somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র‌্যাব কি মানুষ নাকি পলিটিশিয়ান??X(( রহিমা বেগম (৪০) এর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছে সাদা পোশাকের র‌্যাব সদস্যরা।

০৪ ঠা জুন, ২০১১ সকাল ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে র‌্যাবের গুলিতে গুরুতর আহত এক নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রহিমা বেগম (৪০) নামের ওই নারীর স্বজনদের দাবি, তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছে সাদা পোশাকের র‌্যাব সদস্যরা। আর র‌্যাব বলছে, মাদক উদ্ধার অভিযানের সময় অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে 'দুর্ঘটনাবশত' গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রহিমা।

শুক্রবার বিকালে ভৈরবে ওই ঘটনার পর ৬ সন্তানের জননী রহিমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।

র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মাদক উদ্ধার অভিযানের সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হলে ওই মহিলা র‌্যাবের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। র‌্যাব কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে তার সুচিকিৎসা চলছে।"

তবে রহিমা বেগমের স্বামী ধন মিয়া বলছেন, "আমি রিকশা চালাইয়া সংসার চালাই। আমার স্ত্রীকে কি কারণে গুলি করা হইল আমি নিজেও বুঝলাম না। আমার স্ত্রী মইরা গেলে আমার সন্তানগুলির কি হইব?"

ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, সাদা পোশাকে কিছু অস্ত্রধারী লোক বিকেলে স্থানীয় আমজাদ হোসেনের বাড়িতে যান।

ওই বাড়ির মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, "তিনটি মাইক্রোবাসে করে প্রায় ১৫/১৬ জন অস্ত্রধারী আমার বাড়িতে আসে। তারা এসেই আমার শ্যালকের বন্ধু ফারুককে মারধর শুরু করে। তার মামী রহিমা বেগম বাধা দিলে অস্ত্রধারীরা মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।"

আমজাদের প্রতিবেশী খাদিজা বেগম বলেন, "গুলির শব্দ শুনে আমি ঘর থেকে বাইরে আসি। তখন অস্ত্রধারীরা নিজেদের র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে গুলিবিদ্ধ রহিমা বেগমকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।"

এ সময় ফারুককেও চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানান।

এর আগে গত ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরে র‌্যাবের গুলিতে লিমন নামে এক কলেজছাত্র আহত হয়। লিমনের দাবি, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে গুলি করেছে। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়।

ওই ঘটনার পর অস্ত্র আইনে এবং সরকারি কাজে বাধা দান, হত্যা চেষ্টা ও র‌্যাব সদস্যদের আহত করার অভিযোগে লিমনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে র‌্যাব। লিমন ও তার পুরো পরিবার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও দাবি করা হয়।

বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই ওই ঘটনার পর র‌্যাবের পক্ষে কথা বলেন।

শুক্রবার ভৈরবে রহিমা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই র‌্যাবের কিছু সদস্য ঝালকাঠির লিমনের মতো আরেকটি ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে।

অবশ্য র‌্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রেলস্টেশনের কাছাকাছি ওই অঞ্চলটি মাদকের আস্তানা হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, "মাদকের বড় ধরনের চালান আসার খবর পেয়ে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা আমাকে জানিয়ে এ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ফারুক নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।"

তবে গুলিবিদ্ধ রহিমা বেগম বা ফারুকের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মো. শাহজাহান কবীর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিনিধি জানান, রহিমা বেগমকে র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে প্রথমে হাসপাতালে ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

র‌্যাবের মেজর বাহালুল আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি যতদূর শুনেছি, র‌্যাব-১১ এর একটি দল ভৈরবে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়েছিল। ওই সময় রহিমা বেগম র‌্যাবের অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে গেলে ধস্তাধস্তির সময় গুলি বেরিয়ে গিয়ে তার মাথায় লাগে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/ডিডি/জেকে/০২১২ ঘ.
১৬টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×