আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

মার্কসবাদের ইতিহাস পড়তে পড়তে অনিবার্যভাবেই আমার লালনের কথা মনে পড়ে গেল

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭

শেয়ারঃ
0 0

মাঝে মাঝে আমি ভাবি: সভ্যতার ইতিহাসে কে প্রথম বললেন যে, ঈশ্বর বাস করেন মানুষের ভিতর। কথাটা যে লালন বিশ্বাস করতেন তা আমরা জানি। কিন্তু, তার আগে? দ্বাদশ শতকের পারস্যের কোন কবি? নবম-দশম শতকের কোনও সুফীসাধক? ভাবলে অবাক লাগে ইউরোপও প্রগতিশীলেরাও ওই একই ধারণায় পৌঁছেছিল। কখন? কার্ল মার্কসের তরুন বয়েসে। জার্মানিতে।

১৮৩৬। কার্ল মার্কস বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এলেন । এর ৫ বছর আগেই হেগেল মারা গেছেন। হেগেলের প্রভাব অবশ্য তখন সারা জার্মানীর শিক্ষিত সমাজে তুঙ্গে। মার্কসও তখন আইন পড়া বাদ দিয়ে রাতদিন হেগেল পড়ছেন। হেগেলের অনুসারীরা ততদিনে দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদল রক্ষণশীল, গোঁড়া; অন্য দলটি র‌্যাডিকাল। হেগেলের র‌্যডিকাল অনুসারীরাই Young Hegelians নামে পরিচিত । মার্কস বলাবাহুল্য র‌্যাডিকাল Young Hegelians দের দলেই যোগ দিলেন।
হেগেলের কাছে ঈশ্বর ছিল Absolute বা পরম মন। বা যৌক্তিক সত্যের নিরঙ্কুশ সমগ্রতা। বা ধারণাগত যৌক্তিকতা। (দর্শনের ভাষা এমনই হবে, করার কিছুই নেই) হেগেল মনে করতেন যে- ঈশ্বরের অবস্থান মানুষের চেতনায়। অনত্র নয়।
ইতিহাসের গতিপথে ঈশ্বর প্রকাশিত হন সীমিত মানব মনে, সামাজিক প্রতিষ্ঠানে। T.Z .Livine লিখেছেন, "God exists only as He is revealed, manifested, externalized, and embodied in human consciousness, in finite minds, in social institutions, in the course of history." ( From Socrates to Sartre. page, 264)
তরুন হেগেলবাদীরা এই যুক্তিতে হয়ে উঠলেন নিরীশ্বরবাদী।
তাদের কথা হল, যে ঈশ্বর কেবলি মানুষের মনে বাস করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্বই নেই।
মানুষ আছে তো ঈশ্বর আছে। নৈলে নাই। ক্ষুদ্র মানুষের ওপর নির্ভরশীল সর্ব শক্তিমান ঈশ্বর।
Young Hegelians আরও একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল। হেগেলের মতে ঈশ্বর বা পরম মনের বিকাশ হয় মানবীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে। সেহেতু মানুষই ঈশ্বর। মানবসত্ত্বাই প্রকৃত স্বর্গীয়। মানুষই ঈশ্বর।
মানুষের পবিত্রতা; তার ঐশ্বিরিক সমমানতা এর আগে ( অন্তত ইউরোপে) অনুভূত হয়নি। কাজেই Young Hegeliansরা বলল, পৃথিবীতে মানুষ বাঁচবে ঈশ্বরের মতন। স্বাধীন। সর্বশক্তিমান হয়ে।
তারা আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
তারা বলল, পৃথিবীকে মানুষ-ঈশ্বরের বাসযোগ্য করার জন্য প্রয়োজন বিশ্ববিপ্লবের।
Ludwig Feuerbach (1804-72) ছিলেন Young Hegelians পাঠচক্রের এক প্রধান পুরুষ। মানুষই যে ঈশ্বর তা একটি বই লিখে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন। বইয়ের নাম, The essence of Christianty. সে বইয়ে Feuerbach বললেন: মানুষের সারবস্তুই (essence) খ্রিস্টধর্মে ঈশ্বরে আরেপা করা হয়েছে। অবশ্যই যা ভ্রান্ত। এখন উচিত ঈশ্বরের essence মানুষে প্রযুক্ত করা। Feuerbach আরও বললেন যে, হেগেল আসলে ভাববাদী। কেননা, হেগেলের পরম মন বা Absoluteই হচ্ছে খ্রিষ্টান ঈশ্বরের ধারনা। হেগেলের মতে Absolute বা পরম হচ্ছে মানুষের ঐতিহাসিক অর্জন। ঈশ্বর সম্বন্ধে হেগেল যা বলেছেন এখন থেকে তা আমাদের ভাবতে হবে মানুষ সম্বন্ধে।



