এমনিতেই মারাত্মক সমস্যার মধ্যে থাকি সবসময়। জীবন খুওই কঠিন। মানসিক সমস্যা এমনিতেই আছে। তার মধ্যে গোদের উপ্রে বিষফোড়ার মত ইদানিং আরেকটা এলার্জি দেখা দিছে। এলার্জি নানা রকম হয়। অনেকের ইলিশ মাছ খাইলে চুলকানী হয়, অনেকের গরুর মাংশ খাইলে চুলকানী হয়, অনেকের গোলাপ ফুলের গন্ধ শুকলে মাথা ঘুরায়, অনেকের ধুলাবালি খাইলেই সর্দি হয়। এলার্জির নানা রকমফের ও নানা উপসর্গ। কার কাছে জানি শুনছিলাম এলার্জির কোন স্থায়ী অষুধ নাই। আমার এহন নতুন এলার্জী দেহা দিছে। এলার্জির উপসর্গ হইল ঘাড়ের রগ তেড়া হইয়া যায় আর পিড়াইতে মনে চায়। এলার্জির উৎস হইল একটা শব্দ। এই শব্দটা কোন জায়গায় দেখলে বা শুনলেই আমার উক্ত উপসর্গ দেখা দেয়। শব্দটা হইল "শিবির"। ইদানিং মেজাজ এতই খারাপ থাকে যে এই শব্দটা দেখলেই আমার মন্ডায় চায়............
বাল্টা আমার ছাল্টা ফেলে মাল্টা চলে গেল............
কি সুন্দর রুপ ধইরা আহে এই কুত্তাগুলান। বুড়িরে খাইয়া নেকড়ে যেমন বুড়ির রুপ ধইরা থাকে সেইরকম। মাগার কাঠুরিয়ার কুড়ালের হাত থিকা তোগোর নিস্তার নাই।
আইচ্ছা এইডির মাথায় কি রে ভাই?? এইগুলান কোন হিসাবে শিবির করে?? ধর্ম হিসাবে?? দুইদিন শিবির করার পরই তো এইগুলানের থলের বেড়াল বাইর হওন আরম্ভ করে। তারপরেও এইগুলান কিল্লাই এইসব করে?? এগোর মাথার ভিত্রে কি কিছুই নাই?? সামান্য বিবেচনাবোধ থাকলেও তো মানুষ বুঝে যে কোনডা ভালা কোনডা খারাপ। এই যে আমরা এত গাইলাই বকি এর পরেও এরা কেমনে এত ধৈর্য্য ধইরা এই দল করে?? এরা কি বুঝে না যে সাধারণ মানুষ এইগুলানরে পছন্দ করে না?? এরা কি বোকার স্বর্গে বাস করে?? বাংলাদেশের মাটিতে বইয়া আবার পাকিস্তান কায়েমের স্বপ্ন দেখে?? আরে ভাই আমরা জাতিগত ভাবে সেমেটাইট না। সেমেটাইটরা আমাগোর সাথে আইসা মিইশা গেছে। যারা মিশতে পারে নাই ( যেমন ইংরেজরা ) তারা চইলা গেছে। তারা থাকতে পারে নাই। এহন যদি গাঞ্জা খাইয়া আমাগোরে গোড়া মতবাদের দিকে টানতে চায় কোন লাভ হইব না। কোন বাপের বেডা পারে নাই। সব এই মাটিতে আইসা মিশা গেছে এই মাটির সাথে। যারা মিশতে পারে নাই তাদের এই মাটি ছাইড়া চইলা যাইতে হইছে। পারসী কন, আরবী কন সবাই এই অঞ্চলের মানুষের সাথে মিশা গেছে।
যে জন বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি
এই যে আপাত শিক্ষিত শিবির বাহিনী তোমরা কি এই কবিতাডা পড় নাই?? নাকি খালি নোটবই দেইখা হাফেজী ষ্টাইলে ব্যাখ্যা মুখস্ত কইরা পরীক্ষার খাতায় উগরাইয়া দিয়া আইছো?? একবার নিজেরে প্রশ্ন কর তুমি কে?? তোমার উৎস কি?? তুমি কোন মাটির?? তুমি কোন ভৌগলিক অঞ্চলের??
আইচ্ছা কনতো দেহি বাঙ্গালীরে যদি আমি এহন পানির বদলে টয়লেট পেপার ধরাইয়া দেই বাথরুমে যাওনের সময় বাঙ্গালি কি সেইটা মানব??
