somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টইটুম্বুর

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রাফখাতার পাতা ছিঁড়ে একটা নৌকা তৈরি করেছিলাম অনেক কষ্টে । সিঁড়ি ঘরের চাতালটা তখন হঠাৎ বর্ষার জলে টইটুম্বুর।ওই একটুকরো বর্গাকার জলবেস্টনী তখন আমার কাছে সাত সমুদ্দুর।আমার ইচ্ছে তরি।আমিই নাবিক-আমিই কাপ্তান।একটা জোলো কৌতূহল মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ করছে।নিন্মগামিতার কৌতূহল।হয়তো মেঘ তৈরির কারখানায় তখন ঘাটতি চলছে।তাই বৃষ্টি বন্ধ।ড্রেনের জলে টান ধরতেই তর তর করে নামতে লাগল আমার সপ্তসাগরের জল।এতক্ষণ উদাস ভাবে ঘুরতে থাকা কোন ভাবুক যুবকের মত আমার নৌকার কলারেও আচমকা টান।সিঁড়ি ঘরের চাতাল পেরিয়ে,দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খেয়ে,শামুকের পাশ কাটিয়ে ঝুপ করে নর্দমায় ঝাপ।ভিজে থ্যানথ্যানে জলযানের মাস্তুল ভেঙ্গে খান খান-ঘার কাত করা আহত চড়াই পাখির মত নির্বিকার কালচে দুর্গন্ধের আবর্তে ঘূর্ণন তার।সেই নিন্মগামিতার কৌতূহল মিটেছিল।একটা মন খারাপ কিছুক্ষণ চেয়ারে পা দুলিয়ে চলেও গিয়েছিলো নিজের কাজে।কতগুলো গোল বর্গাকার ,লম্বা ,গভীর,অগভীর গর্তে তখন হু হু করে ঢুকছে বাসি বর্ষার জল। আর দেখতে দেখতে আমার খেলার মাঠ,বাইশটা মার্বেল,মাউথ অর্গ্যান,ম্যাগনিফাইং গ্লাস কেমন টইটুম্বুর।

এক শালিখ-দুই শালিখের নামতা তখনও মুখস্থ হয়নি।রোজ ডে,ভ্যালেন্টাইন্স ডে'র মত ক্যালেন্ডারে স্থান হয়নি আমার টইটুম্বুরের।তাই দিন গোনার মত অধৈর্য কাজে কখনও জরাতে হয়নি।তবুও ছিপ ফেলতাম আমার ওই নানা আকৃতির গর্ত গুলোয়। দিব্বি সময় কেটে যেত।না জানিয়েই সে আসত।হঠাৎ, আচমকা।
ধাপ্পা! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতাম প্রতিবার। বড্ড অভিমান জন্মাতো। ভাবতুম কথা বলবো না।আর না।কক্ষনও না।বয়েই গ্যাছে কথা বলার।অথচ পারতুম না।যত গচ্ছিত ,গর্তময় টইটুম্বুর নিয়ে সে তখন শান্ত ,স্থির ,ধীর।অথচ কোথাও সবকিছু উথালপাথাল।সৌম্য অথচ দৃঢ়।তার সেই সন্মোহনী আবেশের কাছে বশ্যতা স্বীকার অনতিবিলম্বে।সেই আবেশে কোনও শরীর নেই,মোহ নেই,দ্বিধা নেই,দ্বন্দ্ব নেই।তবু কি প্রগাঢ় টান।সেই টানে পাহার ভেঙে সমতল,নদীর গতিপথ বদল। আরও উদ্দাম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠা।তুষার ধ্বস নেমেছে।অথচ কি শুভ্র সেই সর্বনাশ।

