গ্রেফতার সম্পর্কে সকল খবরের জন্য ভিসিট করুণ: www.sheershanews.com
জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক একরামুল হককে বড় মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে তাকে গ্রেফতারের পর বিকালে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে আদালতের কোনো পরোয়ানা পুলিশ সাংবাদিকদের দেখাতে পারেনি। এদিকে একরামুল হককে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, হামলা ও সর্বশেষ চাঁদাবাজির কথিত অভিযোগ এনে মামলা দিয়ে শীর্ষ নিউজ সম্পাদককে গ্রেফতারের ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হলে বর্তমান সরকার এ ধরনের কাজ করতে পারত না। সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা ও একজন প্রতিমন্ত্রীর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই এ বার্তা সংস্থা এবং এর সম্পাদক সরকারের রোষানলে পড়েন বলে জানিয়েছেন এতে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মচারীরা।
গতকাল ভোর ৪টায় একরামুল হককে মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করে কলাবাগান থানায় নিয়ে রাখা হয়। কলাবাগান থানা পুলিশ গতকাল দুপুরে একরামুল হককে সিএমএম আদালতে নিয়ে তিনদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড ও জামিন আবেদনের ওপর শুনানির পর আদালত একরামুল হকের জামিন আবেদন নাকচ করে মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একরামুল হকের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ হেমায়েত হোসেন। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রায়হান মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট মবিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মশিহুর রহমান, অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান, অ্যাডভোকেট সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমিন জেসি, অ্যাডভোকেট পলাশ চন্দ্র কুমার প্রমুখ। শুনানির সময় মামলার বাদী উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও তাকে আদালতে দেখা যায়নি। বাদীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা।
কলাবাগান থানার এসআই শরিফুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, ২৮ জুলাই গিয়াসউদ্দিন তালুকদার নামের এক ব্যবসায়ী একরামুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা সিএমএম আদালতে চাঁদাবাজির একটি মামলা করেন। বাদীর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য আদালত কলাবাগান থানাকে নির্দেশ দেন। সে প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বড় মগবাজারের বাসা থেকে একরামুল হককে গ্রেফতার করে। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, গ্রেফতারের তো নির্দেশ দেননি। তারপরও তাকে তড়িঘড়ি করে গ্রেফতারের কারণ কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে শরিফুল ইসলাম আরও জানান, গত ২৬ জুলাই একরামুল হকের লোকজন ৪৪/৯ পান্থপথে বলাকা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একই সঙ্গে তারা দোকানের কর্মচারীকে মারধর করে জীবননাশের হুমকি দেয়। প্রতিষ্ঠানের মালিক মামলার বাদী গিয়াসউদ্দিন তালুকদার। বাদীর স্থায়ী ঠিকানা দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সুখবিলাস গ্রামে। এছাড়া বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম ফিরিঙ্গিবাজারের কাজী নজরুল ইসলাম রোড।
এদিকে মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঢাকা ও চট্টগ্রামের ঠিকানায় যোগাযোগ করে বাদীর প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, মামলার বাদীর গ্রামের বাড়ি হচ্ছে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের গ্রামে।
যেভাবে গ্রেফতার করা হয় : সম্পাদক একরামুল হকের পরিবারের সদস্যরা জানান, অন্যদিনের মতো ভোর ৪টার দিকে একরামুল হক ফজরের নামাজ পড়তে ওঠেন। কয়েক মিনিট পরই বাসার দরজায় আওয়াজ করে কয়েকজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। দরজা খুলতে কিছুটা দেরি হলে তারা সজোরে লাথি মেরে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালায়। পরে দরজা খুললে এসআই আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সাদা পোশাক এবং পুলিশের পোশাক পরিহিত ১৪/১৫ জন হুড়মুড় করে ঘরে প্রবেশ করে। তারা সম্পাদক একরামুল হককে দেখে বলে এখনই তাদের সঙ্গে যেতে হবে। এ সময় সম্পাদক কারণ জানতে চাইলে তারা গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানায়। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে পারেনি। এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় পুলিশি দুর্ব্যবহার। সম্পাদক একরামুল হক নামাজ পড়ার জন্য কিছুটা সময় চাইলে তাকে সে সুযোগও দেয়া হয়নি; বরং জোর করেই তাকে ঘর থেকে বের করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর সম্পাদককে মগবাজার থেকে সরাসরি কলাবাগান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সম্পাদকের প্রতিক্রিয়া : কলাবাগান থানায় সকাল ৯টায় শীর্ষ নিউজ সম্পাদক সাংবাদিকদের জানান, সত্য প্রকাশের জন্য আজ আমার ওপর এই নির্যাতন নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবর প্রকাশের কারণেই আমাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, যতই জুলুম করা হোক সত্য প্রকাশে কখনও পিছপা হবো না। তার গ্রেফতারের বিষয়টিকে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।
