somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগ্নিকোণ-১

১৭ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রলাপ পোষ্ট। প্রলাপ পইড়া সময় নষ্ট না করতে চাইলে ঢুইকেন না।

আমি বহুদিন আগে একটা কল্পনা করছিলাম।

আচ্ছা আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থা তো এখন অনেক ভাল। মোবাইলে মোবাইলে, কাউন্টার বাসের টিকেটে অবস্থা যাই হোক একেবারে খারাপ না। এমনকি পেলেনও যায় কোন কোন জায়গায়।

আমার কুটিকালে বিনোদনের মাধ্যম আছিল টেলিভিষণ। হ টেলিভিষণ। একটা টেলিভিষণ আর তার মধ্যে বাংলা ধারাবাহিক নাটক। এরপরে আইলো প্যাকেজ নাটক। এক ঘন্টার পেকেজ নাটক দেইখা মায়েরে আফসুস করতে দেখছি। মা কইতো, এত তাড়াতাড়ি নাটক শেষ, এর পরে আর কোন কাহিনী নাই।

সব শালা কমপেক্ট হইয়া গেছে।

আমার একটা খেলনা হেলিকাপ্টার আছিল। কমলা রঙের হেলিকাপ্টার। ঐটার চাইরটা চাক্কা আছিল। চাক্কার উপর দিয়া ঐটারে চালাইলে ঐটার পাঙ্খা ঘুরত। আমি খুব খুব খুব চাইতাম, আমার নিজের যদি একটা হেলিকাপ্টার থাকত! আমি চিন্তা করতাম হেলিকাপ্টার বানানি যায় কেমনে। আকাশ দিয়া মধ্যে মধ্যে হেলিকাপ্টার উইড়া উইড়া যাইত। আমি দেখতাম আর খালি দেখতাম।

আমি ঐ কমলা রঙের হেলিকাপ্টারটারে চাকু দিয়া কাটছিলাম, এর ভিতরে কি আছে দেহার লাইগা। আমি দেখতে চাইছিলাম এর ভিতরে মানুষ আছে নাকি নাই।

আমার একটা খুব ছোট খেলনা গাড়ীও আছিল। ওই গাড়ীটাতে দুইটা মানুষও আছিল। আমি ঐ খেলনা গাড়ীটার ভিতরে ঢুইকা যাইতে চাইছিলাম। পায়ের আঙ্গুল দিয়া গাড়ীটার জানালায় গুতাইতাম যদি কোনমতে একবার ঢুইকা পড়তে পারি এই আশায়।

আমি হেলিকপ্টারটারে কাটনের পরে ভিতরে কিছুই পাই নাই। হেলিকপ্টারটার লেঞ্জাটা অন্যরকমভাবে মুল বডির লগে লাগানি আছিল, যেমন নাড়াচাড়ায় সক্ষম পুতুলের হাতগুলি পুতুলের সাথে লাগানি থাকে। আমি হেলিকপ্টারটার লেঞ্জাটা লইয়া কিছুদিন বাইড়া বাইড়ি করলাম। তারপর একদিন বৃষ্টি নামল রাইতের বেলায়। আমাগোর কারখানার পাশে খোলা জায়গা আছিল। ঐখানে বাজার বসত। ঐ বৃষ্টির রাইতে কারখানায় কাজ চলতাছিল। অনেক কর্মচারী আছিল সেইদিন। ঐ বাজারে সেইদিন সিনেমার পর্দা টানানি হইছিল। আমাগো কারখানার সব কর্মচারিরা সেইদিন সিনেমা দেখতে গেছিল বৃষ্টিতে ভিইজ্যা। আমিও গেছিলাম। কিন্তু বেশীক্ষণ থাকি নাই। সিনেমা আমারে আকর্ষণ করে নাই।

অনেক মানুষ হইছিল সেইদিন। একগাদা ছাতা গাদাগাদি কইরা দাড়াইয়া আছিল। পর্দার আলোতে কালো আকাশের নীচে কালো ছাতাগুলি জমাটবদ্ধ মনে হইতাছিল।

আমার কাছে জমাটবদ্ধতা ভাল লাগে নাই। আমি সিনেমা না দেইখাই আইয়া পড়ছিলাম।

আমি তখন অনেক ছোট। সিনেমা নাটক কিছুই বুঝি না।

আমি এখনও মনে করতে পারি, আমি একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সিনেমায় কি দেহাইতাছে কিছুই বুঝতাম না। খালি চাইয়া চাইয়া দেখতাম।

