আমার প্রিয় পোস্ট

মুনিয়া গুডগার্ল

যে লেখাটা কখনো লিখতে চাইনি

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৪

শেয়ারঃ
0 21 0

কিছু সময়কে জীবন থেকে মুছে ফেলতে পারলে বোধহয় খুব ভাল হত। আজকে কেন লিখতে বসেছি সেটাও একটা প্রশ্ন... কথা বোধহয় খুব গুছানো হচ্ছে না...
হয়তো জীবনের আসা- যাওয়া এই পৃথিবীটার জন্যে নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর শুরু থেকে এপর্যন্ত কত শত বিপ্লব হয়েছে- তার তোড়ে হারিয়ে গেছে কোন জনপদ চিরদিনের মত তার সমস্ত অধিবাসী নিয়ে... পৃথিবীর বুক ফুঁড়ে বেরিয়েছে তার তপ্ত ক্রোধোন্মত্ত রক্ত- নিশ্চিহ্ন করে গেছে শত সহস্র জীবন। সেই সব ঘটনা কোথায় হারিয়ে গেছে এখন। একটা দুটা ছোট ছোট চিহ্ন চোখে পড়ে তাদের। আর এর বাইরে যত কিছু ঘটেছে প্রতিদিন-প্রতি মুহূর্তে, সেসবের তো কোন পাত্তাই নেই। হারিয়ে গেছে নদীস্রোতে ভেসে যাওয়া খড়কুটোর মত।
হয়তো মুনাওয়ারের মৃত্যুটাও ঐরকম সহস্র ঘটনার একটার মত হারিয়ে যাবে কালের আবর্তে। সময়ের কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে যাবে ওর বাড়তে না পারা সোয়া দু’বছরের জীবন। সহস্র ঘটনার ঘনঘটায় ভুলে যাবো ওর ছোট ছোট দুষ্টুমি। নতুন পেইন্ট করা দেয়ালে আর থাকবে না ওর আঁকি বুকি। ফ্লোর থেকে মুছে যাবে ছোট পায়ের ছাপগুলো। কানের ভিতর বাজবে না ওর ঠোঁটে নতুন ওঠা আধো বুলি। মনের ভিতর মলিন হয়ে আসবে ওর নিষ্পাপ সুন্দর মুখটা।
হয়তো এসবই স্বাভাবিক। জন্ম-মৃত্যুর রহস্য আমরা জানি না। স্রষ্টার কার্যকারণ জানি না বলে প্রিয়জনের মৃত্যুর পরও ক্ষমা করি তাকে- আবার তার কাছেই সাহস চাই এগিয়ে চলার। কিন্তু যখন স্রষ্টার বদলে মৃত্যু নির্ধারণ হয় অন্য কারও হাতে, তখন?
কিছুদিন আগে শুনলাম আমার সোয়া দুবছর বয়সী খালাতো ভাইটার একটা অপারেশান হবে। অনেক ছেলেরই নাকি এই সমস্যা থাকে। urinating tube টা ওর একটু বাঁকা। আর opening টা একটু মিসপ্লেইসড। এর জন্যে ওর কোন সমস্যা হচ্ছিল না এতদিন। আর দশটা বাচ্চার মতই সুস্থ- স্বাভাবিক জীবন ওর। তবু খালু চাইলেন ঠিক করে ফেলতে। দুতিন মাস ধরে অনেক ডক্টরের সাথে কনসাল্ট করা- অনেক হয়রানি। সবাই বলল অপারেশান খুবই সিম্পল। এর জন্যে বাইরে নেওয়ার দরকার নেই। দেশেই করা যাবে। খালুর পরিচিত আছে বলে কমফোর্ট নার্সিং হোমে ভর্তি করা হল ওকে। তারা নিশ্চিত করল দেশের সেরা সার্জন(ডক্টর সালাম) অপারেশান করবে। কোন চিন্তাই নাই আমাদের।
আমি ভাবলাম সিম্পল অপারেশান তাও এত কেয়ার। কোনরকম দুশ্চিন্তা উঁকিও দেয়নি মনে। দুদিন পরে শুনলাম ওকে আবার শুতে হবে সার্জারি টেবল এ। ওর স্ক্রোটাম এ রক্ত জমে যাচ্ছিল। এজন্যে আবারও কাটাকাটি। এটা শুনে একটু কেমন লাগল। সিম্পল অপারেশান- তাহলে দ্বিতীয়বার কেন? ডাক্তার কি ভুল করল?
কিন্তু প্রশ্ন তুললাম না। এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বার ওকে ফুল অ্যানেসথেসিয়া দিল। জেনিটাল এর একটা সার্জারি তে কেন ফুল অ্যানেসথেসিয়া এই প্রশ্ন আমি তুলতে পারি না- কারণ ডাক্তারির কিছুই বুঝি না। অপারেশন হয়ে গেল। এবারে ও একেবারে শান্ত। দুষ্টু ছেলেটা মরার মত পড়ে ছিল। এত ধকল ওইটুক শরীরের উপর...
এরপর ড্রেসিং করিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পালা। আবারও সেই ডাক্তার। আবারও ফুল অ্যানেসথেসিয়া! পেশেন্ট এর কোনরকম নড়াচড়া বোধহয় তার পছন্দ না। ড্রেসিং হয়ে গেল। এক ঘণ্টা দুঘণ্টা... সময় যাচ্ছিল... কিন্তু মুনাওয়ারের সেন্স ফিরলো না। আইসিইউ তে লাইফ সাপোর্টে চলতে লাগল ওর হৃৎপিণ্ড। দু একবার হাত পা নাড়তে পেরেছিল সে। খালুর একটা আঙুল ধরেছিল ওর ছোট্ট হাতে। কিন্তু তারপর অজ্ঞান অবস্থাতেই খিঁচুনি হল ওর। সেই ওর জীবনের শেষ সাড়া। তারপর থেকে নিথর পড়ে রইল।
