এক. মা মেরি।
দুই. সাধু পল।
মা মেরি যিশুকে জন্ম দিয়েছেন।
সাধু পল যিশুর শিক্ষাকে পুর্নজন্ম দিয়েছেন।
কী ভাবে?
সাধু পলের জীবন পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্বচ্ছ হবে।
সাধু পলের জন্ম হয়েছিল তারসাস-এ।
তো, কোথায় তারসাস?
তারসাস জায়গাটা ছিল বর্তমান তুরস্কের দক্ষিণে। তুরস্ক মানে এশিয়া মাইনর। তারসাসের লোকের মুখের ভাষা ছিল গ্রিক; তার মানে তারসাস ছিল একটা গ্রিক উপনিবেশ। যে সময়ের কথা বলছি, সে সময় অনেক গ্রিক উপনিবেশ এজিয়ান সমুদ্রের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।
যা হোক। সবে প্রথম শতাব্দী আরম্ভ হয়েছে; মাত্র ১০ বছর কেটেছে। সেই সময় তারসাস বন্দরের এক কট্টর ইহুদি পরিবারে পলের জন্ম হল। তারসাস ছিল রোমান সাম্রাজ্যভূক্ত । পলের পরিবার ছিল অভিজাত। পরিবারটি রোমান নাগরিকত্ব লাভ করেছিল। পলের বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে ইহুদি ধর্মের ওপর পান্ডিত্য অর্জন করবে।
পলের বয়স হলে তিনি ছেলেকে জেরুজালেম পাঠালেন।
পলের শিক্ষা আরম্ভ হল জেরুজালেমের বিশিষ্ট এক ইহুদি পন্ডিতের কাছে।
জেরুজালেমের তখন সদ্য ক্রশবিদ্ধ যিশুর অনুসারী, অর্থাৎ নব্যখ্রিস্টানদের সংখ্যা বাড়ছিল। পল নব্যখ্রিস্টানদের ওপর ভয়ানক ক্রদ্ধ ছিল। নব্য খ্রিস্টানদের নিষ্ঠুরভাবে দমনের জন্য যা যা করার দরকার ছিল পল সেসব করতে পিছপা ছিল না। সেই সময় স্তেফেন নামে একজন বিশিষ্ট খ্রিস্টানকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়েছিল প্রকাশ্য দিবালোকে জেরুজালেম নগরে। পলের সেই হত্যাকান্ডে সমর্থন ছিল।
এ সময় তিনি একবার দামাস্কাস রওনা হলেন। উদ্দেশ্য, ওখানকার নব্যখ্রিস্টানদের নির্যাতন করা।
দামাস্কাস যাবার পথে একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটল।
যা পলের জীবনকে আমূল বদলে দিল।
কী হল পথে?
দামাস্কাস যাওয়ার পথে এক জায়গায় পলের চোখ ধাঁধিয়ে গেল তীব্র আলোয়।
কার কন্ঠস্বর শুনতে পেলেন পল। “পল, পল। তুমি আমায় নির্যাতন করছ কেন?
পল চমকে উঠলেন। কে আপনি!
আমি যিশু।
ব্যস। পলের জীবন আমূল বদলে গেল।
তর পর থেকে তিনি যেন কেমন হয়ে গেলেন।
ভীষন চিন্তামগ্ন হয়ে দামাস্কাসের পৌঁছলেন। সেখানে খ্রিস্টানদের নির্যাতন করা তো দূরের কথা- তাদের দ্বারা যিশুর ধর্মে দীক্ষিত হলেন।
দামাস্কাসের নব্য খ্রিস্টানদের সান্নিধ্যে বছর তিনেক থাকলেন।
পরে যখন তিনি তার জন্মনগর তারসাস-এ ফিরে এলেন; তখন তিনি পুরোপুরি খ্রিস্টভক্ত।
নতুন নাম গ্রহন করলেন। পল। নতুন নাম গ্রহন করে বেরুলেন ধর্মপ্রচারে । প্রথমে এশিয়া মাইনর। তারপর এজিয়ান সমুদ্রের আশেপাশের গ্রিক সম্প্রদায়। তারপর সাইপ্রাস দ্বীপে। যেখানেই তিনি গেলেন নব্য খিস্টানদের দ্বারা অর্ভ্যথনা পেলেন। সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) ধর্মপ্রচার করলেন।
সিনাগগে?
হ্যাঁ। কেননা, খ্রিস্টানরা তখনও ইহুদি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত ছিল, তখনও গির্জার ধারনা গড়ে ওঠেনি।
সাধু পল নব্যদীক্ষিত খ্রিস্টান ও অখ্রিস্টান-এই দুপক্ষের কাছেই খ্রিস্টের বানী পৌঁছে দিতেন।
ইহুদিরা রোমান সাম্রাজ্যে শান্তিপূর্নভাবে বেশ সুখে-শান্তিতেই বাস করছিল। বিপদের আশংকায় সাধু পল তাদের কাছে হয়ে উঠলেন চক্ষুশূল। প্রায়শ তারা সাধু পলকে নগর থেকে বার করে দিত। একবার তো তারা তাঁকে ৪৯ বার চাবুক মারল। ৪৯ বার। কেননা, ৫০ বারের বেশি চাবুক মারার যে নিয়ম নেই ইহুদিদের শাস্ত্রে!