যে কারণে গ্রেফতার : শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, সরকারের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়মের খবর প্রকাশ করায় শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একটি মহলের টার্গেটে পরিণত হন। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের আমলে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দুর্নীতি, যোগাযোগমন্ত্রীর দুর্নীতি, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের বিভিন্ন অপকর্ম এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করায় শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজ সরকারের রোষানলে পড়ে। বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠান বন্ধের অপচেষ্টা ছাড়াও জীবননাশের উদ্দেশ্যে সম্পাদকের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়। এমনকি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের অভ্যন্তরেই তিনি লাঞ্ছিত হন। এরপরও শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজের লেখনি বন্ধ না হওয়ায় এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সবক’টি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়।
বাদীর অস্তিত্বহীন ঠিকানা : শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক একরামুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী গিয়াসউদ্দিন তালুকদারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বলাকা ইন্টারন্যাশনালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। মামলার এজাহারে ঢাকার কার্যালয় হিসেবে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সরেজমিন গিয়ে ওই নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো হদিস মেলেনি। মামলার এজাহারে বলাকা ইন্টারন্যাশনালের ঢাকা কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ৪৪/৯, পশ্চিম পান্থপথ, কলাবাগানের ‘হক টাওয়ার’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়েই গত ২৬ জুলাই বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। গতকাল সকাল ১১টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হক টাওয়ারে বলাকা ইন্টারন্যাশনাল নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। টাওয়ারের ম্যানেজার কামাল উদ্দিন ও কেয়ারটেকার শামীম আহমেদ জানান, ষষ্ঠ তলার এই ভবনে ওই নামের কোনো অফিস কিংবা গিয়াসউদ্দিন তালুকদার নামের কোনো ভাড়াটিয়া নেই, কখনও ছিলও না। দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় অহনা ফার্নিচার, দ্বিতীয় তলার আংশিক নিটোল ইন্স্যুরেন্স, দ্বিতীয় তলার অবশিষ্ট অংশ, তৃতীয় তলার সম্পূর্ণ, চতুর্থ তলার আংশিক আইটি ভিশন কমিউনিকেশন, চতুর্থ তলার অপর অংশে ডাব্লুইজিসি ফাইবার্স ও জ্যারগন ফাইবার্স লিমিটেডের অফিস এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার ১০/১৫ মিনিট পর টাওয়ারের ম্যানেজার কামাল উদ্দিন পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদকের মোবাইলে ফোন করে জানানো হয়, টাওয়ারের নিচতলার অহনা ফার্নিচারের দোকানটিই বলাকা ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান কার্যালয় হিসেবে চট্টগ্রাম ফিরিঙ্গিবাজারের কাজী নজরুল ইসলাম রোডের যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানেও ওই নামের কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
নিন্দা ও প্রতিবাদ : অনলাইন দৈনিক শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক মো. একরামুল হককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি আবদুস শহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, প্রধানমন্ত্রীর একজন এপিএস এবং একজন প্রতিমন্ত্রীর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে খবর প্রকাশের পর থেকে প্রশাসন শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজ এবং ওই দুই পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে। সরকারের হয়রানির বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা যখন সোচ্চার, তখন হঠাত্ করে চাঁদাবাজির মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে সম্পাদককে গ্রেফতার হলো। সাংবাদিক নেতারা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে সাংবাদিক হয়রানি এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও বিঘ্ন সৃষ্টির অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন। তারা অবিলম্বে সম্পাদক একরামুল হকের মুক্তি দাবি করেন।