ওর অবস্থার অবনতিই হচ্ছিল। আমাদের ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছিল। অনেকেই অপারেশানের সময় ছিল না। কিন্তু পরে যখন শুনল এতটুক বাচ্চাকে এক সপ্তায় চারবার ফুল অ্যানেসথেসিয়া করেছে- তখন আর ধরে রাখতে পারছিল না। ২২ তারিখ বিকালে এক আত্মীয় ডক্টরদের বকাবকি করে গেলেন। তারপর হঠাৎই হসপিটালের ডক্টররা এসে বললেন- আপনারা বাইরে থেকে কাউকে এনে দেখাতে চাইলে দেখান। আমরা যা করার করেছি। নিউরোলজিস্ট আসলেন-দেখে বললেন ব্রেইন ডেথ। এই বেইবি থাকবে না। মনে হল বুকের উপর ভীষণ ভারি ধারালো একটা পাথর ফেলে দিল কেউ। বুকের হাড় ভেঙে আমার হৃৎপিণ্ডটাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে দিল সেটা। খালার কান্না হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল। অস্বাভাবিক আচরণ করতে লাগল। তাকে অ্যাটেন্ড করছিলাম। লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলারই কথা এখন। সব গুছিয়ে ফেললাম। শেষ করলাম আমার ভাইটাকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি।
ডক্টররা সবাইকে ঢুকতে দিল আইসিউতে। শেষ দেখা দেখতে দিল আর কি। শুধু গায়ে একটা রোব চড়িয়ে ঢুকতে হল। আইসিইউতে ঢোকার আরও কিছু প্রিকশানস আছে কিনা আমার জানা নেই। তাই এটা নিয়েও কিছু বললাম না।
ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। লাইফ সাপোর্ট কিটস এর বড় বড় মেশিন- দুইটা ডিসপ্লেতে কতগুলো গ্রাফ- এইসব ঘেরা বিশাল একটা বেডের মাঝখানে অসহায়ভাবে শুয়ে আছে আমার ছোট্ট ভাইটা। এত যন্ত্রপাতি চারপাশে ওর- যেন দৈত্যের খাঁচায় বন্দী দেবশিশু। তাকিয়ে বুকের ভেতরটায় ব্যথা করতে লাগল আমার। ওর অসহায়ত্বটা যেন আমারই। আমারই যেন হাত পা বাঁধা...চোখ সরাতে পারছিলাম না। ওর চোখের সাদা অংশ দেখা যাচ্ছিল খানিকটা। দুই চোখের মণি দুপাশে পড়ে আছে। শ্যামলা ছেলেটা সাদা হয়ে গেছে। যেন একটুও রক্ত নেই ওর শরীরে। তাকিয়ে থেকে হৃৎপিণ্ডটা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছিল আমার। কিন্তু বাইরে থেকে তাড়া এল।
বের হয়ে এলাম। আগের রাতটা সারা রাতই জেগে ছিলাম। শরীর ক্লান্ত অবসন্ন। রাতে কেঁদে কেঁদে একসময় ঘুমিয়েও গেলাম।
কিন্তু তারপরও ডক্টররা লাইফ সাপোর্ট রেখে দিল। অনেক বড় বড় বুলি- এইরকম কেইস কোটিতে একটা হয় না। কেন হয়েছে আমরা জানি না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি...
সেজ খালু শুনে বলল আগেই অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে মেরে ফেলেছিস- এখন ডেডবডি আইসিউতে রেখে দায়িত্ব পালন করে!
এর মধ্যে অনেক ঘটনা আস্তে আস্তে বের হয়ে এল। আইসিইউর ভিতরের এক কর্মচারী নাম গোপন রাখার শর্তে জানাল ডাক্তারের ভুলের কারণেই দ্বিতীয়বার কাটাকুটি করতে হয়েছে –আর ডাক্তারের ভুলের জন্যই এ অবস্থা হয়েছে। তারপর জানা গেল অপারেশন হয়েছে চাইল্ড স্পেশালিস্ট ছাড়া। আমরা যারা তরুণ সবাই চাইলাম কেইস করতে। এদের শাস্তি হওয়া উচিত। তাহলে অন্তত আরো অনেক শিশু বাঁচবে এর হাত থেকে। কিন্তু মা-বাবা রাজি হয় না। এখনো বাচ্চা আইসিইউতে। হোক ক্লিনিক্যালি ডেড, তবু তো মেশিন দিয়ে হার্ট পাম্প করাচ্ছে ওরা!
পরদিন সকালে শুনলাম ওর নাকি একটু পালস পাওয়া যাচ্ছে। ডাক্তারদের কথায় আর বিশ্বাস ছিল না। এরা যেমন অসৎ তেমনি মিথ্যাবাদী। আমি বিশ্বাস করলাম না।
তবু আল্লাহর কাছে চাইলাম- আমার জীবনে যদি একটু পূণ্যও করে থাকি, আমার ভিতরে যদি এতটুকু ভালো থাকে তার দোহাই দিয়ে আমার ভাইটাকে চাইলাম। যেন ফিরিয়ে দেয়। দিন পার হয়ে গেল আরেকটা। ও তখনো কোমায়।
পরদিন বিকালে ডক্টররা জানাল ওরা স্ক্যান করিয়েছে- দুএকটা বাদে বাকি ব্রেইনসেলগুলো ঠিক আছে। সমস্ত যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে বিশ্বাস করলাম তাদের কথা। নিউরোলজিস্ট কি বলেছে ভুলে যেতে চেষ্টা করলাম। আরও জানলাম ও নাকি একটু হাত নাড়াতে পেরেছে। আবারও আশায় বুক বাঁধা... আর অপেক্ষা অলৌকিক কিছু ঘটার...
কিন্তু আর দেরি করতে হলো না। ২৫ তারিখ ভোরেই ফাইনালি ওর হার্টবিট থেমে গেল। এবার আর কোন কশান লাগে নি। আইসিইউতে ও একা। সেই একইভাবে পড়ে আছে। শুধু জিহ্বাটা বের হয়ে এসেছে খানিকদূর। একটু কালচে দেখাচ্ছিল।
এবার আর আমার কান্না আসছিল না। শুধু সর্বগ্রাসী ক্ষোভ চাইছিল পুড়িয়ে দিতে এই কসাইগুলোকে। আবারও সেই কথা গার্ডিয়ানদের সাথে। কেইস করো... এটা তো পরিষ্কার খুন।

