মৌলিক চাহিদার একটি হচ্ছে বিনোদন। তাই বিনোদনের বিপক্ষে কথা বলার কিছুই নাই। তাই বলে কি বিনোদনের কোন সিমা রেখা থাকবে না? এটা কি করে সম্ভব?
ফুটবল সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রীয় খেলা ঠিক আছে, তবে সেখানে আমাদের স্থান কততম? বাংলাদেশ ফিফা র্যান্ককিং ১৫৭, ভারত ১৫১, পাকিস্থান ১৬৭। তার পরও আমরা ফোটবল নিয়ে আনন্দ করতেই পারি, কারণ ফুটবলকে আমরা ভালবাসি, কিন্তু এইভাবে ভালবাসার প্রকাশ করা কি ঠিক? যেই দেশের মানুষের ঠিকমত দুবেলা খাবার জোটে না, সেই দেশের ঘরের ছাদে এই ভাবে পরের দেশের পতাকা লাগানোটা কি লজ্জাজনক নয়?
শুধু পতাকাতেই এখন আর সিমাবদ্ধ নেই, এখন আবার মাইক ব্যানার নিয়ে মিছিল, মিটিং ও শুভ যাত্রার রীতি শুর হয়েছে। আপনার কি মনে হয় তারা এইসবের খরচের টাকা নিজেদের পকেট থেকে দিবে? না, কোন দিনই না, তারা এটার জন্য রাস্তায় দাড়িয়ে, অথবা দোকানে দোকানে চাঁদা তুলবে। সেখান থেকে কিছু খরচ করবে আর কিছু পকেটে ভড়ার উদ্দ্যেশ্যেই এত সব আয়োজন।
১৯৯৯ এর কথা। বাংলাদেশের কোন এক সাংবাদিক অনেক কষ্ঠকরে মেরাডোনার এক সাক্ষাতকার নিতে পেরে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশের আপনার ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। জবাবে সে উল্টো প্রশ্ন করেছিল, বাংলাদেশটা আবার কে? শুধু মেরাডোনাই কেন, কাকা, মেসি, দুংগা, এদের কেহই হয়তো বাংলাদেশের নামই শুনেনি কোনদিন। আর তাদের পতাকা নিয়ে আমাদের এত হৈচৈ?
আমার বিশ্বাস আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলে তাদের ঘড়ের ছাদেও এত পতাকা দেখা যাবে না, যতটা দেখা যাচ্ছে আমাদের বাংলাদেশে। ওখানকার কেহ থাকলে আওয়াজ দিয়েন।
সাধারণ জনগনের সাথে সাথে দৈনিক পত্রিকাগুলোও এর থেকে ফায়দা নিচ্ছে।
এতো গেলো নিজ দেশের কথা। এবার দেখুন পার্শবর্তী ভারতের পত্রিকার অবস্থা। http://www.bartamanpatrika.com/ তাদের অবস্থা আমাদের চেয়েও করুণ। এই পত্রিকা দেখে বুঝার উপায় নাই যে, এটা কি দৈনিক পত্রিকা না কি বিশ্বকাপ মেগাজিন।
Click This Link
১) ফিফা র্যাংকিংএ আমাদের ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্থান এর র্যংকিং যোগ করলে হয়, প্রায় ৫০০।
২) অলিমপিকে তিন দেশ মিলে সোনা পায় মাত্র ১টি।
৩) এই তিন দেশেই আবার বিশ্বের প্রায় চার ভাগের একভাগ লোকসংখ্যা বাস করে।
================
এবার বলুন পরের দেশের পতাকা নিয়ে এত মাতামতি কি ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো নয়??
----------------
প্রথম আলো থেকে সংগ্রহ করা কিছু ছবি দেখুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