চট্টগ্রামে শীর্ষ নিউজ সম্পাদকের মুক্তি দাবি : ওদিকে চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক মো. একরামুল হককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতারা।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও সরকার দেশে আবারও বাকশাল কায়েমের ষড়যন্ত্র করছে। নিজেদের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না বিধায় সংবাদপত্র এবং গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরছে। বক্তারা রাতের আঁধারে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ এজেন্সি শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা সাজিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।
এদিকে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসুল হক হায়দরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি ইস্কান্দার আলী চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামশুদ্দিন হারুণ, বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব মুস্তফা নঈম, দৈনিক আমার দেশ ব্যুরো প্রধান জাহিদুল করিম কচিসহ শতাধিক সাংবাদিক এক যুক্ত বিবৃতিতে শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদককে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি জানিয়েছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিকরা বলেন, বর্তমান সরকার মুখে গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহের কথা বললেও কাজ করছে তার উল্টো।
আরইউজের নিন্দা : রাজশাহী অফিস জানায়, মো. একরামুল হককে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও এর তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি এসএমএ কাদের ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এম আনিছুর রহমান।
আরইউজের নেতারা এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, শীর্ষ নিউজের সাংবাদিকদের সত্য-সাহসী ও বস্তুুনিষ্ঠ লেখনী সহ্য করতে না পেরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে সরকার একরামুল হককে গ্রেফতার ও পুলিশি রিমান্ডে নিয়েছে।
এ ঘটনার মাধ্যমেই প্রমাণ করে, দেশের গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা তথা সাংবাদিকতা আজ কত হুমকির মুখে। ফলে দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত।
রাবি প্রেস ক্লাবের নিন্দা : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানায়, শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদককে গ্রেফতার, রিমান্ড ও ১০ সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব। গতকাল এক বিবৃতিতে প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সুমন এবং সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল বারী কর্নেল নিন্দা জানান।
সূত্র: আমারদেশ
অবিলম্বে সম্পাদক একরামুল হককে মুক্তি দিন: খালেদা জিয়া
ঢাকা, ৩১ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): জনপ্রিয় অনলাইন বার্তাসংস্থা শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। আজ রোববার সন্ধ্যায় দলের যুগ্মমহাসচিব ও দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে একরামুল হকের মুক্তি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান এক দলবাজ সরকার নির্ভিক নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের ওপর দমন নীতির ধারাবাহিকতায় শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করলো আওয়ামী লীগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।
বেগম জিয়া বলেন, ইতিপূর্বে সরকার শীর্ষ নিউজের সকল অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড অন্যায়ভাবে বাতিল করেছে। সরকারের সীমাহীন চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনসমক্ষে তুলে ধরার কারণেই একরামুল হকের মতো দায়িত্বশীল সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নির্যাতনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। যা সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
বিএনপি চেয়ারপারসন অবিলম্বে একরামুল হকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং সাংবাদিকদের ওপর এহেন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
একরামুল হককে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া দুঃখজনক: অলি আহমেদ
ঢাকা, ৩১ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): অনলাইন দৈনিক শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক একরামুল হককে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহম্মদ বীর বিক্রম।
আজ রোববার তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্যি দুঃখজনক এবং স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায়। পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো সংবাদ যদি কোন মন্ত্রী কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয়ে থাকে সরকারের উচিত ছিল প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা। তদন্তে সংবাদ মাধ্যম যদি দোষী প্রমাণিত হতো তাহলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেত। অন্যথায় অভিযুক্ত মন্ত্রী কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদককে এভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া কখনও মেনে নেয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে সরকারকে আরো সহনশীল হওয়ার আহবান জানাবো।
