somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহজ বাংলা বানান নিয়ম

২১ শে আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. দূরত্ব বোঝায় না এরূপ শব্দে উ-কার যোগে 'দুর' ('দুর' উপসর্গ) বা 'দু+রেফ' হবে। যেমন— দুরবস্থা, দুরন্ত, দুরাকাঙ্ক্ষা, দুরারোগ্য, দুরূহ, দুর্গা, দুর্গতি, দুর্গ, দুর্দান্ত, দুর্নীতি, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, দুর্নাম, দুর্ভোগ, দুর্দিন, দুর্বল, দুর্জয় ইত্যাদি।

২. দূরত্ব বোঝায় এমন শব্দে ঊ-কার যোগে 'দূর' হবে। যেমন— দূর, দূরবর্তী, দূর-দূরান্ত, দূরীকরণ, অদূর, দূরত্ব, দূরবীক্ষণ ইত্যাদি।

৩. পদের শেষে '-জীবী' ঈ-কার হবে। যেমন— চাকরিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, আইনজীবী ইত্যাদি।

৪. পদের শেষে '-বলি' (আবলি) ই-কার হবে। যেমন— কার্যাবলি, শর্তাবলি, ব্যাখ্যাবলি, নিয়মাবলি, তথ্যাবলি, রচনাবলি ইত্যাদি।

৫. 'স্ট' এবং 'ষ্ট' ব্যবহার: বিদেশি শব্দে 'স্ট' ব্যবহার হবে। বিশেষ করে ইংরেজি st যোগে শব্দগুলোতে 'স্ট' ব্যবহার হবে। যেমন— পোস্ট, স্টার, স্টাফ, স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মাস্টার, ডাস্টার, পোস্টার, স্টুডিও, ফাস্ট, লাস্ট, বেস্ট ইত্যাদি। ষত্ব-বিধান অনুযায়ী বাংলা বানানে ট-বর্গীয় বর্ণে 'ষ্ট' ব্যবহার হবে। যেমন— বৃষ্টি, কৃষ্টি, সৃষ্টি, দৃষ্টি, মিষ্টি, নষ্ট, কষ্ট, তুষ্ট, সন্তুষ্ট ইত্যাদি। অর্থাৎ 'স্ট'-এর উচ্চারণ হবে ‘স্‌ট্’-এর মতো এবং 'ষ্ট'-এর উচ্চারণ হবে ‘শ্‌টো’-এর মতো। যেমন— পোস্ট (পোস্‌ট্‌), লাস্ট (লাস্‌ট্‌), কষ্ট (কশ্‌টো), তুষ্ট (তুশ্‌টো) ইত্যাদি।

৬. যুক্তবর্ণে ‘স’ এবং ‘ষ’ ব্যবহার:
▓ অ/আ-কারের পর যুক্তবর্ণে স হবে। যেমন— তিরস্কার, তেজস্ক্রিয়, নমস্কার, পুরস্কার, পুরস্কৃত, বয়স্ক, ভস্ম, ভাস্কর, ভাস্কর্য, মনস্ক, সংস্কার, পরস্পর, বৃহস্পতি ইত্যাদি। এর ব্যতিক্রম বাষ্প দ্বারা গঠিত শব্দসমূহ। এছাড়া স্পৃশ্য, স্পর্ধা, স্পষ্ট, স্পন্দ, স্পন্দন, স্পর্শ, স্পৃষ্ট, স্পর্শী, স্মর, স্মৃত/স্মৃতি, স্মিত, স্মরণ, বিস্ময় দ্বারা গঠিত শব্দে স হবে। নিষ্ফল বাদে সকল ‘ফ’-এ ‘স’ হবে।
▓ ই/ঈ-কার, উ/ঊ-কার, এ/ঐ-কার এবং ও/ঔ-কারের পর যুক্তবর্ণে ষ হবে। যেমন— আবিষ্কর, আয়ুষ্কাল, আয়ুষ্কর, আয়ুষ্মান, আয়ুষ্মতী, উষ্ম, কুষ্মাণ্ড, গ্রীষ্ম, গীষ্পতি, গোষ্পদ, চতুষ্কোণ, চতুষ্পার্শ্ব, চতুষ্পদ, জ্যোতিষ্ক, দুষ্কর্ম, দুষ্কর, দুষ্প্রাপ্য, নিষ্কাশন, নিষ্কণ্টক, নিষ্পাপ, নিষ্পত্তি, নৈষ্কর্ম্য, পরিষ্কার, পুষ্করিণী, পুষ্প, মস্তিষ্ক, শ্লেষ্মা, শুষ্ক ইত্যাদি। এর ব্যতিক্রম বিস্ময় দ্বারা গঠিত শব্দসমূহ।
[দ্রষ্টব্য: বাংলা বানানে স্ট/স্ঠ এবং ষ্ত/ষ্থ হবে না। তাই নিম্নের নিয়মগুলোতে ‘ষ্ট/ষ্ঠ’ এবং ‘স্ত/স্থ’ দ্বারা গঠিত বানান প্রযোজ্য নয়।]

৭. 'পূর্ণ' এবং 'পুন' (পুনঃ/পুন+রেফ/পুনরায়) ব্যবহার : 'পূর্ণ' (ইংরেজিতে Full/Complete অর্থে) শব্দটিতে ঊ-কার এবং র্ণ যোগে ব্যবহার হবে। যেমন— পূর্ণরূপ, পূর্ণমান, সম্পূর্ণ, পরিপূর্ণ ইত্যাদি। 'পুন-' (পুনঃ/পুন+রেফ/পুনরায়— ইংরেজিতে Re- অর্থে) শব্দটিতে উ-কার হবে এবং অন্য শব্দটির সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহার হবে। যেমন— পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনঃপুন, পুনর্জীবিত, পুনর্নিয়োগ, পুনর্নির্মাণ, পুনর্মিলন, পুনর্লাভ, পুনর্মুদ্রিত, পুনরুদ্ধার, পুনর্বিচার, পুনর্বিবেচনা, পুনর্গঠন, পুনর্বাসন ইত্যাদি।

৮. পদের শেষে'-গ্রস্থ' নয় '-গ্রস্ত' হবে। যেমন— বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত ইত্যাদি।

৯. অঞ্জলি দ্বারা গঠিত সকল শব্দে ই-কার হবে। যেমন— গীতাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, জলাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি ইত্যাদি।

১০. আনন্দ-ব্যথা দান কর্মে ই-কার হয়। যেমন— ইয়ার্কি, মশকারি, বাঁদরামি, পাগলামি, ফাজলামি, বদমায়েশি, ইতরামি, মারামারি, হাতাহাতি ইত্যাদি।

১১. বিদেশি শব্দে ণ, ছ, ষ ব্যবহার হবে না। যেমন— হর্ন, কর্নার, সমিল (করাতকল), স্টার, বাসস্ট্যান্ড, ফটোস্ট্যাট, আস্‌সালামু আলাইকুম, ইনসান ইত্যাদি।

১২. অ্যা, এ ব্যবহার: বিদেশি বাঁকা শব্দের উচ্চারণে 'অ্যা' ব্যবহার হয়। যেমন— অ্যান্ড (And), অ্যাড (Ad/Add), অ্যাকাউন্ট (Account), অ্যাম্বুলেন্স (Ambulance), অ্যাসিস্ট্যান্ট (Assistant), অ্যাডভোকেট (Advocate), অ্যাকাডেমিক (Academic), অ্যাডভোকেসি (Advocacy) ইত্যাদি। অবিকৃত বা সরলভাবে উচ্চারণে 'এ' হয়। যেমন— এন্টার (Enter), এন্ড (End), এডিট (Edit) ইত্যাদি।

১৩. ইংরেজি বর্ণ S-এর বাংলা প্রতিবর্ণ হবে 'স' এবং sh, -sion, -tion বর্ণগুচ্ছে 'শ' হবে। যেমন— সিট (Seat/Sit), শিট, (Sheet), রেজিস্ট্রেশন (Registration), মিশন (Mission) ইত্যাদি।

১৪. আরবি বর্ণ ش (শিন)-এর বাংলা বর্ণ রূপ হবে 'শ' এবং ث (সা), س (সিন) ও ص (সোয়াদ)-এর বাংলা বর্ণ রূপ হবে 'স'। ث (সা), س (সিন) ও ص (সোয়াদ)-এর উচ্চারিত রূপ মূল শব্দের মতো হবে এবং বাংলা বানানের ক্ষেত্রে 'স' ব্যবহার হবে এবং 'স'-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ হবে। যেমন— সালাম, শাহাদত, শামস, ইনসান ইত্যাদি। আরবি, ফারসি, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা থেকে আগত শব্দ বা নামসমূহে ছ, ণ ও ষ ব্যবহার হবে না।

১৫. শ ষ স :
তৎসম শব্দে ষ ব্যবহার হবে। খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে ষ ব্যবহার হবে না। বাংলা বানানে 'ষ' ব্যবহারের জন্য অবশ্যই ষত্ব-বিধান, উপসর্গ, সন্ধি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। বাংলায় অধিকাংশ শব্দের উচ্চারণে 'শ' বিদ্যমান। এমনকি 'স' দিয়ে গঠিত শব্দেও 'শ' উচ্চারণ হয়। 'স'-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ বাংলায় খুবই কম। 'স'-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ হচ্ছে— সমীর, সাফ, সাফাই। যুক্ত বর্ণ, ঋ-কার ও র-ফলা যোগে যুক্তধ্বনিতে 'স'-এর উচ্চারণ পাওয়া যায়। যেমন— সৃষ্টি, স্মৃতি, স্পর্শ, স্রোত ইত্যাদি।

১৬. সমাসবদ্ধ পদ ও বহুবচনমূলক শব্দগুলোর মাঝে ফাঁক রাখা যাবে না। যেমন— চিঠিপত্র, আবেদনপত্র, ছাড়পত্র (পত্র), বিপদগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত (গ্রস্ত), গ্রামগুলি/গ্রামগুলো (গুলি/গুলো), রচনামূলক (মূলক), সেবাসমূহ (সমূহ), যত্নসহ, পরিমাপসহ (সহ), ত্রুটিজনিত, (জনিত), আশঙ্কাজনক, বিপজ্জনক (জনক), অনুগ্রহপূর্বক, উল্লেখপূর্বক (পূর্বক), প্রতিষ্ঠানভুক্ত, এমপিওভুক্ত, এমপিওভুক্তি (ভুক্ত/ভুক্তি), গ্রামভিত্তিক, এলাকাভিত্তিক, রোলভিত্তিক (ভিত্তিক), অন্তর্ভুক্তকারণ, এমপিওভুক্তকরণ, প্রতিবর্ণীকরণ (করণ), আমদানিকারক, রফতানিকারক (কারক), কষ্টদায়ক, আরামদায়ক (দায়ক), স্ত্রীবাচক (বাচক), দেশবাসী, গ্রামবাসী, এলাকাবাসী (বাসী), সুন্দরভাবে, ভালোভাবে (ভাবে), চাকরিজীবী, শ্রমজীবী (জীবী), সদস্যগণ (গণ), সহকারী, আবেদনকারী, ছিনতাইকারী (কারী), সন্ধ্যাকালীন, শীতকালীন (কালীন), জ্ঞানহীন (হীন), দিনব্যাপী, মাসব্যাপী, বছরব্যাপী (ব্যাপী) ইত্যাদি। এ ছাড়া যথাবিহিত, যথাসময়, যথাযথ, যথাক্রমে, পুনঃপুন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহিঃপ্রকাশ শব্দগুলো একত্রে ব্যবহার হয়।

১৭. বিদেশি শব্দে ই-কার ব্যবহার হবে। যেমন— আইসক্রিম, স্টিমার, জানুয়ারি, ফ্রেরুয়ারি, ডিগ্রি, চিফ, শিট, শিপ, নমিনি, কিডনি, ফ্রি, ফি, ফিস, স্কিন, স্ক্রিন, স্কলারশিপ, পার্টনারশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, স্টেশনারি, নোটারি, লটারি, সেক্রেটারি, টেরিটরি, ক্যাটাগরি, ট্রেজারি, ব্রিজ, প্রাইমারি, মার্কশিট, গ্রেডশিট ইত্যাদি।

১৮. উঁঅ (ঙ) ব্যবহার যোগে কিছু শব্দ। এক্ষেত্রে অনুস্বার (ং) ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— অঙ্ক, অঙ্কিত, অঙ্কন, অঙ্কুর, অঙ্গ, অঙ্গন, আকাঙ্ক্ষা, আঙিনা, আঙুর (ঙ্গ বর্জন), আতঙ্ক, আশঙ্কা, ইঙ্গিত, উচ্ছৃঙ্খল, উলঙ্গ, কঙ্কাল, কঙ্কর, কামরাঙা (ঙ্গ বর্জন), গঙ্গা, গাঙ (ঙ্গ নয়), গাঙচিল (ঙ্গ নয়), চাঙ্গা, চোঙা, টাঙা, ঠুঙি (ঙ্গ নয়), ঠোঙা (ঙ্গ নয়), ঠোঙা, ডিঙা (ঙ্গ নয়), ডিঙি (ঙ্গ নয়), ডিঙানো (ঙ্গ নয়), ডিঙোনো (ঙ্গ নয়), দাঙ্গা, নোঙর (ঙ্গ নয়), প্রাঙ্গণ, প্রসঙ্গ, পঙ্‌ক্তি, পঙ্কজ, পতঙ্গ, ফিঙে (ঙ্গ বর্জন), বঙ্গ, বাঙালি, ভঙ্গ, ভঙ্গুর, ভাঙা, মঙ্গল, রঙিন (ঙ্গ নয়), রাঙা (ঙ্গ নয়), লঙ্কা, লঙ্গরখানা, লঙ্ঘন, লিঙ্গ, শঙ্কা, শঙ্খ, শৃঙ্খল, শৃঙ্গ, শশাঙ্ক, সঙ্গ, সঙ্গী, সঙ্গে, সঙ্ঘাত, হুঙ্কার, হাঙ্গামা, হাঙর (ঙ্গ নয়)।
[দ্রষ্টব্য: অলংকার, অহংকার, কিংকর, ভয়ংকর, শংকর, শুভংকর, সংকুচিত, সংকীর্ণ, সংকীর্তন, সংকেত, সংকট, সংকর, সংকল্প, সংকুল, সংকলক, সংকলন, সংগীত, সংগম, সংঘ, সংঘাত, সংঘর্ষ শব্দে ং (অনুস্বার) ব্যবহার করতে হবে।]

১৯. অনুস্বার (ং) ব্যবহার যোগে কিছু শব্দ। এক্ষেত্রে উঁঅ (ঙ) ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— কিংকর্তব্য, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কিংবদন্তি, সংজ্ঞা, সংক্রামণ, সংক্রান্ত, সংক্ষিপ্ত, সংখ্যা, সংগঠন, সংগ্রাম, সংগ্রহ, সংগৃহীত।
[দ্রষ্টব্য: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দ দুটি অনুস্বার (ং) দিয়ে লিখতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে তাই করা হয়েছে।]

২০. ‘কোণ, কোন ও কোনো’-এর ব্যবহার:
কোণ : ইংরেজিতে Angle/Corner (∠) অর্থে।
কোন : উচ্চারণ হবে কোন্। ইংরেজিতে Which অর্থে। বিশেষত প্রশ্নবোধক অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন— তুমি কোন দিকে যাবে?
কোনো : ও-কার যোগে উচ্চারণ হবে। ইংরেজিতে Any অর্থে। যেমন— যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।

২১. বাংলা ভাষায় চন্দ্রবিন্দু একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণ। চন্দ্রবিন্দু যোগে শব্দগুলোতে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করতে হবে; না করলে ভুল হবে। অনেক ক্ষেত্রে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার না করলে শব্দে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। এ ছাড়া চন্দ্রবিন্দু সম্মানসূচক বর্ণ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। যেমন— তাহাকে>তাঁহাকে, তাকে>তাঁকে ইত্যাদি।

২২. ও-কার: অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়া পদ এবং বিশেষণ ও অব্যয় পদ বা অন্য শব্দ যার শেষে ও-কার যুক্ত না করলে অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব সৃষ্টি হতে পারে এমন শব্দে ও-কার ব্যবহার হবে। যেমন— মতো, হতো, হলো, কেনো (ক্রয় করো), ভালো, কালো, আলো ইত্যাদি। বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ও-কার ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— ছিল, করল, যেন, কেন (কীজন্য), আছ, হইত, হইল, রইল, গেল, শত, যত, তত, কত, এত ইত্যাদি।

২৩. আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে। যেমন— খেয়ালি, পুবালি, বর্ণালি, মিতালি, রুপালি, স্বর্ণালি, সোনালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

২৪. জীব, -জীবী, জীবিত, জীবিকা ব্যবহার। যেমন— সজীব, রাজীব, নির্জীব, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, জীবিত, জীবিকা।

২৫. অদ্ভুত, ভুতুড়ে বানানে উ-কার হবে। এ ছাড়া সকল ভূতে ঊ-কার হবে। যেমন— উদ্ভূত, ভূত, ভস্মীভূত, বহির্ভূত, ভূতপূর্ব ইত্যাদি।

২৬. নীল অর্থে সকল বানানে ঈ-কার হবে। যেমন— নীল, সুনীল, নীলক, নীলিমা ইত্যাদি।

২৭. না-বাচক (নাই, নেই, না, নি) পদগুলো আলাদা করে লিখতে হবে। যেমন— বলে নাই, আমার ভয় নাই, আমার ভয় নেই, হবে না, যাবে না ইত্যাদি। তবে সমাসবদ্ধ হিসেবে নি একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। যেমন— করিনি, হয়নি ইত্যাদি।

২৮. অ-তৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে ই-কার ব্যবহার হবে। যেমন— সরকারি, তরকারি, গাড়ি, বাড়ি, দাড়ি, শাড়ি, চুরি, চাকরি, মাস্টারি, মালি, পাগলামি, পাগলি, বোমাবাজি, দাবি, হাতি, বেশি, খুশি, হিজরি, আরবি, ফারসি, ফরাসি, ইংরেজি, জাপানি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, সিন্ধি, ফিরিঙ্গি, সিঙ্গি, ছুরি, টুপি, দিঘি, কেরামতি, রেশমি, পশমি, পাখি, ফরিয়াদি, আসামি, বেআইনি, কুমির, নানি, দাদি, বিবি, চাচি, মাসি, পিসি, দিদি, বুড়ি, নিচু।

২৯. ত্ব, তা, নী, ণী, সভা, পরিষদ, জগৎ, বিদ্যা, তত্ত্ব শব্দের শেষে যোগ হলে ই-কার হবে। যেমন— দায়িত্ব (দায়ী), প্রতিদ্বন্দ্বিতা (প্রতিদ্বন্দ্বী), প্রার্থিতা (প্রার্থী), দুঃখিনী (দুঃখী), অধিকারিণী (অধিকারী), সহযোগিতা (সহযোগী), মন্ত্রিত্ব, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ (মন্ত্রী), প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিতত্ত্ব, প্রাণিজগৎ, প্রাণিসম্পদ (প্রাণী) ইত্যাদি।

