somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যাম্বেসি নয় আমরা যাই চ্যান্সারিতে

০৭ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক বড় ভাই আমেরিকায় থাকেন। দেশে ফেরার পর এবং আমেরিকায় ফিরে যাবার আগে তাকে বিভিন্ন প্রয়োজনে যেতে হয় মার্কিন দূতাবাসে। গতকাল তিনি আড্ডার সময় বলছিলেন, ঈদের পরপরই কিছু কাগজ পত্রের ব্যাপার নিয়ে তাকে যেতে হবে মার্কিন দূতাবাসে। আমি তাকে মজা করে বললাম, দূতাবাসে যাবেন কেন? মার্কিন রাষ্ট্রদূত কী আপনার পরিচিত? তিনি বললেন, এমন কথা বললা কেন? আমি দূতাবাসে যাব কিছু দরকারি কাজ সারতে। পরে আমি তাকে বিষয়টি খুলে বললাম।

আসলে অ্যাম্বেসি হলো কোন বিদেশী রাষ্ট্রদূতের বাসভবন। অর্থাৎ নিজ দেশের বাইরে নিয়োগ পাবার পর একজন রাষ্ট্রদূত তার বসবাসের জন্য যে বাড়িটি পান সেটাকেই কূটনৈতিক ভাষায় বলে অ্যাম্বেসি বা দূতাবাস। আর তার কাজের জন্য যে অফিস অর্থাৎ কোন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম যে ভবন থেকে পরিচালিত হয় তাকে বলা হয় চ্যান্সেরি। এ ভবনেই রাষ্ট্রদূত তার সব স্টাফ নিয়ে অফিস করেন এবং আমার সেই বড় ভাইয়ের মত যারা কোন কাজ নিয়ে যাই তারা মূলত এই চ্যান্সেরিতেই যাই; দূতাবাস বা অ্যাম্বেসিতে নয়।

অবশ্য এক্ষেত্রে আরো কিছু কথা আছে। অনেক আগে বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বিদেশী মিশনগুলোর কার্যক্রম খুব বেশি প্রসারিত ছিল না বলে রাষ্ট্রদূত যে ভবনে বসবাস করতেন সেই একই ভবন থেকেই মিশনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ফলে সে সময় থেকেই এই ধারনাটি প্রচলিত হয়েছে যে, দূতাবাস হলো কোন রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়। এমনকি আমাদের দেশে এখনও সংবাদপত্রগুলো বিভিন্ন সংবাদে দূতাবাস বলতে রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়কেই বুঝিয়ে থাকে। যা ঠিক নয়। যদিও হাল আমলে জনসাধারণের এই বিভ্রান্তিকে কিছুটা দূর করতে দুটি নতুন টার্ম প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কূটনৈতিক শব্দকে কিছুটা সরলীকরণ করে অ্যাম্বেসিকে বলা হয় ‘অ্যাম্বেসি রেসিডেন্স’ এবং চ্যান্সেরিকে বলা হয় ‘অ্যাম্বেসি অফিস’।

এ প্রসঙ্গে আরো একটু বলতে চাই, কূটনৈতিক ডিকশনারিতে অ্যাম্বেসির সাথে সম্পর্কীত আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা হরহামেশাই আমরা শুনে বা বলে থাকি। এটি হলো কনস্যুলেট। এই কনস্যুলেট হলো কোন বিদেশী মিশনের উপ-কার্যালয় এর মত যা মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে স্থাপন করা হয় এবং সে দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ভ্রমণের সুযোগ করে দেয়াই এর লক্ষ্য। ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও ভিসা প্রদান ও নিজ দেশের অর্থনৈতিকি স্বার্থ প্রসারেরও কনস্যুলেট ভূমিকা পালন করে থাকে। কনস্যুলেটের প্রধান হলেন কনস্যুলেট জেনারেল এবং তিনি নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতের অধীনে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০২
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×