আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

কবি নিকানোর পাররার দুটি কবিতা

১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩

শেয়ারঃ
0 0 0



কবি নিকানোর পাররা। চিলির কবি। দুর্দান্ত সাহসী এই কবির মানুষের ব্যাক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস ছিল প্রখর । ১৯৭৩ সালে চিলির গণমানুষের মহান নেতা সালভাদর আলেন্দেকে এক রক্তক্ষয়ী অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে উৎখাত করে স্বৈরাচারী পিনোশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইঙ্গিতে চিলির রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয়। চিলির গনতন্ত্রমনা বুদ্ধিজীবিরা তারপর স্বৈরাচারী পিনোশের রোষানলে পড়ে-তাদের ওপর নেমে আসে কঠিন আজাব। কিন্তু, পাররা ছিলেন নির্ভীক-তিনি সান্তিয়াগোর প্রধান গির্জের প্রবেশমুখে টুপি পেতে বসে যান। কেন? কবিতা পড়ে নির্যাতিত বুদ্ধিজীবিদের জন্য অর্থ সাহায্য করবেন। এমনই মানুষ পাররা।

১৯১৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিকানোর পাররার জন্ম দক্ষিণ চিলির এক দরিদ্র পরিবারে ।


চিলির মানচিত্র

ছেলেবেলায় বাড়ির কাছের এক কবরখানার ভিতরে খেলতেন ভাইবোনদের সঙ্গে। মেধা ছিল পাররার। গণিত ও জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তারপর অক্সফোর্ড উচ্চতর গবেষনার জন্য অক্সফোর্ড । সেখানেই ইংরেজ কবি জন ডান-এর কবিতা পড়ে মুগ্ধ হন এবং আমৃত্যু কবিতায় নিমজ্জিত হওয়ার সংকল্প করেন।

কবি জন ডান; লিখেছিলেন Death be not proud ...

তারপর দেশে ফিরে সান্তিয়াগোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন।


সান্তিয়াগোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস

১৯৩৭ সালে বেরয় পাররার প্রথম কবিতার বই: ‘নামশূন্য গানের খাতা’। ১৭ বছর পরে দ্বিতীয় বই। ‘কবিতা ও প্রতিকবিতা।’
এ লেখার প্রথমে দেখেছি কেমন বেপরোয়া পাররা। তাঁর কবিতাও তেমনি। খোলামেলা। কথ্য। বিস্তর গালাগালি করেন কবিতায়।

জয়তু স্টালিন

ঐ খানকির পোলারা
আমাকে ওভারকোট নেওয়ার সময় পর্যন্ত দিল না।
কোনও রকম হুঁশিয়ারি ছাড়াই
ওরা আমায় ধরে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দিল
রাইফেলের বাট ঠেকাল একজন আমার বুকে
আরেক কুত্তার বাচ্চা থুতু দিল
আমি অবশ্য ধৈর্য্য হারাইনি

তারপর তারা আমাকে পেট্রলকারে তুলল
একটি পরিত্যক্ত রাস্তায়
রেলস্টেশনের কাছে
গাড়িটি থামিয়ে ওরা বলল; ঠিক আছে। তুমি মুক্ত, তুমি যেতে পার।

এর মানে আমি জানি।
খুনিরা! বলে আমি চিৎকার করতে পারতাম
তার বদলে মৃত্যুর আগে চিৎকার করে বললাম-
‘ভিভা স্টালিন!’



পাররার সতর্ক-বার্তা কবিতায় পিনোশের শাসনামলের বিভীষিকা ফুটে উঠেছে:

প্রার্থনা করা যাবে না; নাক ডাকা যাবে না
থুতু ফেলা যাবে না; প্রশংসা করা যাবে না, হাঁটু গেড়ে বসা যাবে না
উপাসনা না, চিৎকার না, কাশি না

এই চৌহদ্দিতে ঘুমনো নিষেধ
রোগের চিকিৎসা না; কথা বলা না; যোগাযোগ না
স্বরসঙ্গতি না, পালানো যাবে না, ধরা যাবে না

দৌড়ানো একেবারেই নিষিদ্ধ
সিগারেট টানা যাবে না; যৌনসঙ্গম না।




 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নিকানোর পাররা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিদেশি ভাষার কবি ও কবিতা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩
নাজনীন খলিল বলেছেন:
অসাধারণ কবিতার অসাধারণ অনুবাদ।++++++++++++++++++++
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২২

লেখক বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ।

২. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭
রাহামনি বৃষ্টি বলেছেন: ভাইরে....