অলি আহমেদ শীর্ষ নিউজ ডটকম সম্পাদককে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ মাধ্যম দুইটির সকল অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, অন্যায় করলে ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া যায়, প্রতিষ্ঠানকে নয়।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের জের ধরে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক পত্রিকা শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদকসহ প্রতিষ্ঠান ২টির সকল অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে দেয় সরকার। পরবর্তীতে এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালনের পর আজ রোববার ভোর রাতে শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে সাজানো চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় তাকে আদালতের হাজির করলে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
শীর্ষ নিউজ সম্পাদকের মুক্তি দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ আজ
নিউইয়র্ক থেকে হাসানুজ্জামান হাসান, ১ আগস্ট (শীর্ষ নিউজ ডটকম): জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক-সংবাদ সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদককে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এবং প্রতিষ্ঠান দুইটির অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলে সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ এবং সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী, পাঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোরে জ্যাকসন হাইটসের হক সার্ভিসে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ড্রাসটিজ (এবিসিসিআই)'র সদস্য সচিব ও শীর্ষ নিউজ ডটকম যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি সাংবাদিক হাসানুজ্জামান হাসান।
সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি ফজলে রশিদ, শওকত মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা অনলাইন দৈনিক প্রবাসী ডটকমের সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মী, পাঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
হাসানুজ্জামান হাসান জানান, দুর্নীতির সংবাদ প্রচারের দায়ে শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল এবং সম্পাদক একরামুল হককে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর প্রতিবাদে তারা সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্পাদক একরামুল হকের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে প্রবাসী সাংবাদিক, বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব, কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি ও আর্ন্তজাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট বরাবর স্মারক লিপি পেশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
শীর্ষ নিউজ সম্পাদক গ্রেফতার: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তুলকালাম
ঢাকা, ৩১ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডেস্ক): অনলাইন দৈনিক ও বার্তা সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদক মো. একরামুল হককে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক সাইট ও ব্লগে সমালোচনা, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার ঝড় চলছে। আজ রোববার সংবাদ সংস্থা এএফপি, বিবিসি, ফেসবুক ও ফ্রেঞ্চ ব্লগ সাইটে এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এএফপি সংবাদে বলা হয়, দুর্নীতি নিয়ে নিয়মিত খবর প্রকাশ করায় বাংলাদেশের একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাজের সম্পাদক একরামুল হককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এএফপিকে সরকারের প্রধান তথ্যকর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, সাংবাদিকতার নিয়মাবলী লঙ্ঘন, সেনাবাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সুনাম ধ্বংস করায় দু'সপ্তাহ আগে শীর্ষ নিউজের সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়।
বিবিসি বাংলা সংবাদে বলা হয়, বাংলাদেশের একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদক মো. একরামুল হককে রোববার একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করার পর আদালত দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এদিকে ফ্রেঞ্চ ব্লগ সাইট জিন মার্ক মোরানদিনিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এ ঘটনার সমালোচনা, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হয়।
শীর্ষ নিউজ সম্পাদককে রিমান্ডে নেয়ায় সেলিমের উদ্বেগ