বড়রা টেনে বের করে নেয় আমাকে। মা-বাবার সামনে এমন বলতে নেই। কেইস করলে পোস্ট মর্টেম হবে। এতটুকু বাচ্চার পোস্ট মর্টেম করাবে- এটা সহ্য হবে না তাদের। যা হয়ে গেছে হয়ে গেছে... এটা আল্লাহর ফায়সালা। এখন দোয়া করো সবাই। আমি আর কথা বলিনি। ওকে দাদাবাড়িতে কবর দেবে। সবাই এইসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমি যথাসাধ্য করে বেরিয়ে এলাম।
চোয়াল শক্ত। চোখে অশ্রু না মুখে কোন কথাও না- কেমন যেন নির্বিকার হয়ে গেলাম। কি হল এটা! মনে হচ্ছিল কিছুই বুঝতে পারছি না।
কিন্তু যখন মাটি দেওয়ার কথা শুনলাম... ওহ! প্রাণটা বের হয়ে যাচ্ছিল আমার। কে যেন মনে হল আমার কলিজাটা ছিঁড়ে নিয়ে গেল। আমার ফুলের মত নিষ্পাপ ভাইটাকে কী করছে! আমার কলিজার টুকরাটাকে মাটির নিচে শুইয়ে দিচ্ছে! যন্ত্রণায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল... কিন্তু কী অসহায় আমি! কী তুচ্ছ আমি! কিছুই করতে পারলাম না?

সবাইকে বলছি দোয়া কর ওর জন্য, কিন্তু আমার দোয়া আসে না। শুধু সর্ববিধ্বংসী ক্ষোভ আর একরাশ ধিক্কার। ধিক্কার ঐ ডাক্তারের উপর। ধিক্কার সব দুর্নীতিগ্রস্ত অসৎ লোকদের উপর- যারা পচিয়ে ফেলেছে পুরো সমাজটা। আর ধিক্কার আমাদের নিজেদের উপর... ধিক্কার ঐ হাতের উপর যেটা শুধু আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্যে ওঠে, কিন্তু অপরাধীর শাস্তি দিতে ওঠে না।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০
বিকাল ৫.০৮

 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৭
মেহেরুবা বলেছেন: কান্না আটকে রাখতে পারছিনা...
আমিও মা হয়েছি..
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার সন্তান সুসন্তান হয়ে বেড়ে উঠুক সুস্থ সবল শরীরে- এটাই চাওয়া

২. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৮
মেহেরুবা বলেছেন: ধিক্কার ঐ ডাক্তারের উপর। ধিক্কার সব দুর্নীতিগ্রস্ত অসৎ লোকদের উপর- যারা পচিয়ে ফেলেছে পুরো সমাজটা।
৩. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১
বিদগ্ধজন বলেছেন: না, বিকেল বেলা মনটা খারাপ করে দিলেন! খুব খারাপ লাগলো!

সরি, আপনার প্রতি সহানুভূতি জানাতে পারছি না।

খুব খারাপ লাগছে।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩২

লেখক বলেছেন: তবু যদি কেউ কিছু করতো...

৪. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১
তোমোদাচি বলেছেন: আল্লাহ রক্ষা কর, এমন বিপদ আর কাওকে দিও না!

আমার বাবুটার বয়সি... চিন্তা করতে পারছিনা।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনার বাবুটাও যেকোন দিন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমন কিছু করুন যাতে আর কোন শিশুকে এভাবে মরতে না হয়। আমার একার কিছুই করার ক্ষমতা নেই- কিন্তু আমরা সবাই ততটা দুর্বল নই।

৫. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১১
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: কি বলবো বুঝতে পারছি না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ডাক্তার আজকাল চরম অমানুষ হয়ে গেছে। টাকার জন্য পারেনা এমন কেসও হাতে নিয়ে নেয়। ভুলেও রেফার করতে চায় না।

আমি যতটুকু বুঝি একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ আর একটা বাচ্চার এনেসথেসিয়া এক না। পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রেও নিতে হয় বাড়তি সতর্কতা। আবার মানুষ ভেদেও মাত্রার তারতম্য হতে বাধ্য।

