somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চান্চল্যকর তথ্য, যেই ধারণাটায় 'ডানিয়েল' নোবেল পেল সেটা কিন্তু তার আবিস্কার নয়। ষোড়শ শতকের ইসলামি স্থাপত্যেও দারুণ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই ধারণার।

০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৭:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১) জোড়া নোবেলজয়ীও তাঁকে বলেছিলেন আধা-বিজ্ঞানী।
২)যেই গবেষনার জন্য নোবেল পেলেন তার বর্ননা।(সবার জেনে রাখা দর্কার)
৩) ষোড়শ শতকের ইসলামি স্থাপত্যেও দারুণ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল আজকের এই ধারণা।


প্রকৃতির আলপনায় খেয়ালখুশির দখিনা বাতাসের প্রবেশ নিষেধ বিশ্বাস ছিল বিজ্ঞানীদের। তাই এর উল্টো কথা বলার জন্য এক সময় গবেষকদের দল থেকে কার্যত তাড়িয়েই দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। এবং তাঁকেই আজ নোবেল-রসায়নে ‘জারিত’ করার কথা ঘোষণা করল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সস। তিনি ডানিয়েল শেখটমান।
কঠিন বস্তুর গঠন সম্পর্কে এত দিনের ধারণাটাই বদলে দিয়েছে তাঁর ১৯৮২ সালের এক আবিষ্কার। এত দিন ধরে রসায়নবিদ তথা বিজ্ঞানীরা মনে করে এসেছেন, সব কঠিন বস্তুর কেলাসে (ক্রিস্টাল) পরমাণুগুলি একেবারে অঙ্কে মাপা কঠিন নিয়মে সাজানো। একটি অংশের সঙ্গে আর একটি অংশের হেরফের হওয়ার জো নেই। একই আকৃতি আর বিন্যাসের পুনরাবৃত্তিই প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। এমনকী, জীবদেহের কোষে-কোষে যে ডিএনএ, তাতেও রয়েছে পরমাণুগুলির গতে বাঁধা বিন্যাস, সমবায় এবং সজ্জা। অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দিনের পর দিন চোখ রেখে ডানিয়েলের কিন্তু মনে হয়েছিল অন্য রকম। অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজের মিশ্রণ নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। তাতে দেখতে পান এক অদ্ভূত ‘মোজায়েক’। কিন্তু সেই ছন্দটা যেন অমিত্রাক্ষর। মিল আছে, কিন্তু অন্ত মিলের গতে নয়। বরং কিছুটা ফারাক আছে একটি অংশের সঙ্গে আর একটি অংশের মধ্যে।


রুপো ও অ্যালুমিনিয়ামের মিশ্রণের কোয়াসিক্রিস্টাল

সতীর্থদের জানাতে তাঁরা প্রথমে উড়িয়েই দিয়েছিলেন ব্যাপারটা। সতীর্থরা তাঁকে গবেষণা থেকে সরিয়েও দেন। কিন্তু হার মানেননি। “লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, নিজের বক্তব্যের সমর্থনে। এবং সেই লড়াইয়ের কাছে হার মানতে হয়েছে বাকি বিজ্ঞানীদের। নতুন করে যাচাই করে দেখতে হয়েছে ডানিয়েলের বলা নকশা ভাঙা কেলাস তথা ‘কোয়াসিক্রিস্টাল’-এর অস্তিত্ব।” ডানিয়েলের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণায়, খোদ নোবেল কমিটিই বলেছে কথাগুলি।
খবরটা পেয়ে কী বলছেন ডানিয়েল? তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া “এটা একটা দারুণ অনুভূতি।” অথচ ১৯৮২-এ ওয়াশিংটনে যখন সহ-গবেষকদের ১০ প্রান্তবিশিষ্ট কেলাসে পাঁচ মাত্রিক মিলের কথা বলেছিলেন, অনেকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এর কয়েক মাস পরে গবেষণা থেকে বাদ পড়ে ইজরায়েলে ফিরতে হয় তাঁকে। দেশে ফিরে এক সহকর্মীকে খুঁজে বার করে তাঁর সঙ্গে মিলে শুরু করেন লেখা, যা তিনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু সেই নিবন্ধও খারিজ হয়ে যায়।
জোড়া নোবেল পুরস্কারজয়ী বিজ্ঞানী লিনিয়াস পাওলিংও উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিষয়টা। বলেছিলেন, “ডানিয়েলের বলা উচিত, কোয়াসি (মেকি বা আধা)-ক্রিস্টাল বলে কিছু হয় না, হয় আধা-বিজ্ঞানী।” শেষে ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় ডানিয়েলের নিবন্ধ। সাড়া পড়ে বিজ্ঞানী মহলে। ১৯৮৭ সাল নাগাদ ডানিয়েলের কিছু ফরাসি ও জাপানি বন্ধু এমন বড় মাপের কেলাস তৈরি করেন, যার এক্স-রে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ঠিক মতো দেখা সম্ভব হয়।
তার পরে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছে, “এর পর থেকেই গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছে কোয়াসিক্রিস্টাল। একটি সুইডিশ সংস্থা সব চেয়ে টেকসই ইস্পাত তৈরি করেছে এ থেকেই। দাড়ি কামানোর ব্লেড থেকে শুরু করে চোখের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অতিসূক্ষ্ম সূচও তৈরি হচ্ছে এই কোয়াসিক্রিস্টাল থেকে। ফ্রাইং প্যানের উপরের আস্তরণে, ইঞ্জিনের তাপ নিরোধক ব্যবস্থায় এবং এলইডি-তে এর ব্যবহার নিয়ে এখন পরীক্ষা চলছে।”
ডানিয়েলের আবিষ্কারের আর একটি বিশেষ দিকের কথা উল্লেখ করেছে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সস। সেটাও কম চিত্তাকর্ষক নয়। তা হল, নকশা ভাঙা নকশার এই ধারণাটা যে ডানিয়েলের আবিষ্কার, তা কিন্তু নয়।


আগরায় ৪০০ বছরের ইতিমাদ আল-দাওলার সমাধি।

সেই ষোড়শ শতকের ইসলামি স্থাপত্যেও দারুণ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এটা। একই নকশায় কিছু কিছু বদল এনে সে সময়ই ইসলামি ভাস্কররা তৈরি করেছিলেন পাঁচ মাত্রার আপাত-সুষম কারুকার্য। অথচ খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাবে তার একটি অংশ মোটেই আর একটি অংশের পুনরাবৃত্তি নয়।

১৬০০ সালে ইরানের ইস্পাহানে তৈরি হয়েছিল দরবি ইমামের মসজিদ। এর কয়েক বছর পর, ১৬২২ সালে নুর জহানের সময়ে আগরায় তৈরি হয়েছিল ইতিমাদ আল-দাওলার সমাধি। দু’টিতেই নকশার ওই বিশেষ বৈশিষ্ট্য আজও নজরে পড়ে। নজরে পড়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে রাখা ধাতুর ত্রিমাত্রিক কেলাসেও।
ইসলামি স্থাপত্যরীতির সঙ্গে প্রকৃতির রসায়নের এই অদ্ভূত মিল যিনি আবিষ্কার করেছেন, ঘটনাচক্রে তিনি ইহুদি রাষ্ট্র ইজরায়েলের মানুষ। হাইফার ইজরায়েল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক। ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হয়-তো এ এক আশ্চর্য সমাপতন!
কিংবা প্রকৃতির রসায়নটাই এমন!


http://www.anandabazar.com/6bdesh1.html
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৮:১৩
১৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×