কাজেই, ইতিহাস বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন ডক্টর সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
একবার। আমার মনে আছে। স্যার, আলজেরিয়ায় ফরাসী উপনিবেশিক আমলের ইতিহাস পড়াচ্ছেন। ফরাসীরা কী নিদারুন শোষন করেছিল আলজেরিয়ায়-সেইসব মর্মান্তিক ইতিবৃত্ত। আমি বরাবরই অন্যমনস্ক ধাতের। আনোয়ার স্যারের লেকচার যদিও অত্যন্ত প্রাণবন্ত ছিল -আমি ঠিকঠাক শুনছিলাম না; আমি খাতায় গাছপালা-সূর্য ও পাখপাখালির ছবি আঁকছিলাম। হিজিবিজি দাগ কাটছিলাম। মাঝে মাঝে কানে আসছিল -আলজেরিয়দের প্রতিরোধ আন্দোলনের কথা, ফরাসীদের অবাধ লুঠপাটের কথা ...
এ ভাবেই সেদিন ক্লাসটা শেষ হল।
আমার এক সহপাঠী; রঞ্জু - সেদিনের ক্লাস কী কারণে যেন করতে পারেনি। ক্লাসের পরে হন্তদন্ত হয়ে এসে বলল-দে, স্যারের লেকচার দে। বলে আমার খাতা টেনে নিল। দেখল নিউজপ্রিন্টের পৃষ্ঠাভর্তি নীল রঙের বলপয়েন্ট দিয়ে গাছপালা-সূর্য ও পাখপাখালির ছবি আঁকা। হিজিবিজি দাগ কাটা। ও আমার মনের গতিক জানলেও -খানিকটা বিমূঢ়।
আমি বললাল, আনোয়ার স্যারের লেকচার নিবি?
ও মাথা নাড়ল।
আমি রঞ্জুর খাতা টেনে নিলাম। তারপর ওর খাতায় দু-লাইনের ছড়া লিখে দিলাম;
আলজেরিয় বৃদ্ধের হাড়ে,
প্যারির জৌলুষ বাড়ে।
ছড়া পড়ে রঞ্জু তো রীতিমতো হতভম্ব।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


