রোজার মাসে নাকি দান খয়রাতের সওয়াব দ্বিগুন। সারা বছরতো পূণ্যের কাজ তেমন একটা করা হয় না, ভাবলাম রোজার মাসে দান খয়রাত করে যদি কিছুটা পূণ্য হয়। এই ভেবে নিউমার্কেট এর সামনে থেকে এক দাম তিনশ টাকায় একটা থ্রি পিস কিনি। বাসার কাজের বুযাকে দিয়ে বলি-বৃয়া তোমার মেয়ের জন্য।
যে বুয়ার মুখ আগের দিন থ্রি পিস পেয়ে ১০০ ওয়াট বাল্বের মতো উজ্জল ছিল আজ দেখি তার মুখে লোড শেডিং এর অন্ধকার। ভাই আমার মেয়ে এই জামা পরে না, হে নাকি মাছাক্কালি নইলে সানিয়া মীর্জা কিনব। আমি তো পুরা টাস্কি খাইলাম।
- ঠিক আছে দেখি চেঞ্জ করা যায কি না।
অনেক খুজেঁ একদাম তিনশটাকার দোকান পেলেও সে জামা ফেরত নিতে কিছুতেই রাজি হলো না। এটা চেন্জ করে মাছাক্কালি দিতে বলায় সে এমনভাবে আমার দিকে তাকালো যেন আমি অন্যগ্রহের কোন প্রাণী। তার কাছে প্রত্যাখাত হয়ে ভাবলাম পুনঃ এটি বাসায় নিয়ে বউয়ের ঝাড়ি খেয়ে লাভ নাই তারচেয়ে কাউকে দান করে কিছু পূণ্য কামানো যাক। নিউমার্কেট থেকে বাসায় ফেরার পথে পলাশীর কাছাকাছি রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে বানানো অস্থায়ী ঘরের পাশে একটা মেয়েকে দেখে থ্রি পিসটি তাকে দিই।
- এটা কি ?
- একটা থ্রি পিস, রেখে দাও।
- আমি রাখবো ক্যান? আমি আপনার কাছে চাইছি?
-আরে কি বিপদ, তোমাকে দিলাম, রেখে দাও।
- আপনাদের মতো লোকের মতলব আমি বু্ঝি না মনে করছেন? আমি ঐ রকম মাইয়া না। নিয়া যান আপনার জামা।
মাইয়ার উচ্চকন্ঠের হৈ চৈ শুনে পলিথিনের তাবুর ভেতর থেকে এক মধ্যবয়সী মহিলা বের
হয়ে এসে ঘটনা শুনে ততোধিক জোরে চেঁচামেচি শুরু করে। আশেপাশে বেশ কিছু লোক জমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পূণ্যের আশা বাদ দিয়ে কোন মতে পিতৃপ্রদত্ত পিঠ রক্ষা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। কিছুদূর যাওয়ার পর ন্যাড়া একবারই বেল তলায় যায় এ প্রবাদ বাক্যকে ভুল প্রমাণ করে পুনরায় রাস্তার পাশে মোটামুটি পুরোনো বস্ত্রে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়েকে দেখে জামাটি তার হাতে দিয়ে বলি - রেখে দাও।
- শোনেন, জামা টামায় চলবে না, নগদ ২০০ টাকা দেন; বলেন কোথায় যামু?
এ যেন ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে ঝাপ। ওকে আর গন্তব্যস্থল না বলে আমি কেটে পড়ি। রিক্সায় করে আসতে আসতে ভাবি পূণ্য করা আসলেই অনেক কঠিন। চিন্তা করে দেখলামএভাবে হবে না তারচেয়ে বরং আনমনে রিক্সা থেকে পেকেটটা ফেলে দিই, যে পাবে নিয়ে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ করে যেই একটু বস্তির নিঃশ্বাস ফেলব ততক্ষণে আমার রিক্সাকে ক্রস করে অন্য একটি রিক্সা দাঁড়িয়ে।
- ভাই আপনার পেকেট, রিক্সা থেকে পড়ে গেয়িছিল। বলে রিক্সাযাত্রী এমন ভাবে আমার দিকে তাকালো যেন আমার কতবড় উপকার উনি করলেন।
বুঝছি সবার ভাগ্যে দান করে পূণ্য অর্জনের সৌভাগ্যে হয় না। অবশেষে বিরস বদনে জামার পেকেট সহ বাসায় আগমন। পেকেটটি এখনো বহাল তবিয়তে ওয়ারড্রোবে, কোন কারনে ওয়ারড্রোব খুললে আমার দিকে ব্যঙ্গদৃষ্টিতে তাকিয়ে উপহাস করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