ব্রেন সেল মরে গেলে আর ঠিক হয় না। ঠিক বছর খানিক আগে আমার বড় চাচার কার্ডিয়াক এরেষ্ট হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে তার হার্ট চালু করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়েগিয়েছিল। ব্রেন সেল বিশুদ্ধ রক্ত ছাড়া বড় জোর ৭/৮ মিনিট টিকতে পারে। বড় চাচা আড়াই দিন পর মারা যান। ল্যাব এইডের ডাক্তাররা শুরু থেকেই যথাসাধ্য করেছিলেন। গন্ডগোল বাধিয়েছিল আমাদের আত্মীয় এক ডাক্তার। কাডিয়াক এরেষ্ট হওয়ার পর পরই তাকে ডেকে আনা হয়, কিন্তু তিনি দেখে জানান চাচা মারা গেছেন। এটা শোনার পর আসলে সবাই হকচকিয়ে গিয়েছিলো। আর তাতেই হাসপাতালে নিতে দেরীটা হয়।

মামলা করে আসলে কিছু হয় না। কারণ বিএম এ যদি শক্তিশালী একটা সংগঠন হতো, তারাই পারতো এসব অমানুষ ডিক্তারদের ঠিক করতে। তারা বরং এদের পিঠ বাঁচাতেই ব্যস্ত।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৭

লেখক বলেছেন: কোন কিছু করেই যদি কিছু না হয় তাহলে আমরাই বা বেঁচে আছি কেন? সবাই চুপ থাকতে থাকতেই তো এত নিচে নেমে গেছে এরা। কোন অপরাধের বিচার না হওয়াতেই তো অপরাধী এত স্ট্রং হয়ে উঠেছে।

৬. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২২
সাইফুর বলেছেন: এটাতো বাচ্চাটাকে মেরে ফেলা :(

কিছু ডাক্তার আছে এরা ডাক্তারি পেশার কলঙ্ক। এই পেশা তাদের কাছে সিম্পলি বিজনেস। মানুষের জীবনে গেলেই কি
৭. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৮
সাইফুর বলেছেন: আমার মা একবার আইসিউতে ছিলেন। তখন সারা রাত আইসিইউর বাইরে ছিলাম। দেখছিলাম অনেক রোগীর আত্মীয়দের। এমন একজন লোকের আত্মীদের দেখলাম যার ব্রেইন স্ট্রোক হয়ে আইসিইউতে আছে। পরের দিন দেখলাম সবাই বলছে ব্রেইন ডেড। তাও পরিবারের লোকদের আশা কোন না কোন মিরাক্যাল হোক। উনি লাইফ সাপোর্টে থেকে সুস্থ হয়ে উঠবে।

আমি দেখছিলাম । ব্রেন ডেড হবার পরেও উনি মাঝে মাঝে পা নাড়ছিলেন আর পরিবারের লোকদের আশা সঞ্চার হচ্ছিলো।

অথচ কোন মিরাক্যাল হয় নাই:( চোখের সামনেই মারা গেলেন উনি। আর তখন তার পরিবারের অবস্থা দেখেছিলাম।

অন্তত আইসিইউর লাইফ সাপোর্ট আর তখনকার হতাশা দেখেছি নিজে :(
এই পোষ্ট দেখে মন খারাপ হওয়া ছাড়া আর কিছু বলার নাই।

বাচ্চাটার জন্য দোয়া
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪০

লেখক বলেছেন: বাচ্চাদের আসলে দোয়া লাগে না। ওরা তো নিষ্পাপ। কিন্তু আর কোন বাচ্চাকে যাতে এভাবে যেতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তো আমাদেরই...

৮. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৬
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:

বড্ড খারাপ লাগছে লেখাটি পড়ে!!!
টাকার জন্য কি না করে বসতে পারি আমরা............................................!
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪২

লেখক বলেছেন: হুমম

৯. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫০
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: বাংলাদেশ একটা সব সম্ভবের দেশ। কিছু না জেনেও ডাক্তারি করা যায়।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪২

লেখক বলেছেন: হুমম

১০. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪১
আনিসুর র বলেছেন: ডাক্তারি পাশ করার সাথে সাথে বেশির ভাগ ভাল. মেধাবী ছেলে,মেয়ে গুলা শুয়োরে পরিনত হয়। এটা তার একটা জলন্ত দৃষ্টান্ত।

কিন্তু আমাদের কিছুই করার নাই শুয়োর জেনেও ওদের কাছে আমাদের বাধ্য হয়ে যেতে হয়।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৩

লেখক বলেছেন: অন্যায়ের শাস্তি হলে এরাই ভাল মানুষে পরিণত হত।

১১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০০
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: তোমার স্ট্যাটাসে দেখেছিলাম .........কোন মৃত্যুই কাম্য নয় এভাবে ! বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা কতটা খারাপ , সেটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই , আব্বুকে বললাম এই অপারেশনের কথা ...... যে কোন চাইল্ড কেইস এ চাইল্ড স্পেশিলিস্ট থাকবে , এটাই হবার কথা ( তিনিও শিশু বিশেষজ্ঞ) , এজন্য যে তাদের বডি সেন্সিটিভ বেশী , যার জন্য অনেক আলাদা ব্যাপার মেইন্টাইন করতে হয়। মেডিক্যাল এথিক বলে একটা ব্যাপার যে আছে ...... কিছু ডাক্তারের আচরণে তাদেরকে তা ভুলেও মনে হবেনা বরং তাদের পুরান ঢাকার আড়তদার মনে হয়!
আল্লাহ তোমার ভাইয়াটাকে শান্তিতে রাখুক। সে ভালোই আছে , নিষ্পাপ শিশু ......... সে হয়তো সেখানে গিয়ে অনেক বেশী ই ভালো আছে! :-(
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৬

লেখক বলেছেন: সে হয়তো ভাল আছে, কিন্তু যার সন্তান, যার ভাই তারা কীভাবে থাকবে আপু? কীভাবে থাকবে বলেন?

