অক্টাভিয়ো পাজ এর জন্ম মেক্সিকোয়; ১৯১৪ সালের ৩১ মার্চ। মেক্সিকো সিটিতেই বেড়ে উঠেছিল বালক পাজ। পিতামহের ছিল বিশাল গ্রন্থাগার-সে গ্রন্থাগারে কত না বই । কাজেই-।
ছোটবেলা থেকেই টুকটাক কবিতা লেখা।
১৯৩৭ সালে ফ্যাসীবাদ বিরোধী লেখকদের দ্বিতীয় আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে স্পেন যান। এরপর নানা দেশভ্রমন। ১৯৩৯ সাল থেকে নিজেকে আপাদমস্তক কবি হিসেবে ভাবতে থাকেন। তথাপি যোগ দিলেন সরকারি পদে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্যারিস নিউইয়র্ক সান ফ্রানসিসকো জেনেভা ও ভারতের নতুন দিল্লিতে দায়িত্ব পালন করলেন। নতুন দিল্লিতে পরিচয় মারি হোসে ত্রামিনির সঙ্গে; বিয়ে ত্রামিনির সঙ্গেই হল।
১৯৬৮ সালে মেক্সিকো সরকার আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালালে পাজ সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন।
হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে মাঝে তুলনামূলক সাহিত্যে পড়াতেন পাজ। বলতেন- There can be no society without poetry, but society can never be realized as poetry, it is never poetic. Sometimes the two terms seek to break apart. They cannot.
কী অসাধারন কথা!
কবিতা ছাড়া সমাজ সম্ভব নয়। অথচ, সমাজ কবিতার মতো কাব্যিক নয়। মনে হয় সংঘাত অনিবার্য। অথচ, কবিতা ও সমাজ পাশাপাশিই থাকে। এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ করা যায়। লাভ নেই-বরং বিষয়টি নিয়ে আপনারাই ভাবুন।
১৯৯০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন পাজ। সাহিত্যের জন্য। ছিলেন আধুনিক চিত্রকলার সমঝদার । কবিতা; সে বিষয়েও লিখেছেন।
১৯৯৮ সালের ১৯ এপ্রিল মৃত্যু। ক্যান্সারে।
২
আমি মেক্সিকান কবি অক্টাভিয়ো পাজকে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য পাজ-এর লেখা: ‘দৃষ্টি, স্পর্শ’ ( সাইট,টাচ) কবিতাখানি বেছে নিয়েছি। কবিতাটি পাজ-এর প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা কি না, তা আমি জানি না। আমি পাজ-গবেষক নই। তবে তখন পাজ সম্বন্ধে তখন যা যা বলা হল -তার সবই যেন ‘দৃষ্টি, স্পর্শ’ কবিতাটিতে পাওয়া যায়। তখন বলেছি যে- পাজ-এর ওপর প্রথম জীবনে মার্কসবাদ, পরাবাস্তববাদ, অস্তিত্ববাদ, বৌদ্ধ ও বেদান্ত দর্শন-এর গভীর প্রভাব পড়েছিল। পরে অবশ্য পাজ প্রেম, যৌনতা, সময়-এর গতিপ্রকৃতি এবং বৌদ্ধদর্শনে ঝুঁকেছিলেন।
কবিতা অনুবাদের জন্য যে বিরাট দক্ষতার প্রয়োজন হয়-আমার তা নেই। কবিতা যে অনুবাদসম্ভব-তাও বিশ্বাস করিনে। কাজেই, নিচের কবিতাটির অনুবাদ মেক্সিকান কবি অক্টাভিয়ো পাজ-এর ভূমিকা হিসেবেই দেখা ভালো। এই কথাটা এইজন্য বলা যে-যারা কবি অক্টাভিয়ো পাজ-এর নাম জানেন-তারা তো জানেনই; আর যারা জানেন না- তারা, তাঁর কথা সামান্য হলেও জানলেন আজ। আমার লক্ষ এই।
দৃষ্টি, স্পর্শ
বালথুস-এর জন্য
এর হাতের ভিতর আলো রাখা
সাদা পাহাড় আর কালো ওকগাছ,
যে পথ চলে গেছে
গাছেরা অবশ্য স্থির;
আলো হল শ্বাস নেওয়া পাথর
ঘুমের ভিতরে হেঁটে যাওয়া নদীর পাশে,
আলো; বালিকা প্রশস্ত হয়,
পুঞ্জিভূত কালো ভোর:
পর্দার বাতাসকে আকার দেয় আলো
প্রতিটি প্রহরে নির্মান করে জীবিত জীবন,
ঘরে ঢুকে বেরিয়ে যায়
খালি পায়ে-ছুড়ির কিনারায়;
আয়নায় আলো হয়ে যায় নারী,
ফিনফিনে পাতার নিচে নগ্ন
দৃষ্টিতে নিবদ্ধ
চোখের নিমিষে উধাও;
এ ফল ও অ-শরীর স্পর্শ করে
এ হল কলস- যা থেকে চোখ পান করে স্বচ্ছতা,
কুঁড়িতে খন্ডিত রশ্মি, পর্যবেক্ষণশীল মোম
যেখানে কালো ডানার প্রজাপতিরা পুড়ছে;
আলো চাদরের ভাঁজ খুলছে
আর বয়সন্ধির আদর,
ফায়ারপ্লেসের বিভা, এর শিখা ছায়া হয়ে যায়
দেওয়াল বেয়ে ওঠে- কাতর আইভিদের কাছে
আলো অব্যাহতি কিংবা দোষারোপ করে না,
এটি ন্যায় কি অন্যায়ও নয়,
আলোর দুর্বোধ্য হাতেরা তুলছে
সমাধিসৌধের ভবন;
আয়নার ফাক দিয়ে আলোরা পালাচ্ছে
আর আলোয় ফিরছে:
একটি স্বয়ম্ভু হাত
চোখ যা দেখে-তা নিজেরই নির্মান।
আলো হল-সময়ে বিম্বিত সময়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