রাফখাতার পৃষ্ঠারা আর কখনও নৌকা হতে চায়নি।ট্যারা-ব্যাঁকা , লম্বা-খাটো ,শুকনো-স্যাঁতস্যাঁতে শব্দের হট্টগোল,নাগরদোলা,বাদামছোলা,রেশমি চুড়ি হাওয়াই মিঠাইয়ের বায়নাক্কা।খামতি নেই,বিরাম নেই।রাতের শেষ ট্রেনটা যখন খুব কাছ দিয়ে রাতের শরীরে নক্সা কেটে দিয়ে দূরে চলে যায়, তখন জানলা দিয়ে ভুড়ভুড়িয়ে ঢোকে মাতাল কিছু শব্দ।ঘুম নেই , মফসসলের গন্ধ মাখা শার্টে,শাড়িতে ,সালোয়ারে সোজাসাপটা জরতাহিন তাদের উপস্থিতি। 'তাড়াতাড়ি করো।রাত বাসি হলেই চলে যাব।সজনে ফুল কুরোতে হবে।তারপর শহরতলির বাজারে সেই ফুল নিয়ে বাবুদের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা।সে মেলা কথা।'-এরকম একেকটা কিশোরী শব্দ তার নিপাট ব্যক্তিত্ব নিয়ে মধ্যরাত্তিরে ঝলসে ওঠে। আর আমার রাফখাতা ভরে ওঠে অজস্র পুঁতির মত সাদা সজনে ফুলে।সে চলে যাবার আগে প্রশ্ন করি-আচ্ছা,এমনি কোনও বাসি রাতের সেসে তমার সাথে কি টইটুম্বুরের দেখা হয়েছে?সে কি তোমার সজনে ফুল কুরানো দেখেছে?সে মুচকি হেসে বলে,-'হুম...দেখেছে'।বাসি রাতে আবার আমার টইটুম্বুর একটা আবছা ফোয়ারা নিয়ে ধুইয়ে দিচ্ছে পূবের আকাশ।

মাঝে মাঝে জংলা ক্যানভাসটা একেবারে ফাকা হয়ে যায়।ছিটে ফোটা কালির ভুলো ছোপ কিংবা একটা পিঁপড়েও তন্ন তন্ন করে খুঁজে পাই না।একটা হোয়াইট ওয়াশ করা চৌহদ্দিতে দৌড়োতে থাকি , একটা দেওয়াল ছোঁব বলে। যেটা দেওয়াল বলে মনে হয়,তার কাছে যেতেই ভেঙে পরে।আর ঠিক যেখান থেকে দৌড় শুরু করেছিলাম,ততটাই দূরে গড়ে ওঠে আরেকটা অবিকল দেওয়াল।যুগ যুগ ধরে ঘুমিয়ে থাকা নাইটকুইনগুলো তখন পাপড়ি মেলে।হাজারে হাজারে।অসহ্য শুভ্রতা ।অসহ্য শুভ্রতা ।চোখ ধাধিয়ে যায়।বড় বিচ্ছিরি আত্মগোপন আমার।কুনো ব্যাঙের গর্তে সিটিয়ে থাকি। স্যাঁতস্যাঁতে অনুভবে।অন্ধকার চাই।আরও গাঢ় অন্ধকার।

ঠিক তখনই উড়োচিঠি ভেসে আসে আমার ডাকবাক্সে।হাতে নিতেই বুঝতে পারি তার লেখা.........
"আমি জানি তুমি ভালো নেই।তোমার আকাশে কোন গোলাপী ঘুড়ি ওড়েনি এখনও। ফ্যাকাসে কাঁটাঝোপে গুমরে পড়ে আছো। এমন অবুঝ হয়োনা।আমার যে অনেক কাজ।আমাকেও কাঙাল হৃদয় নিয়ে চেয়ে থাকতে হয় যত স্যাঁতস্যাঁতে জলময় অবয়বের দিকে।তারপর তাদের করুণা হলে কিছু গুঁড়ো জল ছুঁড়ে দায় আমার দিকে।সঞ্চিত করি বিন্দু বিন্দু জলকণা।মেঘের মাটিতে বপন করি তালপাতার পাত্র।স্ফীত হয় আকাশ সাম্রাজ্য।তারপর না আসার ডাক পড়ে।আমি আসছি।মন খারাপ করে থেকোনা।"

