
লুদভিগ বিটোফেন;(১৭৭০-১৮২৭) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট ইউরোপীয় কম্পোজার।
২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা দেখে একজন জাপানি কবি জীবনের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন; ঠিক সেই সময়ই কবিটি অনেকটা আকস্মিকভাবে শুনলেন বিটোফেনের ফিফথ সিম্ফোনি । তার পরপরই কবিটি জীবনের ওপর বিশ্বাস ফিরে পেলেন। আজও বিশ্বজুড়ে মানুষের ওপর বিটোফেনের প্রভাব এমনই গভীর । অথচ ব্যাক্তিজীবনে এই মহান শিল্পীর হৃদয়ে ছিল গভীর শূন্যতা আর হাহাকার ...
বিটোফেন অবিবাহিত ছিলেন। তবে কয়েকজন নারী তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাদের মধ্যে একজন হলেন Therese Malfatti; আসলে Malfatti ছিলেন বিটোফেনের ছাত্রী। বিটোফেন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু, কী কারণে Therese সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলেন। বিটোফেনের হৃদয়ের সেই সময়কার দুঃখময় অনুভব একটা বিখ্যাত বাংলা গানে পাই-
গানেরও খাতায় স্বরলিপি লিখে বল কী হবে
জীবনপাতার শূন্য খাতা বেহিসেবী পড়ে রবে।
এরপর সম্ভবত ...
গান শুনে ভালো লাগে যারে
এতদিনে চিনো নিক যারে ...
যাক। সময়টা ১৮১০ সাল; বিটোফেনের বয়স তখন চল্লিশ; কম্পোজার হিসেবে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যাখাত হয়ে মনের দুঃখে একটি সলো কম্পোজিশন রচনা করলেন। নাম দিলেন: Für Elise । এই জার্মান শব্দ দুটির অর্থ: অ্যালিসের জন্য। অ্যালিস কেন? মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সেই মেয়েটির নাম তো Therese ...তা হলে? কী ভাবে এমন বিভ্রাট হল? গবেষকদের মতে, বিটোফেনের হাতের লেখা ছিল খারাপ । এই কারণেই পরবর্তীকালে Therese শব্দটি ভুল করে পড়া হয়েছে অ্যালিস!
Therese বিটোফেনকে প্রত্যাখান করলে কী হবে-“অ্যালিসের জন্য” কম্পোজিশনটি আজও সারা বিশ্বে দারুণ জনপ্রিয়।
Für Elise এই কম্পোজিশনটির অন্য নাম "বাগাটেলি ইন এ মাইনর।"
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