আপনারাদের অনেকেরই হয়তো মনে আছে, বাংলা ছবি দেইখা কিন্তু মহিলারা তখন কানতো।

তারা জানতো না যে তারা কানতাছে, কিন্তু ছবির করুণ দৃশ্যের দিকে মনযোগ দিয়া তারা তাকাইয়া থাকত, তাদের চোখ একসময় ছলছল করত। আমি ষ্পষ্ট মনে করতে পারি আমার মায়ে ছলছল চোখ। একটা সিনেমার নাম আছিল "চাপা ডাঙ্গার বউ"। সেইদন কারেন গেছিলগা। মা অন্য আরেক বাড়ীতে গেছিল আমারে সাথে নিয়া সিনেমার বাকীটুকু দেহার লাইগা।

আমি জমাটবদ্ধ ছাতা থিকা আমার হেলিকপ্টারের লেঞ্জা হাতে কইরা কারখানায় ফেরত আইলাম। আমি দেখলাম গ্যাসের চুলাটা জ্বলতাছে।

আমি আগুন নিয়া খেলা করতে পছন্দ করি সেই ছোটবেলা থিকা। আমি প্রচুর পলিথিন পুড়াইছি একসময়। গ্যাসের চুলার আগুনে পলিথিনের একটু অংশ ধরাইয়া দিয়া তারপরে মজা দেখতাম। পলিথিন গইলা গইলা পড়ত, পইড়া জমাত প্লাষ্টকের রুপ নিত আর জ্বলত নীল আগুন।

আমার পায়ের পাতার উপরে একসময় প্রচুর গলন্ত পলিথিন পড়ছে। খুব জ্বলত প্রথম প্রথম। তারপরে চলটা ধইরা উঠাইতাম পায়ের পাতার উপর থিকা জমাট বাধা পলিথিন। লোমগুলি ছিড়া আসত। কিন্তু সেটা কোন ব্যাপার ছিল না। আমার জন্য সেইটা সহ্য হইয়া গেছিল।

আমি শলার ঝাড়ুর উপর প্রচুর নির্যাতন চলাআইতাম। আমার কারণে বাসার শলার ঝাড়ুগুলার শলা খুব তাড়াতাড়ি কইমা যাইত। আমি একটা একটা কইরা শলা ভাংতাম আর আগুনে পুড়া দিতাম। শলার মাথা লাল হইয়া গেলে আমি ঐটারে হাতে কইরা ঘুরাইতাম। ঘুরন্ত লাল আগুন দেখতে আমার ভাল লাগত।

বাবা আমার এহেন কর্মকান্ডে বিরক্ত হইয়া আমারে নানাভাবে নিষধ বকা বাদ্যি কইরাও আমারে থামাইতে পারে নাই। আমি কিছু ভয় পাইতাম না। আমার একটা প্রিয় শখ মোমবাতি জ্বালাইয়া গলন্ত মোম শরীরের উপরে ফালানি। তারপরে চলটা ধইরা সেই মোম উঠানি।

বাবা বলত, আগুন নিয়া খেলা করিস না, তাইলে শয়তানে ধরব। আমারে শয়তানের ভয় দেখানি হইতো। আমি তেমন একটা পাত্তা দিতাম না শয়তানরে।

আমি সিনেমার মাঠ, জমাটবদ্ধ কাল ছাতা থিকা গ্যাসের চুলার কাছে ফিরা আসলাম। তারপরে হেলিকপ্টারের লেঞ্জাটা আমি আগুনে পুড়া দিলাম।

গলন্ত প্লাষ্টিক! আহা গলন্ত প্লাষ্টিক!!

আমার পায়ের উপর দুই ফোটা পড়ল। আমি মুখ বুইজা সহ্য করলাম। তারপর আমি জ্বলন্ত হেলিকপ্টারের লেঞ্জা নিয়া বাইরের বৃষ্টিতে যাইয়া দাড়াইলাম। আগুন জ্বলছিল হেলিকপ্টারের লেঞ্জায়, আমি আগুন দেখতে আছিলাম, ফোটায় ফোটায় পড়ন্ত গলন্ত প্লাষ্টিক দেখতে আছিলাম। প্লাষ্টিক গলানি কিন্তু খুব মজা! হঠাৎ আমার বাবা আমার সামনে পইড়া গেল। উনি সাথে সাথে হেলিকপ্টারের গলন্ত লেঞ্জা নিভাইয়া দিলেন। আধপোড়া লেঞ্জা আমি কারখানার দেয়ালে, বিভিন্ন মাল রাখার তাকে, লোহার দরজায় বাইড়াইতে লাগলাম। আমি ছোট, তাই আমি খেলা করি।

আমি বহুদিন আগে একটা কল্পনা করছিলাম।


চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৬
৬২টি মন্তব্য ৫৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×