তাও যদি আবার বাংলার মাটিতে, আমাদের গেরাম গঞ্জ মফস্বলের বাড়ীঘরের টিনের দরজা দেওয়া টয়লেটে এক বদনা পানির বদলে এক বান্ডিল কে দশ বান্ডিল টয়লেট পেপার যদি ধরাইয়া দেই তাইলে কি আমরা মানুম??
জীবনেও না।
আমরা ভৌগলিকভাবে অন্য ধাচের। শিব্রাম চক্রবর্তীর মতে এক অংশ বার্মীজ, এক অংশ উড়িয়া, এক অংশ .........( ভুইলা গেছি, পারলে কেউ মনে করাইয়া দিয়েন ) এই রকম পাচ জাত মিলা বাঙ্গালী। আমরা বিশুদ্ধ আরাব না, ইরানী না, ব্রিটিশ না, ফ্রেঞ্চ না, জর্মন না। আমরা বাঙ্গালী। আমাগো গায়ের চামড়া অন্যরকম। আমরা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মানুষ। আমাগোর বেইট্টাইনগোরে ( মহিলাদের ) সারা বাড়ী ঘর জুইড়া কাম কাজ করতে হয়। তারা ধান মাড়ায়, ধান শুকায়। আপাদমস্তক বোরখায় মুইড়া, খালি ঘরের রান্না বান্না করলে তাগোর পেট চলে না। আমাগোর বাড়ীর চাইরপাশ দিয়া বেড়া দিয়াও বেইট্টানগোরে বেগানা পুরুষ থিকা আলাদা রাখন সম্ভব না। কারণ ক্ষেত থিকা কামলা ধান আডি বাইন্ধা আইনা ফালাইব, বেইট্টাইনরা হেইড়ি মাড়াই করব, সিদ্ধ করব........... বহুত কাম আছে। এইসব গোড়ামি কইরা, অক্ষরে অক্ষরে ধর্ম পালন করা আমাগোর পক্ষে সম্ভব না। আমাগোর পেট চালাইতে হয় ভাত খাইয়া, রুটি খাইয়া বা খাজুর খাইয়া বা দুম্বার গোশত খাইয়ায় না। এই ভেতো বাঙ্গালী যত চেষ্টাই করা হোক না কেন সেমেটাইট হইব না। এরা কোনদিন আরাবগোর মত হইব না। কারণ আমাগোর প্রকৃতি অন্যরকম। আমার রক্তে, ডি এন এ তে যা আছে, আমার পূর্বপুরুষের যে চরিত্র তা আমি অস্বীকার করুম কেমনে??
এই কারনে কোনদিনও এই অঞ্চলে জঙ্গীবাদ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না। কারণ আমরা জাতিগত ভাবে উগ্র না। আমাদের জাতিগত চরিত্র অন্যরকম। আমার দুস্ত মুহুম্মদের একটা কাহিনী কই।
এক ইয়ামেনী খুব খুন খারাপী করে। প্রতিদিন অন্তত দশটা মানুষ ন্মা মারলে তার শান্তি হয় না। আবার সে নামাজও পড়ে ঠিকমত। ইদানিং সে খুন খারাপী কমাইয়া দিতে চেষ্টা করতাছে। ইদানিং সে তিন চাইরটার বেশী মানুষ মারে না। তা ইদানিং সে একদিন মসজিদ থিকা নামাজ পইড়া বাইর হইয়া কইতাছে, আগে আমি আমার নামাজ কবুল হওয়া নিয়া সংশয়ে ভুগতাম, কিন্তু ইদানিং মনে হয় আমার নামাজ কবুল হইতাছে, কারণ আমি পাপ কাজ অনেক কম করি, ডেইলি মাত্র তিন চাইরজন মানুষ মারি
আমরা ঐ প্রকৃতির না। আমরা বাসের ভাড়া বাড়াইলে বড়জোর কন্ডাকটর বেটারে কিছু ঝাড়ি দেই, দুইদিন পরে সব মাইনা নিয়া নতুন বর্ধিত ভাড়া দেওয়া আরম্ভ করি। আমাগোর রক্ত অনেক ঠান্ডা। জঙ্গীবাদ, ধর্মীয় উগ্রতাবাদ, ১০০ তে ১০০ হিসাবে অক্ষরে অক্ষরে ধর্ম পালন এইসব আমাগোরে দিয়া হইব না। এইসব করতে চাইলে আপনাগোরে আরো পশ্চিমে যাইতে হইব। যত পশ্চিমে যাইবেন ততই আপনাগোর প্রকৃতির আপনাগোর কর্মকান্ডের সমর্থক পাইবেন। মুঘলরা পর্যন্ত এইখানে ডান্ডা চালাইয়া টিকতে পারবা না বুইঝা এই জায়গার মানুষের মন জয় কইরা এই অঞ্চলের মানুষের সাথে মিশা গেছে আর আপনেরা কোন চেটের বাল!!!!!!!!!!! ইংরেজরা পর্যন্ত লেজ গুটাইয়া ভাগছে দুইশ বছর পর আর আপনেরা কোন চেটের বাল!!!!!!!!!! পাকিস্তানীরা পর্যন্ত থাকতে পারলনা এত শৌর্য সৈন্য নিয়া আর আপনেরা কোন চেটের বাল!!!!!!!!!!!!
