Through wisdom, a bodhisattva perceives the real truth and lack of truth in the world. This is how living beings are relieved of their unbearable burden of pain.
প্রজ্ঞাপারমিতা-মহাযান পন্থায় বোধিসত্ত্বের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।
মহাযান পন্থা কি?
বৌদ্ধধর্মের দুটি মূল ধারার একটি মহাযান; অন্যটি হীনযান। “মহা” অর্থ মহৎ এবং “যান” অর্থ মার্গ, উপায় বা শকট। বুদ্ধ নির্দেশিত নির্বাণে উপনীত হতে যে মহৎ মার্গ বা উপায় অবলম্বন করা হয় তারই নাম মহাযান। বুদ্ধের পরিনির্বাণের পরে বৌদ্ধ সংঘে সংঘাত শুরু হয়। তাঁরা থেরবাদ এবং মহাসাংঘিক- এ দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে এ দুটি ধারা থেকে আবার মোট আঠারোটি ধারার উদ্ভব হয়, যার একটি মহাযান পন্থা। এটি মহাসাংঘিক ধারার অর্ন্তভুক্ত।
বোধিসত্ত্বই বা কি?
মহাযানপন্থিরা বোধিসত্ত্ব মতবাদে বিশ্বাসী। বোধিসত্ত্ব হচ্ছেন তিনি, যিনি বারবার জন্মগ্রহন করেন এবং অপরের পাপ ও দুঃখভার গ্রহন করে তাদের আর্তি দূর করেন। তিনি একা নির্বাণ বা মুক্তি লাভ না করে বরং জগতের সকলের মুক্তির জন্য কাজ করেন এবং প্রত্যেক জীবের মুক্তি অর্জনের পর তিনি পরিনির্বাপিত হন। মহাযানের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে এই বোধিসত্ত্বের আদর্শ অর্জন করা।
তখন বলছিলাম-প্রজ্ঞাপারমিতা হল মহাযান পন্থায় বোধিসত্ত্বের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। এই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য অবলম্বন করে মহাযানী বৌদ্ধদের পবিত্র গ্রন্থ “প্রজ্ঞাপারমিতাসূত্র: রচিত হয়েছে। এই নামে অবশ্য মহাযানী বৌদ্ধদের একজন দেবীও রয়েছেন। “প্রজ্ঞা” শব্দের অর্থ পারমার্থিক জ্ঞান এবং “পারমিতা” অর্থ পরিপূর্নতা। ভাবী বুদ্ধ বোধিসত্ত্বের পক্ষে এ জ্ঞানের পূর্ণতা অর্জন একান্ত অপরিহার্য।
মহাযানে পারমিতা ছয়টি:
দান
শীল
ক্ষান্তি
বীর্য
ধ্যান ও
প্রজ্ঞা
দান হচ্ছে বোধিসত্ত্ব কর্তৃক সকল জীবের হিতার্থে নিঃশেষে দান। এতে জাগতিক বিষয়ের প্রতি তাঁর স্বত্ত্বরোধ বিলুপ্ত হয়।
শীল হচ্ছে কায়িক,বাচনিক ও মানসিকভাবে সমস্ত গর্হিত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এতে আত্মসংযম অর্জিত হয়।
ক্ষান্তি মানে ক্ষমা।
বীর্য হচ্ছে যে কোনও ভালো কাজে উৎসাহ।
ধ্যান হচ্ছে পারমার্থিক জ্ঞানার্জনের পূর্ববর্তী সহায়ক কর্ম।
প্রজ্ঞা হচ্ছে সেই জ্ঞান যার উদয়ে বোধিসত্ত্ব জগতের অনিত্যতা, প্রকৃত সত্যাসত্য ইত্যাদি অনুভব করতে পারে। এর প্রভাবেই জীবের দুঃখরাশির উপশম হয়।
বৌদ্ধ পাল রাজারা চারশ বছর বাংলা শাসন করেছিল। তারপরে বহিরাগত সেনেরা এসে তাদের উৎখাত করেছিল। পাল আমলের চারশ বছরের অবিরল সুখশান্তির উৎসও ছিল ওই প্রজ্ঞাপারমিতা। মুসলিম-পূর্ব বাংলায় পরম নৈতিকতার ভিতও ছিল ওই প্রজ্ঞাপারমিতা।
বাউলমতের ওপর মহাযানী বৌদ্ধধর্মের প্রভাব পড়েছিল।
প্রজ্ঞাপারমিতা আসলে বাউলেরই ধর্ম।
দান
শীল
ক্ষান্তি
বীর্য
ধ্যান ও
প্রজ্ঞা
হ্যাঁ। প্রজ্ঞাপারমিতা আসলে বাউলেরই ধর্ম।
আসলে প্রজ্ঞাপারমিতা ছিল সোনার বাংলার অলিখিত মানবিক সংবিধান।
সূত্র: রেবতপ্রিয় বড়ুয়া। বাংলাপিডিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


