somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহুমিল হাব্রাল: চেক ভাষার একজন শক্তিশালী লেখক।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইনি বহুমিল হাব্রাল। চেক ভাষার এক তুমুল জনপ্রিয় লেখক। তুমুল জনপ্রিয় কেন? যেহেতু তাঁর লেখায় রস রয়েছে লেখায়। স¤প্রতি ওঁর দুটো উপন্যাসের চলচ্চিত্র রুপায়ন দেখলাম। কোনওই সন্দেহ নেই যে -হাব্রাল একজন শক্তিমান গল্প বলিয়ে । তাঁর চরিত্ররা একেকজন বিজ্ঞ গাধা।

বহুমিল হাব্রালের জন্ম চেকশ্লাভাকিয়ার মোরাভিয়ায়। মার্চ ২৮। ১৯১৪। মোরাভিয়া জায়গাটি চেক প্রজাতন্ত্রের পুবে। হাব্রালের (সৎ) বাবা ছিলেন বিয়ার কারখানার ম্যানেজার। চেকশ্লাভাকিয়ার রাজধানী -আমরা জানি প্রাগ। প্রাগে রয়েছে চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেই আইন নিয়ে কিছুকাল পড়েছেন হাব্রাল। ১৯৪০ সাল থেকে আমৃত্যু বাস করছিলেন প্রাগ শহরেই।
পঞ্চাশের দশকে ছিলেন লৌহ কারখানায় শ্রমিক। ঐ সময়কার পরিবেশ নিয়ে লিখেছিলেন "হাইপার টেক্সট"।
প্রাগে রয়েছে হুসভা নামে একটি সড়ক। সেই হুসাভা সড়কে রয়েছে একটা পাব। পাবের নাম: "গোল্ডেন টাইগার।" এই পাবেই আড্ডা দিতেন হাব্রাল। এখানেই অনেকের সঙ্গে পরিচয়। যেমন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জাতিসংঘে আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন অলব্রাইট ।
মজার মানুষ ছিলেন হাব্রাল । যেমন-কবুতরকে দানা খাওয়াতে ভালোবাসতেন। প্রাগে ৫তলা বাড়িতে থাকতেন হাব্রাল। তাঁর অনেক লেখাতেই ৫তলা থেকে পড়ে আত্মহত্যার কথা রয়েছে। শেষ বয়েসে (১৯৯৭। ফেব্র“য়ারি ৩।) হাসপাতালে থাকার সময় কবুতরকে খাওয়ানোর সময় ৫ তলা থেকে পড়ে মারা যান হাব্রাল।
১৯৬৫ সালে ক্রেসকোতে (জায়গাটি প্রাগ শহরের কাছে) একটি কাঠের বাড়ি কেনেন হাব্রাল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাঝে মাঝে সেই বাড়িতে যেয়ে থাকতেন । একটা পন্টিয়াক গাড়ি ছিল হাব্রালের। তখন চেক প্রজাতন্ত্র সোভিয়েত শাসনের অধীন। সারা চেকশ্লাভিকিয়ায় সব মিলিয়ে ৪টি কি ৫টি পন্টিয়াক ছিল। তার মধ্যে হাব্রালের একটি। ক্রেসকোর সেই কাঠের বাড়ি ভরতি কবুতর। বিড়াল। ছাগল। একটা টেলিভিশন। হাব্রাল পা তুলে বিয়ার খাচ্ছেন-চুরুট টানছেন। হাব্রালের একটি অসাধাণ লেখা আছে। “স্যাড স্টোরিজ অভ হ্যাপি পিপলস।” এক কথায় অসাধারণ। দিন কয়েক আগে মুভিটা দেখলাম। এই ছবিতে রয়েছে ক্রেসকোর নির্জন মফসসল জীবন । হাব্রাল নিজেও রয়েছেন ছবিটায়। ছাগলগুলো পন্টিয়াকে তুলে সকাল বেলায় বেড়িয়ে পড়েন। গাড়ি চালাতে চালাতে দানাপানি খাওয়াচ্ছেন ছাগলদের। তা ছাড়া ছবিতে রয়েছে ক্রেসকোর গাছপালা, লোকজন। একেকজন কমিক ক্যারেকটার ...বিজ্ঞ গাধা।
তখন বলেছি তুখোর গল্প বলিয়ে ছিলেন হাব্রাল। অবশ্য তাঁর প্রথম দিককার লেখাগুলি ছিল নিরীক্ষাধর্মী। যেমন, ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম লেখা “ড্যান্সিং লেসনস ফর দ্য অ্যাডভান্স ইন এজ” মাত্র একটি লাইন।
তাঁর সবচে বিখ্যাত উপন্যাস: ক্লোজলি ওয়াচড ট্রেইনস। বিষয়: এক হাবাগোবা তরুণ ও জার্মান দখলে থাকার সময় একটি চেকশ্লাভাকিয়ার একটি রেলষ্টেশন। এই উপন্যাসটির চলচ্চিত্র রুপটি দেখলাম সম্প্রতি।ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট। এক কথায় অসাধারণ।
হাব্রালের অন্য একটি লেখার নাম: “আই সার্ভড দ্য কিং অভ ইংল্যান্ড।”
এখনও দেখা হয়নি। দেখা হলে লিখব।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১০
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×