ভাবতাছেন যে ব্রেইন ওয়াশ করবেন??? শক্তিতে যহন পারা যাইব না বুদ্ধিমত্তা দিয়া অধিকার করবেন??
লাভ নাই!!!!!!!! আমরা বাঙ্গালী!!!!!!!!!! আমগোর একটা পুলারে ট্রেনিং দিয়া আত্মঘাতী বোমা হামলার লাইগা পাঠাইবেন। সে বাজারে যাইব বোমা মারতে। হঠাৎ কইরা হয়তো তার চোখে পড়ব বাবার ডাইন হাতের তর্জনি ধইরা মাছ কিনতে আসা কোন সুন্দর ফুটফুটে একটা ছেলে। পিতা-পুত্রের এই অদ্ভুত হস্তযোগাযোগের মধ্যেই সে এমন অপার্থিব ভালবাসা খুইজা পাইব যে তৎক্ষণাৎ বোমার ফালাইয়া সোজা বাড়ীতে গিয়া মাকে জড়াইয়া ধইরা কান্না আরম্ভ করব। মা তার মাথায় হাত বুলাইয়া স্নেহভরা কন্ঠে জিগাইব, "বাবা কি হইছে তোর?" ছেলে উত্তর দিবে,"বাবা কই মা, আমার বাবাকে দেখতে ইচ্ছা করছে।"
বাকী কাহিনী বুইঝা নেন।
আমরা স্বভাব কবি। সামু ব্লগে দেহেন না কবিতাইয় ভরা। ইন্টারনেটের বিল খরচ কইরা সময় নষ্ট কইরা আমরা ব্লগে কবিতা পুষ্টাইয়া মন্তব্যের আশায় বইয়া থাকি।
আমাগোরে দিয়া কি আপনের ওই দুই পয়সার বেরেন ওয়াশের বোমা মারানি সম্ভব??
জীবনেও না। আমাগরে বরং "একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিশ্বয় তুমি আমার অহংকার", "একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গায়" এইসব গান শুনাইয়া বোমা মারানি সম্ভব। আমরা শিল্পীত জিনিস ছাড়া বোমা মারার উৎসাহ পাই না। উগ্রবাদীতা জীবনেও আমাগোরে দিয়া হইব না।
বোকার স্বপ্ন থিকা বাইর হইয়া আসেন। আপনি হয়তো এখনো অনেক দূর যান নাই। আমাদের মাঝে আসেন। আপনার বাবা মায়ের কাছে ফিরে যান। দেখেন আপনার মা তার স্নেহের আচল বিছিয়ে, ভাত বেড়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা সবাই এই মাটির সন্তান। আমরা কেন কঠোর হব। পলিমাটির মত আমাদের নরম কলিজাটাকে যদি জোরপূর্বক ডীপ ফ্রীজে রেখে শক্ত করতে যাই তাহলে যে তার কলিজার কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে মারা যাব। মসজিদে যখন সন্ধ্যাবেলা আজান দেয় তখন আপনি যে পবিত্রতা নিয়ে লাল আকাশের রক্তিমা দেখতে দেখতে মাগরিবের নামাজ পড়তে যান, তাহলে আপনি যে শান্তি পাবেন সেই শান্তি কি আপনি আপনার নিজের মাটির মানুষকে হত্যা করে নিজের ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো হাতের রক্তিমা দেখতে দেখতে নামাজ পড়তে গেলে পাবেন??
আপনাকে তো কেউ মানা করে নাই ধর্ম কর্ম করতে। আপনার ধর্মকর্ম আপনি করেন। এর জন্য তো কোন বিশেষ দল করার প্রয়োজনীয়তা নাই। আপনি কেন শুধু শুধু আপনার নিজের দেশের মানুষের রক্তে হাত রাঙ্গাতে যাবেন?? রক্তমাখা হাতে যখন অযু করবেন তখন কুলকুচা করার সময় সেই রক্ত আপনার জিহ্বা স্পর্শ করবে না?? আপনি নিজেই ভেবে দেখেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

