somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘আয়নায় আলো হয়ে যায় নারী’: অক্টাভিয়ো পাজ-এর একটি কবিতা

২৯ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি অক্টাভিয়ো পাজ। বাঙালি পড়ুয়াদের দারুন এক আগ্রহের বিষয় লাতিন আমেরিকার সাহিত্য। সেই লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের এক প্রধানতম খুঁটি মেক্সিকোর কবি অক্টাভিয়ো পাজ। তাঁর সম্বন্ধে কত কথাই না রটে বাঙালি পড়ুয়াদের মুখে মুখে:‘ পাজ তো মেক্সিকোর অ্যাম্বাসেডর ছিলেন ভারতে। তাই না?’ ‘হ্যাঁ, কাব্যচর্চার সঙ্গে আমলাতন্ত্রের কী বিরোধ তা হলে?’ যা হোক। পাজ-এ ওপর প্রথম জীবনে মার্কসবাদ, পরাবাস্তববাদ, অস্তিত্ববাদ, বৌদ্ধ ও বেদান্ত দর্শন-এর গভীর প্রভাব পড়লেও পরে অবশ্য পাজ প্রেম, যৌনতা, সময়-এর গতিপ্রকৃতি এবং বৌদ্ধদর্শনে ঝুঁকেছিলেন।

অক্টাভিয়ো পাজ এর জন্ম মেক্সিকোয়; ১৯১৪ সালের ৩১ মার্চ। মেক্সিকো সিটিতেই বেড়ে উঠেছিল বালক পাজ। পিতামহের ছিল বিশাল গ্রন্থাগার-সে গ্রন্থাগারে কত না বই । কাজেই-।
ছোটবেলা থেকেই টুকটাক কবিতা লেখা।
১৯৩৭ সালে ফ্যাসীবাদ বিরোধী লেখকদের দ্বিতীয় আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে স্পেন যান। এরপর নানা দেশভ্রমন। ১৯৩৯ সাল থেকে নিজেকে আপাদমস্তক কবি হিসেবে ভাবতে থাকেন। তথাপি যোগ দিলেন সরকারি পদে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্যারিস নিউইয়র্ক সান ফ্রানসিসকো জেনেভা ও ভারতের নতুন দিল্লিতে দায়িত্ব পালন করলেন। নতুন দিল্লিতে পরিচয় মারি হোসে ত্রামিনির সঙ্গে; বিয়ে ত্রামিনির সঙ্গেই হল।
১৯৬৮ সালে মেক্সিকো সরকার আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালালে পাজ সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন।
হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে মাঝে তুলনামূলক সাহিত্যে পড়াতেন পাজ। বলতেন- There can be no society without poetry, but society can never be realized as poetry, it is never poetic. Sometimes the two terms seek to break apart. They cannot.
কী অসাধারন কথা!
কবিতা ছাড়া সমাজ সম্ভব নয়। অথচ, সমাজ কবিতার মতো কাব্যিক নয়। মনে হয় সংঘাত অনিবার্য। অথচ, কবিতা ও সমাজ পাশাপাশিই থাকে। এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ করা যায়। লাভ নেই-বরং বিষয়টি নিয়ে আপনারাই ভাবুন।
১৯৯০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন পাজ। সাহিত্যের জন্য। ছিলেন আধুনিক চিত্রকলার সমঝদার । কবিতা; সে বিষয়েও লিখেছেন।
১৯৯৮ সালের ১৯ এপ্রিল মৃত্যু। ক্যান্সারে।



আমি মেক্সিকান কবি অক্টাভিয়ো পাজকে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য পাজ-এর লেখা: ‘দৃষ্টি, স্পর্শ’ ( সাইট,টাচ) কবিতাখানি বেছে নিয়েছি। কবিতাটি পাজ-এর প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা কি না, তা আমি জানি না। আমি পাজ-গবেষক নই। তবে তখন পাজ সম্বন্ধে তখন যা যা বলা হল -তার সবই যেন ‘দৃষ্টি, স্পর্শ’ কবিতাটিতে পাওয়া যায়। তখন বলেছি যে- পাজ-এর ওপর প্রথম জীবনে মার্কসবাদ, পরাবাস্তববাদ, অস্তিত্ববাদ, বৌদ্ধ ও বেদান্ত দর্শন-এর গভীর প্রভাব পড়েছিল। পরে অবশ্য পাজ প্রেম, যৌনতা, সময়-এর গতিপ্রকৃতি এবং বৌদ্ধদর্শনে ঝুঁকেছিলেন।
কবিতা অনুবাদের জন্য যে বিরাট দক্ষতার প্রয়োজন হয়-আমার তা নেই। কবিতা যে অনুবাদসম্ভব-তাও বিশ্বাস করিনে। কাজেই, নিচের কবিতাটির অনুবাদ মেক্সিকান কবি অক্টাভিয়ো পাজ-এর ভূমিকা হিসেবেই দেখা ভালো। এই কথাটা এইজন্য বলা যে-যারা কবি অক্টাভিয়ো পাজ-এর নাম জানেন-তারা তো জানেনই; আর যারা জানেন না- তারা, তাঁর কথা সামান্য হলেও জানলেন আজ। আমার লক্ষ এই।

দৃষ্টি, স্পর্শ

বালথুস-এর জন্য

এর হাতের ভিতর আলো রাখা
সাদা পাহাড় আর কালো ওকগাছ,
যে পথ চলে গেছে
গাছেরা অবশ্য স্থির;

আলো হল শ্বাস নেওয়া পাথর
ঘুমের ভিতরে হেঁটে যাওয়া নদীর পাশে,
আলো; বালিকা প্রশস্ত হয়,
পুঞ্জিভূত কালো ভোর:

পর্দার বাতাসকে আকার দেয় আলো
প্রতিটি প্রহরে নির্মান করে জীবিত জীবন,
ঘরে ঢুকে বেরিয়ে যায়
খালি পায়ে-ছুড়ির কিনারায়;

আয়নায় আলো হয়ে যায় নারী,
ফিনফিনে পাতার নিচে নগ্ন
দৃষ্টিতে নিবদ্ধ
চোখের নিমিষে উধাও;

এ ফল ও অ-শরীর স্পর্শ করে
এ হল কলস- যা থেকে চোখ পান করে স্বচ্ছতা,
কুঁড়িতে খন্ডিত রশ্মি, পর্যবেক্ষণশীল মোম
যেখানে কালো ডানার প্রজাপতিরা পুড়ছে;

আলো চাদরের ভাঁজ খুলছে
আর বয়সন্ধির আদর,
ফায়ারপ্লেসের বিভা, এর শিখা ছায়া হয়ে যায়
দেওয়াল বেয়ে ওঠে- কাতর আইভিদের কাছে

আলো অব্যাহতি কিংবা দোষারোপ করে না,
এটি ন্যায় কি অন্যায়ও নয়,
আলোর দুর্বোধ্য হাতেরা তুলছে
সমাধিসৌধের ভবন;

আয়নার ফাক দিয়ে আলোরা পালাচ্ছে
আর আলোয় ফিরছে:
একটি স্বয়ম্ভু হাত
চোখ যা দেখে-তা নিজেরই নির্মান।

আলো হল-সময়ে বিম্বিত সময়।






সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×