আমার প্রিয় পোস্ট

গাহি সাম্যের গান...

চিত্রনায়িকা অঞ্জনার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবির নাম ‘দস্যু বনহুর’

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩০

শেয়ারঃ
0 0 0

আমার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবির নাম ‘দস্যু বনহুর’। সে ছবির শুটিং হয় পুরনো ঢাকার একটি বাড়িতে। আমার জন্মদিনের দৃশ্য টেক করা হবে। গুণ্ডা, জসীম ভাই আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। বনহুর সেটা জানতে পেরে আমাকে উদ্ধার করতে আসেন। তখন একটি গান হবে। গানটি ছিল—‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়। মানুষকে কি দেখে চিনবে বলো।’

বাবুল চৌধুরীর ‘সেতু’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসি। ছবিটির শুটিং চলছিল এফডিসির এক নম্বর ফ্লোরে। ক্যামেরাম্যান আবদুল লতিফ বাচ্চু। খুব রাগী মানুষ ছিলেন। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। বিষয়টা বাচ্চু ভাই জানার পর আমাকে বললেন, তুমি নাচের মেয়ে। নৃত্য থেকে সিনেমায় এসেছো, আমরা এমনিতেই খুশি। অতএব, তুমি তোমার ইচ্ছেমত কাজ করো। আমরা কেউ তোমাকে বকবো না। বাচ্চু ভাইয়ের বড় মনের পরিচয় আমার সেদিনের সামনে চলার পথকে আরও সুন্দর ও সুগম করেছিল। কিন্তু সেদিন শুটিং স্পটে ঘটল আরেক বিপত্তি। আমার তৈলাক্ত লাইট স্কিনের জন্য মুখে মেকআপ শুট করছে না। কেটে যাচ্ছে। শেষে সিদ্ধান্ত হলো মেকআপ ছাড়াই শট নেয়া হবে। আমার সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাক ভাই, শাবানা ও বুলবুল আহমেদ। ছবিটি ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায়।

ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি অনেক হালকা গড়নের ছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখে সোটা বোঝার উপায় ছিলো না। দস্যু বনহুর ছবির শুটিংয়ের শেষ দৃশ্যটা টেক হওয়ার পরে জসীম ভাই পরিচালককে বললেন, পারভেজ ভাই, অঞ্জনা এত হালকা যে, আমার মনে হয়েছিল এটা একটা তুলার বস্তা।
মাসুদ পারভেজের ‘যাদুনগর’ ছবিতে আমি প্রথম গ্লিটার ব্যবহার করি। নায়িকা হিসেবে তখন আমি বেশ ব্যস্ত। নাচের প্রোগ্রামগুলোও বাদ দিতে পারছিলাম না। লন্ডনে একটা নাচের শো হবে। তার আগে পারভেজ ভাই আমাকে ‘যাদুনগর’ সম্পর্কে বেশ তালিম দিচ্ছিলেন—আমি হবো পরীর রানী, লাল পরী, নীল পরী। আমার হাতে থাকবে সল্টার। আর এ তথ্যগুলোই লন্ডনে বসে গ্লিটার সম্পর্কে ভাবতে শেখালো। আমি ভাবলাম পরী রানীর মুখে গ্লিটার থাকলে তাকে বেশ মানাবে। পুরো চেহারাটাই চিকচিক ঝিমঝিক করবে। মানুষ এক্সট্রা আনন্দ উপভোগ করবে। আর তাই নিজের টাকায় লন্ডন থেকে কিনে আনি গ্লিটার—যা মেকআপের পরে ফিল্ম সল্টারদের দেয়া হয়।

কিন্তু যাদুনগরের প্রথম দিনের শুটিং স্পটে বাদ সাধলেন ক্যামেরাম্যান হারুন ভাই। উনি বললেন, এ গ্লিটার নায়িকার মুখে শুট করবে না। আমি পারভেজ ভাইকে বললাম, ইউরোপে যখন গ্লিটার ব্যবহার করে নায়িকারা তাদের সৌন্দর্য হাজার গুণ বৃদ্ধি করে, তখন আমরা কেন পারবো না। আপনি একটা দৃশ্য টেক করে ডেভলপ করুন। দেখুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। গ্লিটার বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি তাই করলেন এবং বাংলা ফিল্মে যোগ হলো মেকআপের পরের মেকআপ। সৌন্দর্যের রানী, গ্লিটার।

Click This Link

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪১
শয়তান বলেছেন: গ্লিটারের ব্যবহার এখন কি আছে??
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: সেটাতো জানিনা :(

২. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৬
এস.কে.ফয়সাল আলম বলেছেন: "ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়। মানুষকে কি দেখে চিনবে বলো"

এই গানটি অনেক দিন থেকেই খুজছি, কিন্তু কোথাও পেলাম না। আপনাদের কারো কাছে থাকলে প্লিজ লিংক দিন।
৪. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১১
আইরিন সুলতানা বলেছেন: ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়। মানুষকে কি দেখে চিনবে বলো

-----

প্রথম লাইনের সুরটা মনে পড়েছে...এরপর আর মনে নেই ।
৫. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৩
হায়রে দুনিয়া বলেছেন: ভাই, গ্লিটার কি বস্তু???
৯. ২৫ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৩৪
শয়তান বলেছেন:

"ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়। মানুষকে কি দেখে চিনবে বলো"

গান্টা আসলেই ভিষন দর্কার হৈয়া পর্ছে । কারো কাছে কি আছে ????

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯১৮২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