somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা-দিবসে ইরাকী মা-য়েদের 'স্বাধীনতা''পশ্চিমা গণতন্ত্র'-এর অনুপম উপহার: জেনেটিক্যালি বিকলাঙ্গ শিশু!!!

১০ ই মে, ২০১০ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মেয়েটির বয়স কত-ই বা আর হবে- বড়জোর ৩/৪ মাস। অসহায় হয়ে একদিকে কাত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। মাথার পিছন দিকটা কেমন যেন একটু বেঢপ আকৃতির, সামনের দিক থেকে চোখে বেশ দৃষ্টিকটু ঠেকে সবার কাছে।কচি হাত দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে মাথায় ঐ জায়গায় চুলকানোর চেষ্টা করছে সে। ক্যামেরা এবার জুম করে ফোকাস করলো মেয়েটার মাথার পিছন দিকটা। শিউরে উঠলাম।
ওহ্‌, খোদা! মেয়েটার মাথার পিছন`দিককার বেঢপ ঐ আকৃতিটা তার আরেকটা মাথা!!!

ইরাকের আরেকটি হাসপাতাল। এইমাত্র একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচার শেষে নিজের হাতে ধরা ভূমিষ্ঠ শিশুটির দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে আছেন ডাক্তার। তার চোখে অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার আনন্দের পরিবর্তে আতঙ্ক!! মায়ের পেট থেকে এইমাত্র যা বের করে আনলেন, সেই মাংসপিন্ডটির যে মাথা নেই!!! শরীরটাও স্বাভাবিক মানব শিশুগুলা থেকে আলাদা আকৃতির। তবে কি মাথাটা এখনো মায়ের পেটে ছিড়ে রয়ে গেছে! আতঙ্কিত ডাক্তার আর একবার মায়ের পেটে খোঁজ করে নিশ্চিত হলেন, ওখানে শিশুটির ছেঁড়া কোন মাথা নেই। তাহলে! আসলে শিশুটির অন্যান্য অঙ্গ মায়ের পেটে বিকশিত হলেও, মাথাটি সে অনুপাতে বেড়ে উঠেনি। মাথাটা এতোটাই অপুষ্ট যে, চর্মচোখে তা দেখা যায় না। মৃত শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে নার্সের হাতে দিলেন ডাক্তার।


আর এরকমই হাজার জেনেটিক্যালি বিকলাঙ্গ শিশু আজ জন্ম নিচ্ছে ইরাকের ঘরে ঘরে। কারো দুটো মাথা, কারোবা একটা চোখ, আবার কোন শিশু ভুমিষ্ঠ হচ্ছে চোখ, হাত বা পা ছাড়াই। এদের বেশিরভাগই হয় জন্ম নিচ্ছে মৃতাবস্থায়, নাহয় জন্মের কিছুক্ষণের মাঝেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। হয়তো এ-ই ভাল! তথাকথিত সভ্য সমাজের ততোধিক সভ্য মানুষের মুখোশ পড়া একদল হায়েনার হাতে নিগৃহিত, নিস্পেষিত, ধ্বংসপ্রাপ্ত নিজ দেশে ধুঁকে ধুঁকে আস্তে, আস্তে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে এ কঠিন পৃথিবী থেকে অবুঝ অবস্থায় চলে যাওয়াই শ্রেয়।

জাতিসংঘের এক অংগসংস্থার কাছে লেখা এক ইরাকী ডাক্তারের চিঠি থেকে জানা যায়, এ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইরাকের ফাল্লুজাহ জেনারেল হসপিটাল-এ জন্ম নেওয়া ৭৫০ শিশুর ২৪%-ই মারা যায় জন্মানোর ৭ দিনের মাঝে। মৃত শিশুগুলার ৭৫%-ই জেনেটিক্যালি ডিফর্ম্‌ড্। অথচ, ২০০২ সালের অগাস্ট মাসে একই হসপিটাল-এ জন্ম নেওয়া ৫৩০টি শিশুর মাঝে মারা যায় মাত্র ছয়টি যার মাঝে জেনেটিক্যাল সমস্যা পাওয়া যায় মাত্র একটি শিশুর মাঝে!!! মাত্র ছয় বছরে শিশু মৃত্যু হার এতো বেড়ে গেলো কিভাবে!


এর উত্তর পাওয়া যাবে একটু পিছন দিকে তাকালেই। আজ থেকে কয়েক বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্ররা 9/11-এ টু্ইন টাওয়ার-এ হামলার প্রতিশোধ নিতে বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়ে ১০ বছরের অবরোধে দূর্বল ইরাকের উপর। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরই তৈরী এক ফ্রাংকেনস্টাইন- সাদ্দাম হোসেনকে কলুর বলদ বানিয়ে ইরাকী জনগণের উপর চালায় ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা। রিপাবলিকান গার্ডবাহিনীকে দমনের নামে ইরাকের অসহায় জনগণের উপর ফেলা হয় হাজার হাজার টন রাসায়নিক বোমা। ইরাকের মানুষকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্রের সৌরভে সুরভিত করার নামে পরীক্ষাগারের পিনিপিগ বানিয়ে তাদের উপর প্রয়োগ করা মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের নিত্য-নতুন ইউরিনিয়াম ও ফসফরাস বোমা।



আর এরফলেই আজ জন্ম নিচ্ছে এসব জেনেটিক্যালি ডিফর্মড শিশুরা। এর ধারাবাহিকতায় বসরা ও ফাল্লুজার দম্পতিদের আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত সন্তান নিতে বারণ করা হচ্ছে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে! আজ পশিমাদের উপহার দেওয়া গণতান্ত্রিক(!!!) পরিবেশের বদৌলতে এ নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে ইরাকের মানুষেরা। আর একচোখা পশ্চিমা মিডিয়াগুলার ফাঁক গলে এধরণের ভয়াভ সংবাদ বিশ্বের দরবারে আসতে পারছে খুব কমই।


আজকের একটি দৈনিক পত্রিকার শেষ পাতায় এ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। আমি সাধারণতঃ পত্রিকাগুলোর রিপোর্টগুলার সত্য/মিথ্যা বিশ্বাস করার আগে এ নিয়ে আগে নিজে কিছু খবর নেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, শুধু আমাদের দেশের পত্রিকাগুলো নয়, ওয়ার্ল্ডের প্রায় সব পত্রিকাই যেসব রিপোর্ট ছাপে, তার বেশিরভাগই পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলা থেকে কেনা। আর সেজন্যই এই পত্রিকাওয়ালাদের রিপোর্টগুলোকে আমি থোড়াই কেয়ার করি।


আর আমার মতো অনুসন্ধিৎসু, খুঁতখুঁতে স্বভাবের কেউ এ ব্যাপারে সন্দিহান হলে ইচ্ছা করলে 'Iraqi Children with Genetic defects' লিখে google-এ সার্চ লাগিয়ে দেখতে পারেন। অন্যান্যদের জন্য নিচের লিংকগুলো দিলাম।
Deformed babies in Fallujah Iraq LETTER TO THE UNITED NATIONS
Photos Iraq babies born deformed depleted uranium
২১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×