somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতালের ন্যায় অন্যায়

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদা রঙ্গদেশে রাজত্ব করিতেন সুন্দরী বেগম নামক এক মহীয়সি নারী। তিনি পৈত্রিক সূত্রে এই রঙ্গদেশের রাজত্ব পাইয়াছিলেন বলিয়া তিনি মনে করিতেন, যদিও তাহার পিতা কোনকালেই এইরুপ কোন ঘোষণা দিয়া যান নাই যে এই রঙ্গদেশ তাহার পারিবারিক সম্পত্তি। তা সুন্দরী বেগম বহুকাল সিংহাসন হইতে বঞ্চিত ছিলেন। কারণ হিসাবে জানা যায়, এক সেনাপতি, পাখী খানের কিছু খাদেম ও আন্ডা বাচ্চা, সেনাপত্নী এইসকল লোকদিগে সিংহাসন লইয়া ব্যাতিব্যাস্ত ছিলেন। নিন্দুকেরা বলিয়া থাকে যে রঙ্গদেশের সিংহাসন নাকি উত্তর শক্তি নামক এক ব্যাক্তি নিয়ন্ত্রণ করিয়া থাকে। তাহার শক্তি এমনই যে বিশাল সাগর, মহাদেশ পার হইয়াও তাহার তেজ এতটুকু কমে না। রঙ্গদেশের সিংহাসনে যেই বসুক না কেন সকলকে এই উত্তর শক্তির পদধূলি লইয়া বসিতে হইবে বইকি। আমি নিন্দুকের কথায় তেমন কান দিই না। ছোটলোকে কতই না কি বলিয়া থাকে। এইরূপ প্রথা পূর্বে প্রচলিত ছিল বলিয়া জানা যায়। বাংলার সিংহাসনে নবাবেরা আরোহণ করিবার পূর্বে দিল্লীর ঈশ্বরকে নজরানা দিয়া সন্তুষ্ট করিত। কিন্তু রঙ্গদেশ তো কাহারো নিকট তাহার সার্বভৌমত্বের জন্য দায়ী নহে তবে কেন তাহাকে উত্তর শক্তিকে সন্তুষ্ট করিতে হইবে। নিন্দুকেরা বলিয়া থাকে, "ওহে বাপু জমানা বদলাইয়াছে। সময় এখন ঘোর কলিকাল, মেষশাবক চাটিয়া থাকে বাঘ্রের গাল, এখন দিল্লীশ্বরে নজরানা নেয় না, উলটা দিয়া থাকে। বিনিময়ে তাহাকে তোমার চারণভূমির তলদেশের অধিকার দিতে হইবে।" আমি বলি,"তা নিকনা তলদেশের অধিকার, তাতে আমার কি? আমি আমার উপরদেশে ধান চাষ করিব আর গবাদী পশু চরাইব।" নিন্দুক বলে,"এই জন্যই তো আমরা আজও গবাদী পশু রয়ে গেলাম, আর গোয়ালঘরে বসিয়া ধানের খেড় চর্বন করিতে লাগিলাম। উত্তর শক্তি আর হইতে পারিলাম না। বড়জোর তাহার পা চাটিতে পারিলাম।" আমি বলি,"কথা বেশী ঘোলা করিও না। আমি গাধা নহি।" ছোটলোকে বলে কিনা,"তোমাকে দেখিলে গাধাও লজ্জা পাইবে। ভাবিবে, এত ভার বহন করিবার শক্তি পায় কোথা থেকে এই গবাদী পশুটা?"