আমি তগ্ধা খাইলাম।

++++++++++++++++
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩

লেখক বলেছেন: ভাইরে, তব্দা খাওয়ার মতোই।

৩. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা বলেছেন: আমার প্রিয় আদর্শিক অসাধারণ কবিতা
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩

লেখক বলেছেন: আসলেই তাই।

৪. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: মনটা খুব বিক্ষিপ্ত... নিজেকে দাস বলে মনে হচ্ছে ঠিক আপনার দ্বিতীয় কবিতাটার মত... সবকিছু জিজ্ঞেস করে করতে হবে... থোড়াই কেয়ার করি আমি... X(
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: একজন মানুষের স্বাধীনতা অনেক কিছু-এটা ঠিক; তবে সিসটেমের সঙ্গে অযাথা সংঘর্ষে না যাওয়াই ভালো। সহনশীলতাই কাম্য।

৬. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: দেখলাম। বিচিত্র অনুভূতি হল। অনুবাদের সময় ভাবছিলাম যদি এঁর কথা আমরা জানতাম। যাক। কবি নিকানোর পাররার কে বাংলা অনেক আগেই জেনেছে জেনে ভাল্ লাগল।
৮. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৭
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
ও ঐ বইটি আপনি পড়েননি। ব্লগার সুদীপের কাছে আছে। আজিজেও পাওয়া যায়, আমি ও আমরাকে পাঠালাম এটা, বাংলাদেশ যখন এলাম।

ঐ বইটা চমৎকার অনুবাদ।
পুরো মনে নেই, ২ য় কবিতাটা।

তবে এখন দেখছি, আপনার এই অনুবাদটা পড়লে আগে, ভাল ছিল।

______________________

একটা দুটো লাইন কেবল মনে আছে:

যেমন কেশে কেশে কফ তোলা না
.....................

ধূমপান নয়
চোদা বারণ
--এই রকম। আগামীকাল পুরোটাই আমি আপনাকে দেব।
বইটাও পাঠিয়ে দিতে পারি।
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেন: আজিজেও পাওয়া যায়? আমি যোগার করে নেব। আমি অনুবাদ করেছি একটা সঙ্কলন থেকে। সেখানে ঐ ২টি কবিতাই ছিল। পাররা যে এত জনপ্রিয় জানতাম না।

৯. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: সুদীপের লিঙ্কে সেটাই আছে
হুঁশিয়ারি
কোনো প্রার্থণা চলবে না ,হাঁচিও না।
থুতু ফেলা নয়,বাহবা দেয়া নয়,হাঁটু গেড়ে বসা নয়
পূজো না,চীৎকার না,ডুকরানি না
কেশে কেশে কফ তোলা না।
এ তল্লাটে ঘুমোবার অনুমতি নেই।
কোনো টিকে দেয়া না ,কথাবার্তা না,দল থেকে তাড়িয়ে দেয়া না।
চোঁ চোঁ দৌড় না,পাকড়ে ফেলা না।
ছোটা একেবারেই নিষেধ।
ধূমপান নিষেধ ।চোদা বারণ।
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০১

লেখক বলেছেন: শেষ লাইনটি নিয়ে একরকম অস্বস্তি ছিল।
অগত্যা -ধর্ম যাজকদের মতো অনুবাদ করতে হল-

দৌড়ানো একেবারেই নিষিদ্ধ
সিগারেট টানা যাবে না; যৌনসঙ্গম না।

হা হা হা ।

১০. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৪
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
আমি হলেও হয়ত আপনার মতই করতাম।
এমন জিনিস হলেই টের পাই নিজের মুখোশের দৌড়।
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: কথা সেটাই। আমার তো রীতিমতো সঙ্কোচ হচ্ছে নিজের মুখোশের জন্য।

ঐ খানকির পোলারা
আমাকে ওভারকোট নেওয়ার সময় পর্যন্ত দিল না।

এই কথাগুলি লেখার আগে ১০ বার ভাবতে হল।

১১. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১১
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
সুদীপ কে জিগান, হে ঠিকানা কইতে পারে।

মিত্র ও ঘোষ প্রকাশন, কবিতা ও প্রতিকবিতা

অনুবাদ মানবেন্দ্র বন্দ্যো(নাকি মুখো?) পাধ্যায়
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪১

লেখক বলেছেন: আচ্ছা, যোগার করে নেবক্ষণ। জানতামই না যে পাররা বাংলায় এসে গেছে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২২৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