somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী

৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্যার জগদীশচন্দ্র বসু।
১৯২৭ সালে লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস লিখেছিল,জগদীশচন্দ গ্যালিলিও ও নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী। রেডিও আবিস্কারের কৃতিত্বটা এক ইতালিওকে দেওয়া হলেও আমরা জানি তার বিহীন সংযোগের (বেতার) কল্পনা প্রথম কে করেছিলেন।

মুন্সিগঞ্জের রাঢ়িখাল। ১৮৫৮। ৩০ নভেম্বর। বসু পরিবার এতদ্বঞ্চলে এক বিশিষ্ট শিক্ষিত পরিবার। সেই পরিবারে আজ সুখ আর আনন্দপ্লাবন। সে বাড়িরই এক বউ বামাসুন্দরী। তার আজ এক ছেলে হয়েছে। বামাসুন্দরীর দেবীর স্বামী ভগবানচন্দ্র বসু । ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুরের ম্যাজিস্ট্রেট। দিনকয়েক পর সুসংবাদ শুনে আড়াই মন মিষ্টি নিয়ে তিনি ফরিদপুর থেকে চলে এলেন রাঢ়িখালে । বড়ই আনন্দিত ভগবানচন্দ্র বসু । পুত্রমুখ দর্শনে কার না সুখলাভ হয়।
অন্নপ্রাসন্নের দিনে ছেলের নাম রাখা হল জগদীশ।
বসু পরিবারের এক অশিতিপর বৃদ্ধ বললেন, দেখ কালে কালে এ ছেলের নাম ছড়াবে।
তাই হয়েছিল কিন্তু।
ছোটবেলা থেকেই বালক জগদীশ কেমন শান্ত। চুপচাপ। আর অনুধ্যানশীল। কলকবজায় ভারি আগ্রহ। যন্ত্রের কলকবজা খুলে খুলে দেখে। একবার বাড়ির একটি পুরনো ওয়ালক্লক সারিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল। আরেকবার ছাদে বৃষ্টির পানি জমিয়ে সে পানি কী ভাবে যেন স্নানঘরে নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল।
তো, রাঢ়িখালে নয়-বালক জগদীশের স্কুলজীবন কেটেছিল ফরিদপুরে।
ভগবানচন্দ্র বসু ছেলেকে ফরিদপুরের বাংলা স্কুলে ভরতি করিয়ে দিলেন। ছেলের প্রতিভা টের ঠিকই পেয়েছিলেন ওই প্রাজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটটি। ছেলেকে কোলকাতা পড়াবেন বলে ঠিক করলেন। কেননা, ওই শহরটিই তো তখন ছিল দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাদীক্ষার পবিত্র তীর্থ। কত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় যে ছিল তখন ওই শহরটায়।
১৮৭৯। কোলকাতার ডেভিড হেয়ার স্কুলে ভর্তি হল জগদীশ।
পরে অবশ্য ওখান থেকে সেন্ট জেভিয়ার স্কুলে।
ওই সময়েই একবার জগদীশ ওর বাবাকে বলল, বাবা। আমার মনে হয় গাছের প্রাণ আছে।
বলিস কী! ভগবানচন্দ্র বসু তো রীতিমতো ঘাবড়ে গেলেন।
হ্যাঁ। আমার সেরকমই বোধ হয়। আমি বাগানে ঘুরে ঘুরে বাকলে কান পেতে টের পেয়েছি।
কথাটা ... কথাটা তুই প্রমান করতে পারবি জগ? ভগবানচন্দ্র বসু বুকখানি ধকধক করছিল।
খুব পারব, বাবা। আমার আরও ভাবতে হবে।
ভাব। গাছের প্রাণ আছে, কথাটা তুই যদি প্রমাণ করতে পারিস, তালে ... তালে, বাঙালির মেধায় জগৎ তাক লেগে যাবে।
১৮৭৫। এনট্রান্স পাশ করল জগদীশ। ভর্তি হল সেন্ট জেভিয়ার কলেজে।
ততদিনে সে মোটামুটি নিসন্দেহ- গাছের প্রাণ আছে।
১৮৭৯ কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলেন বিজ্ঞানে স্নাতক।
সেই ছোটবেলা থেকেই শুরু। তারপর জীবনভর নানান বৈজ্ঞানিক যন্ত্র তৈরি করেছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু। যেসব মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য যন্ত্র হল : বেতারপ্রেরক যন্ত্র, বেতারগ্রাহক যন্ত্র, অণুতরঙ্গগ্রাহক যন্ত্র, হর্ন, ফটোসিনথেটিক বাবলার। ইত্যাদি।
গাছের প্রাণ আছে, অনুভূতি আছে এই সত্যেওর আবিস্কর্তা স্যার জগদীশচন্দ্র বসু।
রেডিও আবিস্কারের কৃতিত্বটা এক ইতালিওকে দেওয়া হলেও আমরা জানি তার বিহীন সংযোগের (বেতার) কল্পনা প্রথম কে করেছিলেন।
এই মহান বিজ্ঞানী মারা যান ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর। বিহারের গিরিডিটিতে
শীতকালীন অবকাশ যাপন করছিলেন। তখন।
আজ স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী।
দূর থেকে প্রণাম।

সূত্র: প্রথম আলো। শনিবারের ক্রোড়পত্র। ছুটির দিনে। ২৯ নভেম্বর। ২০০৮।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭
১৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×