সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলা ভাষা- সংস্কৃতিকে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ আসনে স্থান করে দিয়েছেন। এঁদের অমূল্য অবদান অনিবার্যভাবেই অনন্তকাল থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লেখক ছিলেন না: কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু হয়েছেন। শুধু স্বদেশের শিল্পী-সাহিত্যকরাই নয়, বিদেশী লেখক-কবি-সাহিত্যিক- সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। ২৫ বছর আগে যেসব লেখালেখি শিল্পচর্চা তাঁকে নিয়ে হয়েছে, সেইসব দৃষ্টান্ত কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে।
বিদেশি পত্র-পত্রিকা ছাড়াও বিদেশি লেখকদের গল্পে, উপন্যাসে এবং কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্থান দিয়েছেন। যেমন মার্কিন লেখক রবার্ট পেইনের ‘দি চর্টার্ড এন্ড দ্য ডেমড’, সালমান রুশদীর ‘মিড নাইট বিলড্রেম’ এবং ‘শেইম’, সুনীলগঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব পশ্চিম, জাপানি কবি মাৎসুও শুকাইয়া, গবেষক ড. কাজুও আজুমা, প্রফেসর নারা, মার্কিন কবি লোরী এ্যান ওয়ালশ, জামান কবি গিয়ার্ড লুইপকে, বসনিয়া কবি ইভিকা পিচেস্কি, বৃটিশ কবি টেড হিউজের কবিতায় বঙ্গবন্ধু উপস্থাপিত হয়েছেন। অবশ্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি প্রচুর কবিই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিদেশিয়াও বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেন। তার একটি অসম্পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ:
১. Mujib's Revenge From The Grave/ Thomas Merore,
২. Mujib: The trditect of Bangladesh a Political Bigraphy/ Yatidra Bhatnagar,
৩. War of Independence in Bangladesh Style of Sheikh Mujbur Rahman/ I. N. Tewary,
৪. Bhuettu Sheikh Mujib Bangladesh/ Row Farman Ali,
৫. পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু/ বরার্ট পেইন,
৬. মহানায়ক মুজিবুর/ অমরেন্দ্র কুমার ঘোষ,
৭. গতিবেগ চঞ্চল বাংলাদেশ: মুক্তি সৈনিক শেখ মুজিবুর/ অমিতাভ দাশগুপ্ত,
৮. আমি শেখ মুজিবুর বলছি/ কৃত্তিবাস ওঝা,
৯. বঙ্গবন্ধু ও রক্তাক্ত বাংলা/ নিরঞ্জন মজুমদার,
১০. মুজিব হত্যার তদন্ত/ পরেশ সাহা,
১১. মুজিবের বাংলা/ পঙ্কজ কুমার মুখোপাধ্যায়,
১২. বাংলাদেশের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি: মুজিব পর্ব/ পরেশ সাহা,
১৩. আমি মুজিবর বলছি/ মনোজ দত্ত,
১৪. আমি মুজিব বলছি (১ম ও ৩য় খন্ড) শ্যামল বসু,
১৫. পাকিস্তানের কারাগারে শেখ মুজিবের বন্দী জীবন/ আহমেদ সালিম, ইত্যাদি।
দুই বাংলার ভাষা, শিল্প-সাহিত্য একই সূত্রে গাঁথা, একই ধারায় প্রবাহিত এবং গ্রন্থিত। তাই আমাদের সুখে-দুঃখে তারা প্রিয় স্বজনের মতো আপন। আমাদের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তারা একইভাবে উদযাপন করেন। ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সার্বিকভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন। তেমনি ৭৫-এর ১৫ আগস্টে আমাদের মতো তারাও মর্মাহত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের লেখকরাও শোকাতিভুত হয়ে লিখেছেন বেদনার কাব্য। তাদের ক’জনের পঙতি নিম্নরূপ:
যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।
-অন্নদা শংকর রায়
আশ্চর্য নেতার নামে জড়ো হয়, আয়ামির দল
মুজিবের মুখে চেয়ে সারা পাকিস্তানে
ভোটে জেতে, সংঘশক্তি মুক্তির নিশানী,
রোধ করবে সাধ্য কার?