আমি দুহাতে তুলে দেখি সেই চিঠিখানা। দীর্ঘশ্বাসে সুঘ্রাণ নিই তার স্পর্শে পাওয়া কিছু মুক্তোদানার। সেখানে মাটির সোঁদা গন্ধ , রঙ্গনের গন্ধ আর হিজলের সোনালী পরাগরেনু লেগে থাকে।তারপর ধীরে ধীরে গুনতে থাকি প্রতীক্ষার প্রহর। আরও দীর্ঘায়িত হত প্রতিটি মুহূর্ত। বড় অস্থির লাগে তখন।

তারপর একদিন কুসুম ভোরের পেলব সময়ে আমার ঘুমন্ত চোখের পাতায় এসে মৃদু চুম্বন দেয়। চূর্ণবিচূর্ণ ছিটকোনো জল এঁকে দিয়ে যায় টইটুম্বুরের চরণরেখা। জানলার কাচে জমা বাষ্পে তার হাতের ছাপ। সে এসে ফিরে গ্যাছে।
তারপর সারাদিন ঝিলের জলে বুদ্বুদ। উঁকিঝুঁকি। বেগুনী সন্ধ্যায় লোডশেডিং। একটা লজঝরে সাইকেলের দূর থেকে কাছে আসা। আবার ক্রিং ক্রিং বেল বাজিয়ে এঁদোগলির
উপশিরায় হারিয়ে যাওয়া। দীর্ঘক্ষণ প্রজাপতির পাখনায় ছটফটানি। মুখোমুখি খুঁজে পাওয়া নিজেকে। ক্লোজ-আপে চোখের নিচে কালসিটে আর ঠোঁটের কোণে উদাসীন হাসি।
ক্যামন আছো?
সত্যিই জানতে চাও ক্যামন আছি?
বাবা! অ্যাত্ত অভিমান?
ক্যানো , সেই অধিকারটুকুও নেই নাকি?
আছে সবটুকু অধিকারই তোমার আছে।আমিতো তোমারই।
উপহাস করছ?
না, সত্যিই বলছি। এই আমি- আমার উপস্থিতি , আমার নীরবতা , পালিয়ে বেড়ানো , কষ্ট দেওয়া- সবকিছু নিয়ে এই আমি তোমারই। তাইতো তোমার মনখারাপের রাতে আমারও খুব কষ্ট হয়। ছটফট করতে থাকি যখ দেখি তুমি নিথর পড়ে আছো। তোমার অবয়বটুকু শুধু একটু একটু কাঁপছে। মুখ গুমরে তুমি বাঁচার গলিপথ খুঁজছ। কিন্তু তত তলিয়ে যাচ্ছ অন্ধকারের কার্নিভ্যালে।

বাহ! বেশ রসিয়ে বললে তো! হাসালেও বটে। এতই যখন নির্ভুল উপলব্ধি তোমার তবে ক্যানো নিজেকে আড়াল করে রাখো? ক্যানো বাতাসে ছড়িয়ে রাখো রোদ পোড়া গন্ধ? ক্যানো প্রশ্নেরা নিরুত্তর ফিরে এসে একেকটা ভাঙা কাঁচ টুকরো গেঁথে দেয় শরীরে? ক্যানো জোনাকিরা আর মশাল জ্বালায় না লোডশেডিঙের ঘরে? ক্যানো সব শৈশব হানা দেয় নির্ঘুম রাতের ভাঁজে ভাঁজে? ক্যানো সব খেলার মাঠগুলো এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়? আমার হারিয়ে ফেলা কাঠপেন্সিল, ডাকটিকিট, আতশকাচ , ঠাকুমার ঝুলি, একবাড়ি কোলাহল, নিখাদ হাসিমাখানো মুখগুলো , ঘাসে ঢাকা ট্রাম লাইন, হাওয়াই মিঠাই, টেরাকোটার হাতি-ঘোড়া , সিন্দবাদের জাহাজ ক্যানো খুঁজে পাইনা আর? ক্যানো সিঁড়ি ঘরের চাতালটা আর ছাপিয়ে ওঠে না? ক্যানো রাফখাতার পৃষ্ঠারা আর নৌকা হতে চায় না? ক্যানো শ্যাওলা জলে মাছেরা আর ঘাই দিয়ে ওঠেনা ? ক্যানো চিলেছাদে আলগোছে ভোকাট্টা হয়ে পড়ে থাকা ঘুড়ি আর আকাশ মাপতে চায় না? ক্যানো সন্ধ্যের বারান্দা থেকে আর ভেসে আসে না হ্যারিক্যানের সলতে পোড়া মাদকতাময় গন্ধ?

