somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কিছু ভাবনা, প্রসঙ্গঃ জাগো, শিক্ষামাধ্যম ও মুহম্দ জাফর ইকবাল--০১

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এ বিষয়গুলো নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়ে গেছে জানি। তবুও আশা করছি, কিছুটা হলেও নতুনত্ব পাবেন। )
জাগো প্রসঙ্গঃ
বেশ কয়েকবছর আগে একবার নানাবাড়ীতে গিয়েছিলাম। একেবারে অজপাড়া গাঁ। আধুনিকতার ছোঁয়া তখনো এর গায়ে খুব একটা লাগে নি। একদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পাশের বাড়ীর হইছই শুনতে পাই। ফ্রেশ হয়ে ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখি বাড়ির কর্তা কপাল চাপড়াচ্ছেন। ঘটনা কি? ঘটনা হচ্ছে সিঁদ কেটে এক রাত্তিরেই ঘর ফাঁকা করে দিয়েছে সিঁদেল চোরের দল। হটাৎ পিছনে ধাক্কাধাক্কি অনুভব করলাম। ভীড় ঠেলে গা গলিয়ে দিলেন আর একজন। চুকচুক শব্দ করে বলতে লাগলেন, “আহারে! চোরটার আক্কেল দেখেছো? কিছুই বাকী রাখেনি দেখছি। হতভাগাটার কি হালটাই না করেছে।” শুনে আমিও খানিক চুকচুক করে দুঃখ প্রকাশ করলাম এবং তার সাথে সহমত পোষণ করে চলে এলাম। কিন্তু বাড়ী এসে যা শুনলাম, তাতে তো আমার ভিরমি খাওয়ার যোগাড়। ঐ লোকটা নাকি মদনচোরার ছেলে, চুরি ঘটনাতে যার দিকেই কিনা সবার সন্দেহের আঙ্গুল। কিছুদিন পরে জেনেছিলাম যে, এই সন্দেহ নাকি সত্যি বলে প্রমাণিতও হয়েছিলো।

এখন ভাবুন তো, আপনি যদি ঐ গৃহকর্তা হতেন, তাহলে চোরের পুতের এই সহানুভূতির বাণী আপনার কানে কেমন লাগতো?

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর নির্বাচন নিয়ে চারদিক তখন উত্তপ্ত। বিশেষত কাস্তে মিছিল আর লগি-বৈঠার আন্দোলনে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। তখন কতিপয় রাজনৈতিক কর্মী কোনো এক হরতালের আগের রাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এক হতভাগ্য সিএনজি চালকের গাড়িতে। অগ্নিদগ্ধ সিএনজি চালক হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন দু’জনই তাকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং সমবেদনা জানান। কিন্তু গ্রেফতার হয় নি দায়ীদের কেউ, এমনকি তাদের পরিচয়ও উদঘাটিত হয় নি, জানা যায় নি তারা প্রকৃতপক্ষে কোন দলের কর্মী এবং কার ইশারায় এত বড় অমানবিক একটা কাজ করতে তাদের হাত কাঁপলো না।(লিঙ্ক দিতে পারছি না। কিন্তু এ ঘটনা তখন পত্রিকা ও টিভিমাধ্যমে বেশ সমালোচনার ঝড় তুলেছিলো। তাই অনেকেরই মনে থাকার কথা।)

এখন, নেত্রীদের ঐ সান্ত্বনাবাণী ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি-চালক এবং তার পরিবারের কাছে কতটুকু সান্ত্বনার? সেটা নিশ্চয়ই ভাবনার অবকাশ রাখে?

গার্মেন্টস, শিল্পকল-কারখানাগুলোতে বেতন-বোনাস নিয়ে আন্দোলনের ঘটনাটা বাংলাদেশে এখন আর নতুন কিছু নয়। গত কয়েকবছরে এটা বেশ সাধারণ একটা ব্যাপারেই পরিণত হয়েছে। অনেকসময় রুটিরুজির এই আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক মেহনতি মানুষ জীবন পর্যন্ত দিতে হয়। আমরা যাদের টোকাই বলি, তাদের অনেকেরই হয়তো জন্মপরিচয় পর্যন্ত নেই। আবার একটা অংশ আছে, যাদের জন্মপরিচয় আছে, কিন্তু জন্মদাতা-জন্মদাত্রীর সাধ্য নেই ভরণপোষণের। তাই তাদেরকে হাটতে শেখার সাথে সাথেই শিখতে হয় রুটিরুজির সংগ্রামও। এদের অনেকেই সমাজের বঞ্চিত মেহনতি শ্রমিকশ্রেণীর মানুষের সন্তান। আর যারা এই গার্মেন্টস, শিল্পকল-কারখানাগুলোর মালিক, তাদের সন্তান কারা? তাদের সন্তান হলো ঐ যে দামী গাড়িতে চড়া, দামী স্কুলে পড়া, ফটাফট ইংরেজীবলা ‘বেবিডল’গুলো।

যাদের বাবাদের অর্থলিপ্সার কারণে, শোষণের কারণে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ফুল বিক্রি করে পেট চালাতে হয় ফুলবানুদের, তাদের সাথে বন্ধুতা? কেমনে সম্ভব? যারা চিরকাল গাড়ীর কাচ দিয়ে ওদের দেখেছে আর নাক কুঁচকে বলেছে, “ডার্টি বিচ!”, আজ তাদের এই বুকে জড়িয়ে নেয়ার প্রবণতা দেখে কি সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে না? যে কিনা নিজের শিল্পপতি বাবাকে রাজী করাতে পারেনি তার কারখানার শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-বোনাস দেয়ার জন্য, সে আজ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে অন্যের গাড়িতে নক করছে টোকাইদের জন্য সাহায্য চেয়ে! এ ও সম্ভব! হুম, সম্ভব। কারণ এটা করলে সে একটা সার্টিফিকেট পাবে। যেটা দিয়ে সে খুব সহজেই এই নোংরা দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে পারবে তার স্বপ্নের দেশে। এই হলুদ গেঞ্জি, এই আইডি, এই রোদে ছোটাছুটি তার কাছে একটা এডভেঞ্চার, একটা পিকনিক ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই একে মায়াকান্না ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে?

আর তাই এটা কখনোই সহানুভূতি নয়, এটা উপহাস।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:০১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×