somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কায়রো আন্তর্যাতিক বানিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশ গ্রহণ, অবশেষে অপ্রিতিকর ঘটনা।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১০ রাত ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিশর অর্থনৈতিক ভাবে আরবের অন্যান্য দেশের ন্যায় অত শক্তিশালি না হলেও কালচারল দিক থেকে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বেশ শক্তিশালি। আর মিশরের আলেকজান্ড্রিয়া শহড়কেতো বলাই হয় 'দ্যা ক্যাপিটাল অব ইসলামিক কালচার'। এর নিদর্শন মিশরে আপনি আসলেই পাবেন। প্রতিটি শহড়েই রয়েছে বড় বড় লাইব্রেরি, সান্স্কৃতি উৎযাপন কেন্ত্র, মিউজিয়াম এবং বড় বড় কনফারেন্স কেন্দ্র। বছরের অধিকাংশ সময় জুড়েই কায়রো অপেরা হাউজে লেগে থাকে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টিবল। বাংলাদেশ থেকেও আজকাল বিভিন্ন ফেস্টিবলে প্রতিনিধি এসে থাকে।

গতবছরের ১১ থেকে ১৬ ই অক্টোবর কায়রোর আন্তর্যাতিক কনফারেন্স উৎযাপন কেন্দ্রে ছিল সমস্ত ইসলামিক বিশ্বের দেশ গুলো নিয়ে ১২ তম বানিজ্য মেলা। ইসলামিক দেশ গুলোর পরস্পরের মাঝে লেনদেন ও বানিজ্যিক সম্পর্ক বারানোই হচ্ছে এই মেলার লক্ষ ও উদ্বেশ্য।

এ্যামবাসি থেকে আমাদের ছাত্রদের ফোনদিয়ে বলাহলো আপনাদের সময় থাকলে প্রতিদিন কিছুটা সময়ের জন্য ঐ মেলায় কাটানোর জন্য কারণ বাংলাদেশ থেকে ১১ টি কম্পানিও এতে অংশগ্রহণ করছে। এবং ভাষাগত বা অন্যান্য কোন বিষয়ে সাহায্য লাগলে তা যেন আমরা যতটুকু সম্ভব করে থাকি।

যাই হোক বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি পন্যের চাহিদা এবং আরো অনেক গুলি বিষয় মাথায় নিয়ে অতি উৎসাহে প্রথম দিনেই মেলায় গেলাম। দুরথেকে বাংলাদেশ লেখা দেখেই মনটায় কেমন যেন এক ভাল লাগা শুরু হলো। কাছে গেলে বাংলীদের দেখে বেশ ভাল লাগল। ধিরে ধিরে সবার সাথে পরিচয় হলাম, তাদেরও বেশ উৎসাহি মনে হল। তারপর.....

তারপরই আসল চেহারা বের হওয়া শুরু হলো। প্রত্যেকেই কিভাবে কম্পানির দেয়া বাজেট বাচিয়ে তা পকেটে নেয়া যায় সেই পন্থা খুজতে লাগল। কিভাবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যাব হার করা যায়, হোটেল ছেরে অন্য কোথায় থাকলে খরচ কমবে, কোথায় কমদামি খাবার পাওয়া যায়, কোথায় ছাত্র আইডি ব্যাবহার করে ফ্রিতে ঘুরা যায় এইসব। যাক গড়িব দেশের মানুষ হিসেবে তারা এইসব করতেই পারে। এগুলো নিয়ে আমাদের কথা না বলাই ভাল। এছাড়াও তারা আর যা যা করেছে তা নিয়ে কিছু না বললেই নয়।

১) বানিজ্য মেলায় তাদের পাঠানো হয়েছে পন্যের পরিচিতি তুলে ধরে তার গুনাগুন বুঝানো এবং বিভিন্ন কম্পানি কিংবা বায়ারদের কিছু পন্য সৌজন্যমুলক দেয়া যাতে করে সে পন্য ব্যাবহার করে ভাল লাগলে কম্পানির সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু মেলার তৃতীয় দিনে গিয়েই দেখাগেলো তারা সমস্ত পন্য কম দামে মানুষের কাছে বিক্রিকরে শুন্য ষ্টল নিয়ে বসে আছে। ৫০-১০০ টাকায় কিউট ক্রিম বিক্রি করে কি মেলায় অংশ গ্রহণের টাকা উঠানো যাবে? এ প্রশ্নের কোন জবাবাই নাই। আসলে এই টাকা নিজেরা নিজেদের পকেটেই পুরেছে। তারা নিজেরা নিজেদের বানিজ্য করেছে, কম্পানির জন্যে কিছুই করেনি ক্ষতি ছাড়া, দেশের জন্য বদনাম ছারাও কিছু করেনি।

২) মেলায় প্রায় ৩০ টি দেশের ৬০০ ষ্টল ছিল। সম্পুর্ন শিততাপ নিয়ন্ত্রিত ফুল কার্পেটিং কক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল, তাই নিরাপত্বা ছিল শতভাগ। নির্দিষ্ট সময়ে ষ্টল বন্ধ করা, নির্দিষ্ট স্থান নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যাবহার করা, যে কোন প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করা ছাড়াও ছিল আরো অনেক নিয়ম কানুন। কিন্ত সব নিয়ম কানুন ভেংগে চুরমার করে মেলা শেষ হবার ২ দিন পুর্বেই দুটি ষ্টল উধাও। সকাল বেলায় দুটি স্টল শুন্য দেখে কর্তপক্ষ খুজ খবর নিয়ে জানতে পারল তারা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে চলে গেছে। কিন্তু এই বিষয়ে তারা কাউকে কোন ইনফর্ম করেনি। তাদের বেশ কিছু লেনদেনও ছিল কর্তৃপক্ষের সাথে সেটাও তারা সারে নি। তাদের চলে যাওয়ার ধরণ এমন ছিল যে, আসে পাশের কোন স্টলের কোন কিছু খোয়া গেলে সবার নজর তাদের ওপরই এসে পরে। সাথে সাথে এমবাসিডরকে খবর দেয়া হলে তিনি চলে আসলেন। তিনি অন্যান্য দেশি স্টলের লোকজনে থেকে শত চেষ্টায়ও কোন তথ্য নিতে পারলেন না। ফলে তিনি বললেন মেলা শেষ হলেও কোন কম্পানিই তাদের মালামাল নিতে পারবে না, সব এ্যামবাসিতে জমাদিতে হবে, যতক্ষন না ঐ চলে যাওয়া ব্যাক্তিদের খোজ খবর পাওয়া যায়।

এই ছিল বানিজ্য মেলায় আমাদের বানিজ্যের ধরন।






সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১০ রাত ২:৪২
১২টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×