সাধু পল সবই মুখ বুঁজে সহ্য করলেন। কেননা, তাঁর কাছে যিশু সত্য। দামাস্কাস যাওয়ার পথে এক জায়গায় চোখ দুটি ধাঁধিয়ে গিয়েছিল তীব্র আলোয়। প্রভু যিশুর কন্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিলেন পল। “পল পল তুমি আমায় নির্যাতন করছ কেন?” দুঃখ-যন্ত্রনার সময় সেই স্বর্গীয় কন্ঠস্বর স্মরণ করে নিজেকে শান্তুনা দিতেন তিনি।
৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রিসে গেলেন। জায়গাটার নাম থেসালোনিকা। জায়গাটা এখনকার নাম অবশ্য সালোনাইকে। থেসালোনিকায় পরপর তিনটে সাবাথ-এর দিনে ইহুদিদের ধর্মাপোদেশ দান করলেন সাধু পল। বললেন যে, যিশুই একমাত্র উদ্ধারকর্তা। মেজেজের বিধান পুরনো হয়ে গেছে। তোমরা সব যিশুর পবিত্র ছায়ার নিচে আস।
আসলে অল্প সংখ্যক ইহুদিই পলকে বিশ্বাস করেছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রোমান প্রশাসকের কাছে গিয়ে সাধু পলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করল যা এর আগে যিশুর বিরুদ্ধেও করা হয়েছিল .... this man is an affront to Caesar, for he claims that there is another king. Paul makes a timely escape and moves south to Athens.
সাধু পল প্রমাদ গুনলেন। এখনও প্রচারকার্য বাকি। এখন ফেঁসে যাওয়া ঠিক হবে না। তিনি টিমোথি নামে এক শিষ্যকে থেসালোনিকায় রেখে নিরাপদে কোরিন্থ পৌঁছলেন।
এর কিছু দিন পর থেসালোনিকা থেকে ফিরে এসে কিছু সমস্যার কথা বলল টিমোথি। টিমোথি বলল যে- থেসালোনিকায় যিশুর শিক্ষা নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।
সাধু পল তখন কী ভাবলেন। তারপর থেসালোনিকাবাসীর উদ্দেশ্যে দীর্ঘপত্র লিখতে বসলেন।
এটিই নিউ টেস্টামেন্টের আদি টেক্সট। গ্রিক ভাষায় পেপিরাস-এর উপর লিখেছিলেন সাধু পল - Paul begins with fraternal greetings; then he praises the Thessalonians for their devotion to God and his son Jesus; he exhorts them to be steadfast in suffering for the cause; he slips in a reminder that they must abstain from fornication; then he gives them the crucial assurance that dead Christians will enter heaven (indeed they will rise from their graves and ascend before the living at the last trump). He ends with a warning. The final moment may come at any time. Be well prepared.
এ লেখার প্রারম্ভে বলেছিলাম, সাধু পল যিশুর শিক্ষা পুর্নজন্ম দিয়েছেন।
৫৫ খ্রিস্টাব্দ। পল জেরুজালেম পৌঁছলেন।
অনেক ইহুদিই সদয় ছিল সাধু পলের ব্যাপারে। তারা ভেবেছিল সুকঠোর ইহুদিনীতি সামান্য নমনীয় করাই ছিল সাধুর উদ্দেশ্য। অন্যরা অবশ্য ক্রদ্ধ হয়ে বলল যে, পল আমাদের বিশ্বাসের জগৎ ধ্বংস করতে এসেছে। ওকে ধ্বংস কর।
অবস্থা এভাবে বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছল।
একদিন। জেরুজালেম-এর একটা সিনাগগে প্রার্থনায় রত ছিলেন সাধু পল। ঠিক তখনই একদল অসহিষ্ণু ইহুদি লাঠিসোটা নিয়ে হুড়মুড় করে সিনাগগে ঢুকে তাঁকে লাঞ্ছিত করল।
পরে অবশ্য রোমান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এসে তাঁকে রক্ষা করেছিল।
রোমান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন বছর দুয়েক সাধু পলকে নিজেদের কাস্টডিতে রাখল।
কেননা, ইহুদি স¤প্রদায়ের কাছে হস্তান্তরিত করলে সাধু পলের মৃত্যু ছিল অনিবার্য। রোমান নাগরিক হিসেবে অবশ্য রোমান সম্রাট সিজারের কাছে আপিল করতে পারতেন তাঁর বিচার কার্য রোমে স্থানান্তর করার জন্য। অবশেষে তাই করলেন তিনি।
বন্দি হিসেবেই রোমের উদ্দেশে জাহাজে উঠলেন।
খ্রিস্টাব্দ ৬০। রোমে পৌঁছলেন সাধু পল।
ভাড়া বাসায় বছর দুয়েক থাকলেন রোমে। বিচার চলছিল। কৌতূহলী লোকেরা তাঁর কাছে আসত। সাধু পল তাদের যিশুর অলৌকিক মাহাত্মের কথা বলতেন।
এরপরের ঘটনা অবশ্য স্বচ্ছ নয়।
পলের মৃত্যু নিয়ে বির্তক আজও চলছে। কারও মতে সম্রাট নিরোর সময়ে ৬৪ খ্রিস্টাব্দে রোমে যে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটেছিল তাতেই পল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। কারও কারও মতে রোমান সম্রাট নিরোই তাঁর শিরচ্ছেদ করেছিল। কারও মতের মৃত্যুর বছর অনুমান করা হয় ৬২।
তবে তাঁর মৃত্যু যেভাবেই হোক না কেন- যিশুর বাণী প্রচার করতেই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল।
সেই কতকাল আগে দামাস্কাস যাওয়ার পথে যিশুর অলীক কন্ঠস্বর শুনে এক বিপদজনক জীবন বেছে নিয়েছিলেন সাধু পল।
তারপর নিজের জীবনের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিলেন প্রভু যিশু।
লিঙ্ক:
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


