somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরবানীর মানবিকতা

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যা মানবিক দিক থেকে দেখলে কোরবানী বিষয়টা কেমন যেন লাগে, যদিও আমরা প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণীর দেহ ভক্ষন করি নিঃসংকোচে, যেহেতু তাদের হত্যাযজ্ঞ আমাদের চোখের অগোচরে হয়ে থাকে, আর তাই তা আমাদের মনে কোন প্রভাব বিস্তার করে না। কথায় আছে, চোখের আড়াল তো মনের আড়াল। হত্যা দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত নন আপনি। কিন্তু দেখুন এই দৃশ্য আপনার মত অনেকের মনে লুকিয়ে থাকা মানবিকতাকে বের করে আনছে। একটা মমত্ববোধ জন্ম দিচ্ছে মনে। তর্ক হতে পারে, তাই বলে একটা প্রাণের বিনিময়ে এই মানবিকতার জন্মদানে কি লাভ? হ্যা কিছু প্রাণ এখানে উৎসর্গ করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কিন্তু একদিনের জন্যই। একদিনের জন্য এই উৎসর্গ কিন্তু আপনার মনে চিরদিনের একটা মমত্ববোধ এনে দিচ্ছে, বছর বছর যেটা শুধু ঝালিয়ে নেয়া হচ্ছে যাতে মরচে না পড়ে। কোন কিছু পেতে হলে সংগ্রাম করতে হয়। তাতে কিছু ক্ষয় ক্ষতি হয় এবং কাউকে সেই ক্ষয় ক্ষতির কাজটা করতে হয়। যোদ্ধা নিজের দলের জন্য, নিজের দলের ভালর জন্য অন্য দলের কিছু ক্ষয় ক্ষতি করে। তাই বলে সবাই কিন্তু যোদ্ধা নয়। সে এই নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে বাকী সবার মানবিকতাকেই রক্ষা করে। এটাও এক ধরণের ত্যাগ বা উৎসর্গ। অন্যের ভালর জন্য নিজের মনের মমত্ববোধকে বিসর্জন দেওয়া। এই যে আপনার মনে মন খারাপের জন্ম নিচ্ছে, আপনি কিছুদিন বিষন্ন হয়ে থাকছেন এটা কিন্তু আপনার উপকারই করছে। যারা জবাই করে তারা যোদ্ধা হয়ে আমাদের বাকী সমাজের জন্য এই উপকারটুকু বয়ে আনে। আপনাকে যতই নীতিকথা শোনানো হোক না কেন আপনার চোখে কিন্তু জল আনা সম্ভব না। অথচ এই কোরবানী হয়তো আপনার জন্য কয়েকদিনের মন খারাপ এনেছে, আপনার চোখে জল এনেছে। আপনার মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলেছে। এমনকি যে জবাই করে বা যে জবাইয়ের সময় পা ধরে রাখে তারো কিন্তু খারাপ লাগে, আপনি জানেন কিনা জানিনা। আমি নিজেই এইরকম খারাপ লাগাদের একটা উদাহরণ। ঐযে একটা কথা আছেনা, আমার যত অহংকার ডুবাও চোখের জলে। তেমনি কোরবানীর এই রক্তে আমাদের ভেতরের কাঠিন্যটা ডুবে যায়। আর কোরবানীর উদ্দেশ্যই কিন্তু নিজের মনের পশুত্বকে ( কাঠিন্যকে ) হত্যা করা। আপনারা হয়তো এর ফলে সৃষ্ট বিকৃতির কথাও আনতে পারেন। যেমন বেশ কিছুদিন আগে এক হুজুর তার নিজের সন্তানকে জবাই করেছে। এক্ষেত্রে বলব, কোন কিছুই শতভাগ শুদ্ধ নয়। সব কিছুরই ব্যাতিক্রম হিসেবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে। কিন্তু এর ফলে সমাজের বিরাট অংশের মূল ঘটনাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আর গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত মাংশের বহুল চর্বিত চর্বন কথাগুলো বলার দরকার নাই। সবাই আমরা এটা বেশ ভালই বুঝি। আর যারা ডিপ ফ্রীজ পার্টি আছেন তারা নিতান্তই দারিদ্রসীমার নীচের দারিদ্রসীমায় অবস্থানকারী। তারা এতই গরীব যে গরীবের মাংশটুকুও তাদের লাগে। সোজা বাংলায় অভাবের তাড়নায় তারা গরীবের মাংশটুকু চুরি করতেও পিছপা হন না। উনাদের অর্থনৈতিক ও মানসিক উন্নতি কামনা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২১
১৮টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×