৩০. ঈ, ঈয়, অনীয় প্রত্যয় যোগ ঈ-কার হবে। যেমন— জাতীয় (জাতি), দেশীয় (দেশি ), পানীয় (পানি), জলীয়, স্থানীয়, স্মরণীয়, বরণীয়, গোপনীয়, ভারতীয়, মাননীয়, বায়বীয়, প্রয়োজনীয়, পালনীয়, তুলনীয়, শোচনীয়, রাজকীয়, লক্ষণীয়, করণীয়।

৩১. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না৷ যেমন— অর্চনা, অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্দম, কর্তন, কর্ম, কার্য, গর্জন, মূর্ছা, কার্তিক, বার্ধক্য, বার্তা, সূর্য৷

৩২. ভাষা ও জাতিতে ই-কার হবে। যেমন— বাঙালি/বাঙ্গালি, জাপানি, ইংরেজি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি।

৩৩. ব্যক্তির '-কারী' বা ‘-আরী’-তে ঈ-কার হবে। যেমন— সহকারী, উপকারী, অধিকারী, আবেদনকারী, পথচারী, কর্মচারী ইত্যাদি। এমনটা নয়—সেখানে ই-কার হয়। যেমন— সরকারি, দরকারি, তরকারি, শিকারি ইত্যাদি।

৩৪. প্রমিত বানানে শব্দের শেষে ঈ-কার থাকলে –গণ যোগে ই-কার হয়। যেমন— সহকারী>সহকারিগণ, কর্মচারী>কর্মচারিগণ, কর্মী>কর্মিগণ, আবেদনকারী>আবেদনকারিগণ ইত্যাদি।

৩৫. 'বেশি' এবং '-বেশী' ব্যবহার: 'বহু', 'অনেক' অর্থে ব্যবহার হবে 'বেশি'। শব্দের শেষে যেমন— ছদ্মবেশী, প্রতিবেশী অর্থে '-বেশী' ব্যবহার হবে।

৩৬. 'ৎ'-এর সাথে স্বরচিহ্ন যোগ হলে 'ত' হবে। যেমন— জগৎ>জগতে জাগতিক, বিদ্যুৎ>বিদ্যুতে বৈদ্যুতিক, ভবিষ্যৎ>ভবিষ্যতে, আত্মসাৎ>আত্মসাতে, সাক্ষাৎ>সাক্ষাতে ইত্যাদি।

৩৭. ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে যদি শব্দের প্রথমে অ-কার থাকে তা পরিবর্তন হয়ে আ-কার হবে। যেমন— অঙ্গ>আঙ্গিক, বর্ষ>বার্ষিক, পরস্পর>পারস্পরিক, সংস্কৃত>সাংস্কৃতিক, অর্থ>আর্থিক, পরলোক>পারলৌকিক, প্রকৃত>প্রাকৃতিক, প্রসঙ্গ>প্রাসঙ্গিক, সংসার>সাংসারিক, সপ্তাহ>সাপ্তাহিক, সময়>সাময়িক, সংবাদ>সাংবাদিক, প্রদেশ>প্রাদেশিক, সম্প্রদায়>সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি।

৩৮. সাধু থেকে চলিত রূপের শব্দসমূহ যথাক্রমে দেখানো হলো: হউক>হোক, যাউক>যাক, থাউক>থাক, লিখ>লেখ, গুলি>গুলো, শুন>শোন, শুকনা>শুকনো, ভিজা>ভেজা, ভিতর>ভেতর, দিয়া>দিয়ে, গিয়া>গিয়ে, হইল>হলো, হইত>হতো, খাইয়া>খেয়ে, থাকিয়া>থেকে, উল্টা>উল্টো, বুঝা>বোঝা, পূজা>পুজো, বুড়া>বুড়ো, সুতা>সুতো, তুলা>তুলো, নাই>নেই, নহে>নয়, নিয়া>নিয়ে, ইচ্ছা>ইচ্ছে ইত্যাদি।

৩৯. হয়তো, নয়তো বাদে সকল তো আলাদা হবে। যেমন— আমি তো যাব না, সে তো আসবে না ইত্যাদি।
[দ্রষ্টব্য: মূল শব্দের শেষে আলাদা তো ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।]

৪০. ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং বর্ণগুলোর পূর্বে ঁ হবে না। অর্থাৎ ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং = ঁ। যেমন— খান=খাঁ, চান/চন্দ/চন্দ্র=চাঁদ, পঞ্চ=পাঁচ, ফান্দ=ফাঁদ, গাঞ্জা=গাঁজা, চান্দা=চাঁদা, অঙ্কন=আঁকা, কঙ্কণ=কাঁকন, হংস=হাঁস, অন্ধকার/আন্ধার=আঁধার, বন্ধন=বাঁধন/বাঁধা, কণ্টক=কাঁটা, ক্রন্দন/কান্দা=কাঁদা, ইন্দুর=ইঁদুর, বান্দর=বাঁদর, সিন্দূর=সিঁদুর, চম্পা=চাঁপা ইত্যাদি।

৪১. ব্য- ব্যা- ব্যবহার:
▓ ক্ত, গ, জ/ঞ্জ, ত, থ, ব, ভ, ষ্ট, স্ত-এর পূর্বে ব-এ য-ফলা (ব্য) হবে। যেমন— ব্যক্ত, ব্যক্তি, ব্যঞ্জন, ব্যতিক্রম, ব্যথা, ব্যর্থ, ব্যবস্থা, ব্যভিচার, ব্যষ্টি, ব্যস্ত ইত্যাদি।
▓ ক, খ, ঘ, দ, ধ, প, প্ত, স, হ-এর পূর্বে ব-এ য-ফলা আ-কার (ব্যা) হবে। যেমন—ব্যাকরণ, ব্যাকুল, ব্যাখ্যা, ব্যাঘাত, ব্যাধি, ব্যাপক, ব্যাপার, ব্যাপ্তি, ব্যাস, ব্যাসার্ধ ব্যাহত ইত্যাদি।
▓ ব, প, স, বর্ণগুলোতে কিছুটা ব্যক্তিক্রম আছে। তবে ব্যক্তিক্রম বানানগুলোর প্রচলন নেই বললেই চলে। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। ব্যঙ্গ, ব্যয় দ্বারা গঠিত শব্দে ব্য হবে। ব্যাঙাচি, ব্যাঙ্গম, ব্যাঙ্গমি, ব্যায়াম শব্দে ব্যা হবে। ব্যাবসাব্যবসায়ী>ব্যাবসায়িক, ব্যবহার>ব্যবহারী>ব্যাবহারিক।

৪২. -এর, -এ, কে এবং -কে ব্যবহার:
▓ চিহ্নিত বাক্য বা উক্তির সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— গুলিস্তান ‘ভাসানী হকি ষ্টেডিয়াম’-এর সাইনবোর্ডে স্টেডিয়াম বানানটি ভুল।
▓ চিহ্নিত শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— ‘বাবাচ’-এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন। এখানে ঊর্ধ্ব কমা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্ব কমা তুলে দিলে অর্থাৎ চিহ্নিত না-করলে সরলভাবে ব্যবহার হবে। যেমন— বাবাচের পক্ষ থেকে অভিনন্দন।
▓ শব্দের পরে যেকোনো প্রতীকের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— হাদিস রাসুল (সা.)-এর বাণী।
▓ বিদেশি শব্দ অর্থাৎ বাংলায় প্রতিবর্ণীকরণ নয় এমন শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— SMS-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।
▓ গাণিতিক শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— ৫-এর চেয়ে ২ কম। ১৯৭১-এর সময়।
▓ সংক্ষিপ্ত শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— অ্যাগ্রো কোম্পানি লি.-এর সাথে চুক্তি।

▓ প্রশ্নবোধক অর্থে 'কে' (ইংরেজিতে Who অর্থে) আলাদা ব্যবহার হয়। যেমন— হৃদয় কে?
▓ প্রশ্ন করা বোঝায় না এমন শব্দে '-কে' একসাথে ব্যবহার হবে। যেমন— হৃদয়কে আসতে বলো।

▓ নামোজ্জ্বলে '-কে' '-এর' ব্যবহার:
নাম বিচিত্রবর্ণে সাজানোর ক্ষেত্রে সমাসবদ্ধ ‘-কে’‘-এর’-কে হাইফেন দ্বারা আলাদা করা যায়। যেমন—
মাসুদ-কে ভোট দিন (এখানে মাসুদ লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)
বাবাচ-এর পক্ষ থেকে (এখানে বাবাচ লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)
রানা-এর আগমন (এখানে রানা লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)
রানা-র আগমন (এখানে রানা লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)

এ ছাড়া সরলভাবে বাক্য গঠনে ‘-কে’, ‘-এর’ এবং ‘-এ’-কে একসাথে লিখতে হবে। যেমন– জনস্বার্থে মাসুদকে ভোট দিন; বাবাচের পক্ষ থেকে অভিনন্দন; ঢাকায় রানার আগমন। ‘-কে’ এবং ‘-এর’-কে আলাদা করতে হলে অবশ্যই হাইফেন ( -) ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই ভুলবশত হাইফেন ব্যবহার করে না। এক্ষেত্রে লোপচিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না। শব্দ গঠনে -এর/-এ ব্যবহার হবে না। যেমন– রং-এ নয় রঙে, ভাই-এর নয় ভাইয়ের, বউ-এর নয় বউয়ের, যাচাই-এ নয় যাচাইয়ে, অফিস-এর নয় অফিসের, শুটিং-এর নয় শুটিংয়ের, বাংলাদেশ-এর নয় বাংলাদেশের, কোম্পানি-এর নয় কোম্পানির, শিক্ষক-এর নয় শিক্ষকের, স্টেডিয়াম-এ নয় স্টেডিয়ামে লিখতে হবে।

৪৩. বিসর্গ (ঃ ) ব্যবহার:
বিসর্গ একটি বাংলা বর্ণ—এটি কোনো চিহ্ন নয়। বর্ণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। বিসর্গ (ঃ) হলো অঘোষ 'হ্‌'-এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি। 'হ'-এর উচ্চারণ ঘোষ কিন্তু বিসর্গ (ঃ)-এর উচ্চারণ অঘোষ। বাংলায় ভাষায় বিস্ময়াদি প্রকাশে বিসর্গ (ঃ )-এর উচ্চারণ প্রকাশ পায়। যেমন— আঃ, উঃ, ওঃ, ছিঃ, বাঃ, হাঃ। পদের শেষে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার হবে না। যেমন— ধর্মত, কার্যত, আইনত, ন্যায়ত, করত, বস্তুত, ক্রমশ, প্রায়শ ইত্যাদি। পদমধ্যস্থে বিসর্গ ব্যবহার হবে। যেমন— অতঃপর, দুঃখ, স্বতঃস্ফূর্ত, অন্তঃস্থল, পুনঃপুন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। শব্দকে সংক্ষিপ্ত রূপে প্রকাশে বিসর্গ ব্যবহার করা হলেও আধুনিক বানানে ডট ( . ) ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন— ডাক্তার>ডা., ডক্টর>ড., লিমিটেড> লি. ইত্যাদি। বিসর্গ যেহেতু বাংলা বর্ণ এবং এর নিজস্ব ব্যবহার বিধি আছে—তাই এ ধরনের বানানে (ডাক্তার>ডা., ডক্টর>ড., লিমিটেড> লি.) বিসর্গ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বিসর্গ যতিচিহ্ন নয়।
[সতর্কীকরণ: বিসর্গ (ঃ)-এর স্থলে কোলন ( : ) কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— অত:পর, দু:খ ইত্যাদি। কারণ কোলন ( : ) কোনো বর্ণ নয়, চিহ্ন। যতিচিহ্ন হিসেবে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার যাবে না। যেমন— নামঃ রেজা, থানাঃ লাকসাম, জেলাঃ কুমিল্লা, ১ঃ৯ ইত্যাদি।]

বিসর্গসন্ধি:
বিসর্গ (ঃ )-এর সঙ্গে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। উচ্চারণের দিক থেকে বিসর্গ দু রকম :
১. র্ -জাত বিসর্গ : শব্দের শেষে র্ থাকলে উচ্চারণের সময় র্ লোপ পায় এবং র্-এর জায়গায় বিসর্গ (ঃ) হয়। উচ্চারণে র্ বজায় থাকে। যেমন— অন্তর>অন্তঃ+গত=অন্তর্গত ( অন্‌তোর্‌গতো)।
২. স্-জাত বিসর্গ : শব্দের শেষে স্ থাকলে সন্ধির সময় স্ লোপ পায় এবং স্-এর জায়গায় বিসর্গ ( ঃ ) হয়। উচ্চারণে স্ বজায় থাকে। যেমন : নমস্ > নমঃ + কার = নমস্কার ( নমোশ্‌কার্‌)।
বিসর্গসন্ধি দু-ভাবে সাধিত হয় : ১. বিসর্গ ( ঃ ) ও স্বরধ্বনি মিলে; ২. বিসর্গ ( ঃ ) ও ব্যঞ্জনধ্বনি মিলে।
১. বিসর্গ ও স্বরধ্বনির সন্ধি:
ক. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি স্থলে ও-কার হয়। যেমন—
ততঃ + অধিক = ততোধিক
যশঃ + অভিলাষ = যশোভিলাষ
বয়ঃ + অধিক = বয়োধিক
খ. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়। যেমন—
পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার
প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ
পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি
পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত
২. বিসর্গ ও ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি
ক. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে বর্গের ৩য়/ ৪র্থ/ ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি স্থলে র-জাত বিসর্গে র/ রেফ (র্) এবং স-জাত বিসর্গে ও-কার হয়। যেমন—
র-জাত বিসর্গ : র্
অন্তঃ + গত = অন্তর্গত
পুনঃ + জন্ম = পুনর্জন্ম
অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান
পুনঃ + বার = পুনর্বার
অন্তঃ + ভুক্ত = অন্তর্ভুক্ত
পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন
স-জাত বিসর্গ : ও
মনঃ + গত = মনোগত
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত
তিরঃ + ধান = তিরোধান
তপঃ + বন = তপোবন
অধঃ + মুখ = অধোমুখ
মনঃ + যোগ = মনোযোগ
মনঃ + রম = মনোরম
মনঃ + লোভা = মনোলোভা
মনঃ + হর = মনোহর
খ. বিসর্গের পরে চ/ছ থাকলে বিসর্গের স্থলে শ; ট/ঠ থাকলে ষ এবং ত/থ থাকলে স হয়। যেমন—
নিঃ + চয় = নিশ্চয়
দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
দুঃ + তর = দুস্তর
নিঃ + তেজ = নিস্তেজ
ইতঃ + তত = ইতস্তত
দুঃ + থ = দুস্থ
গ. অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরের সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে স্বরধ্বনি, বর্গের ৩য় / ৪র্থ / ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থলে র হয়। যেমন—
নিঃ + অবধি = নিরবধি
নিঃ + আপদ = নিরাপদ
নিঃ + গত = নির্গত
নিঃ + ঘণ্ট = নির্ঘণ্ট
নিঃ + বাক = নির্বাক
নিঃ + ভয় = নির্ভয়
আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা
দুঃ + আচার = দুরাচার
দুঃ + গতি = দুর্গতি
দুঃ + বোধ = দুর্বোধ
প্রাদুঃ + ভাব = প্রাদুর্ভাব
দুঃ + মর = দুর্মর
দুঃ + যোগ = দুর্যোগ
দুঃ + লভ = দুর্লভ
ঘ. র-জাত বিসর্গের পরে র থাকলে বিসর্গ লোপ পায় এবং প্রথমে ই-কার থাকলে তা ঈ-কার হয়। যেমন—
নিঃ + রব = নীরব
নিঃ + রস = নীরস
নিঃ + রোগ = নীরোগ
ঙ. অ/আ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে স হয়। যেমন—
নমঃ + কার = নমস্কার
তিরঃ + কার = তিরস্কার
পুরঃ + কার = পুরস্কার
ভাঃ + কর = ভাস্কর
চ. ই/উ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে ষ হয়। যেমন—
নিঃ + কাম = নিষ্কাম
নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ
নিঃ + ফল = নিষ্ফল
বহিঃ + কার = বহিষ্কার
চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ
চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ
ছ. কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ পায় না। যেমন—
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া
অন্তঃ + করণ = অন্তঃকরণ

৪৪. ম-ফলা, ব-ফলা ও য-ফলার উচ্চারণ:
ম-ফলার উচ্চারণ:
▓ পদের প্রথমে ম-ফলা থাকলে সে বর্ণের উচ্চারণে কিছুটা ঝোঁক পড়ে এবং সামান্য নাসিক্যস্বর হয়। যেমন— শ্মশান (শঁশান্), স্মরণ (শঁরোন্)। কখনো কখনো ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকতেও পারে। বিশেষ করে যেমন— স্মৃতি (সৃতি বা সৃঁতি)।
▓ পদের মধ্যে বা শেষে ম-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে সে বর্ণের দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য নাসিক্যস্বর হয়। যেমন— আত্মীয় (আত্‌তিঁয়), পদ্ম (পদ্‌দোঁ), বিস্ময় (বিশ্‌শঁয়), ভস্মস্তূপ (ভশ্‌শোঁস্‌তুপ্‌), ভস্ম (ভশ্‌শোঁ), রশ্মি (রোশ্‌শিঁ)।
▓ গ, ঙ, ট, ণ, ন, বা ল বর্ণের সঙ্গে ম-ফলা যুক্ত হলে, ম-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যুক্ত ব্যঞ্জনের প্রথম বর্ণের স্বর লুপ্ত হয়। যেমন— বাগ্মী (বাগ্‌মি), যুগ্ম (যুগ্‌মো), মৃন্ময় (মৃন্‌ময়), জন্ম (জন্‌মো), গুল্ম (গুল্‌মো)।

ব-ফলার উচ্চারণ:
▓ শব্দের প্রথমে ব-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে শুধু সে বর্ণের উপর অতিরিক্ত ঝোঁক পড়ে। যেমন— ক্বচিৎ (কোচিৎ), দ্বিত্ব (দিত্‌তো), শ্বাস (শাশ্), স্বজন (শজোন), দ্বন্দ্ব (দন্‌দো)।
▓ শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে যুক্ত ব্যঞ্জনটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন— বিশ্বাস (বিশ্‌শাশ্), পক্ব (পক্‌কো), অশ্ব (অশ্‌শো)।
▓ সন্ধিজাত শব্দে যুক্ত ব-ফলায় ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন— দিগ্বিজয় (দিগ্‌বিজয়), দিগ্বলয় (দিগ্‌বলয়)।
▓ শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ব’ বা ‘ম’-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন— তিব্বত (তিব্‌বত), লম্ব (লম্‌বো)।
▓ উৎ উপসর্গের সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বহাল থাকে। যেমন— উদ্বাস্তু (উদ্‌বাস্‌তু), উদ্বেল (উদ্‌বেল্‌)।
▓ ▓ ‘হ’-এর পর ব-ফলা থাকলে হ+ব-ফলা ‘ওভ’ উচ্চারিত হয়। যেমন— জিহ্বা (জিওভা), গহ্বর (গওভর), আহ্বান (আওভান) ইত্যাদি।