- অমিয় চক্রবর্তী
রাসেল অবোধ শিশু তোর জন্য আমিও কেঁদেছি
খোকা, তোর মরহুম পিতার নামে
যারা একদিন তুলছিলে আকাশ ফাটানো জয়ধ্বনি
তারাই দু’দিন বাদে থুতু দেয়, আগুন ছড়ায়
আমি ক্ষমা চাই, আমি সভ্যতার কাছে ক্ষমা চাই।
- সুনীল পঙ্গোপাধ্যায়
নয়াদিল্লীর সাহিত্য একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত মনিপুরের প্রথম সারির কবি এলাংবম নীলকান্ত ‘শেখ মুজিব মহাপ্রয়ানে’ শীর্ষক কবিতা রচনা করেন। তা তাঁর ‘তীর্থযাত্রা’ গ্রন্থে স্থান পায়। কবিতাটির খন্ডাংশ নিম্ন নিম্নরূপ-
হে বঙ্গবন্ধু/ নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে নিহত হয়েছো শুনে/ পেরিয়েছি আমি এক অস্থির সময়/ খোলা জানালা দিয়ে সুদূর আকাশের দিকে/ পলকহীন তাকিয়ে থেকেছি/ উত্তরহীন এক প্রশ্ন নিয়ে/ বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে গড়ে তুলেছিলে স্বদেশ তোমার/ কিন্তু এ কোন প্রতিদান পেলে তুমি? (অনুবাদ: এ.কে. শেরাম)।
ত্রিপুরার কবি রাম প্রসাদ দত্তের “ইয়াহিয়া খাঁন তান্ডব নৃত্য’ শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধের উপর ১২৪ পঙক্তি একটি দীর্ঘ পালাগান লিখেছিলেন। তার ছত্রে ছত্রে এসেছে শেখ মুজিব। দু’টি লাইন তুলে ধরছি-
আছেন শেখ মুজিবর ভাই জয় বাংলাদেশে/ শাসনতন্ত্র গঠন করে মনের উল্লাসে।
এছাড়াও পশ্চিম বাংলার বনফুল, বুদ্ধদের বসু, অমিয় চক্রবর্তী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, রাজলক্ষ্মী দেবী, মনীষ ঘটক, অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত, বিমল চন্দ্র ঘোষ, দীনেশ দাস, দক্ষিণা রঞ্জন বসু, করুণা রঞ্জণ ভট্টাচার্য, অমিয় মুখোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র কুমার গুপ্ত, নলিনীকান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, নির্মল আচার্য, বিভূতি বেরা, অমিত বসু, শান্তিময় মুখোপাধ্যায়, শান্তিকুমার ঘোষ, গোলাম রসুল, অমিতাভ দাশগুপ্ত, তরুণ সান্যাল, দেবেশ রায়, গৌরী ঘটক, রাম বসু, তারাপদ রায়, মনীন্দ্র রায়, বিনোদ বেরা, অমিতাভ চৌধুরীসহ আরো অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। একাত্তর-বাহাত্তর এবং পঁচাত্তর-ছিয়াত্তর সালের কলকাতার কাগজগুলোতে তাঁদের লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর যাঁরা তাঁকে নিয়ে গ্রন্থ লিখেছেন তারা হচ্ছেন-অমরেন্দ্র কুমার ঘোষ, অমিতাভ গুপ্ত, মনোজ দত্ত, কালাহান, কৃত্তিবাস ওঝা, নিরঞ্জন মুজুমদার, পরেশ সাহা, শ্যামল বসু, এ. এল খতিব, আই. এল. তেওয়ারী, অতিন্দ্র ভাটনগর, মৃণাল কর প্রমুখ।
উল্লেখ যে, ১৯৭৫ সালে ২২ জন ব্যক্তিকে ‘বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদকে’ ভূষিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন ছিলেন ভারতীয় বাঙালি। তারা হচ্ছেন - দেব দুলাল বন্দোপাধ্যায়, গৌরি প্রসন্ন মজুমদার, অংশুমান রায় এবং প্রণবেশ সেন। এদিকে বঙ্গবন্ধুও ৩টি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে ‘জুলি ও কুরি’ এবং ১৯৯২ সালে মরণোত্তর ‘হ্যারিস সনদ’ ও ১৯৯৬ সালে ‘নেতাজী পদক’।
পশ্চিম বঙ্গের অনেক গীতিকার গান লিখেছেন, সুরকার সুর দিয়েছেন, শিল্পীরা কণ্ঠ দিয়েছেন এবং ছবি এঁকেছেন চিত্রশিল্পীরা। কিন্তু তা সংরক্ষণের অভাবে আজ প্রায় বিলুপ্ত।
গান্ধী নিয়ে কবি অরুণ মিত্র একটি কবিতা লিখেছেন - ‘আজকের দিন যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আছে কাল, একশো গান্ধী যদি মিথ্যে হয় তবুও থাকে সত্য’ .... এই পঙক্তিটিই গান্ধীর স্থলে মুজিব বসিয়ে শঙ্খ ঘোষ বলেছেন- “আজকের দিন যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আছে কাল, একশো মুজিব যদি মিথ্যে হয় তবুও থাকে সত্য।’
অনুরূপ ভাবে মহাদেব সাহাও কবি জীবনানন্দ দাশের পঙক্তি মিলিয়ে বলেছেন-
আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়/ কোন শঙ্খচিল নয় শেখ মুজিবের বেসে/ হেমন্ত কুয়াশা ঘেরা এই প্রিয় মানুষের দেশে....