১২. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১:১৫
ফারহান দাউদ বলেছেন: মাথার ভিতরে এই শেষবেলায় একটা বিস্ফোরণ ঘটলো। জাতি হিসেবে আমরা অমানুষের পর্যায়ে নেমে যাচ্ছি, আর আমাদের অতি সহনশীলতা সেই অমানুষের দলকে দিন দিন ভারি করে তুলছে। আম্মার চোখের ভুল চিকিৎসায় চোখ প্রায় নষ্ট হয়ে যেতে বসেছিল, শেষমুহূর্তে ডাক্তার বদল করায় বেঁচে গেছে, তারপরেও নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতে পারি, কারণ পরের ডাক্তারটাও কসাই হতেও পারতো। আপনাদের (এবং সম্ভবত আমাদেরও) মামলা করাই উচিত ছিল, নয়তো অমানুষ পিশাচটা আরো কতজনকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে কে জানে!
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ২:৪২

লেখক বলেছেন: আরো অনেককেই দেবে নিশ্চিত। আজকেই বোধহয় পেপারে দেখলাম চার বছর বয়সী একটা বাচ্চাকে বেশি অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে মেরে ফেলেছে ডাক্তার। ডিটেইলস পড়ার আর সাহস হয় নি...

১৩. ০১ লা মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:০৯
ঈশান৭২৮৫ বলেছেন: আপু, আমরা দিনকে দিন গন্ডার হয়ে যাচ্ছি। আমাদের মোটা চামড়ায় আর কোন অনুভূতিই স্পর্শ করে না। দায়িত্ব নেয়ার ভয়ে আমরা রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষটার দিকে ফিরেও তাকাই না। আমাদের মনুষ্যত্ব মরে গেছে। এখন আরেক জনের জীবন নষ্ট করে দিতে আমাদের বুক একবারও কাপে না। আমরা দিনকে দিন পশুতে পরিণত হচ্ছি। তাইতো এই ছোট্ট শিশুটিকে এইভাবে মেরে ফেলতে আমাদের একটুও বাধে না। ধিক্কার এই সব মানুষরূপী জানোয়ারদেরকে।

শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্ব শেখায়, কিন্তু আমরা এমন পর্যায়ে পৌছে গেছি যেখানে শিক্ষা মানুষকে জানোয়ার বানাচ্ছে।
০১ লা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০৩

লেখক বলেছেন: শুধু ধিক্কার দিয়ে এখন আর কিছু হবে না, এদের না থামালে একদিন না একদিন প্রত্যেকেই এর শিকার হবে।

১৪. ০১ লা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:২০
কালপুরুষ বলেছেন: খুব খারাপ লাগলো তোমার লেখাটা পড়ে। শুধু এটুকুই প্রার্থনা মানুষের বিবেক জাগ্রত হোক।

শুভ কামনা রইলো।
০১ লা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:২৬

লেখক বলেছেন: কালপুরুষদা কেমন আছেন?

১৫. ০১ লা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:২৯
ইচ্ছে বলেছেন: একান্ত বাধ্য নাহলে কেউ ডাক্তারের কাছে যায় না
কিন্তু তার পর যখন এই অবস্থা হয়, তখান এই ডাক্তারী পেশা টাকেই ঘৃণা করতে ইচ্ছে করে...

আল্লাহ আপনার পরিবারের সবাইকে এই দুক্ষ সহ্য করার ক্ষমতা দিক
০১ লা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬. ০১ লা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৪৪
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: কষ্ট হচ্ছে ভীষণ লেখাটা পড়ে। কোন সন্তানই যেন এভাবে মারা না যায়। মানুষগুলো মানুষ হয়ে উঠুক।
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৪৯

লেখক বলেছেন: মানুষগুলো মানুষ হয়ে উঠুক, আর যদি না হয় তাহলে হওয়ার ব্যবস্থা করা আমাদের কর্তব্য

১৭. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৫৪
সকাল রয় বলেছেন: কষ্ট বাড়ছে কষ্ট

কষ্ট !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!



ভীষণ রকমের





#############################################
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪৭

লেখক বলেছেন: হুমম

০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন: ঠিক বুঝিনি।

১৯. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:০৭
ত্রিভুজ বলেছেন: এধরনের একটা ভুল কোন একজন ডাক্তার বা কোন অসতর্কতার কারণে হয়নি... এটার দায় পুরো হাসপাতাল এবং ঐ রোগীর দায়িত্বে থাকা ডাক্তার এবং অপারেশন টীমের। সবকয়টাকে গুলিস্তানের মোড়ে নিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া উচিত। এধরণের ঘটনা এ যে এবারই প্রথম পড়লাম তা নয়, আরো অনেক দেখেছি, শুনেছি। এইসব ক্রিমিনালদের কখনো শাস্তি হয় না... দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয় না বলেই এইসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এরকম মর্মান্তিক একটা ঘটনার দায়ীদের সবার সামনে জ্বলন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা দরকার। সামর্থ থাকলে সত্যিই এদেরকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতাম..... তাহলে এধরনের ঘটনা ঘটানোর আগে পিশাচগুলোর কয়েকবার ভেবে নিতো...

