বিজ্ঞানের বিস্ময়
কোনো এক যাত্রী খুলনাগামী ট্রেনের পরিবর্তে রাজশাহীর ট্রেনে উঠে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর ট্রেনের অন্য এক যাত্রীকে বললেন—কোথায় যাচ্ছেন ভাই?
লোকটি বলল : খুলনা।
জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, বিজ্ঞানের কী বিস্ময় দেখুন, একই ট্রেনের ডান পাশ যাচ্ছে খুলনা আর বাম পাশ যাচ্ছে রাজশাহী।
ফুর্তি
গত নির্বাচনে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এক প্রার্থীর। সাংবাদিক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে করতে এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলেন
সাংবাদিক : আচ্ছা, আপনি এবারের নির্বাচনে দাঁড়ালেন কেন?
প্রার্থী : আরে ভাই, আপনারা সাংবাদিক মানুষ, কেন ভোটে খাড়াইছি, তা বোঝেন না? সরকারি দলের লোকরা পুরা দ্যাশটা গিলে খাইল। অফিস-আদালতে যাওন যায় না। সবখানে দলীয় লোকজন আর ঘুষের কারবার। সবকিছু লুট কইরা তারা তো আমোদ-ফুর্তি কইরা কাটাইতেছে। দুর্নীতিতে ছাইয়া গেছে দ্যাশটা!
সাংবাদিক : ও আচ্ছা, আপনি তাহলে এসবের বিরুদ্ধেই লড়াই করছেন?
প্রার্থী : কী যে বলেন! আমার কী আমোদ-ফুর্তির ইচ্ছা জাগে না?
দুই বন্ধু
অনেক দিন পর দুই বন্ধুর দেখা। গল্প করতে করতে এক বন্ধু তার সুন্দরবন ভ্রমণের প্রসঙ্গ তুলল। সুন্দরবনে হাঁটতে হাঁটতে সবার থেকে একটু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। হঠাত্ দেখি বিরাট একটা বাঘ ঠিক আমার সামনে দাঁড়িয়ে। দেরি না করে দিলাম দৌড়। বাঘটাও আমাকে ধরার জন্য পেছন পেছন দৌড়াতে লাগল। যখনই সে আমার একদম কাছে এসে পড়ে তখনই সে পেছনে পেছনে চলে যায়। এভাবে বাঘ আমাকে ধরতে গিয়েও ধরতে পারছিল না। এক সময় বাঘ এমন আছাড় খেল যে সেই সুযোগে আমি পালিয়ে বাঁচলাম।
সব শুনে বন্ধু বলল, বাব্বাহ! তোর সাহসের প্রশংসা করতে হয়। আমি এমন পরিস্থিতিতে পড়লে হিসু করে দিতাম।
আরে বোকা, বাঘটা বার বার পিছলে পড়ে যাচ্ছিল তো সেজন্যই।
চেয়ার
ঢাকা জাদুঘরে গ্রামের এক লোক ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে এক চেয়ারে বসে আরাম করছিল। জাদুঘরের দায়িত্বরত এক কর্মচারী ছুটে এসে বললেন।
কর্মচারী : আরে আরে করছেন কি? জলদি ওঠেন, এটা তো নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার চেয়ার।
লোক : উইঠা যামু ভাই, সিরাজ-উদ্-দৌলা মিয়া আইলেই উইঠা যামুনে।
দুধওয়ালার
দুধওয়ালার সঙ্গে তর্ক করছিলেন বাড়ির এক গৃহিণী।
গৃহিণীঃ আজীবন তো পানি মেশানো দুধই বাড়িতে দিয়ে গেলে, এখন যা দিনকাল পড়েছে!
কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিস তো লেগেই আছে।
তুমি যে কোথাকার কোন পচা পানি দুধে মিশিয়ে নিয়ে আসো, তা একমাত্র খোদাই জানেন।
মরে-টরে যাব না তো?
দুধওয়ালাঃ ছিঃ ছিঃ আম্মা, কী যে বলেন! মূর্খ হতে পারি, তাই বলে এতটা কান্ডহীন ভাববেন না আমাকে। পানি না ফুটিয়ে আমি দুধে মেশাই-ই না!
কপালটাই খারাপ
বিমর্ষ এক ভদ্রলোক একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলেন; এক গ্লাস লাচ্ছি দিতে বললেন ওয়েটারকে। অন্য দিনের চেয়ে তাড়াতাড়িই চলে এল লাচ্ছির গ্লাস।
খাবার আগে ভাবলেন, রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে একবার বাইরের দুনিয়াটাকে দেখবেন। টেবিলে ফিরে এসে দেখলেন তাঁর লাচ্ছির গ্লাস অন্য একজনের হাতে।
তিনি বেশ আয়েশ করে তাঁর সেই গ্লাস থেকে লাচ্ছি খাচ্ছেন।
এই দৃশ্য দেখে তিনি চেয়ারে বসে কাঁদতে শুরু করলেন।
সামনের লোকটি বিব্রত হয়ে বললেন, ‘প্লিজ, কাঁদবেন না, এক গ্লাস লাচ্ছিই তো; আমি আপনাকে দুই গ্লাস লাচ্ছি কিনে দিচ্ছি।’
শুনে তিনি বললেন, ‘আমি সে জন্য কাঁদছি না।’
তাহলে? জানতে চাইলেন ওই লোকটি।
তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘ঘুম থেকে উঠেই বউয়ের সঙ্গে বিরাট ঝগড়া হলো; বাসে মানিব্যাগ ছিনতাই হলো; অফিসে গিয়ে শুনলাম চাকরি চলে গেছে; বাসায় ফিরে দেখি বউ বাপের বাড়ি চলে গেছে••• এত কিছুর পর ত্যক্তবিরক্ত হয়ে রেস্টুরেন্টে এসে বিষ খাব বলে লাচ্ছির সঙ্গে বিষ মিশিয়েছি•••সেটাও আপনি খেয়ে ফেললেন! আমার তো কপালটাই খারাপ!!’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

