somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাচেলর কিচেন-১। (সর্বপ্রকার মৎস রান্না)

২৮ শে মার্চ, ২০১১ ভোর ৬:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপুমনিরা না ঢুকলেও চলবে, তবে ঢুকলে সাবধান। নো ভুল ধরা ধরি ;)

ব্যাচেলর যারা ম্যাচে থাকেন তারা সাধারণত মাছ খেতে পারেন না, কারন রান্নার ভয়। মাছ রান্নার ভয় দূর কর্তে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি 'অল ফিস ইন ওয়ান ফর্মুলা'।
প্রথমেই জেনারেল ফর্মুলা ফর অল যারা ম্যাচে থাকেনঃ ম্যাচের যে প্রথম খেতে বসবেন তার অবশ্যই উচিৎ হবে রান্নার প্রশংসা করা, কারণ প্রথমে ভাল বললে সাধারণত সবাই ভাল বলে, খারাপ বললে খারাপ।

এবার মাছ রান্না ফর্মুলাঃ মনে রাখবেন সাধারণত আমাদের দেশে যেই প্রক্রিয়ায় রান্না করা হয় সেটাকেই যে ফলো কর্তে হবে তা কিন্তু ঠিক না। খাবার মজা হলেই হলো, আপনি আরো এ্যাডভান্স হলে, খাবার খাওয়া গেলেই হলো!!

যা অবশ্যই প্রয়োজনঃ
১) যে কোন ধরণের মাছ। তেলাপিয়া, টাকি, পুটি, রুই, ঈলিশ, মাগুর।
২) রান্নার পাত্র, চামচ।
৩) আগুন,পানি,লবন,পেয়াজ,কাঁচা মরিচ,হলুদের গুড়া।
৪) তেল। (যে কোন খাবার তেল, সয়াবিন হলে ভালু)
এই চারটা হলেই আপনার মাছ রান্না সম্ভব। তবে একটু রুচিকর হতে হলে আরো কিছু জিনিস/মাল লাগবে।

৫) রশুন।
৬) ধনিয়া গুরা, মরিচের গুরা।
৭) একটা টমেটু।
৮) ফ্রাইপেন/কড়াই।
যথেষ্ট।

যেভাবে শুরু কর্বেন!!
মনে রাখবেন, আপনি এই মাছ রান্নায় দের ঘন্টায় করতে পারবেন, আবার ২০ মিনিটেও সম্ভব। তাই আপনার হাতের সময় অনুযায়ি প্রস্তুত হয়ে নিন।

প্রথম মাছ পরিস্কার করে কেটে কেটে একটা পাত্রে একটু লবন/নুন দিয়ে রাখুন। আর যদি মাছ ভাজি করে খেতে ইচ্ছে হয় তবে, ফ্রাইপেনে তেল গড়ম করতে দিয়ে আপনি লবন দেয়া মাছগুলোকে একটু হলুদের গুড়া ও মরিচের গুড়া দিয়ে একটু নেড়ে মরিচও হলুদ মাছের গায়ে ভাল করে লাগিয়ে দি। ফ্রাইপেনের তেল ইতিমধ্যে গড়ম হয়ে যাবে। এবার ফ্রাইপেনের আয়তন অনুযায়ি ৪/৫/৬ টুকরা ছেড়েদিন। আগুন মিডিয়াম রাখুন, তাড়া হলে আঘুন বাড়িয়েদিতে পারেন তবে আস্ত আস্ত করে একটু পর পর নেড়ে দিতে হবে। মাছ ভাজা হতে থাক।
আপনি অন্ন চুলোয় মাছ রান্নার পাতিল তুলেদিন। একটু তেল দিন, গড়ম হতে হতে আপনি ৩/৪টা পেয়াজ আপনার মাছের পরিমান অনুযায়ি চেকন চেকন করে কেটে নিন। সাথে ৩/৪টা কাচা মরিচ লম্বা লম্বা ভাবে ফেরে/কেটে নিন।
তেল গড়ম হয়ে উঠলে মরিচ,পেয়াজ ছেড়েদিন। পরিমান মত লবন দিন। রশুন থাকলে একটা রশুন ছোট ছোট করে কেটে সাথে দিয়ে দিন। একটু পরে দিলেও সমস্যা নেই।
ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। একটু পর পর নাড়তে থাকুন যাতে পুড়ে না যায়। মিনিট ৫/সাতেক পরে দেখবেন পিয়াজ সিদ্ধ হয়ে সাদা সাদা হয়ে গিয়েছে। পেয়াজের পরিমান বেশি হলে তেলও কিন্তু বেশি লাগবে, তখন আবার সময়ও বেশি লাগবে।
পেয়াজ সিদ্ধ হয়ে গেলে এবার, চা চামচের এক চামচ হলুদের গুড়া, অর্ধ চামচ মরিচের গুড়া, কোয়ার্টার চামচ ধনিয়ার গুড়া দিয়ে নেড়ে নিন। মিনিট খানেক পর একটু বেশি করে পানি দিয়ে দিন। এক গ্লাশ পরিমান দিতে পারেন। এবার ভাল করে ঢেকে আগুন বাড়িয়ে দিন। মাঝে মাঝে একটু নেড়ে দিতে ভুল করবেন না। মিনিট ৫/সাতেক বা দশেক পর পানি শুকিয়ে যাবে যাবে তখন একটি চামচ নিয়ে নাড়তে থাকুন। একটু বড় চামচ নিলে খারাপ হবে না, কারন এতে আপনার পেয়াজগুলো দ্রুত গলে যাবে। মিনিট ছয়েক নাড়তে থাকুন। পানি শুকিয়ে গিয়ে দেখবেন পিয়াজগুলোও মিহিন/মাখনের মত হয়ে গিয়েছে।
এবার আবার দের গ্লাস পানি দিয়েদিন। সাথে ফ্রাইপেনের ভাজা মাছগুলো দিয়েদিন। এবং আগুন একেবারে বাড়িয়ে দিন। ঢেকে দিন। বাস্‌ কাজ প্রায় শেষ। মিনিট দশেক পর দেখবেন ঝুলটা মাছের থেকে নিচে নেমে গিয়েছে। এখন আপনি একটা টমেটু কেটে দিতে পারেন। ধনিয়ার পাতা থাকলে ধুয়ে কেটে দিয়ে দিতে পারেন।
একটু লবন/নুন পরীক্ষা করে দেখেন। সব ঠিক ঠাক থাকলে চুলোর আগুন কমিয়ে দিয়ে আপনি থালা বাসুন ধুয়ে খাবার আয়োজন কর্তে পারেন।

মাগুর মাছের ক্ষেত্রে একটু আদা দিতে পারেন।

আপুরা অনেক কিছু বললেও এইভাবে কিন্তু রান্না অনেক মজা হয়। প্রমাণিত।
----


সামনে আসছে...
২) হাও টু কুক অল কাইন্ড অব ডাল।
৩) মুরগি/মুরগা কিভাবে রাধবেন!!
৪) গরু, খাশি ভক্ষন করার বাংলা উপায়।
৫) ভর্তা/ভাজি রেসিপি।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৭:৩৩
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×