এভাবেই নিরুত্তর থেকে নিঃশব্দে চলে যায় আমার টইটুম্বুর। নিরুত্তোরতাই সব কথা বলে যায়। কিছু গুঁড়ো নীরবতা ঢুকে পড়ে ফাঁকা কামড়ায়। ঢুকে পড়ে নিঃশ্বাসে । ঢুকে পড়ে চোখের মণিতে। চোখ কচলাই। হাঁসফাঁস সময়ের গায়ে ফুটে ওঠে অনন্ত নক্ষত্রবীথি ।

আমার চেনা পথটা হঠাৎ সার্কাসের তাবু হয়ে যায়। জোকারের হাতে জাগলিং করে একটা নবজাতক , একটা কুকুর আর একটুকরো মাংসপিণ্ড। সমবেত করতালিতে ভেঙে খানখান হয়ে যায় অ্যাকুরিয়াম । মেঝেতে রঙিন মাছের ছটফটানি । মিত্র বাড়ির থেকে ভেসে আসে না নিতু পিসির ভৈরবী। কাহারবার বোল। টুটুলদের বারান্দার দোলনাটা রোয়াক থেকে খসে ঘার মটকে পড়ে থাকে। একটা পথভুলো বাতাস ভাঙা কারশেডে এসে ধাক্কা খেয়ে আঁছড়ে পরে।তারে বসে থাকা ফিঙে গুলো দাঁড়কাক হয়ে যায়। একটা রাজহাঁস ট্রেন লাইনে আটকে পড়ে থাকে। একটা ট্রেন ধেয়ে আসে। কিছুক্ষণ ধাতব শব্দ । তারপর কিছু পালক এদিক-ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে একটা মানচিত্র তৈরি করে। সেখানে কোন জনপদ নেই-খেলার মাঠ নেই-কাজলা দিঘি নেই- খেলনাবাটি নেই-আমের আঁচারের বৈয়ম নেই-লাল পাড় সাদা শাড়ি নেই- হরবোলা নেই- পিউকাঁহা নেই-দস্যিপনার দুপুর নেই- দিদির খুনসুটি নেই- রামায়ণ নেই- মহাভারত নেই- পান সুপুরি রাঙা ঠোঁট নেই- তিলেভাজা নেই- তুলসিতলা নেই- আমের মুকুল নেই- ঘুমপাড়ানির গান নেই। আছে শুধু উল্কাপাতের রাত আর অজস্র কালো গহ্বর।