য-ফলার উচ্চারণ:
▓ য-ফলার পর ব্যঞ্জনধ্বনি বা অ, আ, ও ধ্বনি থাকলে য-ফলা ‘অ্যা’ উচ্চারিত হয়। যেমন— ব্যবহার (ব্যাবোহার্‌), ব্যস্ত (ব্যাস্‌তো) ইত্যাদি।
▓ য-ফলার পরে ‘ই’ ধ্বনি থাকলে য-ফলা ‘এ’ উচ্চারিত হয়। যেমন— ব্যক্তি (বেক্‌তি), ব্যতীত (বেতিতো) ইত্যাদি।
▓ য-ফলা শব্দের মাঝে বা শেষে থাকলে ‘দ্বিত্ব’ উচ্চারিত হয়। যেমন— বিদ্যুৎ (বিদ্‌দুত্‌), বিদ্যা (বিদ্‌দা) ইত্যাদি।
▓ শব্দের প্রথমে য-ফলার সাথে উ-কার, ঊ-কার, ও-কার থাকলে য-ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন— দ্যুতি (দুতি), জ্যোতি (জোতি) ইত্যাদি।
▓ ▓ ‘হ’-এর পর য-ফলা থাকলে হ+য-ফলা ‘জ্‌ঝ’ উচ্চারিত হয়। যেমন— সহ্য (শোজ্‌ঝো), গ্রাহ্য (গ্রাজ্‌ঝো) ইত্যাদি।
▓ ▓ উদ্যোগ শব্দটির উচ্চারণ বাংলায় দুটি পাওয়া যায়— উদ্‌দোগ ও উদ্‌জোগ। তবে জনমনে বেশি প্রচলিত উদ্‌দোগ। অনেকের মতে উদ্যোগকে যদি সংস্কৃত ভেঙে উদ্‌যোগ রূপে লেখা হয়—তবে এর উচ্চারণ উদ্‌জোগ হবে।
▓ ▓ য বা য-ফলার আদি বা সংস্কৃত উচ্চারণ ‘ইঅ (ইয়)’। যেমন— যামিনী (ইয়ামিনি), শ্যাম (শিয়াম) ইত্যাদি।

[দ্রষ্টব্য: আমাদের অবশ্যই বাংলা বানান ও বাংলা বানানের উচ্চারণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কারণ বাংলা বানান ও উচ্চারণের পার্থক্য রয়েছে। যেমন— আছ (আছো), দেখা (দ্যাখা), একা (অ্যাকা) ইত্যাদি।]


--------------------------------------------------

বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পরিবহণ, ব্যানার-পোস্টার ও চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যেসব বানান বেশি ভুল ব্যবহার হচ্ছে

শুদ্ধরূপ-অশুদ্ধরূপ

অ্যাডভোকেট-এডভোকেট ***
অ্যান্ড-এণ্ড ***
অ্যাম্বুলেন্স-এম্বুলেন্স ***
অ্যালবাম-এলবাম **
অ্যাসিস্ট্যান্ট-এসিসটেন্ট ***
আকাঙ্ক্ষা-আকাংখা ***
আগস্ট-আগষ্ট**
আলহাজ-আলহাজ্ব ***
ইতোমধ্যে-ইতিমধ্যে
ইতঃপূর্বে-ইতিপূর্বে
ইনস্টিটিউট-ইনষ্টিটিউট **
উপর্যুক্ত/উপরিউক্ত-উপরোক্ত ***
উল্লিখিত-উল্লেখিত ***
এতদ্দ্বারা-এতদ্বারা ***
কাঙ্ক্ষিত-কাংখিত ***
কোনো-কোন **
কোম্পানি-কোম্পানী **
কর্নার-কর্ণার **
কর্নেল-কর্ণেল **
গভর্নর-গভর্ণর **
চাকরি-চাকুরী ***
চাকরিজীবী-চাকুরীজীবি (-জীবী—আইনজীবী, পেশাজীবী)
চিফ-চীফ ***
চত্বর-চত্ত্বর **
জানুয়ারি-জানুয়ারী ***
জরুরি-জরুরী **
ট্রেজারি-ট্রেজারী ***
যেকোনো-যে কোন/যেকোন ***
টেরিটরি-টেরিটরী **
দেওয়া-দেয়া **
দুর্ঘটনা-দূর্ঘটনা **
দুর্যোগ-দূর্যোগ **
দুর্নীতি-দূর্নীতি **
নিখুঁত-নিখুত ***
নিখোঁজ-নিখোজ **
নির্ভুল-নির্ভূল **
নেওয়া-নেয়া **
নোটারি-নোটারী ***
নমিনি-নমিনী ***
প্রত্যয়নপত্র-প্রত্যয়ন পত্র (পত্র একসঙ্গে হবে—চিঠিপত্র, সংবাদপত্র) ***
পাস-পাশ (Pass) ***
পিস-পিচ/পিছ (Piece) ***
পচা-পঁচা ***
পোস্টার-পোষ্টার ***
পোস্ট-পোষ্ট ***
পুনর্মিলন=পূর্ণমিলন/পূনর্মিলন ***
ফ্যাক্টরি-ফ্যাক্টরী ***
ফার্নিচার-ফার্ণিচার ***
ফার্মেসি-ফার্মেসী ***
ফেব্রুয়ারি-ফেব্রুয়ারী ***
ফটোস্ট্যাট-ফটোষ্ট্যাট ***
ফাঁক-ফাক **
ব্যাটারি-ব্যাটারী ***
বিপজ্জনক-বিপদজনক ***
বিরিয়ানি-বিরাণী (Biryaniبریانی/) ***
ভুল-ভূল **
মার্কশিট-মার্কশীট (Sheet/Shit—সব শিট ই-কার হবে) ***
মাস্টার-মাষ্টার ***
মেশিনারি-মেশিনারী **
মডার্ন-মডার্ণ **
মুহূর্ত-মুহুর্ত/মহুর্ত
রঙিন-রঙ্গিন/রঙ্গীন ***
রিকশা-রিক্সা ***
রেজিস্ট্রি-রেজিষ্ট্রি ***
রেনেসাঁ-রেনেসা ***
রেস্টুরেন্ট-রেষ্টুরেন্ট ***
রেস্তোরাঁ-রেস্তোরা ***
লাইব্রেরি-লাইব্রেরী ***
লটারি-লটারী ***
শ্রদ্ধাঞ্জলি-শ্রদ্ধাঞ্জলী ***
শূন্য-শুন্য/শূণ্য **
শনাক্ত-সনাক্ত ***
শর্তাবলি-শর্তাবলী (আবলি দ্বারা গঠিত শব্দ—ব্যাখ্যাবলি, রচনাবলি) ***
শহিদ-শহীদ ***
স্কলারশিপ-স্কলারশীপ (Ship/Sheep) **
স্ট্যাম্প-ষ্ট্যাম্প ***
স্টার-ষ্টার ***
স্টেশনারি-ষ্টেশনারী ***
স্টোর-ষ্টোর ***
সাক্ষ্য-স্বাক্ষ্য ***
সাক্ষী-স্বাক্ষী ***
সেক্রেটারি-সেক্রেটারী ***
সুধী-সূধী **
সমিল-ছমিল (করাতকল) ***
সর্বাঙ্গীণ-সর্বাঙ্গীন ***
সরকারি-সরকারী ***
সরণি-স্বরণী/স্মরণী ***
হর্ন-হর্ণ **

এছাড়া কোলন ( : ) ও ডট ( . )-এর স্থলে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। আমাদের অবশ্যই জানা উচিত বিসর্গ (ঃ) কোনো যতিচিহ্ন নয়—এটি একটি বর্ণ। বর্ণ হিসেবে এর ব্যবহার করতে হবে। যেমন— আঃ (আহ্), উঃ (উহ্), ওঃ (ওহ্), ছিঃ (ছিহ্), বাঃ (বাহ্), হাঃ (হাহ্), দুঃখ। পদের শেষে বিসর্গ ব্যবহার হবে না। যেমন— আইনত, ন্যায়ত। বিসর্গের স্থলে কোলন ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— দু:খ (দুঃখ), আ: (আঃ)। সংক্ষিপ্ত শব্দে ডট (.) ব্যবহার হবে। যেমন— ড. (ডক্টর), ডা. (ডাক্তার), মি. (মিস্টার), লি. (লিমিটেড)।

--------------------------------------------------


বিরাম বা যতিচিহ্ন:

ডট ( . ) ব্যবহার :
বাংলায় সংক্ষিপ্ত শব্দে ডট ব্যবহার হবে। যেমন— ড. (ডক্টর), লি. (লিমিটেড), মি. (মিস্টার) ইত্যাদি। ইংরেজিতে Govt. (Government), Ltd. (Limited), Mr. (Mister), Dr. (Doctor)। ইংরেজি শব্দের সংক্ষিপ্ত বর্ণ রূপে (Abbreviation) ডট ব্যবহার না করাই ভালো। যেমন— SSC, HSC, SMS, MMS, BSS, BA, JSC, MPO, UN, BGB, BSF, RDRS, BRAC, BPL, IPL, ICC, BBC, WFP; বাংলায় এসএসসি, এইচএসসি, এসএমএস, এমএমএস, বিএ, বিকম, বিএসএস, বিএসসি, সিইনএড, পিএইচডি, পিসি, আইসিসি, ইউএন, বিবিসি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ডট ব্যবহার করা ভুল নয়—তবে আমাদের দ্বারা ভুলের সৃষ্টি হতে পারে। যেমন— BSc, PhD লিখতে গিয়ে B.S.C., P.H.D. লেখা। BSc, PhD-তে ডট ব্যবহার এভাবে হবে B.Sc., Ph.D. শুধু মাঝে ডট দিলে চলবে না; যেমন— B.Sc, Ph.D অর্থাৎ Sc. ও D.-এর পরেও ডট হবে—অনুরূপ বাংলাতেও। সুতরাং ভুল এড়াতে এবং বাংলা বানানের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডট ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এসব শব্দে হাইফেন ( - ) ও কমা ( , ) ব্যবহার করা যাবে না।

কোলন ( : ) ব্যবহার:
▓ উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে কোলন ব্যবহার হয়।
বাংলা সন্ধি দু প্রকার : স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।
▓ ব্যাখ্যামূলক/বিবরণমূলক শব্দে কোলন ব্যবহার হয়।
নাম: শামস
পিতার নাম: শামসুল
ঠিকানা: গ্রাম– পায়রাবন্দ, ডাকঘর– পায়রাবন্দ, উপজেলা– রংপুর, জেলা– রংপুর।
বিষয়: বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন।
মোবাইল: ০১*******০০
নিচ: নিচু, তল, নিচের দিক
নীচ: নিকৃষ্ট, হীন
▓ গাণিতিক ক্ষেত্রে কোলন ব্যবহার হয়।
১:৯ (অনুপাত)
▓ সময় ও তারিখে কোলন ব্যবহার হয়।
২:৩০ মিনিট
তারিখ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩
▓ নাটকের সংলাপের আগে কোলন ব্যবহার হয়।
দুকড়ি: কী চাই?
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।

[দ্রষ্টব্য: ১ হতে ৪৪ নং ক্রমিকগুলো লক্ষ করলে কোলনের ব্যবহার বুঝতে সুবিধা হবে। আমাদের অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে বিসর্গ আর কোলন এক নয়। বিসর্গ বাংলা বর্ণ; কোলন যতিচিহ্ন।]

হাইফেন/যুক্তচিহ্ন ( - ) ব্যবহার:
সমাসবন্ধ পদে হাইফেন ব্যবহার হবে। যেমন— উপ-সহকারী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম, মুহাম্মদ (সা.)-কে আল-আমিন বলা হতো, বিনোদ (২৮)-এর মৃত্যু, Sub-district, SMS-এর মাধ্যমে পাঠাতে হবে, ISF-সহ, ৩-এর, ৫-সহ ইত্যাদি। এ ছাড়া শব্দকে ভেঙে দেওয়া ক্ষেত্রেও হাইফেন ব্যবহার হয়। যেমন— আন্ত-
র্জাতিক ইত্যাদি। হাইফেনের শুরুতে বা শেষে কোনো ফাঁকা (স্পেস) হবে না। অর্থাৎ দুটি শব্দকে একত্রে রাখবে।

ড্যাশ (—) ব্যবহার:
এম ড্যাশ (—) আকারে হাইফেনের তিনগুণ বড়। একই লাইনে বা, একই প্যারায় যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে দুই বা তারচেয়েও বেশি পৃথক বাক্য লেখার সময় তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করা যায়। যেমন— তোমরা দরিদ্রের উপকার কর—এতে তোমাদের সম্মান যাবে না—বাড়বে। অসম্পূর্ণ বাক্যের শেষেও ড্যাশ ব্যবহার হয়। যেমন—
বাংলাদেশের রাজধানী হচ্ছে—
ক. চট্টগ্রাম খ. খুলনা গ. ঢাকা ঘ. রাজশাহী।

এন ড্যাশ (–) আকারে হাইফেনের দেড়গুণ বড়। সমার্থক ও বিপরীত ধর্মী শব্দে এন ড্যাশ ব্যবহার হয়। যেমন— দেশি–বিদেশি, সত্য–মিথ্যা ইত্যাদি। এ ছাড়া থেকে বা হতে অর্থেও ব্যবহার হয়। যেমন— ১০–১২ বছর, ঢাকা–খুলনা ইত্যাদি। এ ধরনের শব্দে হাইফেন ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোটেশন মার্ক/ইনভার্টেড কমা/উদ্ধৃতিচিহ্ন ( ‘ ’ “ ” ) ব্যবহার:
শব্দকে চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে একটি উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার হয়। যেমন— ‘সোনার তরি’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। উক্তিবাচক শব্দে দুটি উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার হবে। যেমন— রেজা বলল, “আমি এখন স্কুলে যাই।”

অ্যাপস্ট্রফি/লোপচিহ্ন ( ’ ) ব্যবহার:
শব্দকে সংক্ষিপ্তকরণে এর ব্যবহার হয়। যেমন— ’৭১ সাল (১৯৭১ সাল)। কবিতায় ছন্দের মিল রাখতে লোপচিহ্ন ব্যবহার হয়। বাংলা বানানে লোপচিহ্নের ব্যবহার বর্জনীয়।

অবলিক/স্ল্যাশ/অথবা/বিকল্পচিহ্ন ( / ) ব্যবহার:
বিকল্প শব্দের মাঝে অবলিক ( / ) বসে। সহজ কথায় এটা নয় ওটা এরূপ বোঝাতে অবলিক ব্যবহার হয়। যেমন—
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত/অবিবাহিত ইত্যাদি। যেখানে দু-ই বিদ্যমান যেখানে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার হবে না। যেমন— বিদ্যালয়ে শিক্ষক/কর্মচারী সংখ্যা কম বা, ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। শুদ্ধরূপ হচ্ছে— শিক্ষক–কমচারী ও ছাত্র–ছাত্রী (ছাত্রছাত্রী)।
স্মারক ও তারিখে অবলিক ব্যবহার হয়। যেমন— ঢাবি/পরী/২০১২-১৩, তারিখ- ১২/১২/২০১২খ্রি.। ইন্টারনেট ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে লেখার সময় বলা হয় স্ল্যাশ।


যতিচিহ্নের কিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ ব্যবহার :
চিহ্নের নাম>>>>>> শুদ্ধ >>>> অশুদ্ধ
কোলন >>>>>>> ( : ) >>>>( ঃ )
কোলন-ড্যাশ >>> ( :— ) >>> (ঃ- ) [বিসর্গ ব্যবহার হবে শব্দগঠনে। যেমন- দুঃখ, ইতঃপূর্বে।]
ড্যাশ>>>>>>>> ( — )>>>> ( - )
হাইফেন >>>>>> ( - ) >>>> ( — )

অশুদ্ধ ব্যবহার: পরীক্ষা/২০১২, ২০১২/১৩ শিক্ষাবর্ষ, ২০১২/১৩ অর্থবছর, ১ জানুয়ারি/২০১২ ইত্যাদি।
শুদ্ধ ব্যবহার: পরীক্ষা ২০১২ অথবা, পরীক্ষা–২০১২, ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষ, ২০১২–১৩ অর্থবছর, ১ জানুয়ারি ২০১২।