লেনিন শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত পাকিস্তানি কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ শেখ মুজিবকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন কিনা জানি তা, তবে তিনি এবং এয়ার মার্শাল (অবঃ) আজগর খান ১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর শেখ মুজিবের মক্তির দাবিতে এক যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। বাংলাদেশের হত্যাকান্ড দেখে ভীষণ মর্মাহত হয়ে লিখেছেন তিন-তিনটি কবিতা। যা ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের নির্বাচিত কাব্য গ্রন্থে অন্ত র্ভূক্ত আছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি আহমেদ সালিম পাঞ্জাবি ভাষায় ‘বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক এবং সোনার বাংলা’ শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কবিতা লিখেন..... সব আলো গেল নিভে/ অপমানিত হল সূর্য। বিভক্ত হল পাকিস্তান’ ...সেই অপরাধে সামরিক জান্তা তাঁকে গ্রেফতার করে এবং ৯ মাস পর ‘৭২ সালের জানুয়ারি মাসে মুক্তি দেয়: “লাহোর ডিস্ট্রিষ্ট জেলে বসে তিনি আরো একটি কবিতা লেখেন ‘সিরাজউদ্দৌলাহ ধোলা’ শিরোনামে এবং এই কবিতাটি উৎসর্গ করেন শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। এই কবিতায় তিনি সিরাজউদ্দৌল্লাহ ও শেখ মুজ্বিুর রহমানকে স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে একই সমান্তরালে স্থাপন করে বর্ণনা করেন যে, স্বদেশি মীরজাফরদের (অর্থাৎ রাজাকার আল বদরদের) সহযোগিতার কারণে রক্তস্নাত হল বাংলাদেশ।”
উল্লেখিত দু’জন ছাড়াও সিন্ধু কবি শেখ আরজ, বালুচ কবি আজমল ঘটক, পাঞ্জাবি কবি হাবীব জাহেলসহ প্রায় ৫০জন কবি লেখক মুজিবের মুক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন জানিয়ে ছিলেন।
জানা গেছে, ইউরোপের এক কবি ‘টাইগার অব বেঙ্গল’ আখ্যায়িত করে শেখ মুজিবকে কবিতায় উপমা হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
ভারতের উর্দু কবি কাইফি আজমী “বাংলাদেশ” শিরোনামে ১৯৭১ সালে একটি কবিতা লিখেন, যার ভেতর শেখ মুজিবের ছবি ভেসে উঠেছে। কবি নির্মলেন্দু গুণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে কবি এ্যালেন গীনসবার্গকে শেখ মুজিবকে নিয়ে একটি কবিতা লেখার অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশী বংশো™ভুত অস্ট্রোলিয়ান নাগরিক আবিদ খান তার ‘সিজনাল এডজাস্টমেন্ট' শিরোনামে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা উপন্যাসটি ১৯৯৫-এ কমনওয়েলথ লেখক পুরস্কার পান। এ গ্রন্থে প্রসঙ্গ ক্রমেই এসেছেন শেখ মুজিব।
আরেক মার্কিন সাংবাদিক এবং ঔপন্যাসিক এ্যানি লোপা স্মৃতিচারণ করে বলেছেন- “শেখ মুজিবের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিলো ঘরোয়া পরিবেশে। একবারও মনে হয়নি এত বড় একজন নেতার সামনে বসে আছি। বন্ধু সুলভ মুজিব নিজে চা-এর কাপ তুলে দিলে আমার হাতে। এমন অসাধারণ মনের পরিচয় পাওয়া কঠিন। ... আমার সাংবাদিক জীবনে পৃথিবীর নানা দেশ ঘুরেছি, বহু নেতা-নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, কিন্তু বাংলাদেশের শেখ মুজিবের মত এমন সহজ-সরল মানুষ আর পাইনি।’
