somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চরম নিষ্ঠুরতায় বন্দি আমাদের সমাজ। (দৃষ্টি আকর্ষন।)

০৬ ই এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘আমি লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য ইটভাটায় কাজ করছি। মানুষের কাছ থেকে জামাকাপড় চেয়ে নিয়ে কলেজে যাই। র‌্যাব কোনো কথা না শুনেই আমার পায়ে গুলি করে বলল, “তুই সন্ত্রাসী”।’

ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাঁদছে এক তরুণ। নাম লিমন হোসেন। বয়স ১৬ বছর তিন মাস। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তার থাকার কথা ছিল এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে। কিন্তু সে শুয়ে আছে হাসপাতালে। তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে। কারণ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে তার ওই পায়ে। র‌্যাবের ভাষায় ‘সন্ত্রাসী’ এই তরুণের চিকিৎসা চলছে গ্রামের মানুষের আর্থিক সহায়তায়।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের দিনমজুর তোফাজ্জল হোসেনের ছোট ছেলে লিমন। কাঠালিয়া পিজিএস কারিগরি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সে। গত ২৩ মার্চ বিকেলে লিমন মাঠ থেকে গরু আনতে বাড়ির বাইরে যায়। পথে স্থানীয় শহীদ জমাদ্দারের বাড়ির সামনে র‌্যাব-৮-এর একটি দল তাকে সামনে পেয়ে শার্টের কলার ধরে নাম জিজ্ঞেস করে। লিমন নিজেকে ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু র‌্যাবের এক সদস্য কথাবার্তা ছাড়াই তার বাঁ পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে দেন। লিমন সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমন প্রথম আলোকে বলে, ‘আমি গরিব বাবা-মায়ের সন্তান। কষ্ট করে লেখাপড়া করি। লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য বাড়ির পাশে ইটভাটায় কাজ করছি। মানুষের কাছ থেকে জামাকাপড় চেয়ে নিয়ে কলেজে যাই। র‌্যাব কোনো কথা না শুনেই আমার পায়ে গুলি করে বলল, “তুই সন্ত্রাসী”।’
এএসবি ইটভাটার অন্যতম মালিক মো. নুরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিমন আমাদের ইটভাটায় মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করত। তাকে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি দেওয়া হতো।’
লিমনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘র‌্যাব আমার নিষ্পাপ পোলারে গুলি কইর‌্যা তারে সন্ত্রাসী বানাইছে। হ্যারপর রাজাপুর থানায় দুইডা মামলা দেছে। মামলায় ল্যাখছে, আমার পোলার দারে (কাছে) অস্ত্র পাইছে। সব ডাহা মিথ্যা।’ তিনি বলেন, র‌্যাব মামলায় লিমনের বয়স ২৫ বছর লিখেছে। কিন্তু স্কুলের সনদ অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৯৯৫ সালের ১৫ জানুয়ারি।
লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম গত রোববার ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ওই দিন র‌্যাবের একটি দল গ্রামের শহীদ জমাদ্দারের বাড়ি ঘেরাও করে। ওই বাড়িতে কাউকে না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় পথে লিমনকে পেয়ে তার পায়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ লিমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি কাঁথা চাপা দিয়ে দু-তিন ঘণ্টা ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়। সন্ধ্যার পর লিমনকে নিয়ে যাওয়া হয় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে ২৫ মার্চ ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আনা হয়।
সাতুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার হুমায়ুন কবীর (৫২) বলেন, ‘লিমন যদি সন্ত্রাসী হতো তাহলে গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার খরচ বহন করত না। গ্রামের সবাই তার জন্য সাহায্য করেছে। যাদের কাছে নগদ টাকা নেই, তারা চাল-ডাল দিচ্ছে।’
স্থানীয় রিকশাচালক লিটন (৩০) বলেন, ‘আমি লিমনের জন্য ৫০ টাকা দিছি। লাগলে আরও দিমু।’
সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘লিমন বাচ্চা ছেলে। সন্ত্রাস, অন্যায় এসবের মধ্যে সে নেই। র‌্যাব অকারণে তাকে গুলি করেছে।’
লিমনের কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘লিমন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির ছেলে। কলেজের ভর্তির তথ্য অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১৬ বছর তিন মাস। র‌্যাব একটি নিরীহ তরুণকে গুলি করে সন্ত্রাসী সাজানোর চেষ্টা করছে।’
র‌্যাবের কথিত অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী কর্মকর্তা ডিএডি মো. লুৎফর রহমানের সেই গৎবাঁধা দাবি, লিমন সন্ত্রাসী মোরশেদের সহযোগী। সে র‌্যাবের ওপর গুলি করেছে। ক্রসফায়ারে সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধারকালে তার পাশ থেকে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ডিএডি মো. লুৎফর রহমান বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা করেছেন। একটি অস্ত্র আইনে অপরটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। দুটি মামলাতেই লিমনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলাতেই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোরশেদ জমাদ্দারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
জানতে চাইলে দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, লিমনের বিরুদ্ধে আগেও কোনো মামলা ছিল না। এই দুই মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো কিছুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মামলার এজাহারে র‌্যাব যে দাবি করেছে, তা সেই পুরোনো গল্প। ‘র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে লিমন ও তার সহযোগীরা র‌্যাবের ওপর গুলিবর্ষণ করে। র‌্যাব আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। সংঘর্ষের পর একটি পিস্তলসহ আহত অবস্থায় লিমনকে উদ্ধার করা হয়।’
র‌্যাব-৮-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মনিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঝালকাঠি এলাকায় মোরশেদ নামের একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী আছে। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আবার এলাকায় ফিরে এসেছে। এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল তাকে ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে লিমন নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়।
লিমনের বয়স কত—জানতে চাইলে মনিরুল হক বলেন, মামলা দায়েরের সময় অনুমানের ভিত্তিতে বয়স উল্লেখ করা হয়। এ কারণে কমবেশি হতে পারে। লিমনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকার পরও কেন গ্রেপ্তার করা হলো—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে এলাকার সন্ত্রাসী মোরশেদের সহযোগী।
পঙ্গু হাসপাতালের ওয়ার্ডে গতকাল ঢুকতেই চোখে পড়ল লিমনকে। কাঁদছে অঝোর ধারায়। পরীক্ষা দিতে না পারার কান্না। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন পাশে থাকা বাবা, খালা আর তার পাহারায় থাকা পুলিশের দুই সদস্য। ওয়ার্ডের অন্য সব রোগী ও তাদের স্বজনেরাও জড়ো হয়েছেন। কিন্তু কারও মুখে সান্ত্বনার ভাষা নেই।
পরিবারের লোকজন জানান, নিরীহ নিপাট ছেলে বলেই তার পরিচিতি গ্রামে ও কলেজে। পরিবারের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। সারা দিন দিনমজুরি, রাতে লেখাপড়া করে এইচএসসি পর্যন্ত এসেছে লিমন। এসএসসিতে জিপিএ-৪ পেয়েছিল। এইচএসসিতে আরও ভালো করার আশায় প্রাণপণ প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু...।
---
কি বন্ধুরা, ম্যাসেজটি পড়ে কি মনে হলো? কল্পনায় বানানো ঘটনা? বানান ঘটনা হলে তো ভালই হত। দুঃখ থাকত না, থাকতো না হতাশা। সত্যই এই সমস্যাটি আমাদে সমাজের অনেক পরিবারকে একেবারে নিঃস্ব করেদিয়েছে। পাহাড়াদারদের উৎপাতে অনেককেই এখন চুর হতে হচ্ছে।