তখন বলছিলাম,কার্ল মার্কস বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এলেন ১৮৩৬ সলে।
১৮৩৬ সালে লালনের বয়স কত?
প্রায় ৬২।
ততদিনে হয়তো-বা লিখে ফেলেছেন-

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না
নড়েচড়ে হাতের কাছে খুঁজলে জনম-ভর মেলে না।

আপন দেহের ভিতর ঈশ্বরকে লালন এভাবেই খুঁজেছেন। বলেছেন,

হাতের কাছে হয় না খবর
কি দেখতে চাও দিল্লি-লাহোর?

প্রখ্যাত লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী লিখেছেন, “বাউলের সাধনা দেহকেন্দ্রিক। তাই চলতি কথায় বাউলের গানকে দেহতত্ত্বের গানও বলা হয়। এই দেহের মধ্যেই “পরম পুরুষ” “সহজ মানুষ” “রসের মানুষ” “অটল মানুষ” “অধর মানুষ” “ভাবের মানুষ” “মনের মানুষ” “অচিন পাখি” বা “সাঁই নিরঞ্জনের” গুপ্ত-অবস্থিতি।” (লালন সাঁইয়ের সন্ধানে। পৃষ্ঠা, ৩৯)
আমরা জানি, লালন বিশ্বাস করতেন যে মানুষের দেহের ভিতর ঈশ্বর বাস করেন।
আর Young Hegeliansরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, মানুষই ঈশ্বর। পৃথিবীতে মানুষ বাঁচবে ঈশ্বরের মতন। স্বাধীন। সর্বশক্তিমান হয়ে। আর এর জন্য প্রয়োজন বিশ্ববিপ্লবের।
লালন প্রাজ্ঞ বলেই বিশ্ববিপ্লবের ডাক দেন নাই।



 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হেগেল ;
প্রকাশ করা হয়েছে: লালন  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬
আকাশ সাগর বলেছেন: ইমন, আমি ব্লগে খুব কম আসি। তাই হয়ত আপনার লেখা আগে পড়া হয়নি। আজকে হঠাৎ করেই এই লেখাটা পড়লাম। একটু কঠিন। ভালোকরে বুঝিনি। যতটুকু বুঝেছি, ভেতরে ঢোকেনি, আত্মস্থ হয়নি। তবে বিষয়টা দারুণ। আমি আপনার বাকি লেখাগুলোও পড়ে ফেলব। আশাকরি সেগুলো আপনি আরও সহজ করে লিখেছেন।

ভালো থাকবেন। ঈদ মোবারক।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক আকাশ সাগর।
ধন্যবাদ।

৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮
হাসিব বলেছেন: তার মানে হৈলো আপনে বলতে চাইতেছেন বিপ্লবের ডাক প্রাজ্ঞরা দেয় না ?
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: বিপ্লবের ডাক অবশ্যই প্রজ্ঞাপ্রসূত।
তারপর?

৫. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০২
হাসিব বলেছেন:
ডাক দেওয়াটাও তো অনেক বড় কিছু মনে হয় । কারন প্রতিরোধের সংস্কৃতি না থাকলে মানুষ সেই মধ্যযুগের রাজারাজড়াদের যুগ থেকে বেরোতে পারতো না ।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: বিকাশ কতটা হয়েছে প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে আর কতটা অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য সেটাও ভেবে দেখতে হবে।
আমি প্রতিবাদ আন্দোলনের বিরোধী নই। তবে হতাশ।
চারিদিক পর্যালোচনা করে আর সমাজবিপ্লবের স্বপ্নে শান্ত্বনা পাচ্ছি না।
এই আর কী।

৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৯
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: লালন প্রাজ্ঞ বলেই বিশ্ববিপ্লবের ডাক দেন নাই।...


