বড় একটা মাছি
বসতে চেষ্টা করছে
ঘাসের ডগায়
এরকম তিন লাইনের জাপানি কবিতাকে ‘হাইকু’ বলে। জাপানি কবি মাটসুয়ো বাশহো ছিলেন হাইকুর স্রষ্টা। তাঁর সময়কাল: ১৬৪৪ - ১৬৯৪; হাইকু লিখিয়ে হিসেবে আজও মাটসুয়ো বাশহো অদ্বিতীয়।
পতঙ্গের চিৎকার
কিছুই না
কত শিঘ্রী এটি মরবে
পাহাড়ের উঁচু পথ
বাতাসে গাছেদের ঘ্রান
হঠাৎই সূর্য
স্ফটিকের মতন শব্দ
বিদীর্ন করে নক্ষত্রলোক
কেউ কাপড় ধুচ্ছে
বাগানের ওপরে
সুতার মতন শীত রাত্রির চাঁদ
আর পতঙ্গরা ডাকছে
চাঁদ নেই
ফুলও নেই, একাই আমি
মদ পান করছি
বুনো বাঁশঝারে
পাখি ডাকছে
ফাঁকে ঝরছে জ্যোৎস্না
ঘন্টার খসখস
ফুলের সুঘ্রান ঘন হয়ে উঠছে
এই সন্ধ্যায়
বিদ্যুতের ঝিলিক
অন্ধকার বাতাসের ভিতর
রাত্রে সারসের আর্তনাদ
কী চমৎকার
বিদ্যুত ঝলসে উঠলে
জীবন যে সংক্ষিপ্ত নয়- তা ভাবা
পতঙ্গের খোলশ,
এও গান
গেয়েছিল!
তুমুল শীতের রাত
ঘুমের ভিতরে বিস্ফোরণ
পানির জগটা ফেটে যায়
রুক্ষ সমুদ্র
এবং স্বর্গের নদী চিরকাল নিজেকে উজার করে
সাডো দ্বীপের ওপরে
সমুদ্রে যতই ঘনায় আঁধার
বুনো হাঁস কাঁদে
চেতনাশূন্য ও সাদা মনে হয়
একটি ব্যাং লাফ দিল
প্রাচীন পুকুরে
-প্লপ!
মৌমাছিরা আসে
শোভিত ফুলগাছে
-অনিচ্ছুক!
মৃত মাংসে
কাকের তোরজোড়
হেমন্তের সন্ধ্যায়।
শীতের প্রথম বৃষ্টি
এমন কী বাঁদরেরাও
খড়ের বর্ষাতি খুঁজছে।
এমন কী টুপিও নেই
ঠান্ডা বৃষ্টি ঝরছে
কার কি?
এমন কী কিয়োটোয়
আমি কিয়োটোয় যাব
যেখানে ডাকছে কোকিল।
বড় একটা মাছি
বসতে চেষ্টা করছে
ঘাসের ডগায়
ঘুরতে ঘুরতে অসুস্থ
তবুও বিলীন প্রান্তরে
আমার স্বপ্নেরা খেলে বেড়ায়
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