এই ছেলেটির উপর অত্যাচার ফেলানির হত্যার চেয়ে খুব একটা কম বেদনাদায়ক নয়। নিজের দেশের পুলিশ যখন এমন নিরাপরাধ গড়িব মানুষদের উপর অত্যাচার করে তখন আমাদের আর তা সহ্য করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

তাই নিরুপায় আমরা কি অন্তত এই ছেলেটির জন্য কোন উপায় বের করতে পারি না?? আসুন আমরা অন্তত নিজের দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে রক্ষা করি। যাদের হাতে সময় আছে অথবা যারা পঙ্গু হাসপাতালের কাছাকাছি যাওয়া আসা করি তারা কি অন্তত হাতে এক প্যাকেট গ্লোকোজ ও এক হালি কলা নিয়ে দেখা করতে পারিনা ছেলেটির সাথে??

শুধু তাই নয়, আমার তো মনে হয় ছেলেটির ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতেও আমাদের কাজ করা উচিৎ। মানব বন্ধন করা উচিৎ।

আসুন সমস্ত ব্লগার ভাইয়েরা আমরা আবার এক ছোট ভাইয়ের জন্য এক হই। তার পাড়া প্রতিবেশিদের সাথে সাথে আমরাও তার পাশে দাড়িয়ে মানবতাকে রক্ষা করার চেষ্টা করি।
----
ছেলেটির নামঃ লিমন।
ছেলেটির বয়সঃ ১৬।
বর্তমানে সে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আছে।

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৬:১২
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×