......
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: আমাদের কারোরই সামর্থ্য নেই এটা কি সত্যি?

২০. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:২৫
অপ্রয়োজন বলেছেন: ধিক্কার সেইসব তথাকথিত ডাক্তারদের, যারা টাকার জন্য এইটুকু বাচ্চার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে (আর নিজের বাচ্চা হলে সিন্গাপুরের টিকিটের লাইনে দাড়ায়)।

এরাই হিপোক্রাটিক ওথ নিয়ে "ডাক্তার" হয়, ওয়াদা করে:

===
I swear to fulfill, to the best of my ability and judgment, this covenant:

...


I will apply, for the benefit of the sick, all measures [that] are required, avoiding those twin traps of overtreatment and therapeutic nihilism.

...


I will not be ashamed to say "I know not," nor will I fail to call in my colleagues when the skills of another are needed for a patient's recovery.
...

Most especially must I tread with care in matters of life and death. If it is given me to save a life, all thanks. But it may also be within my power to take a life; this awesome responsibility must be faced with great humbleness and awareness of my own frailty. Above all, I must not play at God.
====

আর পরে 'টাকা'র মায়ায় সবই ভুলে যায় ...

এদের মুখে আমি থুথু দেই।
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: প্রতিটা সেক্টর করাপ্টেড। কোথায় যাবো আমরা?

২১. ০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১১:২৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ডাক্তার কখনও দেবদূত হয়ে আসে হয়ত কারো কারো জন্য। তবে এদের অনেকেই যম হয়ে আবির্ভাব হয়। ২০০৬ এর ৩১ ডিসেম্বরের রাত হতে ২০০৭ এর প্রথম প্রহর নিজ চোখে দেখলাম ডাক্তারের দায়িত্ব পালন। ফলাফলে, দাদির মৃতদেহ নিয়ে রওয়ানা হলাম দেশের বাড়ির উদ্দেশ্যে। এসব ডাক্তারকে নরখাদক নির্জীব প্রাণী মনে করি। এরা কিছু শুনতে চায় না, খুন করেও কিছু বলে না।
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: কিন্তু এইভাবে খুন করে পার পেয়ে যাবে? আমরা কিছুই করবো না? আমরা সবাই মিলেও কি এতই দুর্বল?

২২. ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৯
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন: মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। এত বাচ্চা একটা ছেলে! কোন শাস্তি হবেনা এদের?????
০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: মনে তো হচ্ছে তাই-ই...

২৩. ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৪৬
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন: ওহ মাই গড!!!

জাস্ট টাকার জন্য এরা এতসব করছে ।

অমানুষের বিবেক জাগ্রত হোক।
০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: বিবেক জাগ্রত হবে না ভাই। ঐ সময় পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। শাস্তি হওয়া দরকার এদের

২৪. ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৫০
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন:
মাত্র দুটো পেশার লোকেরাই মানুষ হত্যা করে, ডাক্তার আর পুলিশ। খুব কষ্ট পেলাম পড়ে।
০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: অসুস্থ হয়ে মারা গেলে তবু একটা সান্ত্বনা থাকে... কিন্তু একদম সুস্থ বাচ্চাটাকে মেরে ফেলেছে ওরা- এই কষ্ট যে কী... কোনভাবেই মানতে পারি না... কোনভাবেই না

০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: পড়লাম।

২৬. ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪১
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: কোন কোন সময় হাতের কাছে ধারাল যাই পাই, তাই নিয়ে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু, শেষে বসে বসে হাত কামড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আপনার পোষ্টটি পড়ে আমার তেমনই দশা।:(
এমন অপাপবিদ্ধ শিশুটির আত্মার শান্তি কামনা করার কিছুই নেই; ও এমনিতেই শান্তি পাবে। কিন্তু, ওর পেছনে রেখে যাওয়া মা-বাবা- ওদের কী হবে? কী দিয়ে এ অভাব পূরণ হবে?
০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: পূরণ হবে না... কারণ পূরণ হওয়ার কথা না...

২৭. ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫১
মৌনোতা বলেছেন: মেহেরুবা বলেছেন: কান্না আটকে রাখতে পারছিনা...
আমারও
০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৪

লেখক বলেছেন: পারা যায় না

০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৯

লেখক বলেছেন: হুমম

২৯. ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১১:১০
কল্পনাতে শুভ্র বলেছেন: লেখাটা পড়ে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল :( | দোয়া করি যাতে কোনো ছোটো বাবুর এই রকম পরিণতি না হয় |
০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১১

লেখক বলেছেন: দোয়া... হায়রে... এখন উচিত অন্য ব্যবস্থা নেওয়া...

০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৩

লেখক বলেছেন: কিন্তু করার থাকতেও পারে

৩১. ০৩ রা মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৪৬
আবু সালেহ বলেছেন:

বহুদিন পর একখান পোস্ট ....

সময় নিয়ে পড়ে পড়বো.......


আছো কেমন???
০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: আচ্ছা...

আছি কোনরকম। আপনি কেমন?

