'প্লাস টু-মাইনাস মেনি আদার্স' ফমুর্লা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। দুই শীর্ষ নেত্রী এই ফমুর্লায় সায় দিলে তারা কারামুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। দুই দফায় এই ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে কিছু কঠিনতর শর্ত মেনে নিলে উচ্চ আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে দুই নেত্রীকে একাধিক শর্ত দেয়া হতে পারে। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচন প্রধান দুই দলের বয়কটের সম্ভাবনা এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারের হাল ধরার মতো যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে না পেয়ে এমন চিনত্দা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ফর্মুলা বাস্তবায়নের উপর অনেকটা নির্ভর করবে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারও। সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফর্মুলায় এগুলো জাতীয় ও আনত্দর্জাতিকভাবে অনেকটা চাপমুক্ত হয়ে নির্বাচন করতে পারবে সরকার।
শর্তগুলি নিম্নরুপঃ
১।এ পর্যন্ত দুই নেত্রীর উপর যে সব মামলা হয়েছে সে সব মামলায় উচ্চ
আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় শেষ করে তারা কারামুক্ত হয়ে বেরিয়ে
আসবেন। এক্ষেত্রে সরকার কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা নতুন করে
কোনও মামলা করবে না।
২। দুর্নীতিবাজ হিসেবে ইতোমধ্যে যেসব রাজনীতিক অভিযুক্ত বা
গ্রেফতার হয়েছেন তাদের ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কোনও
পরিবর্তন হবে না। বরং নতুন করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির আরও
একাধিক সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে
গ্রেফতার হতে পারেন।
৩। সেই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক
রহমান ও আরাফাত রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো
হতে পারে।
৪। দুই নেত্রী নির্বাচন বয়কট কিংবা সরকারের উপর কোনও ধরনের চাপ
সৃষ্টি করতে পারবেন না। দুর্নীতির দায়ে আটক কোনও নেতার মুক্তির
জন্য আন্দোলন এবং দুর্নীতিতে সম্পৃক্তদের মনোনয়ন দেয়া যাবে না।
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে।
৫। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের ব্যাপারে দুই নেত্রীর
কোনও আপত্তি থাকবে না।
৬। যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন, তারাই
সরকারের সকল কার্যক্রমের বৈধতা দেবেন এবং দুর্নীতিবাজদের মুক্তি
প্রক্রিয়ায় কোনও সহযোগিতা করবেন না।
৭। মুক্তি পেয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে কোনও ধরণের প্রশ্ন তোলা
যাবে না। বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব রকম সহযোগিতা
অব্যাহত রাখতে হবে।
গত কয়েকদিনে ভিআইপি বন্দি যারা কারাগারের বাইরে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসারত ছিলেন তাদেরকে কারাগারে ফেরত নেয়া, অপরদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে সুচিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নিয়ে আসার মধ্যে একটি যোগসুত্র থাকতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন।
সুত্রমতে, শিগগিরই দুই নেত্রীর কাছে সরকারের এই ফর্মুলা পৌছে দেয়া হবে। তারা সায় দিলেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে এই বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনা নেই। সমঝোতা ছাড়া জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করা হলে পরদিনই দুই নেত্রীসহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়বে। সকল সরকারী- আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মচারি ইউনিয়ন তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে নতুন এই ফর্মুলা চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আসুন দেখা যাক সামনে আরও কত ঔষধ আসে>>>>
তথ্যসূত্রঃ 'প্লাস টু-মাইনাস মেনি আদার্স'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


