জানিনা শিরোনামটি ঠিক হল কিনা। তবে অনেকদিন ধরেই এ বিষয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল। সময়ের অভাবে লেখা হয়ে উঠেনি। আসলে ব্লগ লিখতে আলসেমি লাগে। পড়তেই বরং বেশী ভাল লাগে। যাক আসল কথায় আসি। আমার পুরনো অভ্যাস মানুষকে কিছু জ্ঞ্যান দেয়া। যদিও নিজে ঠিকমত পালন করি কিনা সব তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই যে জ্ঞ্যান দেই কিন্তু নিজে মানিনা এটাই আমার আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু।
শুরু করছি Peter Drucker এর একটা বাণী দিয়ে...
"ETHICS IS WHAT WE DO, NOT WHAT WE SAY".
এই ব্যাপারটিরই বড় অভাব এই দেশে। তাই আজ আমরা বিশ্বের অন্যতম দূর্নীতিগ্রস্থ দেশ। সমাজের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে আছে দুর্নীতি,অনিয়ম,অন্যায়,অনাচার।মানুষ হিসেবে আমরা অনেক নিচে নেমে যাচ্ছি প্রতিদিন।নীতির চর্চা সে তো শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কাজের বেলায় কেউ নূন্যতম চর্চা করে বলে আমার মনে হয়না।
সমাজের প্রতি স্তরের এই দূর্নীতি এমন অবস্থায় পৌছেছে যে এখান থেকে ফিরে আসার রাস্তাটাই কেউ খুঁজে পাচ্ছেনা। কাউকে যদি জিজ্ঞেস করেন যে ভাই আপনি দূর্নীতি করেন কেন বা দূর্নীতি প্রশ্রয় দেন কেন? সে একটাই উত্তর দিবে...সবাই যখন দূর্নীতি করে তখন আমি করব না কেন? আসলেই তো ভাবনার বিষয়। হয়তো বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ নয় যেখানে বিচারকেরাও ঘুষ খায়। কিন্তু যখন এই কথাগুলো শুনি তখন সত্যি ঘেন্না ধরে যায় নিজের উপর। বিচারের বাণী আজ নিভৃতে কাঁদে। এতোটা নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণটা কি? সীমাহীন দূর্নীতি।
আমরা কি পারিনা আজ থেকেই প্রতিজ্ঞ্যা করতে যে একটি খারাপ কাজেও আমরা সাপোর্ট করব না। কাউকে অন্যায় করতে দিব না। নিজেও করব না। এটা প্রথম আলোর তথাকথিত বদলে যাও বদলে দাও স্লোগানের মাঝে সীমাবদ্ধ বদলে যাওয়া নয়। এটা আক্ষরিক অর্থেই নিজেকে বদলানো। সমাজের প্রতি,পরিবারের প্রতি আমাদের দ্বায়িত্বটুকু পালন করা। কোন মিথ্যার বেড়াজালে নয়, সত্য হোক তার মাধ্যম। এই নীতির চর্চার শুরু হোক পরিবার থেকেই।বাবা-মা-ছেলে-মেয়ের সম্পর্কে কোন ফাঁক-ফোকড় না থাকুক। আজ যদি আপনি কিছু গোপন করে যান আজ হয়তো জিতে গেলেন। কিন্তু সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই।
একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল...
এক রাজা বিশাল এক পুকুড় খনন করেছে। সব প্রজাদেরকে বলল সে এটা দুধ দিয়ে ভরে দিতে। সবাইকে এক জগ করে দুধ আনতে বলা হল। সবাই ভাবল অন্য সবাই তো দুধই আনবে আমি না হয় এক জগ পানি নিয়ে যাই। শেষে দেখা গেল পুকুরটা পানি দিয়েই ভরে গেছে। কারণ সবাই ফাঁকি দিয়েছে। দুধ কেউ আনেনি।
এটাই সততার অভাব। নিজের কাছে নিজের জবাবদিহিতার অভাব। এই নীতির চর্চাটুকু শুরু হোক আপনার পরিবার থেকেই। আপনার সন্তান এটা জেনেই বড় হোক তার বাবা-মা অসৎ নয়। প্রতিটা পরিবার থেকেই অন্তত একজন করে এমন সন্তান বেড়ে উঠুক যে নীতির প্রশ্নে কারো সাথে আপোষ করতে রাজী নয়। একদিন হয়তো সারা দেশ থেকেই দূর্নীতি বিদায় নিবে।
সুন্দর একটি আগামীর কামনায়।
ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