--------------------------------------------------


প্রয়োজনীয় কিছু শুদ্ধ বানান

চাকরি, সাক্ষী, সাক্ষ্য, এতদ্দ্বারা, এতদসংক্রান্ত, উপর্যুক্ত/উপরিউক্ত, উল্লিখিত, ইতোমধ্যে, ইতঃপূর্বে, পথিমধ্যে, সুষ্ঠু, অদ্যাবধি, যথাবিহিত, আকাঙ্ক্ষা, কাঙ্ক্ষিত, দাবি, জারি, সেবা, পরিষেবা, স্বচ্ছ, সচ্ছল, দ্বন্দ্ব, দূর, দূর-দূরান্ত, দূরীকরণ, অদূর, দূরত্ব, দূরবীক্ষণ, দূষিত, দূষণ, দূষণীয়, দুর্গা, দুর্গ, দুর্দান্ত, দুরবস্থা, দুরন্ত, দুর্নীতি, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, দুর্নাম, দুর্ভোগ, দুরাকাঙ্ক্ষা, দুর্দিন, দুর্বল, দুর্জয়, দুরারোগ্য, দুরূহ, ভুবন, ভূমি, অদ্ভুত, ভুতুড়ে, ভস্মীভূত, ভূত, বহির্ভূত, ভূতপূর্ব, ভূমিকা, ভূমিষ্ঠ, ভূয়সী, ভুক্ত, ভুক্তি, ভুল, ভুয়া, মুহূর্ত, মুমূর্ষু, বিদ্যা, বিদ্বান, উচিত, ফেরত, ফেরতযোগ্য, জগৎ, জগতে, বিদ্যুৎ, বিদ্যুতে, ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যতে, আত্মসাৎ, আত্মসাতে, যাবৎ, সাক্ষাৎ, সাক্ষাৎকার, সাক্ষাতে, পাইকারি, সরকারি, দরকারি, তরকারি, মস্কারি, সহকারী, আবেদনকারী, সাহায্যকারী, পরিবেশনকারী, দর্শনকারী, তদারককারী, দুষ্কৃতকারী, অনিষ্টকারী, অনুসারী, কর্মচারী, প্রতীকী, যাত্রী, ছাত্রী, ধনী, মীমাংসা, মনীষী, সীমা, সীমাহীন, ইদানীং, তদানীং, সমীচীন, সর্বাঙ্গীণ, গোষ্ঠী, ঋণগ্রহীতা, লক্ষ্মী, হীরক, নীল, সুনীল, নীলা, নীলক, নীলিমা, সজীব, রাজীব, রবীন্দ্র, নারায়ণ, যক্ষ্মা, পৈতৃক, অমাবস্যা, ধরন, ধারণ দরুন, দারুণ, ঊর্ধ্ব, ঊর্ধ্বতন, স্তূপ, অত্যন্ত, অত্যধিক, অধ্যয়ন, ব্যাকরণ, গগন, প্রাঙ্গণ, সান্ত্বনা, সর্বস্বান্ত, শীতার্ত, সদ্যোজাত, অগ্রিম, নিখুঁত, ব্যাহত, অব্যাহত, অব্যাহতি, একমুখী, দ্বিমুখী, ত্রিমুখী, বহুমুখী, মুখোমুখি, পায়রা, যাবজ্জীবন, উজ্জীবিত, গরিব, রুপা, রুপালি, রূপ, রূপান্তর, রূপান্তরিত, স্বরূপ, রূপসী, কার্যাবলি, শর্তাবলি, ব্যাখ্যাবলি, নিয়মাবলি, তথ্যাবলি, জরুরি, বদলি, মেয়াদি, মঞ্জুরি, মজুরি, কারিগরি, আমদানি, রফতানি/রপ্তানি, জ্বালানি, নতুন, নূতন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনর্জীবিত, পুনর্নিয়োগ, পুনর্নির্মাণ, পুনর্মিলন, পুনর্লাভ, পুনর্মুদ্রিত, পুনর্বিচার, পুনর্বিবেচনা, পুনর্গঠন, পুনর্বাসন, পুনরুদ্ধার, পুনরাবৃত্তি, পুনরুক্তি, মূর্খ, খাস, অগ্রহায়ণ, পুষ্করিণী, শাশ্বত, শ্বশুর, শাশুড়ি, মনোযোগ, শিরশ্ছেদ, অঞ্জলি, গীতাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, রাত্রি, অপরাহ্ণ (ণ), পূর্বাহ্ণ (ণ), মধ্যাহ্ন (ন), সায়াহ্ন (ন), অভ্যস্ত, আশ্বস্ত, স্বস্তি, অস্বস্তি, বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত, নিকটস্থ, দ্বারস্থ, মুখস্থ, কণ্ঠস্থ, মঞ্চস্থ, পদস্থ, অপদস্থ, সুস্থ, দুস্থ, পুরস্কার, পুরস্কৃত, তিরস্কার, নমস্কার, ভাস্কর, আবিষ্কার, দুষ্কর, বহিষ্কৃত, বহিষ্কার, নিষ্কাশন, নিষ্পাপ, নিষ্পত্তি, মস্তিষ্ক, সরকারি, বেসরকারি, বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, আসামি, আইনি, বেআইনি, ইরানি, জাপানি, ইংরেজি, হিন্দি, পাঞ্জাবি, কাশ্মিরি, আরবি, ফারসি, হিজরি, মালি, পাগলামি, ফরিয়াদি, দিঘি, নানি, দাদি, মামি, চাচি, মাসি, দিদি, রেশমি, পশমি, সূচি, সূচিপত্র, কর্মসূচি, সরণি, পদবি, পঞ্জি, অঙ্ক, অঙ্কন, অঙ্কিত, অঙ্কুর, অঙ্গ, অঙ্গন, আকাঙ্ক্ষা, আঙুল, আশঙ্কা, ইঙ্গিত, উলঙ্গ, কঙ্কর, কঙ্কাল, গঙ্গা, চোঙা, টাঙা, ঠোঙা, দাঙ্গা, পঙ্‌ক্তি, পঙ্কজ, পঙ্ক, পতঙ্গ, প্রাঙ্গণ, প্রসঙ্গ, বঙ্গ, বাঙালি, ভঙ্গ, ভঙ্গুর, ভাঙা, মঙ্গল, রঙিন, লঙ্কা, লঙ্গরখানা, লঙ্ঘন, লিঙ্গ, শঙ্কা, শঙ্ক, শঙ্খ, শশাঙ্ক, শৃঙ্খল, শৃঙ্গ, সঙ্গ, সঙ্গী, সঙ্ঘাত, সঙ্গে, হাঙ্গামা, হুঙ্কার, স্বাতন্ত্র্য/স্বতন্ত্র, দারিদ্র্য/দরিদ্র, বাল্মীকি, ত্রিনয়ন, প্রণয়ন, উচ্ছ্বাস, সত্বর, চত্বর, তত্ত্বাবধায়ক, তত্ত্বাবধান, আয়ত্ত, তত্ত্ব, উপাত্ত, সত্তা, ব্যক্তিসত্তা, জাতিসত্তা, মানবসত্তা, অন্তঃসত্ত্বা, সত্ত্বেও, স্বত্বাধিকার, স্বার্থান্বেষী, বাগ্বিতণ্ডা, শরণার্থী, শরণাপন্ন, একাকী, একাকিত্ব, শাড়ি, লুঙ্গি, উচ্ছৃঙ্খল, মনোনীত, কীর্তন, রজনি, ব্যতীত, ব্যতিক্রম, ব্যতিরেকে, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, কর্মজীবী, আইনজীবী, শ্রমজীবী, জীবিকা, জীবিত, মন্ত্রী, মন্ত্রিত্ব, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ, শ্রেণিকক্ষ, প্রাণী, প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিতত্ত্ব, প্রাণিজগৎ, প্রাণিসম্পদ, মহৎ, মহত্ত্ব, মনুষ্যত্ব, পশুত্ব, দেবত্ব, ধর্মত, কার্যত, ন্যায়ত, করত, বস্তুত, ক্রমশ, প্রায়শ, হতভম্ব, মুরব্বি, ভিড়, পচা, পঞ্চাশ, পাঁচ, পঁচিশ, পঁয়ত্রিশ, সাঁইত্রিশ, পঁয়তাল্লিশ, পঁয়ষট্টি, পঁচাত্তর, পঁচাশি, পঁচানব্বই, আঁকাবাঁকা, চাঁদ, ছোঁয়া, দাঁত, ঠোঁট, ফাঁক, শুঁড়, কাঁকরোল, আঁতুর, ঝাঁকুনি, ফাঁদ, ইঁদুর, ঢেঁড়স, তেঁতুল, পুঁইশাক, পেঁপে, কুঁজ, পুঁজ, ধাঁধা, ষাঁড়, উঁচু, বাঁশ, কাঁঠাল, আঁশ, গুঁড়া, আঁধার, বাঁধাই, দুঃসহ, দুঃসময়, দুর্বিষহ, মৌসুমি, আভিজাত্য, আলস্য, সামর্থ্য, আতিথ্য, আধিক্য, কৌলীন্য, শৈথিল্য, বৈশিষ্ট্য, দৈর্ঘ্য, অর্ঘ্য, শৌর্য, সৌন্দর্য, কার্য, সূর্য, আশ্চর্য, হীনম্মন্যতা, মারপ্যাঁচ/মারপেঁচ, মনোমালিন্য, মরূদ্যান, ভূগোল, ভৌগোলিক, ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যদ্বাণী, গৃহিণী, সদ্ব্যবহার, এক্ষুনি, ইসলামি, হজ, আলহাজ, তফসিল, আসসালামু আলাইকুম, শাহাদত, শামস, শাবাশ, সালাম, সালাত, সানা, সফর, কিসমত, ইহসান, ইনসান, ইনসাফ, নসিব, মুসল্লি, মুসাফির, ক্লাস, গ্লাস, গ্রিন, গ্রিক, গ্রিস, ব্রিটিশ, ব্রিটেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, রিকশা, অটোরিকশা, অ্যাকাউন্ট, অ্যাকাডেমিক, অ্যাকসিডেন্ট, অ্যাড, অ্যাডভোকেট, অ্যাডভোকেসি, অ্যান্ড, অ্যাভিনিউ, অ্যাম্বুলেন্স, অ্যালার্জি, অ্যালবাম, অ্যাসিড, অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইস্ট (বিতর্কিত:— খ্রিস্ট/খ্রিষ্ট, খ্রিস্টীয়/খ্রিষ্টীয়, খ্রিস্টাব্দ/খ্রিষ্টাব্দ, খ্রিস্টান/খ্রিষ্টান), মোটরসাইকেল, ডিগ্রি, চিফ, শিট, শিপ, নমিনি, কিডনি, ফ্রি, স্কিন, স্ক্রিন, স্কলারশিপ, পার্টনারশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, সুপারিনটেনডেন্ট, শেক্সপিয়ার, স্টেশনারি, নোটারি, লটারি, সেক্রেটারি, টেরিটরি, ক্যাটাগরি, ট্রেজারি, ব্রিজ, প্রাইমারি, মার্কশিট, গ্রেডশিট, কি-বোর্ড, গিয়ার, লিডার, লিড, লিপ-ইয়ার, লিজ, নিট, রিড, রিডার, সিট, সি-বিচ, ড্রিম, স্পিকার, টিয়ার, ডিন, সিল, টিচার, টি, বিউটি, প্লিজ, রিলিজ, টিম, ক্রিম, আইসক্রিম, স্টিমার, জানুয়ারি, ফ্রেরুয়ারি, সমিল (করাতকল), প্রিন্ট, স্টোর, স্টাফ, স্টার, ইনস্টিটিউট, বাসস্ট্যান্ড, পেনসিল, ফটোস্ট্যাট, হর্ন, কর্নার, পর্ন, পর্নোগ্রাফি, মডার্ন, এশিয়ান, এশীয়, ইউরোপিয়ান, ইউরোপীয়, ইটালিয়ান, ইতালীয়, কোরিয়ান, কোরীয়, স্পেনিশ, স্পেনীয়, মিসরীয় ইত্যাদি।

▓ সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক সাইটগুলোতে ব্যবহৃত কিছু শুদ্ধ বানান— ব্লগিং, ব্লগীয়, পেজ, ফেসবুক, পোস্ট, স্টিক, রি-পোস্ট, ট্যাগ, মিস ইত্যাদি।

▓ অ-তৎসম শব্দ অনুযায়ী দেশি, বিদেশি, বাংলাদেশি, শ্রেণি, পল্লি, নবি, মহানবি, শহিদ, প্রণালি, নির্বাচনি, বহুনির্বাচনি, নবাবি বানানগুলো পরিবর্তন হয়েছে।

▓ ভুল বানান ব্যবহার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে—
১. বাংলা ভাষা ও বানানের প্রতি অবজ্ঞা;
২. ভাষা জ্ঞানহীন কিছু লেখকের ভুলে ভরা লেখা;
৩. ভুলে ভরা চাকরির বিজ্ঞপ্তি।
এগুলো ছাড়াও বিভিন্নভাবে ভুল ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেছে—ঈ-কারের পরিবর্তে ই-কার ব্যবহার বা, ই-কারের পরিবর্তে ঈ-কার ব্যবহার তেমন কোনো ভুল নয়। রাজীবকে লিখছে রাজিব, সজীবকে লিখছে সজিব। আবার বলে নাম হিসেবে ই-কার বা, ঈ-কার ভুল নয়! আমাদের অবশ্যই জানা উচিত এ ধারণাটি সবক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থবহ কিছু শব্দ আছে—যা নাম হিসেবেও ব্যাকরণবিধি মেনে চলতে হবে। যেমন— রাজীব, সজীব, নীল, রবীন্দ্র, রবি ইত্যাদি। অর্থাৎ অর্থবহ বাংলা শব্দ দ্বারা গঠিত নাম। যাদের এ সম্পর্কে ধারণা আছে—তারা নাম হিসেবেও অর্থবহ শব্দের শুদ্ধ ব্যবহার করতে জানে। বাংলা বিভাগের কিছু শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের বাংলা ভাষা ও বানান সম্পর্কে ধারণা নেই বললেই চলে। এমন কিছু লোক আছে যারা মনে করে আমার ব্যবহার করা বানানটি শুদ্ধ! অন্যরা ভুলটি ধরিয়ে দিতে গেলে তাদের শুনতে হয় নানা কথা! কেউবা আবার শুদ্ধটাকে ভুল ভেবে ভুলই ব্যবহার করছে। যে যেভাবে পাচ্ছে ভুলে ভরা লেখা দিয়ে সাইনবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার টাঙিয়ে দিচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে অগণিত মানুষের মাঝে। দেখা যাচ্ছে প্রতিটি ব্যক্তির, প্রতিটি পত্রিকার, প্রতিটি সংস্থার, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বানান রীতি আছে! কেউ দাবি করছে এটা ঠিক; কেউ বলছে ওটা ঠিক!
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বানানের বেলায় ঈ-কার ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে শুদ্ধরূপে লিখতেও পারে—না লিখতেও পারে। কিন্তু আপনি যখন ফুটবল লিগ, ক্রিকেট লিগ, এই লিগ, সেই লিগ লিখবেন তখন অবশ্যই ই-কার ব্যবহার করতে হবে।
আমরা চাই বানানটা যাতে সবার কাছে এক হয়। এর জন্য দুই বাংলার বাংলা Academy (!)-কে জোর অনুরোধ করছি। আমি আসলে Academy-কে বাংলায় কোন রূপে লিখব ভেবে পাচ্ছি না। Academy (অ্যাকাডেমি) = একাডেমী, একাডেমিসহ আরো দু-তিন রূপে বাংলায় ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে! একটি বিদেশি শব্দের কত রকম বানান! এর মধ্যে বাংলাদেশের বাংলা Academy নিজই একাডেমী ও একাডেমি ব্যবহার করেছে! বর্তমানে একাডেমীকে একাডেমি করা হয়েছে। বাকিগুলো যে যেভাবে পাচ্ছে ব্যবহার করছে। চলুন বাংলা একাডেমি/একাডেমী দেখে আসি: http://www.banglaacademy.org.bd
আর পশ্চিমবঙ্গে বাংলা Academy-কে আকাদেমি না অকাদেমি লিখব ভেবে পাচ্ছি না। Academy-র A-কে আ হিসেবে ধরলে বাংলায় আকাদেমি হয়, আর অ হিসেবে ধরলে অকদেমি হয়। প্রথমের A-কে অ পরের A-কে আ হিসেবে ধরলে অকাদেমি, আর প্রথমে A-কে আ পরের A-কে অ হিসেবে ধরলে আকদেমি হয়। আকাদেমি বা অকাদেমি মূলত ইংরেজি উচ্চারণ নয়। এবার চলুন আকাদেমি/অকাদেমি দেখে আসি: http://www.banglaacademy.in
যাই হোক, Academy (অ্যাকাডেমি) বিদেশি শব্দের কারণে আমার অবুঝ এ মতটুকু প্রকাশ করলাম! এক্ষেত্রে ভাষাবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে দুই বাংলার Academy নিয়ে একটু আলোচনা করে। যাতে আমার মতো অনেকেরই বুঝতে সুবিধা হয়। হয়তো এখানেও কিছু ভুল-ত্রুটি রয়ে গেছে—সেগুলোও দেখবেন।

▓ এতদ্দ্বারা সকলের/সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ...। না লিখে এভাবে লেখা উচিত— এতদ্দ্বারা সকলকে/সর্বসাধারণকে অবগত করা যাচ্ছে যে, ...। বা, এতদ্দ্বারা সকলকে/সর্বসাধারণকে জানানো যাচ্ছে যে, ...। কারণ ‘অবগত’ ও ‘জানানো’ শব্দ দুটির একই অর্থে ব্যবহৃত।

▓ বিভিন্ন আবেদনপত্রে দেখা যায়, একই বক্সে বিভাগ/শ্রেণি/জিপিএ লেখা হয়ে থাকে। এখানে বিভাগ/শ্রেণি/জিপিএ না লিখে ফলাফল লেখাই শ্রেয়। এতে পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি পায়।

-------------------------------------------------------


বাংলা বর্ণ তথ্য:

▓ বাংলা ভাষার ১১টি স্বরবর্ণ হচ্ছে— অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ।
▓ বাংলা ভাষার ৭টি মৌলিক স্বরধ্বনি হচ্ছে— অ আ ই উ এ ও অ্যা।
▓ বাংলা ভাষার ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ হচ্ছে— ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ স হ ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁ ।
▓ পূর্ণ মাত্রার ৩২টি বর্ণ হচ্ছে— অ আ ই ঈ উ ঊ ক ঘ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত দ ন ফ ব ভ ম য র ল ষ স হ ড় ঢ় য়।
▓ অর্ধ মাত্রার ৮টি বর্ণ হচ্ছে— ঋ খ গ শ ণ থ ধ প।
▓ মাত্রাহীন ১০টি বর্ণ হচ্ছে— এ ঐ ও ঔ ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ।

--------------------------------------------------


বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের বানান

America (অ্যামেরিকা) > আমেরিকা
Apple (অ্যাপল) > আপেল
August (অগাস্ট) > আগস্ট
Bottle (বটল) > বোতল
Canada (ক্যানেডা) > কানাডা
China (চায়না) > চীন
Christ (ক্রাইস্ট) > খ্রিষ্ট
Christian (ক্রিশ্চিয়ান) > খ্রিষ্টান
Company (কম্পানি) > কোম্পানি
December (ডিসেম্বার) > ডিসেম্বর
Doctor (ডক্টর) > ডাক্তার
Egypt (ইজিপ্ট) > মিশর
English (ইংলিশ) > ইংরেজি
Hospital (হসপিটাল) > হাসপাতাল
Italy (ইটালি) > ইতালি
Jesus (জিজাস) > যিশু
Madam (ম্যাডাম) > মাদাম
Notice (নোটিস) > নোটিশ
November (নভেম্বার) > নভেম্বর
Number (নাম্বার) > নম্বর
October (অক্টোবার) > অক্টোবর
Police (পুলিস) > পুলিশ
Renaissance/ رنسانس(রেনেসান্স) > রেনেসাঁ
Restaurant (রেস্টুরেন্ট) > রেস্তোরাঁ
September (সেপ্টেম্বার) > সেপ্টেম্বর
Sir (সার) > স্যার
Table (টেবল) > টেবিল
Towel (টাওয়েল) > তোয়ালে

এ ছাড়া আরাবি>আরবি, আরাবিয়া>আরবীয়, আলমিরা>আলমারি, কুরআন>কোরান ইত্যাদি শব্দগুলো বাংলায় এরূপ ব্যবহার হয়ে আসছে।
--------------------------------------------------


সমোচ্চারিত শব্দের ব্যবহার

অন্ন: ভাত
অন্য: অপর

আসা: আগমন
আশা: প্রত্যাশা, ভরসা

আবরণ: আচ্ছাদন
আভরণ: গহনা, পরিচ্ছদ, ভূষণ

উদ্দেশ: প্রতি/সন্ধান করা অর্থে
উদ্দেশ্য: লক্ষ্য

কাঁচা: অপক্ব, কোমল
কাচা: ধৌত করা

কাঁটা: কণ্টক
কাটা: কর্তন

কাঁদা: ক্রন্দন
কাদা: কর্দম

কূল: তীরভূমি, উপকূল
কুল: বরই/জাত (বংশ)

কাল : সময় অর্থে
কালো: রং অর্থে (কালা)

করুন: কোনো কিছু করার নির্দেশ (ক্রিয়া পদে ব্যবহার)
করুণ: বেদনাপূর্ণ/শোকপূর্ণ/শোচনীয়/মর্মস্পর্শী

