নিৎসে যে ঈশ্বরের বিশ্বাস করতেন না সে কথা এই বইতে আছে। নিৎসে ঘোষনা করেছিলেন ঈশ্বর মৃত। আর এক অতিমানবের আগমন আসন্ন। যে জন্ম দেবে এক নবতর নৈতিকতা ...
২.
প্রাচীন পারস্যে অগ্নিউপাসক ধর্মপ্রবক্তা জরথুশত্রর বয়ানে দর্শন নৈতিকতা সম্বন্ধে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন নিৎসে; যদিও বাইবেলে বিশ্বাস করতেন না নিৎসে- আশ্চর্য এই- Thus Spake Zarathustra বইটির রচনাভঙ্গিমা সেরকমই, অর্থাৎ, বাইবেলিয়।
৩
নিৎসের জরথুশত্রকে পছন্দ হওয়ার কারণ আছে। জরথুশত্রর জন্ম-অনুমান করা হয়-যিশুর জন্মের ১২/১৩ শ বছর আগে। তো, সেই সময় পারস্যে চলত সূর্যদেব মিথ্রার উপাসনা। উপাসনায় নানাবিধ প্রাণি বলি দেওয়া হত। আলোর দেবতা আহরু মাজদার ইঙ্গিত পেয়ে প্রাণিহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন জরথুশত্র। এভাবে পারস্যের প্রাচীন সমাজে এক নবতর নৈতিক ভিত্তি দাঁড় করিয়েছিলেন মহান জরথুশত্র। কেননা, জরথুশত্রর ধর্মেই আমরা প্রথম পাই -মিথ্যে কথা বলার বিরুদ্ধে প্রবল হুঁশিয়ারি ও দরিদ্র জনগনের জন্য আন্তরিক কল্যাণভাবনা।
৪.
Thus Spake Zarathustra বইটি ১৮৮ ৩১৮৮৫ সালের মধ্যে লিখে শেষ করেছিলেন নিৎসে। জার্মান গদ্যের এক উৎকৃস্টতর নমুনা নাকি এটি। কী এক মহাঘোরের বশবর্তী হয়ে লিখেছেন নিৎসে-কী এক প্রচন্ড উন্মাদনায়।
৫.
নিৎসে ঘোষনা করেছিলেন ঈশ্বর মৃত। এই দাবীর সূক্ষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। আসলে ঈশ্বরের মৃত্যু হয় নাই। মৃত্যু হয়েছে ঈশ্বরের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের। উনিশ শতকের মানুষ যন্ত্রদেবতার পেষনে এমনই যন্ত্রনাকাতর এলিয়েনেটেড যে-তার আর ঈশ্বরে বিশ্বাস নাই। সে অসহায় মানুষ নির্লিপ্ত ঈশ্বরে বিশ্বাস করে কী করবে!
৬.
সে যাই হোক। নিৎসে যে ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন-তা আজও পূরিত হয়নি।
অতিমানবের বদলে সভ্যতা দেখেছে যুদ্ধবাজদের উত্থান! (বুশ ও হিটলার)
সৎ নৈতিকতার বদলে দেখেছে পুঁজিবাদের যৌনবিপ্লব! (পর্নোগ্রাফির সুলভ প্রচার)
ধনের সমবন্টনের বদলে দারিদ্র আর প্রাচুর্যের বৈপরীত্য! (দরিদ্র এশিয়া-আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা)
৭.
তবে নিৎসের স্বপ্ন আজ বিশ্বাসীদের মনে নিভু নিভু আশার আলোর মতন রয়ে গেছে এবং তা রুপ লাভ করেছে যিশুর দ্বিতীয় আগমনে ও ইমাম মাহদির জন্য অপেক্ষায়।
না। মানুষের মনে ঈশ্বরে বিশ্বাস আজও মরে যায়নি, বরং, আরও তীব্র হয়েছে। কেননা, এ গ্রহটি আজও মানুষের আয়ত্বে এল না; গ্রহটি আজও আদিম পৃথিবীর সমস্ত হিংস্রতা নিয়ে টিকে রয়েছে।
৮.
তবে, নিৎসের অতিমানবের অন্যরকম ব্যাখ্যাও রয়েছে।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো স্যাবেজ নিৎসেকথিত আতিমানব নন তো?
তিনি কেন প্রবল পুঁজিবাদী স্রোতে গা না ভাসিয়ে দেশটির আপামর গরিব জনগনের কল্যানে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে গেলেন? তিনি কি জানতেন না যে গরিবের পাশে দাঁড়ালে পেন্টাগনের মার্কিন কর্মকর্তারা তাঁকে হত্যা করার নীলনকশা আকঁবে?
ওমনই এক নীলনকশা অনুসরন করেই তো জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাঙালি এক অতিমানবের '৭৫-এ।
৯.
উনিশ শতকে বসে এরকম সব অতিমানবের ছবি একেঁছেন বলেই নিৎসে আজও অগ্রহনীয় নয় বলেই মনে করি।
পুনশ্চ:
ষাটের দশকেই এই বইটির বাংলায় অনূদিত হয়েছিল। সেই অনুবাদেও প্রচন্ড নিৎসীয় আবেগের থরথর কম্পন টের পাওয়া গিয়েছিল।
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