ইমন দ্বিমত পোশন করলাম;

হাসিব এর সাথে সহমত
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৯

লেখক বলেছেন: লালন বিশ্ববিপ্লবের বিরোধী ছিলেন- আসলে কথাটা বলা অন্য একটা কথা ভেবে।
লালনের সময় ঠিক বিপ্লব-আমরা যেমন আজ বুঝি, তেমন চেতনা তো ছিল না। তা হলে তো বিশ্ববিপ্লবের কথা উঠতেই পারে না। লালন স্থানীয় অন্যায় অত্যাচারের প্রতিরোধ করেছেন, তেমন প্রমান আছে। কৃষকের ওপর জমিদারের অত্যাচার হলে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ছুটে যেতেন।
লালন বিশ্ববিপ্লবের ডাক দেননি বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি একুশ শতকের প্রারম্ভে বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হতাশাজনক পরিস্থিতিকে।
আমার উদ্দেশ্য নয় লালনকে প্রতিক্রিয়াশীল প্রমান করা।
আসলে এখন যেন মনে হচ্ছে প্রগতিশীলতা প্রতিক্রিয়াশীলতা-এসব শব্দের কোনও মানে হয় না।

৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৩
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: লালন এর জীবনযাপনইতো একধরনের বিপ্লব; একটি বিদ্রোহের মতো।


প্রতিটি বিচ্ছিন্ন বিপ্লবই আসলে একটি বিশ্ববিপ্লবের অংশ মনে হয় আমার কাছে। তাই লালনের বিপ্লব বিশ্ববিপ্লবেরই অংশ। কারণ বিশ্বের শুরু ব্যাক্তি থেকে-

ব্যক্তি>পরিবার>মাহল্লা>সমাজ>রাষ্ট্র>বিশ্ব

লালন অবশ্যই প্রতিক্রিয়াশীল নয়।

৮. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২১
হাসিব বলেছেন: প্রণব ঠিকাছে । গড়পড়তারে অতিক্রম করে নতুন কিছু করাটাই এক ধরনের বিপ্লব । সেই বিপ্লব সামগ্রিকভাবে অথবা বিচ্ছিন্নভাবে বিশ্ববিপ্লবের অংশ হতে পারে । আবার নাও পারে । আর সমাজতান্ত্রিকরাই একাই বিপ্লবের সোল এজেন্ট বিষয়টাতো এরকম না । পুজিবাদিরাও তাদের নিজেদের মধ্যে থেকে নিজেদের পরিবর্তনের চেষ্টা করে । সেটাকেও আমরা প্রচলনের বিরুদ্ধে বিপ্লব বলতে পারি ।
৯. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৪
আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন: রাসেল কিন্তু হেগেলের দর্শন থেকে বেড়িয়ে এসেছিলেন,আমিও ব্যক্তিগতভাবে মানবিক ঐশ্বরিকতার সমর্থক নই। মানুষ সমাজ বিবর্তনের পথ ধরে চারপাশকে ব্যাখ্যা করবার জন্যেই নিমিত্ত তৈরী করে গেছে মাত্র।মানুষ অর্জন করে নিয়েছে যৌক্তিক প্রবনতাসমুহ এবং সত্যিকার অর্থে ইকুইলিব্রিয়াম রক্ষার জন্যে এই প্রাকৃতিক অনুষঙ্গটিকে আলাদা করে মহিমান্বিত করবার প্রয়োজন নেই।বরং একে আমি আরেকটি ছেলেভুলানো ছড়ার মতই মনে করি। ধর্ম এবং অন্যন্য প্রাচীন সামাজিক প্রতিষ্ঠাংুলো যে কাজ করে আসছে আরো স্থুল ভাবেই।মানুষ সারভাইব করবে, সেটার জন্যে এরকম বায়বীয় নিয়ামকের প্রয়োজন নেই।

বিপ্লব আসে প্রয়োজনে।এবংবিপ্লব কখোনোই ইউনিভার্সাল নয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলোর অবস্থান অর্জনের চেষ্ঠাই বিপ্লব। যদিও দৃশ্যমান বিপ্লব সমুহে সাধারনত শোষিত(অর্থনৈতিক অথবা বৈদ্ধিক)সামাজিক গ্রুপ গুলো উচ্ছকিত হয়,যার কারনে আমরা সেন্টিমেন্টাল হয়ে পরি,বিপ্লবকে বৈশ্বিক মেসাইয়াহ হিসাবে দেখি। কিন্তু অনেক নেগেটিভ বিপ্লবও হয়, যেমন কস্টানটিন যে ক্রিশ্চিয়ানিটি প্রতিষ্ঠা করেছিল, অথবা নব্য বিশ্বের ভোগবাদী বিপ্লব।
১০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: প্রণব, হাসিব ও তুহিন-এঁদের প্রত্যেকের কথায় রয়েছে অকাট্য যুক্তি।
মেনে নিচ্ছি। ধন্যবাদ।
১১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭
মনজুরুল হক বলেছেন:

"আর Young Hegeliansরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, মানুষই ঈশ্বর। পৃথিবীতে মানুষ বাঁচবে ঈশ্বরের মতন। স্বাধীন। সর্বশক্তিমান হয়ে। আর এর জন্য প্রয়োজন বিশ্ববিপ্লবের।
লালন প্রাজ্ঞ বলেই বিশ্ববিপ্লবের ডাক দেন নাই।"


চমৎকার লেখাটির খটকা এখানে। আমার মনে হয়েছে। Hegeliansরা যাকে ঈশ্বর বলেছিল,তাকেই মাও সে তুং বলেছিলেন- "ঈশ্বরই আমাদের দেশকে রক্ষা করবে।আর সেই ঈশ্বরের নাম-জনগণ"।Hegeliansদের ঈশ্বর বলাটার অর্থ এই নয় যে মানুষই ঈশ্বর!এর অর্থ হচ্ছে আলাদা ঈশ্বর বলে কিছু নাই।জনগণই প্রকৃত ঈশ্বর। সেখানে লালন ভাববাদীতার গন্ডি পেরুতে না পারায় বলছেন-"মানুষের দেহের ভিতর ঈশ্বর বাস করেন।" অর্থাৎ ঈশ্বরকে লালন অস্বীকার করছেন না।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১০

লেখক বলেছেন: (১) মানুষই ঈশ্বর আর (২) ঈশ্বর মানুষের ভিতরে বাস করেন-লেখার সময় এই বিষয়টি আনব ভেবেছিলাম। পরে আর হয়ে ওঠেনি।
কিন্তু, আমি আপনার সঙ্গে একমত। মার্কস, ফয়েরবাখ ও অন্যান্য হেগেলপন্থিরা ছিলেন পুরোপুরি নিরেশ্বরবাদী। মানুষকে ঈশ্বর বলাটা আসলে একটা প্রতীকি ব্যাপার। মানুষকে উন্নত করবার একটা প্রয়াস।
আর লালনের পক্ষে ভাববাদী হওয়াই তো স্বাভাবিক। লালনের বাস ছিল ধর্মীয়র যুগে। তবে প্রায়শ তাঁর পক্ষে সময়কে অতিক্রান্ত করার প্রবনতা আমাদের আজও মুগ্ধ করে।
ধন্যবাদ।

১২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২০
ভালো-মানুষ বলেছেন: ভ্যানগার্ডে লালন বিষয়ক একটা লেখা আছে Click This Link
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ । পি ডি এফ -এর জন্য।

১৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫১
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: লালনকে নিয়ে ওটি একটি চমৎকার লেখা; এটা ভ্যানগার্ড খুব চমৎকার কাজ করে; @ভালো মানুষ
১৪. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০১
পি মুন্সী বলেছেন: আমি খুবই দুঃখিত, আপনার লেখায় Young Hegelians পেলাম হয়ত কিন্তু ওখানে খোদ মার্কস নাই, কোন উদ্ধৃতি নাই; অথচ মার্কসের নামে শিরোনাম।
সুনির্দিষ্ট করে মার্কসের কোন লেখা কোট করে দেখান।

আর Young Hegelians বলতে একটা গ্রুপের মত যার কোন বক্তব্য আছে - ব্যাপারটা এমন না। বরং প্রত্যেক সাথে প্রত্যেকের চিন্তার ফারাক তারা আলাদা করে বই লিখে প্রকাশ করেছেন।
মার্কসের "জর্মন ভাবাদর্শ" ব্রুনো বাউর, ম্যাকস ষ্টিরনার, ষ্ট্রাস ও বিশেষ করে ফয়েরবাখের চিন্তার সমালোচনা করে লেখা যে পান্ডুলিপি (মার্কসের জীবনকালে প্রকাশ হয় নাই, মৃত্যুর প্রায় ৪৭ বছর পর প্রকাশিত)।

লালনের প্রসঙ্গে:

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না
নড়েচড়ে হাতের কাছে খুঁজলে জনম-ভর মেলে না।

"আপন দেহের ভিতর ঈশ্বরকে লালন এভাবেই খুঁজেছেন" বলেছেন কিন্তু কিভাবে কেন কোন ব্যাখ্যা করেন নাই।