কি (?) : হ্যাঁ/না উত্তরে প্রশ্ন হলে ‘কি’ ব্যবহার হবে
কী (?): হ্যাঁ/না উত্তর বাদে অন্য ক্ষেত্রে ‘কী’ ব্যবহার হবে

কেন: কীজন্য
কেনো: ক্রয় করো

গাঁথা: গেঁথে দেওয়া
গাথা: কাহিনি, কাহিনিকাব্য

গাঁ: গ্রাম
গা: শরীর

গেল: প্রস্থান করা, যাওয়া,
গেলো: গলাধঃকরণ, খাওয়া, পান করা

গোঁড়া: অন্ধ বা উগ্রভাবে সমর্থনকারী
গোড়া: নিচের অংশ

জোড়: যুগল
জোর: বল, শক্তি, সামর্থ্য

দাড়ি: মুখের লোম
দাঁড়ি: দাঁড় টানা, পূর্ণচ্ছেদ

দীপ: বাতি/প্রদীপ
দ্বীপ: জলবেষ্টিত উঁচু স্থান

দেড়ী: দেড়গুণ
দেরি: বিলম্ব

ধুম: প্রাচুর্য, জাঁকজমক
ধূম: ধোঁয়া

নিচ : নিচু, তল, নিচের দিক
নীচ : নিকৃষ্ট, হীন

পানি: জল
পাণি: হাত

পাড়ি: পারাপার
পারি: সমর্থ বা সক্ষম হওয়া

পড়পড়: পড়ন্ত
পরপর: একের পর এক

পুত: পুত্র
পূত: পবিত্র

বাণী: কথা, উক্তি
বানি: গয়না তৈরির মজুরি

বাঁ: বাম
বা: অথবা, কিংবা

বাঁধা: বন্ধন
বাধা: প্রতিহত করা, রোধ করা

ভাবি: ভাইয়ের স্ত্রী
ভাবী: ভবিষ্যৎ

ভাল: কপাল
ভালো: উত্তম, সেরা, উৎকৃষ্ট, শ্রেষ্ঠ, শ্রেয়

মন: অন্তর, হৃদয়, চেতনা
মণ: ভর/ওজন অর্থে (৪০ কেজি)

মত: সিদ্ধান্ত; যেমন- মতামত, মতপ্রকাশ।
মতো: সদৃশ; যেমন- তার মতো দেখতে, তার মতো খেলতে।

লক্ষ: লাখ (১০০ হাজার), দেখা/দৃষ্টি/খেয়াল (ক্রিয়াপদ)
লক্ষ্য: উদ্দেশ্য (বিশেষ্য)

লক্ষণ: ইংরেজিতে Syndrome অর্থে/আচরণ
লক্ষ্মণ: রামের ভাইয়ের নাম/নাম হিসেবে (Lakshman)

শর: তীর/তৃণবিশেষ
ষড়: ছয় (৬)

শংকর: শিবের একটি নাম/নাম হিসেবে (Shankar)
সংকর: মিশ্রণ

সর: দুধের মালাই
স্বর: আওয়াজ, শব্দ, সুর

শব: মৃতদেহ
সব: সমস্ত

সুত: পুত্র
সূত: সারথি, জাত

শিকার: মৃগয়া
স্বীকার: মানা, বরণ করা

সকল: সব, সমস্ত
শকল: মাছের আঁশ

সরণ: রাস্তা
স্মরণ: স্মৃতি

সাড়া: শব্দ বা ডাকের জবাব, প্রতিক্রিয়া
সারা: সমগ্র, শেষ, আকুল

শাড়ি: কাপড় বিশেষ
সারি: গানের নাম, শ্রেণিবদ্ধ

স্বত্ব: নিজ, স্বামিত্ব/অধিকার
সত্য: যথার্থ

শোনা: শ্রবণ
সোনা: স্বর্ণ

হিসাব/হিসাবে: সাধু ভাষায়
হিসেবে: চলতি ভাষায়

হত: মৃত/করুণ/নগণ্য/নিম্ন অবস্থা অর্থে; যেমন- হতাহত, হতদরিদ্র।
হতো: হইত/হবে এমন অর্থে; যেমন- তুমি এলে ভালো হতো বা মন্দ হতো।
--------------------------------------------------


দেশি–বিদেশি কিছু শব্দের ব্যবহার নিম্নরূপ:


কর্ণ (Ear): কান
কর্ন (Corn): ভুট্টা

পাস (Pass): উত্তীর্ণ, অনুমোদন
পাশ (Side): পার্শ্ব, আশপাশ

পর্ণ (Leaf): পাতা
পর্ন (Porn): অশ্লীল

ফাক (Fuck): যৌনসংগম
ফাঁক (Gap): শূন্যস্থান, ছিদ্র

শিট (Sheet): পাত, পাতা, তা
সিট (Seat/Sit): আসন/বসা

ডিক্রি (Decree): আইন, রায়
ডিগ্রি (Degree): উপাধি, ধাপ

মোটর (Motor): যান্ত্রিক যান
মটর (Pea): ডাল জাতীয় খাদ্য

সিম (Sim): সিম-কার্ড
শিম (Bean): সবজি

[দ্রষ্টব্য: বিভিন্ন সময় বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে শব্দের অর্থ পরিবর্তন ঘটে। যেমন— ভিক্ষা দিন; দিনটি খুবই ভালো। ছেলেটিকে আসতে বল; ছেলেটির শারীরিক বল খুবই ভালো।]
--------------------------------------------------

প্রতিবর্ণীকরণ

অ=A,আ=A, ই=I, ঈ=I, উ=U, ঊ=U, ঋ=RI, এ=E, ঐ=AI, ও=O, ঔ=AU

অ-কার/আ-কার (া)=A, ই-কার/ঈ-কার (ি/ী)=I/EE, উ-কার/ঊ-কার (ু/ূ)=U/OO, ঋ-কার (ৃ)=RI/REE, এ-কার (ে)=E, ঐ-কার (ৈ)=AI, ও-কার (ো)=O, ঔ-কার (ৌ)=AU (OW/OU)

ক=K, খ=Kh, গ=G, ঘ=GH, ঙ=NG, চ=CH, ছ=CHH, জ=J (Z), ঝ=JH (ZH), ঞ=N, ট=T, ঠ=TH, ড=D, ঢ=DH, ণ=N, ত=T, থ=TH, দ=D, ধ=DH, ন=N, প=P, ফ=F (PH) ব=B, ভ=BH, ম=M, য=Y, র=R, ল=L, শ=SH, ষ=SH, স=S, হ=H, ড়=R, ঢ়=R, য়=Y, ৎ=T, ং=NG, ঃ=H, ঁ=N

ব-ফলা (্ব)=W (WA), ম-ফলা (্ম)=M (MA) য-ফলা (্য)=Y (YA), র-ফলা (্র)=R (RA) এবং জ্ঞা= GYA, ক্ষ= KSH (X), হ্ম=HM, ঙ্ক/ংক=NK, ঙ্গ/ংগ=NG.

অক্ষিতা=Akshita, অক্ষয়=Akshay, অঙ্কন=Ankan, অঙ্কিতা=Ankita, অঙ্কুর=Ankur, অজিত=Ajit, অজয়=Ajay, অঞ্জয়=Anjay, অঞ্জলি=Anjali, অতনু=Atanu, অতুল=Atul অদিতি=Aditi, অন্তর=Antar, অন্তরা=Antara, অনন্ত=Anant/Ananath/Ananta, অর্ণব=Arnab, অপু=Apu, অপূর্ব=Apurba, অবন্তি=Abanti, অবনি=Abani, অভিরাজ=Abhiraj, অভিষেক=Abhishek, অভীক=Abhik, অভয়=Abhay, অমিত=Amit, অমিয়=Amiya, অমর=Amar, অমল=Amal, অনীক=Aneek/Anik, অর্চনা=Archana.

আকাঙ্ক্ষা=Akanksha, আঁখি=Ankhi, আচার্য=Acharya (আচার্জি=Acharjee), অনু/আনু=Anu, আনন্দ=Anand/Ananda, আপন=Apan, আভা=Abha, আলপনা=Alpana, আর্য= Arya/Aryan.

ইতি=Iti, ইন্দ্রনীল=Indraneel, ইন্দ্রজিৎ=Indrajit, ইন্দু=Indu, ইশান্ত=Ishant/Ishanth/Ishanta.

ঈশ্বর=Ishwar, ঈশান=Ishan, ঈশানী=Ishani, ঈশিকা=Ishika, ঈশিতা=Ishita.

উজ্জ্বল=Ujjwal, উজ্জ্বলা=Ujjwala, উত্তম=Uttam, উৎপল=Utpal, উদ্দীপ্ত=Uddipt/Uddipth/Uddipta, উদিচ্য=Udichya, উদয়=Uday, উদয়া=Udaya, উপেন্দ্র=Upendra, উপমা=Upama, উপল=Upal, উপলা=Upala, উমা=Uma, উমেদ=Umed.

ঊর্মি=Urmi.

ঋত্বিক=Ritwik, ঋত্বিকা=Ritwika, ঋতু=Ritu, ঋজু= Riju, ঋষি=Rishi.

একান্ত=Ekant/Ekanta, একতা= Ekata, এষা=Esha

ঐশ্বর্য=Aishwarya, ঐশিক=Aishik, ঐশী= Aishi/Aishee.

ওনম=Onam, ওম=Om, ওমানন্দ=Omanand/Omananda.

ঔষধালয়=Aushadhalaya

ক্ষিতিজ=Kshitij, কাঁকন=Kankan, কঙ্কণ=Kankan, কঙ্কণা=Kankana,কাকলি=Kakali, কাজল=Kajal, কাঞ্চন=Kanchan, কাঞ্চনা=Kanchana, কান্ত=Kant/Kanth/Kanta, কান্তা=Kanta, কানন=Kanan, কামনা=Kamana, কালিচরণ=Kalicharan, কিরণ=Kiran, কেশব=Keshab, কেয়া=Keya, কৈলাশ=Kailash, কোমল=Komal, কৌশিক=Kaushik (Kowshik/Koushik), কনক=Kanak, কণিকা=Kanika, কণা=Kana, কন্যামতি=Kanyamati, কুন্দন=Kundan, কৃপাচার্য=Kripacharya, কপিল=Kapil, কপিলা=Kapila, কবিতা=Kabita, কমল=Kamal, কমলা=Kamala/Kamla, কমলিকা=Kamalika, করুণা=Karuna, কল্পনা=Kalpana, কলি=Kali, কৃষ্ণ/কৃষ্ণা=Krishna.

খুকি=Khuki, খুকু=Khuku, খোকা=Khoka, খোকন=Khokan, খুশি=Khushi.

গগন=Gagan, গায়ত্রী=Gayatri, গোবিন্দ=Gobind/Gobinda, গৌরাঙ্গ=Gaurang/Gauranga (Gowrang/Gowranga/Gourang/Gouranga) গৌতম=Gautam (Gowtam/Goutam), গৌরী=Gauri, গৌরব=Gaurab (Gowrab/Gourab), গজেন্দ্র=Gajendra, গণেশ=Ganesh

ঘোষ=Ghosh, ঘোষাল=Ghoshal

চক্রধর=Chakradhar, চক্রেশ=Chakresh, চিত্র/চিত্রা=Chitra, চিত্রক=Chitrak, চরণ=Charan, চিরঞ্জীব=Chiranjib, চেতনা=Chetana, চৈতান্য=Chaitanya, চৈতালি=Chaitali, চৈতি=Chaiti, চঞ্চল=Chanchal, চঞ্চলা=Chanchala, চন্দ্র/চন্দ্রা=Chandra, চন্দ্রক=Chandrak, চন্দ্রিমা=Chandrima, চন্দ্রজ=Chandraj, চন্দ/চন্দা=Chanda, চন্দন=Chandan, চন্দনা=Chandana, চন্না=Channa, চম্পা/চাঁপা=Champa, চয়ন=Chayan, চান=Chan, চাঁদ=Chand, চাঁদনি=Chandni, চিন্ময়=Chinmay, চিন্ময়ী=Chinmayee/Chinmayi, চৌধুরী=Chaudhury/Chowdhury/Choudhury.

ছায়া=Chhaya, ছোটন=Chhotan, ছন্দ/ছন্দা=Chhanda, ছবি=Chhabi.

জ্যোতি=Jyoti, জ্যোতিকা=Jyotika, জ্যোতিষ=Jyotish, জ্যোৎস্না=Jyotsna, জগৎ=Jagat, জগদীশ=Jagadish, জিৎ=Jeet/Jit, জীবন=Jeeban/Jiban, জোছনা=Jochhna/Jochhana, জবা=Jaba, জয়=Jay, জয়িতা=Jayeeta/Jayita, জয়া=Jaya, জয়াবন্ত=Jayabant/Jayabanta, জয়ন্ত=Jayant/Jayanta, জয়ন্তী=Jayanti, জয়শ্রী=Jayashri, জুঁই=Juin, জাদু=Jadu.

ঝিরি=Jhiri, ঝিলিক=Jhilik, ঝিলমিল=Jhilmil, ঝুমু=Jhumu, ঝুমকী=Jhumki, ঝুমা=Jhuma, ঝুমঝুম=Jhumjhum, ঝরনা=Jharna, ঝলক=Jhalak, ঝুলন=Jhulan.

টিপু=Tipu, টিয়া=Tiya, টোকন=Tokan, টোনা=Tona, টুটুল=Tutul, টুনি=Tuni, টুম্পা=Tumpa, টিকলী=Tikli, ঠাকুর=Thakur, ঠুসি=Thusi, ঢোলা=Dhola, ঢুলি=Dhuli.

তারক=Tarak, তারকেশ্বর=Tarakeshwar/Tarkeshwar, তীর্থ=Tirth/Tirtha, তনু=Tanu, তনয়=Tanay, তনয়া=Tanaya, তন্ময়=Tanmay, তন্ময়ী=Tanmayee/Tanmayi, তনিকা=Tanika, তপতী=Tapati, তপন=Tapan, তরু=Taru, তরুণ=Tarun, তুলসী=Tulsi, তুষ্টি=Tushti, তৃপ্তি=Tripti, তৃষ্ণা=Trishna

দাস=Das, দিগন্ত=Digant/Diganta, দিনেন্দ্র=Dinendra, দিব্য=Dibya, দীক্ষা=Deeksha/Diksha, দীপ=Deep/Dip, দ্বীপ=Dweep/Dwip, দীপ্তি=Deepti/Dipti, দীপক=Deepak/Dipak, দীপঙ্কর=Deepankar/Dipankar, দেব=Deb, দেবী=Debi, দেবেন্দ্র=Debendra, দেবযানী=Debyani, দৈব্য=Daibya, দত্ত=Datta, দুর্জয়=Durjay, দুর্জয়া=Durjaya, দর্শন=Darshan, দর্শনা=Darshana, দুরন্ত=Duranta, দয়াল=Dayal.

ধ্রুব=Dhruba, ধীরেন্দ্র=Dheerendra/Dhirendra, ধনবন্ত=Dhanabant/Dhanabanth/Dhanabanta, ধনবন্তী=Dhanabanti, ধর্মানন্দ=Dharmanand/Dharmananda, ধর্মেন্দ্র=Dharmendra.

নাগেন্দ্র=Nagendra, নাতিশা=Natish, নারায়ণ=Narayan, নিগম=Nigam, নিধি=Nidhi, নিপুণ=Nipun, নিহার=Nihar, নীরাজ=Niraj, নীলা=Nila, নীলম=Nilam, নীহারিকা=Niharika, নন্দ=Nanda, নন্দিকা=Nandika, নন্দিতা=Nandita, নন্দিনী=Nandini, নন্দনা=Nandana, নবনীতা=Nabanita, নরেন্দ্র=Narendra, নলিনী=Nalini, নয়ন=Nayan, নয়না=Nayana.

প্রগতি=Pragati, প্রমিলা=Pramila, প্রজ্ঞা=Pragya, প্রণব=Pranab, প্রণয়=Pranay, প্রতাপ=Pratap, প্রতিক্ষা=Pratiksha, প্রতিজ্ঞা=Pratigya, প্রতিভা=Pratibha, প্রতিম=Pratim, প্রতীক=Pratik, প্রতীন্দ্র=Pratindra, প্রতীপ=Pratip, প্রাচী=Prachi, প্রাপ্তি=Prapti, প্রার্থনা=Prarthana, প্রিয়া=Priya, প্রিয়াঙ্কা=Priyanka, প্রিতম=Pritam, প্রীতি=Priti, প্রেক্ষা=Preksha, প্রেম=Prem, প্রেমা=Prema, প্রেমী=Premi, প্রেরণা=Prerana, প্রেয়সী=Preyasi, প্রদীপ=Pradip, প্রদীপ্ত= Pradipt/Pradipth/Pradipta, প্রধান=Pradhan, প্রধানী=Pradhani, প্রবীণ=Prabin, প্রবীর=Prabeer, প্রভু=Prabhu, প্রভা=Prabha, প্রভাত=Prabhat, প্রভাতী=Prabhati, প্রমোদ=Pramod, প্রশান্ত=Prashant/Prashanth/Prashanta, প্রশান্তি=Prashanti, প্রসাদ=Prasad, প্রসেন=Prasen, প্রসন্ন=Prasanna, পঙ্কজ= Pankaj, পার্থ=Parth/Partha, পার্বতী=Parbati, পূজা=Pooja/Puja, পনির=Panir, পুনম=Punam, পবিত্র=Pabitra, পবন=Paban, পুণ্য=Punya, পূর্ণ/পূর্ণা=Purna, পূর্ণিমা=Purnima, পর্বত=Parbat, পরিতোষ=Paritosh, পরেশ=Paresh, পরশ=Parash, পল্লব=Pallab, পল্লবী=Pallabi, পলাশ=Palash, পুষ্প=Pushpa, পলক=Palak

ফটিক=Fatik, ফুলকী=Fulki, ফুলতী=Fulti, ফুলন=Fulan.

বকুল=Bakul, বাদল=Badal, বামন=Baman, বিক্রম=Bikram, বিকাশ=Bikash, বিজলি=Bijli, বিজয়=Bijay, বিজয়া=Bijaya, বিদ্যা=Bidya, বিদ্যুৎ=Bidyut, বিভা=Bibha, বিভাস=Bibhas, বিমল=Bimal, বিমলা=Bimala, বিশ্বাস=Bishwas, বিশ্বজিৎ=Bishwajit, বিষ্ণু=Bishnu, বীরেন্দ্র=Beerendra/Birendra, বৈশাখী=Baishakhi, বৈশালী=Baishali, বানু=Banu, বন্ধন=Bandhan, বাঁধন=Bandhan, ব্যাপারী=Byapari, বর্মন=Barman, বরুণ=Barun, বসু=Basu, বসন্ত=Basant/Basanth/Basanta, বসন্তী=Basanti, বসুমতী=Basumati.

ভুঁইয়া=Bhuiyan, ভাগ্যনাথ=Bhagyanath, ভানু=Bhanu, ভাবনা=Bhabna, ভাস্কর=Bhaskar, ভীম=Bhim, ভীমু=Bhimu, ভৈরব=Bhairab, ভৈরবী=Bhairabi, ভুবন=Bhuban, ভট্টাচার্য=Bhattacharya (ভট্টাচার্জি=Bhattacharjee).

