১৯২৭ সালে লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস লিখেছিল,জগদীশচন্দ গ্যালিলিও ও নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী। রেডিও আবিস্কারের কৃতিত্বটা এক ইতালিওকে দেওয়া হলেও আমরা জানি তার বিহীন সংযোগের (বেতার) কল্পনা প্রথম কে করেছিলেন।
মুন্সিগঞ্জের রাঢ়িখাল। ১৮৫৮। ৩০ নভেম্বর। বসু পরিবার এতদ্বঞ্চলে এক বিশিষ্ট শিক্ষিত পরিবার। সেই পরিবারে আজ সুখ আর আনন্দপ্লাবন। সে বাড়িরই এক বউ বামাসুন্দরী। তার আজ এক ছেলে হয়েছে। বামাসুন্দরীর দেবীর স্বামী ভগবানচন্দ্র বসু । ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুরের ম্যাজিস্ট্রেট। দিনকয়েক পর সুসংবাদ শুনে আড়াই মন মিষ্টি নিয়ে তিনি ফরিদপুর থেকে চলে এলেন রাঢ়িখালে । বড়ই আনন্দিত ভগবানচন্দ্র বসু । পুত্রমুখ দর্শনে কার না সুখলাভ হয়।
অন্নপ্রাসন্নের দিনে ছেলের নাম রাখা হল জগদীশ।
বসু পরিবারের এক অশিতিপর বৃদ্ধ বললেন, দেখ কালে কালে এ ছেলের নাম ছড়াবে।
তাই হয়েছিল কিন্তু।
ছোটবেলা থেকেই বালক জগদীশ কেমন শান্ত। চুপচাপ। আর অনুধ্যানশীল। কলকবজায় ভারি আগ্রহ। যন্ত্রের কলকবজা খুলে খুলে দেখে। একবার বাড়ির একটি পুরনো ওয়ালক্লক সারিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল। আরেকবার ছাদে বৃষ্টির পানি জমিয়ে সে পানি কী ভাবে যেন স্নানঘরে নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল।
তো, রাঢ়িখালে নয়-বালক জগদীশের স্কুলজীবন কেটেছিল ফরিদপুরে।
ভগবানচন্দ্র বসু ছেলেকে ফরিদপুরের বাংলা স্কুলে ভরতি করিয়ে দিলেন। ছেলের প্রতিভা টের ঠিকই পেয়েছিলেন ওই প্রাজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটটি। ছেলেকে কোলকাতা পড়াবেন বলে ঠিক করলেন। কেননা, ওই শহরটিই তো তখন ছিল দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাদীক্ষার পবিত্র তীর্থ। কত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় যে ছিল তখন ওই শহরটায়।
১৮৭৯। কোলকাতার ডেভিড হেয়ার স্কুলে ভর্তি হল জগদীশ।
পরে অবশ্য ওখান থেকে সেন্ট জেভিয়ার স্কুলে।
ওই সময়েই একবার জগদীশ ওর বাবাকে বলল, বাবা। আমার মনে হয় গাছের প্রাণ আছে।
বলিস কী! ভগবানচন্দ্র বসু তো রীতিমতো ঘাবড়ে গেলেন।
হ্যাঁ। আমার সেরকমই বোধ হয়। আমি বাগানে ঘুরে ঘুরে বাকলে কান পেতে টের পেয়েছি।
কথাটা ... কথাটা তুই প্রমান করতে পারবি জগ? ভগবানচন্দ্র বসু বুকখানি ধকধক করছিল।
খুব পারব, বাবা। আমার আরও ভাবতে হবে।
ভাব। গাছের প্রাণ আছে, কথাটা তুই যদি প্রমাণ করতে পারিস, তালে ... তালে, বাঙালির মেধায় জগৎ তাক লেগে যাবে।
১৮৭৫। এনট্রান্স পাশ করল জগদীশ। ভর্তি হল সেন্ট জেভিয়ার কলেজে।
ততদিনে সে মোটামুটি নিসন্দেহ- গাছের প্রাণ আছে।
১৮৭৯ কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলেন বিজ্ঞানে স্নাতক।
সেই ছোটবেলা থেকেই শুরু। তারপর জীবনভর নানান বৈজ্ঞানিক যন্ত্র তৈরি করেছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু। যেসব মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য যন্ত্র হল : বেতারপ্রেরক যন্ত্র, বেতারগ্রাহক যন্ত্র, অণুতরঙ্গগ্রাহক যন্ত্র, হর্ন, ফটোসিনথেটিক বাবলার। ইত্যাদি।
গাছের প্রাণ আছে, অনুভূতি আছে এই সত্যেওর আবিস্কর্তা স্যার জগদীশচন্দ্র বসু।
রেডিও আবিস্কারের কৃতিত্বটা এক ইতালিওকে দেওয়া হলেও আমরা জানি তার বিহীন সংযোগের (বেতার) কল্পনা প্রথম কে করেছিলেন।
এই মহান বিজ্ঞানী মারা যান ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর। বিহারের গিরিডিটিতে
শীতকালীন অবকাশ যাপন করছিলেন। তখন।
আজ স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী।
দূর থেকে প্রণাম।
সূত্র: প্রথম আলো। শনিবারের ক্রোড়পত্র। ছুটির দিনে। ২৯ নভেম্বর। ২০০৮।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

