিন চলবে, কবে কবরে ঢুকবো তবে কি এই চাকর হওয়া থামবে?' সে বল্ল, 'না পারলে ছেড়ে দাও। এরকম করতে করতে যদি তোমার হার্টের অসুখ হয়, তখন?' সেই আলোচনাটা সেই মুহূর্তে আমার কাছে যে কি উপাদেয় লাগছিল, কি আর বলব। আপনারাও হয়ত জানেন। সেই মুহূর্তে ডিসিশন নিলাম যে কয়েক মাসের মধ্যেই অন্য অল্প পয়সার এবং অল্প পরিশ্রমের চাকরি খুঁজে নেব। মাথা গোঁজার কোনরকম একটা ঠাঁই আছে। কোনমতে সংসার চললেই হল। আর পারিনা। আমি একটু বাঁচতে চাই। রাস্তায় দাঁড়ানো বালকটির মত প্রাণ ভরে হাসতে চাই। বাসায় যেতে যেতে আমি আর ওভারস্পেন্ট বা আন্ডারস্পেন্ট বাজেট, অডিট রিপোর্ট, টার্গেটস এইসব নিয়ে মনে মনে ক্লিন্ন হতে হতে ক্লিষ্ট হতে আর চাইনা। আমার সেই যৌবনের চিন্তাহীন দিনগুলোতে ফেরৎ যেতে চাই। এটা কি খুব বেশি চাওয়া!
তো এইসব ভাবতে ভাবতে খানিকটা উৎফুল্ল মনে বাসায় পৌঁছানো গেল। বাসায় পৌছেই 'তিনি'কে প্রথম খবরটা দিলাম, 'ওগো চাকরি ছাড়তে যাচ্ছি'। সে বল্ল 'সেই ভালো। দাও ছেড়ে।' বল্লাম 'তুমি কিন্তু আমার পেছনে থেকো আমাকে আপদ বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য'। সে বল্ল, 'তোমার পেছনে নয়, তোমার সামনে থাকবো।' তাই সই। ছোট মেয়ে তো শুনে মহা নার্ভাস। বলে, 'আমি কি নতুন পেরেন্ট খুঁজবো? এ্যান্জেলিনা জোলি তো গরীব দেশ থেকে বাচ্চা এডাপ্ট করে। তাঁর সাথে কি যোগাযোগ করবো? বাচ্চা হিসাবে কি আমাকে আর চালানো যায়?' ইত্যাদি, ইত্যাদি। তবে মনে মনে ছোটজন মনে হয় আসলেই ভয় পেয়েছিল। প্রশ্ন করে, 'চাকরি কবে ছাড়বা? কয়েক মাস, নাকি কয়েক বছর পর?'
বড়জন অবাক হলেও কিছু বলে নাই। বড় হয়েছে তো। তাকে বল্লাম যে 'তোমাকে বিয়ে দিয়ে দেব। স্বামীই তোমাকে সাপোর্ট দিতে পারবে, যতদিন না তোমার লেখাপড়া শেষ হয়'।
এসব করে খেয়ে দেয়ে ঘুমাতে গেলাম। চাকরি তো ছাড়বোই। শেষ রাতে একবার ঘুম ভাংলো। হঠাৎ মনে করলাম, 'চাকরি কি আসলেই ছাড়বো?'
সকাল সকাল অফিসে এলাম। মেইল খুলে দেখি বেতন বেড়েছে। নভেম্বরে দুবাই ভ্রমন আছে। আমি কি চাকরি ছাড়তে পারবো? আমি আবার সেই পুরোনো কারাগারেই বন্দী থাকবো। আমি তো সুনীল গাঙ্গুলী নই। আমার জীবন শুধু ভেবে ভেবেই যাবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