মুক্ত/মুক্তা=Mukta, মুক্তি=Mukti, মুগ্ধ=Mugdha, মঙ্গলা=Mangala, মঙ্গলেশ=Mangalesh, মিঞা=Mian, মিয়া=Miah, মাধব=Madhab, মাধবী=Madhabi, মাধুরী=Madhuri, মানব=Manab, মানসী=Manasi, মিত্র=Mitra, মিথিলা=Mithila, মিনা=Mina, মিলন=Milan, মিহির=Mihir, মীনাক্ষী=Minakshi, মেঘ=Megh, মেঘা=Megha, মেঘনা=Meghna, মেধা=Medha, মেহেদি=Mehedi, মৈত্রী=Maitri, মহেন্দ্র=Mahendra, মোহিনী=Mohini, মোহন=Mohan, মোহনা=Mohana, মৌসুমি=Mausumi (Mowsumi/Mousumi), মঞ্জু=Manju, মৃত্যুঞ্জয়=Mrityunjay, মৃণাল=Mrinal, মদন=Madan, মৃদুল=Mridul, মৃদুলা=Mridula, মৃন্ময়=Mrinmay, মৃন্ময়ী=Mrinmayee/Mrinmayi, মধু=Madhu, মধুসূদন=Madhusudan, মন=Man, মণি=Mani, মনীষ=Manish মনীষা=Manisha, মনোরঞ্জন=Manoranjan, মনোহর=Manohar, মনসা=Manasa, মমতা=Mamata, মহন্ত=Mahant/Mahanta, মহিমা=Mahima, ময়না=Mayna/Maina, ময়ূর=Mayur, ময়ূরী=Mayuri.

যাদব=Yadab, যামিনী=Yamini, যোগী=Yogi, যোগিতা=Yogita, যোগিনী=Yogina, যোগিশ=Yogish, যতীন=Yatin, যতীন্দ্র=Yatindra, যদু=Yadu, যুবরাজ=Yubraj/Yubaraj, যশ=Yash, যশোদা=Yashoda, যশোধর=Yashodhar.

রঘু=Raghu, রাঘব=Raghab, রঙ্গন=Rangan, রাজ=Raj, রাজা=Raja, রাজন=Rajan, রাজেন্দ্র=Rajendra, রাজীব=Rajeeb/Rajib, রাধা=Radha, রাধিকা=Radhika, রাম=Ram, রামেশ্বর=Rameshwar, রিধি=Ridhi, রিশা=Risha, রিশব=Rishab, রিয়া=Riya, রুচিতা=Ruchita, রচনা=Rachana, রেখা=Rekha, রেশমা=Reshma, রেশমী=Reshmi, রোহিত=Rohit, রজত=Rajat, রজনি=Rajani, রঞ্জন=Ranjan, রত্না=Ratna, রতন=Ratan, রুদ্র=Rudra, রুদ্রাক্ষী=Rudrakshi, রূপক=Roopak/Rupak, রূপা/রুপা=Roopa/Rupa, রূপেশ=Rupesh, রূপল=Rupal, রূপম=Rupam, রূপমা=Rupama, রবি=Rabi, রবীন্দ্র=Rabindra, রমণী=Ramani.

লক্ষ্মী=Lakshmi, লক্ষ্মণ=Lakshman, লাবণ্য=Labanya, লাবনী=Labani, লালন=Lalan, লিখন=Likhan, লিপি=Lipi, লিপিকা=Lipika, লতা=Lata, লতিকা=Latika, ললিতা=Lalita.

শ্রী=Shree/Shri, শ্যাম=Shyam, শ্যামা=Shyama, শ্যামল=Shyamal, শ্যামলী=Shyamali, শিমুল=Shimul, শেফালি=Shefali, শ্রেয়া=Shreya, শক্তি=Shakti, শংকর=Shankar, শশাঙ্ক=Shashank/Shashanka, শান্ত=Shant/Shanth/Shanta, শান্তা=Shanta, শান্তি=Shanti, শালিনী=Shalini, শিউলি=Shiuli/Sheeuli, শিব=Shib, শিবানী=Shibani, শিবম=Shibam, শিল্পা=Shilpa, শিশির=Shishir, শীতল=Shital, শীতলা=Shitala, শেখর=Shekhar, শৈব্য=Shaibya, শৈলা=Shaila, শৈলী=Shaili, শৈলেশ=Shailesh, শোভা=Shobha, শুভ্র=Shubhra, শুভ=Shubha, শুভম=Shubham, শুভংকর=Shubhankar, শর্মা=Sharma.

স্নিগ্ধা=Snigdha, স্নেহা=Sneha, সাবিত্রী=Sabitri, স্বপ্ন/স্বপ্না=Swapna, স্বপন=Swapan, স্বাধীন=Swadhin, স্বাগত=Swagat/Swagata, স্বাগতী=Swagati, স্বাগতম=Swagatam, স্বর্ণ/স্বর্ণা=Swarna, স্বরূপা=Swarupa, স্মিতা=Smita, স্মৃতি= Smrity/Smriti, স্মরণ=Smaran, সুকান্ত=Sukant/Sukanth/Sukanta, সুকান্তী=Sukanti, সুকুমার=Sukumar, সুভাষ=Subhash, সংকল্প=Sankalpa, সাগর=Sagar, সাগরিকা=Sagarika, সাধনা=Sadhana, সান্ত্বনা=Santwana, সাহা=Saha, সিদ্ধার্থ=Siddharth/Siddhartha, সিদ্ধি=Siddhi, সিন্ধু=Sindhu, সূচি=Suchi, সূচিতা=Suchita, সূচিত্রা=Suchitra, সীতা=Seeta/Sita, সোপন=Sopan, সৌম্য=Saumya (Sowmya/Soumya), সৌরভ=Saurabh (Sowrabh/Sourabh), সুজাতা=Sujata, সুজিৎ=Sujit, সজন=Sajan, সজনী=Sajani, সজল=Sajal, সজলা=Sajala, সুজয়=Sujay, সুজয়ী=Sujayee, সঞ্চয়িতা=Sanchayeeta, সঞ্জিৎ=Sanjit, সঞ্জয়=Sanjay, সত্য=Satya, সত্যজিৎ=Satyajit, সতীশ=Satish, সুদর্শন=Sudarshan, সুদর্শনা=Sudarshana, সুধা=Sudhi, সুধীর=Sudhir, সন্দীপ=Sandip, সন্ধ্যা=Sandya, সুনিতা=Sunita, সুফলা=Sufala, সুব্রত=Subrata, সুবর্ণ/সুবর্ণা=Subarna, সুবল=Subal, সম্পূর্ণা=Sampurna, সুমি=Sumi, সুমিত=Sumit, সুমিত্রা=Sumitra, সমীর=Sameer/Samir, সমর=Samar, সুমন=Suman, সুমনা=Sumana, সূর্য=Surya, সুরজ=Suraj, সবিতা=Sabita, সুরভী=Surabhi, সরলা=Sarala, সরস্বতী=Saraswati, সরসা=Sarasa, সুলভ=Sulabh, সুলভা=Sulabha, সুশান্ত=Sushant/Sushanth/Sushanta, সুশান্তি=Sushanti, সুশীল=Sushil, সুশীলা=Sushila, সুষ্মিতা=Sushmita, সিংহ (সিং)=Singh, সৈকত=Saikat.

হিমেন্দ্র=Himendra, হিমেল=Himel, হিরু=Hiru, হিরণ=Hiran, হেমাঙ্গী=Hemangi, হেমেন্দ্র=Hemendra, হেমন্ত=Hemant/Hemanth/Hemanta, হৈমন্ত=Haimant/Haimanth/Haimanta, হৈমন্তী=Haimanti, হর্ষিতা=Harshita, হরি=Hari, হরিতা=Harita.

অশ্বিন/আশ্বিন=Ashwin, অশ্বিনী/আশ্বিনী=Ashwini, ঈশ্বর=Ishwar, উজ্জ্বল=Ujjwal, উজ্জ্বলা=Ujjwala, ঋত্বিক=Ritwik, ঋত্বিকা=Ritwika, ঐশ্বর্য=Aishwarya, দ্বীপ=Dwip, দ্বীজেন্দ্র=Dwijendra, দ্বীপাবতী=Dwipabati, স্বাধীন=Swadhin, স্বপন=Swapan, স্বপ্ন/স্বপ্না= Swapna, স্বর্ণ/স্বর্ণা=Swarna, স্বরূপা=Swarupa, স্বাগতম=Swagatam, সরস্বতী=Saraswati, স্বর্গেশ্বর=Swargeshwar, স্বর্গেশ্বরী=Swargeshwari, স্বর্গানন্দ=Swargananda/Swarganand, বিশ্বাস=Bishwas তারকেশ্বর=Tarakeshwar, যুগেশ্বর=Yugeshwar, যুগেশ্বরী=Yugeshwari, রামেশ্বর=Rameshwar, রামেশ্বরী=Rameshwari

স্মরণ=Smaran, স্মৃতি=Smriti/Smrity, পদ্ম/পদ্মা=Padma, লক্ষ্মী=Lakshmi, লক্ষ্মণ=Lakshman, চিন্ময়=Chinmay, চিন্ময়ী=Chinmayee/Chinmayi, তন্ময়=Tanmay, তন্ময়ী=Tanmayee/Tanmayi, মৃন্ময়=Mrinmay, মৃন্ময়ী=Mrinmayee/Mrinmayi

অনন্য/অনন্যা=Ananya, অনিন্দ্য=Anindya, অরণ্য=Aranya, অমূল্য=Amulya, আদিত্য=Aditya, কাব্য=Kabya, কল্যাণ=Kalyan, কল্যাণী=Kalyani, জ্যোতি=Jyoti, জ্যোতিকা=Jyotika, জ্যোতিষ=Jyotish, জ্যোৎস্না=Jyotsna, দিব্য=Dibya, দিব্যানন্দ=Dibyananda/Dibyanand, দিব্যেশ=Dibyesh, দৈব্য=Daibya, পুণ্য=Punya, ব্যাপারী=Byapari, বিদ্যা=Bidya, বিদ্যুৎ=Bidyut, বৈদ্য=Baidya, মৃত্যুঞ্জয়=Mrityunjay, শ্যাম=Shyam, শ্যামল=Shyamal, শ্যামলী=Shyamali , সন্ধ্যা=Sandhya, সত্য=Satya, সত্যজিৎ=Satyajit, সৌম্য= Saumya (Sowmya/Soumya) চট্টোপাধ্যায়=Chattopadhyay (চ্যাটার্জি=Chatterjee), বন্দ্যোপাধ্যায়=Bandyopadhyay (ব্যানার্জি=Banerjee), মুখোপাধ্যায়=Mukhopadhyay (মুখার্জি=Mukherjee), গঙ্গোপাধ্যায়=Gangopadhyay (গাঙ্গুলি=Ganguly)।

অনুশ্রী= Anushri/Anushree, অভ্র=Abhra, ইন্দ্রনীল=Indraneel, প্রগতি=Pragati, প্রমীলা=Pramila, প্রজ্ঞা=Pragya, প্রণব=Pranab, প্রণয়=Pranay, প্রতাপ=Pratap, প্রতিক্ষা=Pratiksha, প্রতিজ্ঞা=Pratigya, প্রতিভা=Pratibha, প্রতিম=Pratim, প্রতীক=Pratik, প্রতীন্দ্র=Pratindra, প্রতীপ=Pratip, প্রাচী=Prachi, প্রাপ্তি=Prapti, প্রার্থনা=Prarthana, প্রিয়া=Priya, প্রিয়াঙ্কা=Priyanka, প্রিতম=Pritam, প্রীতি=Priti, প্রেক্ষা=Preksha, প্রেম=Prem, প্রেমা=Prema, প্রেমী=Premi, প্রেরণা=Prerana, প্রেয়সী=Preyasi, প্রদীপ=Pradip, প্রধান=Pradhan, প্রধানী=Pradhani, প্রবীণ=Prabin, প্রবীর=Prabeer, প্রভু=Prabhu, প্রভা=Prabha, প্রভাত=Prabhat, প্রভাতী=Prabhati, প্রমোদ=Pramod, প্রশান্ত=Prashant/Prashanth/Prashanta, প্রশান্তি=Prashanti, প্রসাদ=Prasad, প্রসেন=Prasen, প্রসন্ন=Prasanna, শ্রী=Shree/Shri, শুভ্র=Shubhra

জ্ঞানদা=Gyanda/Gyanada, জ্ঞাননন্দ=Gyanananda, জ্ঞানেন্দ্র=Gyanendra, জ্ঞানেশ্বর=Gyaneshwar, জ্ঞানদেব=Gyandeb, প্রজ্ঞা=Pragya

[দ্রষ্টব্য: সংস্কৃত বর্ণ (व=V)-এর বাংলায় প্রতিবর্ণ নেই বা প্রয়োজন পড়ে না। তবে যেসব সংস্কৃত নাম বা শব্দ আত্তীকৃত হয়ে বাংলায় ব্যবহার হচ্ছে— সেসব শব্দ ইংরেজি প্রতিবর্ণীকরণে ব=B/V ব্যবহার করা যাবে। যেমন— অবনি=Abani/Avani, কেশব=Keshab/Keshav, কবিতা=Kabita/Kavita, কাব্য=Kabya/Kavya, গোবিন্দ=Gobind/Govind | Gobinda/Govinda, গৌরব=Gaurab/Gaurav, চিরঞ্জীবী=Chiranjeebi/Chiranjeevi, জীবন=Jeeban/Jeevan, দেব=Deb/Dev, দেবী=Debi/Devi, দেবেন্দ্র=Debendra/Devendra, দেবযানী=Debyani/Devyani, দৈব্য=Daibya/Daivya, ধ্রুব=Dhrub/Dhruv | Dhruba/Dhruva, ধনবন্তী=Dhanabanti/Dhanavanti, প্রবীণ=Prabeen/Praveen, প্রবীর=Prabeer/Praveer, পর্বত=Parbat/Parvat, পার্বতী=Parbati/Parvati, পবিত্র=Pabitra/Pavitra, পল্লব=Pallab/Pallav, পল্লবী=Pallabi/Pallavi, বিবেকানন্দ=Bibekananda/Vivekananda, বিক্রম=Bikram/Vikram, বিকাশ=Bikash/Vikash, বিজয়=Bijay/Vijay, বিজয়া=Bijaya/Vijaya, বিদ্যা=Bidya/Vidya, বিদ্যুৎ=Bidyut/Vidyut, বিশ্বাস=Bishwas/Vishwas, বিশ্বজিৎ=Bishwajit/Vishwajit, বিষ্ণু=Bishnu/Vishnu, বীরেন্দ্র=Beerendra/Veerendra, বরুণ=Barun/Varun, ব্যাপারী=Byapari/Vyapari, ভুবন=Bhuban/Bhuvan, মাধব=Madhab/Madhav, যাদব=Yadab/Yadav, যুবরাজ=Yubraj/Yuvraj | Yubaraj/Yuvaraj, রবি=Rabi/Ravi, রাঘব=Raghab/Raghav, রাজীব=Rajeeb/Rajeev, লাবণ্য=Labanya/Lavanya, শিব=Shib/Shiv, শিবানী=Shibani/Shivani, শিবম=Shibam/Shivam, সবিতা=Sabita/Savita, জ্ঞানদেব=Gyandeb/Gyandev ইত্যাদি।]

আরবি-ফারসি নাম

*** মুহাম্মাদ >
মুহাম্মাদ/মুহাম্মদ/মুহম্মদ=Muhammad
মুহামাদ/মুহামদ=Muhamad
মুহমাদ/মুহমদ=Muhmad
মুহাম্মেদ/মুহম্মেদ=Muhammed
মুহামেদ=Muhamed
মুহমেদ=Muhmed
মুমাদ/মুমদ=Mumad
মুমেদ=Mumed
মোহাম্মাদ/মোহাম্মদ/মোহম্মদ=Mohammad
মোহামাদ/মোহামদ/মহামদ=Mohamad
মোহমাদ/মোহমদ/মহমদ=Mohmad
মোহাম্মেদ/মোহম্মেদ=Mohammed
মোহামেদ/মহামেদ=Mohamed
মোহমেদ/মহমেদ=Mohmed
মোমাদ/মোমদ=Momad
মোমেদ=Momed

*** আহমাদ >
আহমাদ/আহমদ=Ahmad
আহমেদ=Ahmed
আহামাদ/আহামদ=Ahamad
আহামেদ=Ahamed
আহাম্মাদ/আহাম্মদ/আহম্মদ=Ahammad
আহাম্মেদ/আহম্মেদ=Ahammed
আমাদ/আমদ=Amad
আমেদ=Amed

▓ আরবি মূল নাম মুহাম্মাদ ও আহমাদ থেকে পরবর্তী রূপগুলো বিকৃত হয়ে বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহার হয়েছে। নামের অংশ হিসেবে একই নামে মুহাম্মাদ ও আহমাদ ব্যবহার ঠিক নয়। যেমন: মো. রাজু আহমেদ। এখানে ‘মো.’ বাদ দিয়ে রাজু আহমেদ ব্যবহার করাই শ্রেয়। অর্থাৎ যেকোনো একটি বাদ। আবার দেখা যায় অনেকেই ভুলবশত এক নামে দুবার মোহাম্মদ ব্যবহার করছে। যেমন: মো. নুর মোহাম্মদ। এক্ষেত্রে একটি মোহাম্মদ বাদ দিতে হবে। আর নামের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ/Mohammad/মুহাম্মদ/Muhammad সংক্ষিপ্ত রূপে মো./Md. না ব্যবহার করে পূর্ণ রূপে ব্যবহার করাই ভালো। সংক্ষিপ্ত রূপে মো./Md. বাংলা ভাষায় বিশেষভাবে বাংলাদেশে ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নামের অংশ বিশেষ সংক্ষিপ্ত রূপ মো./Md. নিয়ে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন বিভ্রান্তিতে।

▓ অজ্ঞতাবসে আমাদের দেশে অনেকে বলে মুসলমানদের নামে মুহাম্মদ ব্যবহার করতে হবে। আসলে এ ধারণাটি ঠিক নয়। রাসুল (সা.) জীবিত থাকাকালীন সময়ে সাহাবায় কিরামগণ তাঁর নামের অর্থ ও তাৎপর্যতার কারণে কোনো শিশুকে ওই নাম দেননি। কিন্তু রাসুল (সা.) তাঁর নামে নাম রাখতে নিষেধ করেননি।