আমি বুঝিলাম এই ছোটলোকের সহিত আর কিয়ৎক্ষণ ব্যয় করিলে আমি শিষ্টতার সীমা ছাড়াইয়া যাইব। আমি ভদ্রলোকের ছেলে, মানে মানে সরিয়া যাই।

তো একদিন শুনি সুন্দরী বেগম নাকি দিল্লীশ্বর না উত্তর শক্তি কার নিকট হইতে নজরানা গ্রহণ করিয়া সিংহাসনে উপবেশন করিয়াছিলেন। বিনিময়ে তিনি নাকি আমাদিগের চারণভূমির তলদেশের অধিকার উত্তর শক্তিকে উপহার দিয়াছেন। তা বেশ, বেশ। আমরা রঙ্গদেশের বাসিন্দারা নিরতিশয় ভদ্রলোক বটে। কেউ একটা উপহার প্রদান করিলে তাহাকে যে বিনিময়ে কিছু দেওয়া উচিৎ এই ভদ্রতাজ্ঞানটুকু আমাদের আতিশয় টনটনে। একবার মীর জাফর সাহেব তাহার আসামান্য ভদ্রতার নিদর্শনস্বরুপ দ্বীপ শক্তিকে পুরো রঙ্গদেশের চারণভূমিই উপহার দিয়া বসিয়াছিলেন। তা সুন্দরী বেগম তাহার ন্যায় ভদ্র না হইলেও একেবারে অভদ্র নহে।

কিন্তু বাধ সাধাইল নিন্দুকের দল। তাহারা কহিতে লাগিল, রঙ্গদেশের চারণভূমির উপরদেশ, তলদেশ, মোদ্দাকথা সকল দেশটাই এই রঙ্গদেশের অধিবাসীদের। কাহাকেও এইখানে অনুপ্রবেশ করিতে দেওয়া হইবে না। কিন্তু সুন্দরী বেগমের আত্মায় ঘা পড়িল। এ যে তাহার ভদ্রতার প্রকাশে কলুষিত ছায়া। তাই তিনি এই ছায়ার আড়ালের কায়াদিগকে বোধড়ক পিটাইয়া তক্তার ন্যায় বা জলের ন্যায় সোজা করিতে লাগিলেন। কিন্তু ইহারা সকলেই দেশাত্মবোধ নামক পাকনা কঞ্চির অধিকারী। প্রায়ই ইহাদিগের কঞ্চির বাড়ী গিয়া সিংহাসন এবং এর আশেপাশের এলাকায় গিয়া পড়ে। ইহা সহ্য করা অতিশয় দুঃসহ। আমি ভদ্রলোক মানুষ। এই নামীদামী ব্যাক্তিদের কষ্ট সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নহে। বিশেষত ইহার কঞ্চির বাড়ি সিংহাসনে পড়িলেও তাহার বাতাস আমার এবং কিছু গরীব লোকের গায়ে গিয়া পড়িবে। আমাদের তলদেশ গেলে যাউক দুঃখ নাই, তবু এই কঞ্চির বাড়ি সহ্য করা সম্ভব নহে। উহারা নাকি কিছুকাল পরেই একটি বিরাট কঞ্চির বাড়ি নিয়া হাজির হইতেছে। দুঃখে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত। আমি রঙ্গদেশের বাসিন্দা। আজকের পাঁচটাকা আমার নিকট আগামীকালকের একহাজার টাকা হইতে উত্তম। বহু সাধনা করিয়া আমরা খড়ের সুশীতল গৃহকোন পাইয়াছি। আমাদিগের শক্তিশালী পাঁচতলা দালান দরকার নাই। ঝড়ে আমাদের গৃহ উল্টাইলে উল্টাক। আবার মাসব্যাপি বেগাব খাটিয়া কুটির তৈরী করিব। নইলে আমি গবাদি পশু কিসের। না না এ অন্যায়। আমি আজকের পাঁচটাকা চাই। আমার আগামীকল্যের একহাজার টাকা উত্তর শক্তি নিলে নিক, আমার তাতে মাথা ব্যাথা নাই। তোমরা আমার অপকার করিও না, অন্যায় করিও না। আমার এক হাজার টাকা বাচানোর জন্য তোমরা এত সংগ্রাম করিও না। এতে যে আমার আজকে পাঁচটাকা নষ্ট হইয়া যাইতেছে। তুমি কি জাননা, আমি ফ্রী পাইলে আলকাতরাও খাই । তোমার কঞ্চির বাড়ি বন্ধ কর হে নিন্দুক। সকলে একস্বরে গেয়ে ওঠ, "ও হাসিনা জুলফেওয়ালী জানে যাহা,....................
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২১
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×