(এ বিষয়গুলো নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়ে গেছে জানি। তবুও আশা করছি, কিছুটা হলেও নতুনত্ব পাবেন। )
আগের পর্ব> ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রসঙ্গঃ
কলেজে মিজানুর রহমান ভূঁইয়া নামে একজন স্যার আমাদের জীববিজ্ঞান ক্লাস নিতেন। হটাৎ একদিন ক্লাসে তিনি কথা প্রসঙ্গে বলে বসেন যে, হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল আর আহসান হাবীব- এই তিনটা হইলো বাংলামায়ের তিন কুলাঙ্গার! আমি সেদিন নিজের কানকেও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু না, তিনি ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটাই ব্যবহার করেছিলেন। হুমায়ুন আহমেদ তখন শাওনকে বিয়ে করে চারদিকে বেশ বিতর্কিত, তাছাড়া তার বইও তখনো আমার খুব একটা পড়া হয়ে উঠে নি। আহসান হাবীবকে চিনতাম না, কেননা ‘উন্মাদ’ এর সাথেও সাক্ষাৎ হয় নি। তাই খটকা লেগেছিলো শুধু একটি নাম নিয়েই। জাফর ইকবাল। আমার প্রিয় লেখক জাফর ইকবাল স্যার সম্পর্কে এমন কথা! পুরো ক্লাসে সেদিন শুধুমাত্র এই আমি দাঁড়িয়ে গিয়ে তার কথার রিপিট করেছিলাম, “স্যার, কথাটা কি মুহম্মদ জাফর ইকবাল সম্পর্কেও সত্য?” স্যার আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বসিয়ে দিলেন। তারপর অবতারণা করতে লাগলেন তার ছাগুটাইপ অদ্ভূত যত যুক্তির। সেগুলো যারা ব্লগ পড়েন, তারা প্রায় সবাই কমবেশী জানেন। তাই সেগুলো সম্পর্কে নাইবা বললাম।
জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে আজ পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা। কেউ তার সমালোচনায় মুখর তো কেউ তার স্তুতিতে। আমি তার ভক্ত, কিন্তু স্তুতি করতে চাই না। আমি চাই তার সমালোচনা তথা গঠনমূলক সমালোচনা করতে, শুনতে। আমি তাকে দেবতা নয়, মানুষ ভাবতে চাই, উত্তম মানুষ। কিন্তু উত্তম মানুষেরাও ভুল করেন। গান্ধীজী ভুল করেছিলেন সুভাষ আর নেহেরুর মধ্যে উত্তরসূরী বাছতে গিয়ে, শেখ মুজিব ভুল করেছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে, ভূপেন হাজারিকা ভুল করেছিলেন বিজেপি তে যোগ দিয়ে। কিন্তু জাফর ইকবাল স্যারের ভুল করা চলবে না। কারণ, আজকের বাংলাদেশে তাঁর মতো মানুষের খুব অভাব। আর তাই, আমি চাই তিনি যেন ভুলত্রুটি এড়িয়ে চলতে পারেন, তিনি যেন পথভ্রষ্ট না হোন।
আর তাই আমি 'জাগো আন্দোলন', 'সাড়া জাগানো ৩০ মিনিট' এর মতো অনুষ্ঠানে স্যারের উপস্থিতিকে সমর্থন করতে পারি না। সমর্থন করতে পারি না প্রথম আলো'র যেকোনো অনুষ্ঠানেই স্যারের রেগুলার অতিথির মতো উপস্থিতিকে। কেননা, কর্পোরেট হাউসগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে অনুষ্ঠানে ভালোকাজ, জনসেবামূলক কাজ, স্বাধীনতার স্বপক্ষের কাজ--এই ধরণের লেভাস দিয়ে স্যারকে উপস্থিত হতে রাজি করছেন এবং তাঁর ইমেজ ব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। এই কাজগুলোর অনেকগুলোই হয়তো প্রকৃতপক্ষে যা বলা প্রচার করা হচ্ছে, তা নয়। তাই আমি মনে করি এই ব্যাপারে স্যারের সচেতন হবার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, তাঁর উপস্থিতি থেকে তরুণসমাজ ঐ অনুষ্ঠান বা সংগঠনগুলো সম্পর্কে ভুলবার্তা পেতে পারে, যেটা কোনমতেই কাম্য হতে পারে না।
সবশেষে, ব্লগারদের প্রতি আহবান থাকবে, তাকে কুরুচিপূর্ণ, অযৌক্তিক সমালোচনায় বিদ্ধ করা থেকে বিরত থাকুন। দরকার নেই অহেতুক স্তুতিগানেরও। যদি পারেন তো, যৌক্তিক সমালোচনা দিয়ে তাকে সঠিক পথে থাকতে সহায়তা করুন। মনে রাখবেন, ওনার মতো মানুষদের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে এই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশীরাই।
(আপাতত সমাপ্ত)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