▓ নবজাত শিশুদের পিতা/মাতা সম্বোধন করে—অর্থাৎ নবজাত শিশুটির নিজ সন্তান বা পোষ্য আছে এমন অর্থে কুনিয়াত (ডাকনাম/উপনাম) নাম রাখা যাবে না। যেমন— আবু (Abu)/আবুল (Abul)/উম্মে (Umm)/উম্মুল (Ummul) দ্বারা নাম গঠিত নাম— আবু বকর, আবু হুরায়রা, আবুল হোসেন, আবুল কাসিম/কাসেম, উম্মে সালমা, উম্মে কুলসুম, উম্মুল মাইমুনা ইত্যাদি। আবু/আবুল অর্থ হচ্ছে— পিতা, উম্মে/উম্মুল অর্থ হচ্ছে— মাতা। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এগুলো নাম হিসেবে ব্যবহার কেমন করে হলো? তাহলে আমাদের জানতে হবে পিতা/মাতা সম্বোধন কুনিয়াত নাম কী? ধরুন, আপনি একজন পিতা—আপনার ছেলের নাম রাইয়ান। আপনাকে অনেকেই সম্মানের সহিত ছেলের নাম ধরে রাইয়ানের বাবা বলে ডাকবে। আরবিতে আপনার কুনিয়াত নাম আবু রাইয়ান। আরবিতে আবু রাইয়ান—বাংলাতে রাইয়ানের বাবা হিসেবে সম্বোধন করা হবে। অনুরূপ মাতার ক্ষেত্রে উম্মে/উম্মুল। মূলত আরব বিশ্বে বড় সন্তান বা আদুরে পোষ্য প্রাণীর নাম দ্বারা তাদের পিতা-মাতা বা অভিভাবককে এমন নামে ডাকা হয়—কিন্তু এমন নাম রাখা হয় না। পোষ্য প্রাণীর হলে অভিভাবক বুঝাবে। যেমন— আবু হুরায়রা। যার অর্থ বিড়াল ছানার অভিভাবক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর নাম যেভাবে আবু হুরায়রা হলো— একদিন তিনি তার জামার আস্তিনের নিচে একটি বিড়াল ছানা নিয়ে রাসুল (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন। হঠাৎ বিড়াল ছানাটি তার জামার আস্তিনের নিচ থেকে সকলের সামনে বেরিয়ে পড়ে। তখন রাসুল (সা.) রসিকতা করে বলে উঠেন— “হে বিড়াল ছানার অভিভাবক”। তখন থেকে তিনি নিজের জন্য এ নামটি পছন্দ করে নেন এবং তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। আর আমরা বাঙালি মুসলমানরা না বুঝে নবজাত সন্তানদের এরূপ কুনিয়াত (ডাকনাম/উপনাম) নাম দিই।

▓ ইবন/ইবনে (Ibn), ইবনুল (Ibnul), বিন (Bin), বিনত/বিনতে (Bint) নামের অংশ হিসেবে শিশুদের আমাদের দেশে অনেকে জেনে বুঝে ঠিকভাবে রাখে—অধিকাংশ ব্যক্তিই না বুঝে ভুলভাবে রাখে। ইবন/ইবনে/ইবনুল, বিন অর্থ ছেলে— বিনত/বিনতে অর্থ মেয়ে। এ শব্দগুলো দ্বারা নাম রাখার নিয়ম হচ্ছে— মনে করুন আপনার নাম সিফাত, আপনার সন্তানের নামের অংশ হিসেবে হবে— XXXXX ইবন সিফাত/ইবনে সিফাত/ইবনুল সিফাত/ বিন সিফাত। অর্থ হচ্ছে সিফাতের পুত্র XXXXX। XXXXX-এর স্থলে হবে আপনার সন্তানের মূল নাম। ধরুন আপনার ছেলের নাম রাইয়ান। তখন হবে রাইয়ান ইবনে সিফাত/রাইয়ান ইবন সিফাত/রাইয়ান ইবনুল সিফাত/রাইয়ান বিন সিফাত। যার অর্থ সিফাতের পুত্র রাইয়ান। এখন মেয়ের ক্ষেত্রে আসি। আপনার নাম সিফাত, আপনার স্ত্রীর নাম শাকিলা, আপনার মেয়ের নাম ফারহানা। তাহলে আপনার মেয়ের নাম হবে— ফারহানা বিনতে সিফাত, আপনার স্ত্রীর পরিচয়ে হবে— ফারহানা বিনতে শাকিলা। যার অর্থ যথাক্রমে সিফাতের কন্যা ফারহানা, শাকিলার কন্যা ফারহানা। আমাদের দেশের বাঙালি মুসলমানরা না জেনে আরবি বা ইসলামি নাম রাখতে সওয়াবের তুলনায় গুনাহ বেশি করে।

▓ আল্লাহর গুণবাচক নাম ব্যতীত অন্য কোনো নামে আব্দ (আব্দুল/আব্দুর/আব্দুস/আব্দুশ) রাখা যাবে না। যেমন— আরবি নাম আব্দুল মুত্তালিব। যার অর্থ মুত্তালিবের বান্দা। আব্দ শব্দটির অর্থ বান্দা, গোলাম, দাস। এতে প্রতিফলিত হয় যে, গোলাম রাসুল, গোলাম হোসেন, গোলাম মোহাম্মদ, গোলাম আলি নামসমূহ রাখা যাবে না। এছাড়া অনেকে মেয়েদের নামে কানিজ ব্যবহার করে। যার অর্থ গোলাম/দাস/অনুগত। মেয়েদের নামের অংশ হিসেবে কানিজ ব্যবহার করা যাবে না। কেবল আল্লাহর গুণবাচক নামের পূর্বেই আব্দ বা গোলাম শব্দটি ব্যবহার করে নাম রাখতে হবে। যেমন— আব্দুল আজিজ, আব্দুল কারিম, আব্দুর রাহিম, আব্দুল মালিক, আব্দুস সাত্তার, আব্দুস সালাম, আব্দুস সবুর, আব্দুল ওয়াহিদ, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুস সামি, আব্দুল হাই, আব্দুল খালিক, আব্দুল মাজিদ, আব্দুল বারি, আব্দুর রাজ্জাক ইত্যাদি। আবার অনেকে নাম রাখে ঠিক, ডাকার সময় করে ভুল। যেমন— আব্দুর রাজ্জাককে ডাকে রাজ্জাক। এক্ষেত্রে যে ডাকবে এবং যে সাড়া দেবে উভয়ই গুনাহগার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নাম রাখা ঠিক নয়। আল্লাহর গুণবাচক নাম সরাসরি রাখা যাবে না। যেমন— রাহিম উদ্দিন/রহিম উদ্দিন (Rahim Uddin), কারিম উদ্দিন/করিম উদ্দিন (Karim Uddin), বাসির উদ্দিন/বসির উদ্দিন (Basir Uddin)। কিন্তু বাশির/বশির (Bashir) নয়। যেহেতু বাঙালিরা এ বিষয়ে বিশেষভাবে অজ্ঞ। আপনি চাইলেই বাংলা বা আরবিতে অনেক সুন্দর সুন্দর ভালো অর্থবহ নাম আছে যেগুলো রাখতে পারেন। মুত্তালিব যেহেতু আল্লাহর গুণবাচক নাম নয়—সেহেতু ইসলামি নাম হিসেবে আব্দুল মুত্তালিব নাম রাখা যাবে না—যা ইসলামে হারাম নাম হিসেবে স্বীকৃত।

▓ আমাদের সকলের উচিত নামের অর্থ বুঝে ইসলামি নাম রাখা। আমাদের দেশে অনেকের নাম দুই বা তিন অংশে রাখা হয়। আর ডাকার সময় যেকোনো একটি অংশ ধরে ডাকে। বিশেষ করে তাদের নামের দুই বা তিন অংশের অর্থ এমন হতে হবে যাতে যেকোনো একটি অংশ ধরে ডাকার সময় হারাম বা মাকরুহ না হয়।

▓ নাবি/নবি ও রাসুল/রসুল দ্বারা গঠিত নাম রাখা যাবে না। যেমন— নাবি/নবি, নাবিয়া/নবিয়া, নুরনাবি/নুরনবি, নুরুন্নাবি/নুরুন্নবি, মোহাম্মদ নাবি/নবি, আহাম্মদ নাবি/নবি, মোহাম্মদ রাসুল ইত্যাদি। আরবের বিভিন্ন দেশে এসব নাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

▓ মোসাম্মত অজ্ঞতাবসে নামের অংশ হিসেবে বিভিন্নভাবে এর ব্যবহার হচ্ছে। যেমন— মোসা./মোসাম্মত/মোসাম্মৎ/মোছা./মোছাম্মত/মোছাম্মৎ। ইংরেজিতে Mt./Mst./Most./Mosammat/Musammat ইত্যাদি। আমরা নামের ব্যবহারে কতটা অজ্ঞ তার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ এটি। এ বিষয়ে যারা জানেন বা সচেতন তারা এটি ব্যবহার করেন না। এর ব্যবহার বাংলা ভাষায় বিশেষভাবে বাংলাদেশেই বেশি।

▓ আমাদের অবশ্যই আরবি নাম ও ইসলামি নাম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে বা অর্থ জানতে হবে। কারণ, নামের ভুল ব্যবহারে নাম রাখা বা ডাকায় গুনাহের সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা এদেশের ৮০ ভাগ টাইটেলধারী হুজুরেরা এ বিষয়ে অজ্ঞ। তবে সবাই না।

▓ আমরা অনেকেই বিদেশি বানানে ‘ছ’ ব্যবহার করি। বিশেষ করে ث (সা), س (সিন) ও ص (সোয়াদ) দ্বারা গঠিত শব্দে বা বানানে ভুলবশত ‘ছ’ ব্যবহার করি। মূলত ث (সা), س (সিন) ও ص (সোয়াদ)-এর বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ ‘স’ হবে এবং ‘স’-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ হবে। ইংরেজিতে ث ,س, ص = S এবং ج (জিম), ذ (জাল), ظ (জোয়া)-এর বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ ‘জ’—বিকল্পে ‘য’ ব্যবহার হলেও বিদেশি শব্দে ‘জ’ ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। ইংরেজিতে ج ,ذ ,ظ = Z/J হবে। আরবি মূল উচ্চারণ আ-কার>অ-কার, ই/ই-কার>এ/এ-কার, উ/উ-কার>ও/ও-কার এবং ওয়া>োয়া ব্যবহার হচ্ছে। যেমন— মানসুর>মনসুর=Mansur,
মাকবুল>মকবুল=Maqbool/Makbul, মাজিদ>মজিদ=Majid, ইসহাক=Ishaq>এসহাক=Eshaq,ফাতিমা=Fatima> ফাতেমা= Fatema, কাদির=Kadir> কাদের=Kader, উমার>উমর=Umar> ওমর=Omar, মুহাম্মাদ>মুহাম্মদ=Muhammad> মোহাম্মদ=Mohammad, আনওয়ার>আনোয়ার=Anwar, আনওয়ারা>আনোয়ারা=Anwara ইত্যাদি।

▓ বাংলাদেশে নামের অংশ হিসেবে উর/উল/উজ/উন সংযোগ দেওয়ার প্রবণতা বেশি। যেমন— আসাদ>আসাদুর/আসাদুল/আসাদুজ, আমিন>আমিনুর/আমিনুল, সাইফ>সাইফুর/সইফুর/সৈফুর/ সাইফুল/সইফুল/সৈফুল, হারুন>হারুনুর ইত্যাদি। অনেকে আবার ভুলবশত বাংলা নামের সাথে উর/উল/উজ/উন সংযোগ দেয়—যা ঠিক নয়। যেমন— সজীব>সজীবুল, রাজীব>রাজীবুল ইত্যাদি। আরবি আ/ই/উ-ধ্বনি দ্বারা গঠিত নাম বাংলায় যথাক্রমে অ/এ/ও-ধ্বনিতে বিকৃত ব্যবহার ও উচ্চারণের প্রবণতা আছে।

আইয়ুব=Ayub, আজাম>আজম=Azam, আজহার=Azhar, আদনান=Adnan, আনওয়ার>আনোয়ার=Anwar, আনসার=Ansar, আনসারি=Ansari, আনাম=Anam>এনাম=Enam, ইনাম=Inam, আরশাদ=Arshad>এরশাদ=Ershad, ইরশাদ=Irshad, আইশা>আয়শা/আয়েশা=Aisha/Aysha/Ayesha, আকরাম=Akram>একরাম=Ekram, ইকরাম=Ikram, আখতার=Akhtar, আউয়াল=Awal, আনিস= Anis, আনিসা= Anisa, আফরান=Afran, আফরানা=Afrana, আব্বাস=Abbas, আবদুল্লাহ=Abdullah, আমিনা=Amina>আমেনা=Amena, আমির=Amir>আমের=Amer, আমিরা=Amira, আদাম>আদম=Adam, আলাম>আলম=Alam, আলমগির=Alamgir, আলিম=Alim>আলেম=Alem, আলিমা=Alima>আলেমা=Alema, আলিয়া=Alia>আলেয়া=Aleya, আশরাফ=Ashraf, আসগার=Asgar, আসাদ=Asad, আসওয়াদ>আসোয়াদ=Aswad, আসমা=Asma, আসিয়া=Asiya, আফসার=Afsar, আফতাব=Aftab, আহসান=Ahsan, ইকবাল=Iqbal, ইজাজ=Izaz>এজাজ=Ezaz, ইমাম=Imam, এমাম=Emam, ইলিয়াস=Ilias/Elias/Iliyas/Ilyas, ইলমাস=Ilmas, ইশরাত=Ishrat, ইস্কান্দার=Iskandar, এস্কান্দার=Eskandar ইহসান=Ihsan>এহসান=Ehsan, ইউনুস=Yunus, ইউসুফ=Yusuf, ইয়াকুব=Yaqub, ইয়াসমিন=Yasmin, ইয়াসির=Yasir, ইয়াসমিয়া=Yasmia, ইসা=Isa/Issa/Isah, ইসহাক=Ishaq>এসহাক=Eshaq, উবাইদ>উবায়েদ=Ubaid>উবায়েদ=Ubayed>ওবায়দ>ওবায়েদ=Obaid>ওবায়েদ=Obayed, উল্লাহ=Ullah, উমার>উমর=Umar>ওমার>ওমর=Omar, উসামা=Usama>ওসামা=Osama, উসমান=Usman>ওসমান=Osman, ওয়ালিদ=Walid>ওয়ালেদ=Waled, ওয়াসিম=Wasim, ওয়াহাব=Wahab, ওয়াহিদ=Wahid>ওয়াহেদ=Wahed, কারিম>করিম=Karim, কাসিম>কসিম=Kasin>কাসেম=Kasem, কামাল=Kamal, খাইর>খায়ের)=Khair> খায়ের=Khayer, খাতিব>খতিব=Khatib, খাদিজা=Khadiza>খাদেজা=Khadeza, খালিদ=Khalid>খালেদ=Khaled, খান>খাঁ=Khan, গানি>গনি=Ghani/Gani, গাফফার>গফফার=Gaffar, জাইন>জয়ন/জয়েন=Zain>জয়নাল=Zainal/Jainal>জয়নুল=Zainul/Jainul, জাফার>জাফর=Zafar/Jafar, জাব্বার>জব্বার=Jabbar, জারিনা>জরিনা=Zarina/Jarina, জাসিম>জসিম)=Jasim, জাহুর>জহুর=Jahur>জহুরা=Jahura>জহুরুল=Jahurul, জুনাইদ>জুনায়েদ=Junaid>জুনায়েদ=Junayed, জুবাইদ>জুবায়েদ=Jubaid>জুবায়েদ=Jubayed>জোবায়েদ=Jobaid/Jobayed, জুবাইদা>জুবায়দা)=Jubaida>জোবায়দা=Jobaida, জুবাইর>জুবায়ের=Jubair>জুবায়ের=Jubair>জোবাইর>জোবায়ের=Jobair>জোবায়ের=Jubayer, জুহরা=Juhra>জোহরা=Johra, জুলাইখা>জুলেখা=Zulaikha>জুলেখা=Zulekha, তাইয়াব>তৈয়ব/তাইয়ব/তাইয়েব=Tayyab/Tayeb, তাসনিম=Tasnim, তাসলিম=Taslim, তাহির=Tahir>তাহের=Taher, নাইনা>নায়না=Naina, নাইম/নাঈম=Naim/Naeem, নাজির>নজির=Nazir>নাজের/নজের=Nazer, নাদিম=Nadim>নাদেম=Nadem, নাসিম>নসিম=Nasim, নাসির>নসির=Nasir>নাসের/নসের=Naser, নাসিরন/নসিরন=Nasiran, নিসা=Nisa>নেসা=Nesa, নাহার=Nahar, ফায়সাল>ফয়সাল=Faisal, ফাতিমা=Fatima>ফাতেমা=Fatema, ফাতিহা=Fatiha>ফাতেহা=Fateha, ফারিদ>ফরিদ=Farid, ফারহান=Farhan, ফাহমিদা=Fahmida, ফায়াজ=Faiaz>ফয়েজ=Fayez, ফিরদাউস>ফিরদৌস=Firdaus>ফেরদাউস/ফেরদৌস=Ferdaus, ফিরুজ=Firuz>ফিরোজ=Firoz, বায়াজিদ>বায়জিদ/বায়েজিদ=Bayazid>বায়েজিদ=Bayezid, বাকির=Bakir>বাকের=Baker, বাদরু>বদরু=Badru, বারিক=Barik>বারেক=Barek, বিলকিস=Bilkis, বিলাল=Bilal>বেলাল=Belal, বুরহান=Burhan>বোরহান=Borhan, বুরহাম=Burham>বোরহাম=Borham, বাশির>বশির=Bashir, বাসির>বসির=Basir, মাইমুন=Maimun, মাইশা=Maisha, মাকবুল>মকবুল=Maqbool/Makbul, মুখলেস=Mukhlesh, মোখলেস= Mokhles, মুমিন=Mumin>মোমিন/মমিন=Momin, মাজহার>মজহার=Mazhar, মাজিদ>মজিদ=Mazid>মাজেদ=Mazed, মাতিন>মতিন=Matin, মানসুর>মনসুর=Mansur, মামুন=Mamun, মারইয়াম>মারিয়াম/মরিয়ম=Maryam/Mariam, মালিক=Malik>মালেক=Malek, মাসউদ>মাসুদ=Masud, মাহদি=Mahdi>মেহদি=Mehdi, মাহির>মহির=Mahir, মাহজাবিন=Mahzabin>মেহজাবিন=Mehzabin, মাহমুদ=Mahmud, মিহির=Mihir>মেহের=Meher, মিহিরুন নিসা=Mihirun Nisa>মেহেরুন নেসা=Meherun Nesa, মাহফুজ=Mahfuz, মুনাওয়ার=Munawar, মুনির=Munir>মোনির/মনির=Monir, মুবারাক>মুবারক=Mubarak>মোবারক=Mobarak, মুরতাজা/মুর্তাজা>মুরতজা/মুর্তজা=Murtaza>মোরতাজা/মোর্তাজা/মোরতজা/মোর্তজা=Mortaza, মুশতাক=Mushtaq>মোশতাক=Mushtaq, মুস্তাফা>মুস্তফা=Mustafa>মোস্তাফা/মোস্তফা=Mostafa, মুমতাজ=Mumtaz>মোমতাজ/মমতাজ=Momtaz, মুহসিন=Muhsin>মুহসেন=Muhsen>মোহসিন/মহসিন=Mohsin>মোহসেন/মহসেন=Mohsen, মাহবুব=Mahbub>মেহবুব=Mehbub, মাহবুবা=Mahbuba>মেহবুবা=Mehbuba, মুইন=Mueen/Muin>মইন/মোইন=Moeen/Moin, মুজিব=Muzib, মুখতার=Mukhtar>মোখতার=Mokhtar, রুকাইয়া=Rukaiya>রোকাইয়া/রোকেয়া=Rokaiya>রোকেয়া=Rokeya, রুখসানা=Rukhsana>রোখসানা=Rokhsana (রুকসানা=Ruksana>রোকসানা=Roxana/Roksana), রাইস>রইস=Rais, রাইসা>রইসা=Raisa, রাউফ>রউফ=Rauf, রাদিয়া=Radia, রাজিয়া=Razia>রেজিয়া=Rezia, রাফিক>রফিক=Rafiq/Rafique, রাবিউল>রবিউল=Rabiul, রাবিয়া=Rabia/Rabiya>রাবেয়া=Rabeya, রামিজ>রমিজ=Ramiz, রাশিদ>রশিদ=Rashid, রাহিম>রহিম=Rahim, রাহিলা>রহিলা)=Rahila>রাহেলা=Rahela, রাহমান>রহমান=Rahman>রেহমান=Rehman, রিজওয়ান>রিজোয়ান=Rizwan>রেজওয়ান/রেজোয়ান=Rezwan, রিদওয়ান>রিদোয়ান=Ridwan>রেদওয়ান/রেদোয়ান=Redwan, রিহানা=Rihanna/Rihana>রেহানা=Rehanna/ Rehana, রিয়াজ=Riaz, রুস্তম=Rustam>রোস্তম=Rostam, রেনেসাঁ=Renaissance, লুকমান=Luqman/Lukman>লোকমান=Loqman/Lokman, লাইলা>লায়লা=Laila, লাতিফ>লতিফ=Latif, লিসা=Lisa, শাইখ>শায়খ/শায়েখ/শেখ=Shaikh>শেখ=Sheikh, শাকিব=Shakib, শমশের=Shamsher, শাকিরা=Shakira, শামস=Shams, শারিফ>শরিফ=Sharif, শাহ=Shah, শাহরিয়ার=Shahriar, শাহনাজ=Shahnaz, শুয়াইব>শুয়েব=Shuaib>শোয়াইব/শোয়েব=Shoaib, সাহারা=Sahara>সাহেরা=Sahera, সাখাওয়াত=Sakhawat, সিরাজ=Siraj, সাইদ/সাঈদ>সায়েদ=Saeed/Said>সায়েদ=Sayed>সৈয়দ=Syed, সাইদি/সাঈদি=Saidi/Saeedi>সায়েদি=Sayedi, , সাইফ=Saif, সাইম/সাঈম>সায়েম=Saeem/Saim>সায়েম=Sayem, সাকিনা>সকিনা=Sakina, সাদির=Sadir>সাদের=Sader, সাদিয়া=Sadia/Sadiya, সাবিনা=Sabina, সামি=Sami, সারওয়ার>সরওয়ার/সারোয়ার/সরোয়ার=Sarwar, সালাহ=Salah>সালেহ=Saleh, সালিহ=Salih, সালিম>সলিম=Salim>সেলিম=Selim, সিয়াম=Siam/Siyam, সিফাত=Sifat, সাফি=Safi, সাফিয়া=Safia/Safiya, সুফিয়া=Sufia/Sufiya, সুফিয়ান=Sufian/Sufiyan, সুবহান=Subhan>সোবহান=Sobhan, সুমাইয়া=Sumaiya, সুরাইয়া=Suraiya, সরকার=Sarkar, সুলাইমান>সুলায়মান/সুলেমান/সুলেমন=Sulaiman>সোলায়মান/সোলেমান/সোলেমন=Solaiman, সুলতান=Sultan, সুলতানা=Sultana, সুহাইল>সুহেল=Suhail>সোহাইল/সোহেল=Sohail, সুহরাব=Suhrab>সোহরাব=Sohrab, হাক>হক=Haq/Haque, হাই=Hai, হাইফা=Haifa, হায়দার=Haidar, হাদি=Hadi, হাফিজ=Hafiz>হাফেজ=Hafez, হাফসা=Hafsa, হাবিব=Habib, হামিদ=Hamid>হামেদ=Hamed, হারিস>হরিস=Haris/Harris, হারুন=Harun, হাসান=Hassan/Hasan>হাসেন=Hassen/Hasen, হিলাল=Hilal>হেলাল=Helal, হিদায়ত=Hidayat>হেদায়ত=Hedayat, হুমাইয়া=Humaiya>হোমাইয়া=Homaiya, হুমাইরা>হুমায়রা=Humaira, হুসাইন>হুসেইন/হুসেন=Hussain>হুসেইন/হুসেন=Hussein>হোসাইন/হোসেইন/হোসেন=Hossain>হোসেইন/হোসেন=Hossein