ঢাকা, ৩১ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): অনলাইন দৈনিক ও বার্তা সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক মো. একরামুল হককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। রোববার দুপুরে শীর্ষ নিউজ ডটকম'র সাথে আলাপকালে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অবিলম্বে এই দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। 'এমন ঘটনা কোনোভাবেই কারো কাম্য নয় মন্তব্য করে সেলিম আরো বলেন, 'সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য আমরা সেই পাকিস্তান আমল থেকে সংগ্রাম করে যাচ্ছি।
ভুয়া ঠিকানায় শীর্ষ নিউজ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা
ঢাকা, ৩১ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ'র সম্পাদক মো: একরামুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী গিয়াসউদ্দিন তালুকদারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বলাকা ইন্টারন্যাশনালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। মামলার এজাহারে ঢাকার কার্যালয় হিসেবে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সরেজমিনে গিয়ে ওই নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো হদিস মেলেনি।
মামলার এজাহারে বলাকা ইন্টারন্যাশনালের ঢাকা কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ৪৪/৯, পশ্চিম পান্থপথ, কলাবাগানের 'হক টাওয়ার'-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়েই গত ২৬ জুলাই বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। রোববার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, 'হক টাওয়ার'-এ বলাকা ইন্টারন্যাশনাল নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। টাওয়ারের ম্যানেজার কামাল উদ্দিন ও কেয়ারটেকার শামীম আহমেদ শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, ৬তলা এই ভবনে ওই নামের কোনো অফিস কিংবা গিয়াসউদ্দিন তালুকদার নামের কোনো ভাড়াটিয়া নেই। এমনকি কখনো ছিলও না। সরেজমিনে দেখা যায় ভবনের নিচতলায় অহনা ফার্নিচার, দ্বিতীয় তলার আংশিক নিটোল ইন্স্যুরেন্স; দ্বিতীয় তলার অবশিষ্ট অংশ, তৃতীয় তলার সম্পূর্ণ, চতুর্থ তলার আংশিক আইটিভিষণ কমিউনিকেশন, চতুর্থ তলার অপর অংশে ডাব্লুইজিসি ফাইবার্স ও জ্যারগন ফাইবার্স লিমিটেডের অফিস এবং ৫ম ও ষষ্ঠ তলা আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার ১০/১৫ মিনিট পর টাওয়ারের ম্যানেজার কামাল উদ্দিন পরিচয় দিয়ে শীর্ষ নিউজ ডটকম'র প্রতিবেদক মো: মহসীন কবিরের মুঠোফোনে কল দিয়ে জানানো হয় যে, টাওয়ারের নিচতলার অহনা ফার্নিচারের দোকানটিই বলাকা ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ৫/১০ মিনিট পর ওখানে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। জানা যায়, ঐ ভবনের নিচ তলার অহনা ফার্ণিচারের মালিক আলী আকবর রাসেল। গিয়াস উদ্দিন তার খালাতো ভাই। ঢাকায় এলে গিয়াস উদ্দিন তার দোকানে মাঝে মধ্যে আসেন। রাসেল জানান, গত ২৬ জুলাই রাতে তিনি দোকানে ছিলেন না। শুনেছি গিয়াস আমার এখানে এসেছিল। কিন্তু তার সাথে আমার কথা হয়নি এবং সেদিন এখানে কোন কিছু ঘটেছে কিনা তাও আমি বলতে পারবো না।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান কার্যালয় হিসেবে বন্দর নগরীর ফিরিঙ্গি বাজারের কাজী নজরুল ইসলাম রোডের যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সেখানেও ওই নামে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
একরামুল হককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সারাদেশে নিন্দার ঝড়
ঢাকা, ৩১ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): অনলাইন দৈনিক শীর্ষ নিউজ এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠেছে। বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার একদিকে অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টির কৃতিত্ব জাহির করছে, অন্যদিকে সম্পাদক-সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের মাধ্যমে কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন আজ রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও সরকার দেশে আবারও বাকশাল কায়েমের ষড়যন্ত্র করছে। নিজেদের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না বিধায় সংবাদপত্র এবং গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরছে। বক্তরা রাতের অাঁধারে সম্পাদককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা সাজিয়ে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।
