নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী ক্যাবী মোহাম্মদ আলম ওরফে শামীম (৪১) নতুন ইতিহাসের অংশ হলেন। আর এ ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার জন বেলিটস্কি (৩১) এবং তার বন্ধু ড্যান উইবেন (৩২)।-নিউইয়র্ক থেকে এনা ড্যান উইবেনের জন্মদিন কীভাবে কাটাবেন-তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার এক পর্যায়ে বেলিটস্কির মাথায় আসে যে,
নিউইয়র্ক থেকে ট্যাক্সিতে ২৭৪০ মাইল পথ অতিক্রম করে তারা লসএঞ্জেলেস যাবেন এবং সে অনুযায়ী তারা গত ১৬ এপ্রিল শনিবার রাত ১১টায় লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট থেকে রওয়ানা দেন। ভাড়া ঠিক করা হয় ৫ হাজার ডলার। ট্যাঙ্রি জ্বালানি এবং পথে সব ধরনের ব্যয় বহন করেন ঐ দুই বন্ধু। ৬ দিন পর শুক্রবার ২২ এপ্রিল ক্যাবচালক শামীম লসএঞ্জেলেস সিটির গন্তব্যে উপনীত হলে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। বহু মিডিয়ার ক্যামেরাম্যান এবং সাংবাদিক জড়ো হন সেখানে। জানতে চান দীর্ঘপথের অভিজ্ঞতা। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সন্তন মোহাম্মদ আলম ওরফে শামীম ডিভি লটারীতে জয়ী হয়ে ১৪ বছর আগে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ১২ বছর যাবত নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নিউইয়র্ক স্টেটের বাইরে আর কখনো যাননি যাত্রী নিয়ে। শামীম বলেন, যাত্রী দুজন খুবই ভালো, সেজন্যেই তাদের নিয়ে এত দূরের পথ অতিক্রমে কোন সমস্যা হবে না বলে সহজেই রাজি হয়েছি। এছাড়া, আমিও বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, রোববার ভোর রাত ১২.০১ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির সীমানা জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজ অতিক্রম করে নিউজার্সিতে পদার্পণের পর বিভিন্ন স্টেট হয়ে একইদিন বিকেলে শিকাগোতে পৌঁছি। সেখানে যাত্রা বিরতির পর সোমবার পৌঁছি ওমাহাতে। পরদিন মঙ্গলবার ডেনভার এবং সেখানে রাত যাপন করে বুধবার নিউ মেক্সিকো হয়ে রাতে লাসভেগাসে পৌঁছি। লাসভেগাস যাত্রা বিরতির পরই জানতে সক্ষম হই যে আমাদের এ ভ্রমণ বিশ্বব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অসংখ্য টিভি, রেডিও এবং পত্রিকার সাংবাদিক ভীড় জমান এবং জানতে চান সবকিছু। লাসভেগাস থেকে দুর্গম মরুপথ অতিক্রমের পর শুক্রবার দুপুরে লসএঞ্জেলেস সিটিতে গন্তব্যে পৌঁছার পর আরেক লংকাকা । শত শত মিডিয়া ঘিরে ধরে আমার ৩এন৪৪ নম্বরের ট্যাক্সিটি। তিনি বলেন, জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) এর নির্দেশে গাড়ি চালিয়েছি বিধায় কোন সমস্যা হয়নি। জন বেলিটস্কি বলেন, বন্ধুর জন্মদিন এমনভাবে পালন করতে চেয়েছিলাম-যা খুব মজার হবে, ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং চমকপ্রদ ও আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশী কিছু হবে। এবং সেটি ঘটলো। বেলিটস্কি বাস করেন নিউজার্সী স্টেটে এবং ড্যানের বাসা হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ায়। সুতরাং শামীমের মত তাদেরকেও ফিরতে হবে নিউইয়র্কে। শামীমকে ফিরতি পথে সঙ্গ দেয়ার জন্যে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশনের স্পন্সরে রতন ছুটে গেছেন লসএঞ্জেলেসে। কারণ, ড্যান এবং বেলিটস্কি ট্যাক্সিতে ফিরছেন না। ঘটনাটি সমগ্র আমেরিকায় ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বেশী আনন্দিত হয়েছেন শামীমের স্ত্রী। ৬ মাসের পুত্র সন্তন ইশমাম আরিয়ানকে বুকে জড়িয়ে মিসেস শামীম তার স্বামীর সাহসিকতাপূর্ণ এ ঘটনার প্রশংসা করেন। অজানা-অচেনা একটি দেশে অপরিচিত যাত্রী নিয়ে প্রায় ৩ হাজার মাইল ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে কমু্যনিটির ক্যাবিদের মুখ উজ্জ্বল করলেন তিনি। উল্লেখ্য নিউইয়র্ক সিটির ৪৪ হাজার ক্যাবির মধ্যে ১২ সহস্রাধিক হচ্ছেন বাংলাদেশী। এর আগে যাত্রীর ফেলে যাওয়া বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশী ওসমান চৌধুরীসহ কয়েকজন সততার নজির স্থাপন করেছেন এই সিটিতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