৩২. ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ২:৩৫
প্লাবন৭৭৭ বলেছেন: ঠিক এভাবেই সার্জনের অবহেলার কারনে ``সিম্পল অপারেশান'' করাতে গিয়ে অপারেশন টেবিলে আমার ফুপি মারা গেল৷ ওই সার্জনের বিরুদ্ধে আমাদের পরিবার থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি৷
এত বড় একটা শোক, কে যায় এর মধ্যে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে..... আর এভাবেই এই পিশাচগুলো বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে৷

আমার মনে একটা অপরাধবোধই বারবার কাজ করছে- তোমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য হয়তোবা আমার পরিবার কিছুটা হলেও দায়ী৷ কেননা আমরা কোনো দৃষ্টান্তমূলক কাজ করতে পারিনি৷ শোকের দোহাই দিয়ে চুপচাপ কেটে পরেছি.....

কিছুদিন আগেও আমি জোর গলায় বলতাম , ``এটা আমার দেশ৷ আমি নিজের মাটিতে মানুষের মত মাথা উচু করে বেঁচে থাকব৷ সে শিক্ষা আর যোগ্যতা আমার আছে৷ বাইরে অজানা অচেনা জায়গাতে গিয়ে শিকর গাড়ার কোনো মানে হয়না৷'' কিন্তু এখন আমার খুব ভয় লাগে৷ এই পিশাচের রাজ্যে কেউ মানুষের মত বেঁচে থাকতে পারবে না৷ তাকে বাঁচতে দেওয়া হবে না৷

``কে ভালো আর কে মন্দ'' সে বিচার প্রকৃতি কখনো করেনা৷ প্রকৃতি ডারউইনের ``survival of the fittest'' থিওরি মেনে চলে৷ বাংলাদেশের মত সবজায়গাতে দুর্নীতিগ্রস্থ একটা দেশে এই পিশাচগুলোই টিকে থাকবে৷ এটাই হয়তোবা এই দূষিত নগরীর হতভাগ্য বাসিন্দাদের নিয়তি ৷ কিন্তু এখনোতো আমরা ``ডাক্তার'' হতে পারিনি৷ এখনো আমরা মানুষই রয়ে গেলাম৷ মেরুদন্ডহীন মানুষ৷ তাই হয়তো মানুষের মতই আশা নিয়ে বেঁচে থাকি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি ``কোনো একদিন হয়তোবা এই অবস্থার পরিবর্তন হবে....''
০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:০৫

লেখক বলেছেন: মেরুদণ্ডহীন তো মানুষ হয় না, তবে মেরুদণ্ড যে আছে এটা ভুলে গেছি আমরা- আশা করি কোন না কোন সময় সবার মনে পড়বে

৩৩. ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪১
প্রবালাহমেদ বলেছেন: এই ব্লগটি লিখে আপনি একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এবার কষ্ট করে আরেকটু কাজ করুন। এই অপারেশনের সাথে জড়িত সকল ডাক্তার এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম ব্লগে প্রকাশ করে দিন, পুরো নাম ও বিবরন সহ। অর্থাৎ এরা কোথায় চাকরী করেন, কী কী ডিগ্রী আছে সেগুলো লিখে ফেলেন । এতে করে আমরা অন্তত এদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে পারব। এ বিষয়ে আমার একটি ব্লগ আছে। সবাইকে পড়ে দেখার অনুরোধ করছি -

Click This Link
০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:০৯

লেখক বলেছেন: ফ্যামিলি থেকে বাধার কারণে আমার পক্ষে আর ডিটেলস জেনে আসা সম্ভব না। কিন্তু হসপিটাল হল পান্থপথের কমফোর্ট নার্সিং হোম। দশতলাটা চোখে পড়া খুবই ইজি। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে সার্জন ছাড়া মেডিক্যাল বোর্ডের অন্য ডক্টরদের নাম জানি না। আর আমার সিচুয়েশান এ আর খোঁজ নিতে যাওয়াও সম্ভব না। ব্লগে দিলাম এই কারণে যে অপারেশান খুব রিসেন্ট এবং হয়তো কেউ আরো কিছু করবে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৩৪. ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৪
প্রবালাহমেদ বলেছেন: আপনার প্রতিবাদী অবস্থানকে আমি সমর্থন করছি। আমরা চুপ করে থাকার কারনেই এ সমস্যাগুলোর কোন সমাধান হচ্ছে না।
৩৫. ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:০৯
সকাল রয় বলেছেন: সেদিন কি লিখতে গিয়ে কি লিখে ফেলিয়াছি
আসলে কান্না আসছিলো
তো

সুন্দর লিখা

আর যদি সময় পান তো আসবেন আমার ব্লগে
০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:১৪

লেখক বলেছেন: আচ্ছা। ধন্যবাদ অনেক। সময় পাওয়ার কথা চিন্তা করলে আর যাওয় হবে না। এখনই যাওয়া ভালো!