ফলে আপনার উদ্ধৃত গানের কলিতেও, "দেহের ভিতর ঈশ্বরকে লালন এভাবেই খুঁজেছেন" এর প্রমাণ পেলাম না।

আপনার কোন দাবিই প্রতিষ্ঠিত হয় নি। আবার চেষ্টা করুন, দেখাতে পারলে খুশি হতাম।
১৫. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১৬
ভূপর্যটক বলেছেন: আপনার আগ্রহটা ভাল কিন্তু চিন্তাটা আবছা।

আবুল আহসান চৌধুরী, “বাউলের সাধনা দেহকেন্দ্রিক" বলে আপনি বা কী বুঝলেন আর উনিই বা কী বুঝেছেন - জানতে পারলাম না। দেহতত্ত্বের গান মানে কী? এটুকু বুঝলে বা আমাদের বুঝাতে পারলে লালনকে টেনে আনা সার্থক মনে করতাম।

“পরম পুরুষ” “সহজ মানুষ” “রসের মানুষ” “অটল মানুষ” “অধর মানুষ” “ভাবের মানুষ” “মনের মানুষ” “অচিন পাখি” বা “সাঁই নিরঞ্জনের” গুপ্ত-অবস্থিতি।” - একথা দিয়ে, "আপন দেহের ভিতর ঈশ্বরকে লালন এভাবেই খুঁজেছেন" এটার কেমন করে প্রমাণ হলো এর কোন আগামাথা বুঝা গেল না। একটা বিক্ষিপ্ত দাবি হয়ে থেকে গেল।
সরি, আমাকে এভাবে সমালোচনা করতে হলো।
১৬. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: @ পি মুন্সি ও ভূপর্যটক

সালটা খেয়াল করুন। ১৮৩৬। এর বেশি আগাই নি। ১৮৩৬ সালে মার্কস-এর উক্তি পাবেন কোথায়? আমি বলেছি মার্কসবাদের ইতিহাস পড়তে পড়তে ...যেমন, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে একটা শিউলি গাছ দেখে ছেলেবেলার শিউলি গাছের কথা মনে পড়ে গেল। এই। আর কিছু বলা হয়নি।
আমি কিছু দাবী করিনি। একটা কথা মনে পড়াতে বলেছি কেবল।
হয়তো ইয়ং হেগেলিয়ানদের প্রসঙ্গে লালনকে টেনে আনা বিশদৃশ ...
আর, মানুষই ঈশ্বর আর ঈশ্বর মানুষের ভিতরে বাস করে -এই দুই রকম কথার ব্যাখ্যা করাও আমার উচিত ছিল।
ধন্যবাদ।
১৭. ২৫ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৫৬
নিভৃত পথচারী বলেছেন: ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে আগমনকারী সর্বশেষ নবী হুজুর পাক (সঃ)-এর কাছ থেকে এ হাদিস টি শুনে থাকবেন 'মুমিনের ক্বলব আল্লাহ্ র আরশ'।

এ মর্মে আরো বর্নিত আছে যে এমনকি আরশে আল্লাহর সংকুলান হয়না, কিন্তু বান্দার ক্বলবে আল্লাহর স্থান হয়।

সূর্যের প্রতিচ্ছবি যদি ভূলোকে স্থাপিত ছোট আয়নাতে পতিত হয় তবে সে আয়নাকে সূর্য বলা কতটা যুক্তি সংগত তা সহজেই অনুমেয়। যদিও প্রতিবিম্ব হতে সূর্যের স্বরুপের একটা মোটামুটি ধারণা পেলেও পাওয়া যেতে পারে হয়তো। বিষয়টি এ দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে একটা যৌক্তিক উপলদ্ধিতে আসার পথ পাওয়া যেতে পারে।

উপরোক্ত হাদিস সমূহের বিষদ ব্যাখা জানতে ও স্রষ্টার স্বরূপের সর্বপেক্ষা নিখুত বিবরণ পেতে দ্বিসহস্রাব্দের সংস্কারক হজরত মোজাদ্দেদে আলফে সানী শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দি (রঃ) এর মকতুবাত শরীফ অধ্যয়ন অপরিহার্য।
নিঃসন্দেহে হজরতের ব্যাখা ও বর্ণনা সত্যান্বেষী পাঠক চিত্তকে সন্তুষ্ট করবে।
২৫ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: thanks.

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯০৭৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