এই মানচিত্রেই তোমার, আমার, আমাদের পাশাপাশি হেঁটে বেড়ানো, বসে থাকা , কথা বলা- স্যাটেলাইটে ধরা পড়ে পিঁপড়ের ঢিপি। ছিন্নবিচ্ছিন্ন ইতস্তত কয়েকটা শরীর কয়েকটা ছায়া। রূপটানে খামতি নেই। মাসকারা, আইশ্যাডো, ফেস পাউডার, লিপস্টিক , পারফিউম আর ঠোঁটের কোণে রপ্ত করা কর্পরেট হাসি।আর মনের ভেতর ফণীমনসার ঝোপ।সুযোগ পেলেই আঁচড় কেটে দেওয়া।
এখানে রাত-দিনের সীমারেখা নেই। এখানে সূর্য মুখ লুকিয়ে কাঁদে। এখানে এনরিকের গানে ঘুম ভাঙে। এখানে ঘোড়ায় জিন দেওয়া সকাল। এখানে প্রভাত ফেরি নেই। এখানে বাদুর ঝোলা বাস। এখানে ঘামের গন্ধ। এখানে ধোঁয়ার মেঘ। এখানে পুলকার। এখানে স্কাই-স্ক্রাপার। এখানে ফ্লাইওভার। এখানে রেভলন- এখানে মন্টে কার্লো- এখানে ম্যাকডোনাল্ড- এখানে আর্চিস গ্যালারি।
এখানে বিলবোর্ডস সন্ধ্যা, নিয়ন আলোর বন্যা আর পোড়া পেট্রোলের পূরবী। এখানে চুলের ফিতে নেই। হারমনিয়াম নেই। এখানে শাড়ির আঁচল ওড়েনা সন্ধ্যার আবেশী হাওয়ায়। বাইকে দাপিয়ে বেড়ায় অসাবধানি সময়। ডিস্কোথেকে ঝরে পড়ে শরীরী প্রবাহ। সাইকেডেলিক আলোয় হাত বদল হয়ে যায় ক্ষনিকের সম্পর্ক। এখানে জ্যোৎস্না গুমরে কাঁদে। এখানে হাতের মুঠোয় শরীর। নোটের গায়ে শরীরের গন্ধ। মধ্যরাত ভেসে যায় অ্যালকোহলের প্রলাপে। এখানে কবিতারা ডানা ঝাঁপটায়। গোলাপ পাপড়ি ঝরে যায়। কবিতার গায়ে কাঁটার ক্ষত। রক্তক্ষরণ অবিরত। ফেসবুকে- অরকুটে মনখারাপের স্ট্যাটাস আপডেট আর নাটুকে সংলাপ। এখানে আর উড়োচিঠি এসে পড়ে থাকে না ডাকবাক্সে।এখানে আবেগের ন্যাকামি থাকে না। মোবাইল স্ক্রিনে জমা পড়ে থাকে অস্থিরতা এবং নির্লিপ্ততা। ইনবক্সে রেডিমেড প্রেম-অপ্রেম।

এই সব শবদেহ বিক্ষিপ্ত মিছিলের মত একাকী ঘুরে বেড়ায়। শিমূল- পলাশের লাল কালচে হয়ে আসে। রডোডেন্ড্রনের পাতায় ধুলোর আস্তরন। মাঝে মাঝে দুয়েকটা চিল হারানো মানচিত্রটাকে খুঁজে নিতে চক্কর দিতে থাকে। ব্যর্থ উড়ানের গায়ে আবার ঢলে পড়ে মাতোয়ালা রাত। আমিও এই শবের মিছিলে সামিল হই। আমিও আমার মত টইটুম্বুরকে খুঁজে ফিরি। নিয়ন আলোয় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় আমার ছায়া।

এভাবেই একদিন চোখধাধানো ক্যানভাসটা রঙ পাল্টায়। ধুসর হয়। সিঁড়ির ধাপে মনখারাপটা বসে থেকে থেকে একসময় চলে যায়। আমার হারানো পদক নিয়ে কোন একদিন ফিরে আসে টইটুম্বুর। শুকিয়ে যাওয়া খানাখন্দ গুলোতে আবার হু হু করে ঢুকে পড়তে থাকে কলকলিয়ে। আবার কোথাও হয়ত বেজে ওঠে আশাবরী । কোথাও দোলনায় একজোড়া কচি পায়ের আনাগোনা। কোথাও হয়ত বউকথাকওটা ডেকে ওঠে। কোথাও বেগুনী রঙের দোঁতেল ঘুড়িটা আবার আকাশটাকে মেপে নেয় । কোন দুরন্ত বালক হয়ত দিদির গানের ডাইরিটা নিয়ে দৌড়ে পালায়।সারা ঘরময় দৌড়োদৌড়ি।মুয়াজ্জিনের মাদকতাময় আজানের রেশ সন্ধ্যের বুকে। কোথাও শঙ্খধ্বনি বেজে ওঠে। তুলসিতলায় মৃদু প্রদীপের আলোয় দেখা যায় প্রশান্ত মায়ের মুখ। আকাশের সব তারাগুলো জোনাকি হয়ে উঠোনে নেমে আসে।আর আমার মাথার পাশে চুপটি করে এসে বসে আমার টইটুম্বুর। আমি তাকে আলতো করে বলি-'একটা ঘুম পাড়ানির গান শোনাবে?'
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×