বঙ্গবন্ধু বহিবির্শ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলে ছিলেন। এবং তিনিও বাংলাদেশের চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন। লেখকদের লেখায় এরকম দৃষ্টান্ত প্রচুর। তার দু’ একটি নমুনা নিম্নরূপঃ
ক. রশীদ হায়দার রেমান, মুজিবুর রেমান’ শিরোনামে এক লেখায় বলেছেনঃ “১৯৭৯ সালে নিউইয়র্কে আশি বৎসরের এক বৃদ্ধা আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন দেশ থেকে এসেছো? ... দেশের নাম, মহাদেশের নাম বলেও বৃদ্ধাকে দেশকে চেনানো গেল না, পরে ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হলে মহিলা স্মৃতি হাতড়িয়ে বললেনঃ ÒOh! yes, yes, I remember, I remember, Your great leader was Reman, Mujibur Reman’’
খ. শেখ মুজিব অনেক অসুস্থ কবি-সাহিত্যিকদের সু-চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মহাদেব সাহা অন্যতম। বার্লিনে চিকিৎসাকালীন সময়ে আরেকটি চিত্র পাওয়া যায়, ‘আমি কি বলতে পেরেছিলাম’ কবিতায় : “তাই আমার কাছে বার্লিনে যখন একজন ভায়োলিন বাদক/ বাংলাদেশ সম্বদ্ধে জানতে চেয়েছিলো/ আমি আমার দু’পকেট থেকে ভাঁজ করা একখানি দশ/ টাকার নোট বের করে শেখ মুজিবের ছবি দেখিয়েছিলাম/ বলেছিলাম, দেখো এই বাংলাদেশ।”
গ. অনুরূপ আরেকটি ঘটনা জানা যায়, আবু জাফর শামসুদ্দিন তার ‘আরেক ভুবনঃ সোভিয়েত ইউনিয়ন’ গ্রন্থ থেকে- “ফারগানা সেচ বাঁধ থেকে আন্দিকান ফিরে যাচ্ছি। ...যুবকটি ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কোন দেশের লোক? আমি বললাম, ‘বাংলাদেশ আমার দেশ’। আমার উত্তরটি শোনামাত্র তিনি অন্তরঙ্গ উষ্ণতার সঙ্গে বললেন, `O, Sheik Mujibur Rahman's Bangladesh" এভাবেই তিনি বহির্বিশ্বে সুপরিচিত ছিলেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিশ্বের খ্যাতিমান অনেক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন। যেমন- ক. নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রান্ট বলেছেন,“মুজিব হত্যার পর বাঙ্গালীদের আর বিশ্বাস করা যায় না।’ খ. ফিদেল ক্যাষ্ট্রো বলেছেন, “শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারালো তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে।’ গ. হেনরী কিসিঞ্জার বলেছেন, “আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবের মত তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী ২০০ বছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না।’ যদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিসিঞ্জার বিতর্কিত ব্যক্তি।
বিশ্বের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাগুলোও শেখ মুজিবের ভালো-মন্দ তুলে ধরেছেন। স্বদেশ রায়ের ‘একাত্তরে বিশ্বের বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থে গুণাবলীর অর্থাৎ প্রশংসার অনেক কথাই রয়েছে। আবার হাসনাত করিমের ‘বিদেশী সাংবাদিকদের দৃষ্টিতে শেখ মুজিবের বাংলাদেশের’ সংকলনটি এক তরফাভাবে মুজিবের নিন্দার দিকগুলোই বর্ণিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ১৯৭৪-এর ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীতে সাহিত্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছিলেন অনেক লেখক- কবি- সাহিত্যিক। তাদের অনেকের লেখাতেই প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
http://www.thebengalitimes.com
মূল লেখা ও লিংক
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

