চৈনিক ‘তাও’ শব্দটার কিন্তু অনেক মানে হয়। তার মধ্যে একটা হল- ‘পুণ্য’ । ঈশ্বরও হয়। আমি আগেও বলেছি যে তাওগুরু লাওৎ-সের মতামত লিখে রাখা হয়েছে ‘তাও তে চিং’ নামে ছোট একটা বইতে। বইটাকে বাংলায় বলা যায়, ‘পুণ্য পথের নিয়ম।’ বা 'ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর উপায়।'
আজ বইটার প্রথম অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করছি। প্রথম অধ্যায়ে তাও বা পুণ্য বা ঈশ্বর প্রসঙ্গে বলেছেন লাওৎ-সে। যার কিছু বোঝা গেলেও- আধুনিক কবিতার মতন যার অনেক কিছুই বোঝা যাবে না। সে কারণে, আগেভাগেই বলে রাখছি; শেষাবধি, লাওৎ-সে যে একজন আধুনিক কবি, তাই প্রমাণ হবে দেখবেন।
‘তাও তে চিং’ বইটির প্রথম অধ্যায়ে লাওৎ-সে লিখেছেন-
The Tao that can be told is not the eternal Tao.
The name that can be named is not the eternal name.
The nameless is the beginning of heaven and Earth.
The named is the mother of the ten thousand things.
Ever desireless, one can see the mystery.
Ever desiring, one sees the manifestations.
These two spring from the same source but differ in name; this appears as darkness.
Darkness within darkness.
The gate to all mystery.
এবার দেখি এই ১০টি চরণের ব্যাখ্যাবিশ্লেষন সম্ভব কি না।
The Tao that can be told is not the eternal Tao. তার মানে, শাশ্বত পুণ্য (বা ঈশ্বরের) সম্বন্ধে ধারণা সম্ভব নয়। গ্রিক Sophist দার্শনিক Gorgias একবার বলেছিলেন- that nothing really exists, that if anything did exist it could not be known, and that if knowledge were possible, it could not be communicated. লাওৎ-সের কথা শুনে
Gorgias-এর সেই কথা মনে পড়ে যায়। একটা প্রশ্ন অনেক আগেই উত্থপন করা হয়েছিল-ঈশ্বর নিরাকার হলে তাকে জানা সম্ভব কি না। লাওৎ-সে বলেছেন-The name that can be named is not the eternal name.তা হলে ঈশ্বর কি ঈশ্বর নয়? নস্টিক মতবাদে ঈশ্বরেরও ঈশ্বর রয়েছে। সেসব কথা পরে বলব। স্পস্ট বোঝা যাচ্ছে যে লাওৎ-সে এক অনির্বচনীয়ের ইঙ্গিত করছেন। The nameless is the beginning of heaven and Earth.জগতের প্রতিটি ধর্ম তাই বলে। ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। The named is the mother of the ten thousand things. এই ten thousand things-এর ব্যাখ্যা দরকার। প্রাচীন কালে চৈনিকরা মনে করত যে জগতে রয়েছে ten thousand things বা জগৎ thousand things দিয়ে তৈরি। mother শব্দটি লক্ষণীয়। 'জনক' বা 'সৃষ্টিকর্তা' বলা হয়নি। লাওৎ-সের অন্য লেখাতেও নারী ভাবনা প্রাধান্য পেয়েছে। এখানে বলে রাখছি, নারীবাদীদের জন্য অনেক ইঙ্গিত রয়েছে 'তাও তে চিং' বইতে। Ever desireless, one can see the mystery. আকাঙ্খাশূন্য হলেও তবে রহস্য জানা যায়। এমন ধারনা আমাদের ধর্মীয় চিন্তাজগতে রয়েছে।ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। Ever desiring, one sees the manifestations. তা হলে আকাঙ্খা ও প্রকাশের সম্পর্কটা স্পস্ট নয়? These two spring from the same source but differ in name; this appears as darkness. Darkness within darkness. The gate to all mystery. রহস্য এখানেই। লাওৎ-সে বলতে চেয়েছেন-আকাঙ্খা ও আকাঙ্খাশূন্যতার উৎস একই। কেবল নাম আলাদা। যা অন্ধকারের মত প্রতিভাত হয়। অন্ধকারের ভিতর অন্ধকার। সমস্ত রহস্যের দ্বার। কাজেই, লাওৎ-সে কে একজন আধুনিক কবি বলেই সাব্যস্ত করি না কেন!
আর, একটা কথা। আমি আসলে লাওৎ-সে ব্যাখ্যা করতে বসিনি। প্রিয় বলে পাঠ করছি কেবল। পাঠ করতে করতে ভাবনাগুলি লিখে রাখছি শুধু। কেননা, কবিতার ব্যাখ্যা তো সম্ভব না। বস্তুত, প্রমাণ হয়ে গেল- লাওৎ-সে তো কবিই, আধুনিক কবি।
আকাঙ্খা ও আকাঙ্খাশূন্যতার উৎস একই।
কেবল নাম আলাদা। যা অন্ধকারের মত প্রতিভাত হয়।
অন্ধকারের ভিতরে অন্ধকার।
যা সমস্ত রহস্যের দ্বার।
লাওৎ-সে একজন আধুনিক কবি ছাড়া আর কী!
ইংরেজি অনুবাদ করেছেন: Gia Fu Feng
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