এদিকে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসুল হক হায়দরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)'র সহ-সভাপতি ইস্কান্দার আলী চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুদ্দিন হারুণ, বিএফইউজে'র সহকারী মহাসচিব মুস্তফা নঈম, দৈনিক আমার দেশ ব্যুরো প্রধান জাহিদুল করিম কচিসহ শতাধিক সাংবাদিক এক যুক্ত বিবৃতিতে শীর্ষ নিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদককে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অন্যদের মধ্যে রয়েছেন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, দৈনিক দিনকাল ব্যুরো প্রধান মাহবুব রশীদ, চৌধুরী ফরিদ (চ্যানেল আই), সালেহ নোমান (রেডিও টু-ডে), খালেদ বেলাল (পিপল্স ভিউ), কামাল পারভেজ (এটিএন বাংলা), শহীদুল ইসলাম (ইসলামিক টিভি), গোলাম মাওলা মুরাদ (দিগন্ত টেলিভিশন), মজুমদার নাজিম উদ্দিন (আমার দেশ), আজাদ তালুকদার (সকালের খবর), জামশেদ রেহমান (যুগান্তর), লতিফা রানা (মাছরাঙা টেলিভিশন), আইয়ুব আলী (ইনকিলাব), জীবন মুছা (বার্তা ২৪ ডট নেট), টিভি ক্যামেরাম্যান জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম সভাপতি এনামুল হক (এনটিভি) ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন (এটিএন বাংলা), সাধারণ সম্পাদক সফিক আহম্মেদ সাজিব (সময় টেলিভিশন), সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিরুল আলম (দিগন্ত টেলিভিশন), আলী আকবর (বাংলাভিশন), সুমন গোস্বামী (এনটিভি), আমিত দাশ (দেশ টিভি), ইউসূফ রায়হান (বৈশাখী টেলিভিশন), রণি দাশ (এটিএন বাংলা) প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ, তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদল ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ্ আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাফিজ আশরাফ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক পলাশ, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুল আলম খোরশেদ, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম-এর আহবায়ক রফিউর রাবি্ব প্রমুখ। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটি, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরাও পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং একরামুল হকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এক বিবৃতিতে শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে একরামুল হকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
বিবৃতিদাতারা হলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক ইনকিলাব ও বাংলা ভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, সাবেক সভাপতি এডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও দৈনিক প্রথম আলোর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন, দৈনিক মজলুমের কন্ঠের সম্পাদক এডভোকেট জাফর আহমেদ, দৈনিক ভোরের কাগজ, বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কেএস রহমান শফি, চ্যানেল আই, রেডিও টুডে ও শীর্ষ নিউজ ডটকম-এর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মুসলিম উদ্দিন আহমেদ, দিগন্ত টেলিভিশন-এর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আনোয়ার সাদৎ ইমরান, আমার দেশ ও এনটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন, দৈনিক কালের কন্ঠের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি অরণ্য ইমতিয়াজ, দৈনিক সমকালের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুর রহিম।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, শীর্ষ নিউজ ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নোয়াখালীতের কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন, দৈনিক জাতীয় নিশান সম্পাদক কাজী মো. রফিক উল্যাহ, বৃহত্তর নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী খান, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম নজির উল্লাহ, চৌমুহনী প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম হারুণ, সাধারণ সম্পাদক ইমন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এমএম রফিজুল হক, সহ সভাপতি এজেডএইচ আজিজ, চাটখিল প্রেসক্লাব সভাপতি রফিক উল্যাহ, সেনবাগ প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাপ্তাহিক শতাব্দীর ডাক সম্পাদক এএসএম রিজোয়ান, জাতীয় বাংলাদেশ'র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন কামাল, চন্দ্রগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কবির আহমদ ফারুক, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক, দেশ টিভি'র নোয়াখালী প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, ইসলামিক টিভি'র নোয়াখালী প্রতিনিধি মানিক ভূঁইয়া, আরটিভি'র নোয়াখালী প্রতিনিধি মনির হোসেন বাবু, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি আশরাফ ছিদ্দিকী বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি এম মজিবুল হক, নোয়াখালী সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সেলিম প্রমুখ।
এদিকে মিথ্যা অভিযোগে শীর্ষ নিউজ ডটকম ও শীর্ষ কাগজের সম্পাদককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সভা করেছে সাংবাদিকরা। আজ রোববার বিকাল ৪ টায় চৌমুহনী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, শীর্ষ নিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সম্পাদক মো. একরামুল হককে পুলিশ গ্রেফতার করায় পাবনা প্রেসক্লাবের কর্মকর্তা ও কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমী খন্দকার (ইত্তেফাক), সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা (এটিএন), যুগ্ম সম্পাদক আ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