৩৬. ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪২
রাহি বলেছেন: কাঁন্না আটকে রাখতে পারলাম না।
ওরে কসাইয়ের বাচ্চা কসাই কি দোষ ছিল এই ছোট্র শিশুর? তোদের ওতো সন্তান আছে!
ধিক্কার ঐ ডাক্তারের উপর। ধিক্কার সব দুর্নীতিগ্রস্ত অসৎ লোকদের উপর- যারা পচিয়ে ফেলেছে পুরো সমাজটা। আর ধিক্কার আমাদের নিজেদের উপর... ধিক্কার ঐ হাতের উপর যেটা শুধু আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্যে ওঠে, কিন্তু অপরাধীর শাস্তি দিতে ওঠে না।
০৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:২৪

লেখক বলেছেন: হুমম... আমার আর কান্না আসে না। অপেক্ষায় আছি বড় কোন পরিবর্তন দেখার। যদিও দুরাশা- তবু করি, কারণ আর উপায় নেই।

৩৭. ০৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:৩৮
ভাইটামিন বদি বলেছেন: মনটাই খারাপ হয়ে গেল...।।।

পিটিয়ে মারা দরকার এই ধরনের পশু গুলোকে.....জঘন্য।

অনেক দোয়া ভাইটার জন্য।
০৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:২৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৩৮. ০৯ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৪১
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: আমি আর কিছু ভাবতে পারি না। আজকাল যে হারে মানসম্পন্নহীন মেডিকেল কলেজ হচ্ছে, সেখান থেকে ডাক্তার হয়ে বেরিয়ে তারা কী করবে ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। হয়ত এমন লেখা আরও পড়তে হবে আমাদের! :(:(:(
০৯ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৬

লেখক বলেছেন: হয়ত পড়তে হবে না, তখন কিছু লেখাই অনর্থক হয়ে দাঁড়াবে!

৩৯. ১৫ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০০
পারভেজ বলেছেন: আমাদের দেশে রমরমা ক্লিনিক ব্যবসার কারণে ডাক্তারদের এথিক্যাল মরালিটি বলতে কিছু আর নেই। তারাও আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে বলে অপচিকিৎসা চালাতে থাকে। কঠোর আইন আর তার প্রয়োগ না থাকলে এই অবহেলা চলতেই থাকবে।
১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৩৬

লেখক বলেছেন: সেটাই

৪০. ১৫ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:১৪
সাইলেন্স অভ দ্যা ল্যাম্বস বলেছেন: আমি আগে একবার বাইরে ব্রেইন ডেড এর একটা কেস দেখেছিলাম। ওখানকার ডাক্তার পরিস্কার বলেছিলেন মেডিকেল সায়েন্সে ডেড বলতেই বোঝায় "ব্রেইন ডেড"। এরপরও হাসপাতাল কতৃপক্ষের সময়ক্ষেপণ নীচ ব্যবসায়িক মানসিকতার পরিচায়ক। আপনার ভাইয়ের জন্য সমবেদনা ছাড়া দেয়ার মত আর কিছু আমার কাছে নেই।
১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: ওর জন্য সমবেদনার কিছু নেই। ও তো অবুঝ শিশু। কিন্তু ওর মায়ের অবস্থা... সহ্য করা যায় না।

২৪ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: এক্সাম চলছে... হয়ে উঠছে না। তবে লিখবো শিগগিরই।
ধন্যবাদ আপনাকে

৪২. ০১ লা মে, ২০১০ রাত ৯:৩৭
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: এই সব আজে বাজে ডাক্তারদেরকে আল্লাহর নামে কোরবানী (ধরে বটি দিয়ে জবাই করুন!)দিয়ে দিন।
০৯ ই মে, ২০১০ দুপুর ১:১৯

লেখক বলেছেন: জবাই করলে ওদের সাথে আর আমাদের পার্থক্য কী? তবে বিচার যখন হয় না, মানুষের মনে এই ইচ্ছাগুলোই জেগে ওঠে বৈ কি!

৪৩. ০২ রা আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫
রিমঝিম বর্ষা বলেছেন: আপু.......গলার কাছে কান্নাটা দলা পাকিয়ে বসে আছে। তোমার এতটুকু লেখা পড়তে অনেক্ষন লাগলো আমার। আমার মেয়েটাকে কোন ডাক্তারের কাছে নিতে ভরসা পাইনা আমি। মনে হয় তাহলে ওর তুচ্ছ অসুখটা আরো বিরাট আকার ধারন করবে।
০৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:১৩

লেখক বলেছেন: আপনার মেয়ে সুস্থ শরীরে সুন্দর জীবনে বেঁচে থাকুক এটাই চাওয়া...

৪৪. ০৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:২৪
দুখী মানব বলেছেন: বড্ড খারাপ লাগছে লেখাটি পড়ে!!
০৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৩৬

লেখক বলেছেন: অনেকদিন পার হয়ে গেছে... স্মৃতিগুলোয় ধুলো জমেছে.... কিন্তু মাঝে মাঝেই জেগে ওঠে পুরনো ক্ষতগুলোর তীব্র ব্যথা

৪৫. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:২৮
নূর-ই-হাফসা বলেছেন: আমাদের দেশের ডাক্তার রা না পারলেও স্বীকার করতে চায় না । ১টা রোগ বের করতেই চলে যায় ওদের সারাটা মাস সারাটা বছর । ১টা বাচ্চাকে হত্যা করার পরও এতটুকু অপরাধবোধ কি তাদের হয়েছে । তাদের সামান্য ভুল আর আমাদের সারা জীবন বয়ে চলা । হয়ত তাদের মত ডাক্তারদের হাতে খুন হয়েছে আমার মা, আর আপনার ভাই এভাবে কতজন যে হারিয়েছে তার প্রিয় মানুষকে । বলার কিছুই নেই ।কি বা করার আছে ?হবে কি এই পশুদের শাস্তি । চোখের জল ফেলে ছাড়া আর কি আছে করার?
১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: আছে হয়ত। কিন্তু ঝামেলাটা করার সময় নেই কারো।

কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২৯ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: না পাওয়ারই কথা। সময়ে সব ক্ষতই শুকিয়ে যায়। আমিও ভুলে গেছি...

 

মোট সময় লেগেছে ১.৩৪৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
গুডগার্ল
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই