ওহ্, খোদা! মেয়েটার মাথার পিছন`দিককার বেঢপ ঐ আকৃতিটা তার আরেকটা মাথা!!!
আর এরকমই হাজার জেনেটিক্যালি বিকলাঙ্গ শিশু আজ জন্ম নিচ্ছে ইরাকের ঘরে ঘরে। কারো দুটো মাথা, কারোবা একটা চোখ, আবার কোন শিশু ভুমিষ্ঠ হচ্ছে চোখ, হাত বা পা ছাড়াই। এদের বেশিরভাগই হয় জন্ম নিচ্ছে মৃতাবস্থায়, নাহয় জন্মের কিছুক্ষণের মাঝেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। হয়তো এ-ই ভাল! তথাকথিত সভ্য সমাজের ততোধিক সভ্য মানুষের মুখোশ পড়া একদল হায়েনার হাতে নিগৃহিত, নিস্পেষিত, ধ্বংসপ্রাপ্ত নিজ দেশে ধুঁকে ধুঁকে আস্তে, আস্তে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে এ কঠিন পৃথিবী থেকে অবুঝ অবস্থায় চলে যাওয়াই শ্রেয়।
জাতিসংঘের এক অংগসংস্থার কাছে লেখা এক ইরাকী ডাক্তারের চিঠি থেকে জানা যায়, এ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইরাকের ফাল্লুজাহ জেনারেল হসপিটাল-এ জন্ম নেওয়া ৭৫০ শিশুর ২৪%-ই মারা যায় জন্মানোর ৭ দিনের মাঝে। মৃত শিশুগুলার ৭৫%-ই জেনেটিক্যালি ডিফর্ম্ড্। অথচ, ২০০২ সালের অগাস্ট মাসে একই হসপিটাল-এ জন্ম নেওয়া ৫৩০টি শিশুর মাঝে মারা যায় মাত্র ছয়টি যার মাঝে জেনেটিক্যাল সমস্যা পাওয়া যায় মাত্র একটি শিশুর মাঝে!!! মাত্র ছয় বছরে শিশু মৃত্যু হার এতো বেড়ে গেলো কিভাবে!
এর উত্তর পাওয়া যাবে একটু পিছন দিকে তাকালেই। আজ থেকে কয়েক বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্ররা 9/11-এ টু্ইন টাওয়ার-এ হামলার প্রতিশোধ নিতে বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়ে ১০ বছরের অবরোধে দূর্বল ইরাকের উপর। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরই তৈরী এক ফ্রাংকেনস্টাইন- সাদ্দাম হোসেনকে কলুর বলদ বানিয়ে ইরাকী জনগণের উপর চালায় ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা। রিপাবলিকান গার্ডবাহিনীকে দমনের নামে ইরাকের অসহায় জনগণের উপর ফেলা হয় হাজার হাজার টন রাসায়নিক বোমা। ইরাকের মানুষকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্রের সৌরভে সুরভিত করার নামে পরীক্ষাগারের পিনিপিগ বানিয়ে তাদের উপর প্রয়োগ করা মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের নিত্য-নতুন ইউরিনিয়াম ও ফসফরাস বোমা।
আর এরফলেই আজ জন্ম নিচ্ছে এসব জেনেটিক্যালি ডিফর্মড শিশুরা। এর ধারাবাহিকতায় বসরা ও ফাল্লুজার দম্পতিদের আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত সন্তান নিতে বারণ করা হচ্ছে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে! আজ পশিমাদের উপহার দেওয়া গণতান্ত্রিক(!!!) পরিবেশের বদৌলতে এ নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে ইরাকের মানুষেরা। আর একচোখা পশ্চিমা মিডিয়াগুলার ফাঁক গলে এধরণের ভয়াভ সংবাদ বিশ্বের দরবারে আসতে পারছে খুব কমই।
আজকের একটি দৈনিক পত্রিকার শেষ পাতায় এ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। আমি সাধারণতঃ পত্রিকাগুলোর রিপোর্টগুলার সত্য/মিথ্যা বিশ্বাস করার আগে এ নিয়ে আগে নিজে কিছু খবর নেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, শুধু আমাদের দেশের পত্রিকাগুলো নয়, ওয়ার্ল্ডের প্রায় সব পত্রিকাই যেসব রিপোর্ট ছাপে, তার বেশিরভাগই পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলা থেকে কেনা। আর সেজন্যই এই পত্রিকাওয়ালাদের রিপোর্টগুলোকে আমি থোড়াই কেয়ার করি।
আর আমার মতো অনুসন্ধিৎসু, খুঁতখুঁতে স্বভাবের কেউ এ ব্যাপারে সন্দিহান হলে ইচ্ছা করলে 'Iraqi Children with Genetic defects' লিখে google-এ সার্চ লাগিয়ে দেখতে পারেন। অন্যান্যদের জন্য নিচের লিংকগুলো দিলাম।
Deformed babies in Fallujah Iraq LETTER TO THE UNITED NATIONS
Photos Iraq babies born deformed depleted uranium

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