বাংলায় প্রচলিত অন্যান্য নাম

অ্যাঞ্জেল=Angel, অ্যাঞ্জেলা=Angela, অরেঞ্জ=Orange, আইরিন=Irene, আপেল=Apple, আব্রাহাম=Abraham, ইভা=Eva, এলিজা=Eliza, এলিনা=Elina, কুইন=Queen, কিং কং=King Kong, কিং=King, জ্যাক=Jack, জ্যাকি=Jacky, জিওন=Xeon, জিমি=Jimmy, জেমি=Jamie, জেমস=James, জেরি=Jerry, জেরিন=Zarine, জেলি=Jelly, জেসি=Jassie/Jasse, জেসিকা= Jessica, জেসমিন=Jasmine, জোলি=Jolie, জন=John, জনি=Johnny, জুলি=Julie, জুলিয়া=Julia, জয়=Joy, জুয়েল=Jewel, টাইগার=Tiger, টিউলিপ=Tulip, টিনা=Tina, টনি=Tony, টমি=Tommy, ডিউক=Duke, ডিফেন্স=Defense, ডেইজি=Daisy, ডেভিড=David, ডলার=Dollar, ডলি=Dolly, তেনজিন=Tenzin, ন্যান্সি=Nancy, নিউলি=Newly, নোবেল=Nobel, নোভা=Nova, প্রিন্স=Prince, পাইলট=Pilot, পাভেল=Pavel, পিউ=Pew, পপি=Popy, পল=Paul, পিংকি=Pinky, ফ্যান্সি=Fancy, ব্লু=Blue, বিউটি=Beauty, বেবি=Baby, বেলি=Belly, ববি=Bobby, বুলেট=Bullet, ভিক্টর=Victor, ভিকি=Vicky, মাইলস=Miles, মিনি=Mini, মিমি=Mimi, মিলা=Mila, মিলি=Milly, মেরি=Mary/Merry, মেরিনা=Marina, মোনালিসা=Mona Lisa, মুন=Moon, রকি= Rocky, রকেট=Rocket, রাসেল=Russell, রিকি=Ricky, রেইনি=Rainy, রোজি=Rosy, রোমান=Roman, রোমিও=Romeo, রুনা=Runa, রনি=Rony/Ronny/Ronnie, রুনি=Rooney, রুবি=Ruby, রবিন=Robin, রুমান/রুমন=Ruman, রয়=Roy, রয়েল/রয়্যাল=Royal, লাকি=Lucky, লাভলি=Lovely, লায়ন=Lion, লিওন=Leon, লিজা=Liza, লিলি=Lily, লোটাস=Lotus, লোপা=Lopa, লুনা=Luna, লুসি=Lucy, লিংকন=Lincoln, সুইট=Sweet, সুইটি=Sweetie/Sweety, সানি=Sunny, সারাহ=Sarah, সায়মন=Simon, সিজার=Caesar, সোনিয়া=Sonia, হ্যাপি=Happy, হেলেন=Helen, হেলেনা=Helena

বাংলায় প্রতিবর্ণীকরণে বানান দু রীতিতে ব্যবহার হয়—
১. গঠনরীতি: শিক্ষা=Shiksha, পরীক্ষা=Pariksha, লক্ষ্মী= Lakshmi, পদ্মা=Padma, ক্ষত্রিয়= Kshatriya
২. উচ্চারণরীতি: শিক্ষা=Shikkha (সহজে বোঝানোর ক্ষেত্রে অর্থাৎ চলনশীল। যা ব্যাকরণভিত্তিক বা লিখিত রূপে ব্যবহার করা হয় না। বলা যায়, মোবাইলে এসএমএস বা চ্যাটিং করতে সহজে আমরা যেভাবে লিখি। যেমন— কাল আমার পরীক্ষা=Kal Amar Porikkha। নাম বা বানানের জন্য গঠনরীতি অনুসরণ করতে হবে। আমাদের দেশে অধিকাংশ শিক্ষকই এ সম্পর্কে জানেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের নাম প্রতিবর্ণীকরণে ভুল হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।)

নাম হিসেবে প্রতিবর্ণীকরণ প্রতিটি ভাষারই আছে। কিন্তু এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলো প্রতিবর্ণীকরণের ফলে শব্দের অর্থবোধ হারিয়ে ফেলে বা, অর্থের পরিবর্তন ঘটে। এতে ভিনভাষীদের কাছে শব্দের অর্থ বুঝতে সমস্যাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ নিম্নে আলোচনা করা হলো:
বাংলা > প্রতিবর্ণীকরণ > ইংরেজি
উপজেলা > Upazilla > Sub-district
জেলা > Zilla > District
থানা > Thana > Police Station (PS)
সদর > Sadar > HQ
পরিষদ > Parishad > Council
পৌর > Paura > Municipal
পৌরসভা > Paurasabha > Municipality
চর (বালুচর) > Char > Shelf/Sand Bed
চুলা > Chula > Oven/Stove
ঘাট > Ghat > Gorge/Wharf
ছিটমহল > Sitmahal > Enclave
সেমাই > Semai > Vermicelli
লাচ্ছা > Lachchha > Fried Vermicelli
ভবন > Bhaban > Building
মহল্লা > Mahalla > Colony
আমাদের উচিত অর্থবহ শব্দের বাংলা এবং ইংরেজি যথার্থ ব্যবহার করা। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য যোগাযোগ সহজতর হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন বাড়বে। অকারণে প্রতিবর্ণীকরণ না করে যথার্থভাবে ব্যবহার করতে হবে। বাংলাতে যথার্থ শব্দ থাকা সত্ত্বেও যেভাবে বাংলা-ইংরেজি গুলিয়ে বাংলিশ সৃষ্টি হচ্ছে। তাতে আমাদের চেয়ে ভিনভাষীদের আরো বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যেমন— ‘চর জীবিকায়ন কর্মসূচি’ ইংরেজিতে লিখা হচ্ছে ‘Char Livelihood Program’. ইংরেজিতে Char অর্থ গৃহকর্ম, পোড়ানো। অর্থাৎ Char Livelihood Program-এর অর্থ গৃহকর্ম জীবিকায়ন কর্মসূচি। আরো কিছু মিশ্রিত ও যথার্থ ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:
মিশ্রিত: উপজেলা নির্বাহী অফিসার=Upazilla Nirbahi Officer
যথার্থ: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা=Sub-district Executive Officer
মিশ্রিত: উপজেলা শিক্ষা অফিসার=Upazilla Education Officer
যথার্থ: উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা=Sub-district Education Officer
মিশ্রিত: জেলা পরিষদ=Zilla Parishad
যথার্থ: জেলা পরিষদ= District Council
মিশ্রিত: উপজেলা পরিষদ=Upazilla Parishad
যথার্থ: উপজেলা পরিষদ=Sub-district Council
তবে এমন কিছু শব্দ আছে যা ইংরেজিতে ব্যবহার করা বোধগম্য নয়—বা ব্যবহারে ব্যাপকতা সৃষ্টি হয়। যেমন— টাকা=Taka, পয়সা=Paisa, লাখ=Lakh ইত্যাদি।

--------------------------------------------------


তারিখ ব্যবহারের নিয়ম
প্রতিষ্ঠানের প্যাডে তারিখ ব্যবহারের ক্ষেত্রে:
১. স্মারক নং-____________________তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১২
২. স্মারক নং-____________________তারিখ: ১২ই ডিসেম্বর ২০১২
৩. স্মারক নং-____________________তারিখ: ডিসেম্বর ১২, ২০১২
৪. স্মারক নং-____________________তারিখ: ১২/১২/২০১২ খ্রি.
৫. স্মারক নং-____________________তারিখ: ১২/১২/২০১২
মার্কিন পদ্ধতি (৩) ছাড়া তারিখের মধ্যে কমা ব্যবহার করা যাবে না। মাসের নাম উল্লেখ থাকলে খ্রি./হিজরি/বঙ্গাব্দ লেখার প্রয়োজন হয় না। খ্রি./হিজরি/বঙ্গাব্দ লেখার পর ‘তারিখ বা সাল’ না লেখাই ভালো। খ্রি./হিজরি/বঙ্গাব্দ লেখা না হলে ‘তারিখ বা সাল’ লেখা যেতে পারে। যেমন-১২/১২/২০১২ খ্রি. থেকে ১৬/১২/২০১২ খ্রি. পর্যন্ত; বা, ১২/১২/২০১২ তারিখ থেকে ১৬/১২/২০১২ তারিখ পর্যন্ত; বা, ১২ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত; বা, ডিসেম্বর ১২, ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ১৬, ২০১২ পর্যন্ত। অনুরূপ বাংলায় ও আরবিতে। বাংলায় তারিখ বা সাল হিসেবে ব্যবহার হবে বঙ্গাব্দ এবং আরবিতে হিজরি।
[দ্রষ্টব্য: তারিখে -লা, -রা, -ঠা, -ই, -শে একসঙ্গে লিখতে হবে। যেমন— ২১শে ফেব্রুয়ারি।]
মার্কিন পদ্ধতিতে আবেদনপত্র লেখার সময় অবশ্যই তারিখ ওপরে লিখতে হবে । তারিখ/Date শব্দটি উল্লেখ করা হয় না । বরাবর/To ব্যবহার হবে না। লাইনের শুরুতে ট্যাব ব্যবহার হবে না এবং সর্বত্রই বাম দিকে থাকবে। যেমন—

জানুয়ারি ১২, ২০১২
ম্যানেজার
জনতা ব্যাংক লিমিটেড
মিরপুর শাখা, ঢাকা

খামের ওপর প্রেরক, প্রাপক/ From, To ব্যবহার হবে ।

--------------------------------------------------


বিদেশি শব্দের কিছু ভুল ব্যবহার

বিদেশি শব্দ > শুদ্ধ ব্যবহার> ভুল ব্যবহার
Eucalyptus > ইউক্যালিপ্‌টাস > ইউক্যালেপটার (গাছ)
Symphony > সিম্ফনি > স্যাম্ফনি (একটি ফোনের নাম। অর্থ হচ্ছে মিল, সংগতি, শব্দসংগতি ইত্যাদি)
Heliport/Helipad > হেলিপোর্ট/হেলিপ্যাড> হ্যালিপোড (যে স্থানে হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করে)
Renew > রিনিউ > রেনু (নবায়ন)
--------------------------------------------------


বিভ্রান্তিকর কিছু ইংরেজি শব্দের বাংলা ব্যবহার দেখানো হলো:
Ad (অ্যাড)=বিজ্ঞাপন, Add (অ্যাড)=সংযোগ/যোগ করা, Registrar (রেজিস্ট্রার)=নিবন্ধক/নিবন্ধরক্ষক, Register (রেজিস্টার)=নিবন্ধন, Registration (রেজিস্ট্রেশন)=নিবন্ধন, Registered (রেজিস্টার্ড)= নিবন্ধনভুক্ত, Word (ওয়ার্ড)=শব্দ, Ward (ওয়ার্ড)=ওয়ার্ড/কারাকক্ষ, Angel (অ্যাঞ্জেল)=দেবদূত, Angle (অ্যাঙ্গেল)=কোণ ।

--------------------------------------------------


বানান সম্পর্কীয় আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: http://www.facebook.com/ba.ac.net

আপনাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে ও জানতে মতামত প্রকাশ করুন। সময় সাপেক্ষে প্রতিটিরই উত্তর দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ভাষাবিদদের সহায়তা কামনা করছি।



[দ্রষ্টব্য: এই পোস্টটি বই আকারে এখনই প্রকাশ করছি না। কারণ এখনো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। কিন্তু অনেকেই ইতোমধ্যে আমার পোস্টটি বই আকারে প্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন জনে নানাভাবে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রকাশ করেছে। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আর কেউ যদি পোস্টটি বই আকারে প্রকাশ করতে চায়—তবে অবশ্যই পোস্টটির সূত্র হিসেবে বাংলা বানানচর্চা | বাবাচ এবং বাংলা বানান:www.somewhereinblog.net/blog/bbnet/29867731 লিংকটি ব্যবহার করবেন। এতে লেখকের পরিশ্রম সার্থক হবে। পোস্টটি তৈরি করতে প্রায় ২ বছর সময় লেগেছিল। আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে আপডেট চলবে।]

******************** সমাপ্ত ********************
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৮
৭১টি মন্তব্য ৫২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সোশ্যাল রোবট "রিবো" B-)

লিখেছেন চানাচুর, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৮



শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বানানো রোবট রিবো। এক বছর আগে রিবোকে দেখেছিলাম ইউটিউবে। তখন যতটা না ভাল লেগেছিল, তার থেকে এখন অনেক ভাল লাগছে। রোবট সোফিয়ার মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বি দ্যা চেঞ্জ ডেট ইউ উইশ টু সি ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৩৩


উপরের বাক্যটিকে বাংলা করলে যা দাঁড়ায়, তা হচ্ছে - "নিজেকে সেই রকম পরিবর্তন করো যে রকম পরিবর্তন তুমি পৃথিবীতে দেখতে চাও।"...... কি রকম পরিবর্তন আমাকে নিজের মাঝে আনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারও ভেতরে কোন প্রতিক্রিয়া দেখছি না!

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৩৩

কারও ভেতরে কোন প্রতিক্রিয়া দেখছি না! সমস্যা কি তাহলে শুধু আমিই ফেইস করছি? আজ সারা দিন সামুতে ঢুকতে না পারার কারন কী? কিছুক্ষন পূর্বে সামুতে ঢুকে অবশ্য এটা আঁচ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় দীর্ঘ ২০ থেকে ২৪ ঘন্টা পর সামুর জ্যামযট নিরসন হল

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৪২


কাল বিকেলের পর থেকেই খুব সামুতে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম,কিন্তু কোন ভাবেই সামুর পেজ ওপেন হতেছিলনা তখন
ভেবেছিলাম হয়ত সামু আমাকে ব্লক করেছে,মনে মনে অবশ্য অনেক রাগ হল,কিন্তু রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ সালের ৪ এবং ৫ই ডিসেম্বর সিলেট, গাজীপুরে যে যুদ্ধ হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

লিখেছেন ব্লগ সার্চম্যান, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৫:৫৭


গাজীপুরের যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালের ৪থা এবং ৫ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান। এটি সংঘটিত হয়েছিল কুলাউরার কাছে গাজীপুর টি ষ্টেটে। যেটি পূর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×