somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসেন ক্যাচাল করি-২

১৭ ই মে, ২০১০ ভোর ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আস্তিক নাস্তিক নিয়া একটু উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলতাছে। এর মাঝে হয়তো আরেকটু ঘি ঢাললাম। সকলের ধর্মানূভুতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি......

আসলে আমি মূর্খ, অশিক্ষিত মানুষ। ধর্ম, অধর্মের জ্ঞান আর দশজনের মতই। ভুল কিছু বইলা থাকলে ধরাইয়া দিবেন।

কিছু প্রশ্ন ঘুরে মনে।

আচ্ছা মুহম্মদ (সাঃ) নাকি মদ নিষিদ্ধ বা হারাম করছিল যেইদিন, সেইদিন ড্রেন দিয়া লাল মদের স্রোত বইয়া গেছে। মদ হারাম, কারন তা খারাপ জিনিস। খারাপ জিনিস কখনই ইসলাম সমর্থন করে না। কারন ইসলাম হইল বৈজ্ঞানিক এবং অংকের মত নির্ভুল। খারাপ মানে যৌক্তিকভাবে কোন কিছুর মান শূণ্য মানেই ঐটা বাদ।

তাই মদ হারাম ঘোষণা করা হৈছে একেবারে। মদের জায়গা হল ড্রেনের পচা পানি।

দাস প্রথাটা কেমন লাগে আমাদের সবার? মদ তো খারাপ। এইটা বর্জনীয়। মদ খাইয়া মানুষ মাতলামী করে, নানা ধরনের আকাম কুকাম করে। নানা অত্যাচার নির্যাতন হয় মদখোর স্বামীর হাতে নিষ্পাপ স্ত্রীর। মদ্যপ লোক কখনই ভাল হয় না।

দাস প্রথাটা কি মদের থিকা ভাল? এই পৃথিবীর মানুষ সব তো সমান ইসলাম মতে। এইটারে কেন মদের মত হঠাৎ কৈরা নিষিদ্ধ করা হৈল না? এতে কি মুসলিম ধর্ম গ্রহনকারী ধনী ব্যাক্তিদের ধর্ম ছেড়ে যাবার কোন আশংকা ছিল? একটা মানুষ আরেকটা মানুষের কেনা গোলাম। এই জিনিসটা তো চরম অমানবিক। এইটারে তো খাড়ার উপরে নিষিদ্ধ করা উচিত। যদি নিয়মটা এমন হৈত যে ইসলাম যে গ্রহন করবে, তাকে ইসলাম গ্রহণ করার সাথে সাথে মদ ছাড়তে হবে, দাস দাসীদের মুক্ত করতে হবে, তাইলে কি জিনিসটা আরও শক্ত ভিতের উপর দাড়াত না? কেন মানুষের মর্জির উপর আল্লাহর বিধান শুরুতে একরকম আর পরবর্তীতে আরেকরকম থাকবে?

আরবরা তো তখন আইয়ামে জাহেলিয়াতে নিমজ্জ ছিল। অবাধ যৌনাচার তাদের কাছে নাকি সাধারণ বিষয় ছিল। এখন ইসলামে তো আমার জানামতে শুরুতে, যখন ধর্ম প্রচার করা শুরু হয়, তখন যদি কেউ মুসলিম হৈত তবে তারে অবাধ যৌনাচার ত্যাগ করতে হৈত। বলা হয়ে থাকে খাদ্যের পরেই মানুষের চেতনায় নাকি যৌনতার অবস্থান। মানুষ যদি এই চাহিদা ত্যাগ কৈরা মুসলিম হৈতে পারে, তাইলে মদ, দাস এইসব ছাইড়া কেন মুসলিম হৈতে পারবে না?

ইসলাম তো বিজ্ঞান সম্মত, কোন ত্রুটি নাই, আপস নাই। একেবারে অংকের মত নির্ভুল। কোন প্লাস মাইনাসের ভুলও নাই। তবে কেন সাহিত্যিক মানুষের মন মর্জির উপর নির্ভর কৈরা গাণিতিক ইসলাম পরিবর্তিত হবে? তখনকার সমাজের অবস্থার কথা বিবেচনা কৈরা যদি আস্তে আস্তে একটু একটু কৈরা ইসলাম পরিবর্তিত হৈয়া একটা পূর্ণাঙ্গ রুপের দিকে যাইতে পারে তাহলে এখন সমস্যা কেন? এখন তো সমাজ আরো আরো বেশী পরিবর্তিত। সেই সময়ের সাথে এখনকার কোন মিল নাই। তখন ছাড় দিয়া মানুষরে আকৃষ্ট করা হৈলে এখন কেন করা যাবে না। বৈজ্ঞানিক ধর্ম কেন শুধুমাত্র তখনকার মদখোর, দাস পিটানি লোকের জন্য প্রথমে সহজ পরে কঠিন, এখনকার লোকের জন্য শুরুতেই কঠিন? তখন কেন মানুষরে আকৃষ্ট করার জন্য ছাড় দেয়া হৈছে? এইসব ছাড় না দিলে কি মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসত না?

বৈজ্ঞানিক ধর্ম চলবে বৈজ্ঞানিক সূত্রের মত। মানুষের মেজাজ অনুযায়ী সে বদলাবে কেন? নিয়ম যা সত্যি তা সবসময়ই সত্যি। সত্যি তো বদলানির কথা না। অবৈধ সঙ্গম বা জিনাহ ব্যাভিচার নিষেধ থাকলে দাসপ্রথা কেন বহাল একই সময়ে?

আচ্ছা যুদ্ধে যে সকল সৈন্য আটকানো হয়, তারা হৈল যুদ্ধবন্দী। তাদের দিয়া কাজ করান হৈতে পারে জোরপূর্বক, বিচার কইরা শাস্তি দেয়া যাইতে পারে। কিন্তু দাস হিসাবে পুনরায় ব্যাবহার করা কি যাইতে পারে? একটা সিষ্টেম আপনি উঠাইয়া দিতে চাইতাছেন আস্তে আস্তে। এখন কি ঐ সিষ্টেমরে আবার মাল মশলা দিয়া চাঙ্গা করাটা কি ঠিক?

মহিলাদের ক্ষেত্রেও ভাগ বাটোয়ারা করাটা আপনি আপনার সাধারণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থিকা কিভাবে দেখেন। আমার এই ক্ষেত্রে আরো কিছু প্রশ্ন ছিল, কিন্তু জিনিসটা অনেক অনেক বেশী ষ্পর্শকাতর তাই ঘাটাইলাম না।

তবে আরেকটা ষ্পর্শকাতর জিনিসের কথা আমি বলতে চাই। ধরেন একজন মহিলা একটা ছেলেরে একেবারে জন্মের পর থিকাই পালে। মহিলাটা নিঃসন্তান। তারে বুকের দুধ খাওয়াইয়া যে সে তার দুধ মা হৈব এমন কোন সম্ভাবনাও নাই। কিন্তু ছেলেটা তারে মা বইলাই ডাকে, মহিলা যেহেতু নিঃসন্তান সেহেতু এই ছেলেটাই তার পেটের ছেলের মত। ছেলেটার আসল মা বলতে এই মহিলাই। এহন কি এই দুইজনের বৈবাহিক সম্পর্ক জায়েজ, যেহেতু ছেলেটা পালক পুত্র? মহিলার কি ছেলেটা প্রাপ্তবয়ষ্ক হৈল তার সামনে পরদা করতে হৈব? আগের লাইন দুইটা লিখতে গিয়া আমার শরীর ঘৃনায় রি রি কৈরা উঠছে। আপনার সাধারণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জিনিসটা দেখেন। এইরকম জিনিস কি জায়জ হওয়া উচিত কোন সমাজে, কোন ধর্মে?
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৬
৬৫টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×