somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য সময়ের গল্প ...

১০ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জৈন-দীপাবলী

প্রাচীন ভারতে যে কটি ধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল তার মধ্যে জৈনধর্ম অন্যতম। জৈন শব্দটির মূলে রয়েছে জিন শব্দটি। জিন শব্দটি সম্ভবত অর্ধমাগধী ভাষার একটি শব্দ, যার মানে, ‘বিশ্বজয়ী’ অথবা the conqueror of the world. (Johann George Bühler, On the Indian Sect of the Jainas.) অবশ্য জৈনরা তাদের সাধুসন্ন্যাসীদের বোঝাতে র্অহৎ শব্দটি প্রয়োগ করে; এর মানে পবিত্র জন। জৈনমতে জৈনসাধুরা সবাই র্অহৎ কিংবা র্নিগ্রন্থ। বৌদ্ধসাহিত্যে অবশ্য জৈনধর্ম বোঝাতে নির্গ্রন্থ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে; র্নিগ্রন্থ শব্দটির অর্থও সহজেই অনুমেয়; যে, বন্ধনহীন হয়েছে বা যে সাধনা দ্বারা যাবতীয় জন্মগ্রন্থি ছিন্ন করেছে।
বৌদ্ধসাহিত্যে বলা হয়েছে র্নিগ্রন্থদের পথিকৃতের নাম নাথপুত্ত বর্ধমান মহাবীর। বর্ধমান মহাবীরই জৈনধর্মের সর্বশেষ প্রেরিত পুরুষ। (যদি এভাবে বলা যায়, কেননা এই ধর্মমতে জগৎ সৃষ্টির পিছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য নেই।)খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯-এর কাছাকাছি বৈশালীর কুন্ডুগ্রামে মহাবীর জন্মেছিলেন। বর্তমানকালের বিহারের রাজধানী পাটনার ২৭ মাইল উত্তরে ছিল তৎকালে বৈশালী। বৈশালীর এখনকার নাম বেসার। তৎকালে, লিচ্ছবি গোত্রের কেন্দ্র ছিল বৈশালী। সে যাহোক। ক্ষত্রিয় কূলের নট গোত্রে জন্মেছিলেন মহাবীর । রত্নগর্ভার নাম ত্রিশলা; মহাবীর ছিলেন ত্রিশলার দ্বিতীয় পুত্র। ত্রিশলার বড় ছেলের নাম ছিল নান্দিবর্ধন। (ত্রিশলার কোনও কন্যা, অর্থাৎ, মহাবীরের কোনও বোন ছিল কি না সেসব কথা ইতিহাসের বইতে লেখা থাকে না!) জ্ঞাতৃক জনগোষ্ঠীর নেতা ছিলেন ত্রিশলার স্বামী সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ মহাবীরের বাবা। ত্রিশলার ভাইয়ের নাম ছিল চেটক। তিনি ছিলেন বৃজি জনমন্ডলীর প্রধান (বৌদ্ধ ধর্মসম্প্রদায়ের 'বড়ুয়া' উপাধিটি এই বৃজি শব্দটি থেকেই উদ্ভূত মনে হয়;) ... পুত্র সন্তান জন্মাবার পর ত্রিশলা শখ করে ছেলের নাম রেখেছিল বর্ধমান বা বীর বা মহাবীর। (আসলেই কি পুত্রের নাম রেখেছিলেন ত্রিশলা? তাঁকে কি নাম রাখতে দেওয়া হয়েছিল ?) যথাসময়ে বিয়ে করেছিলেন মহাবীর । মহাবীরের স্ত্রী ছিলেন কৌন্ডিন্য গোষ্ঠীর মেয়ে যশোদা। এক কন্যাও জন্মেছিল যশোদার গর্ভে। কন্যার নাম অনুজা। মহাবীরের বয়স যখন তিরিশ, সেই সময় ত্রিশলা ও সিদ্ধার্থ মারা গেলেন। আগেই বলা হয়েছে যে, মহাবীরের নান্দিবর্ধন নামে এক ভাই ছিল। তৎকালে সিদ্ধ পুরুষেরা সন্ন্যাস গ্রহনের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করার সময় মা কিংবা স্ত্রী কি কন্যার অনুমতির প্রয়োজন বোধ করতেন না । সুতরাং ভাইয়ের অনুমতি নিয়েই গৃহত্যাগ করলেন মহাবীর । এবং জৈনধর্মের বিস্তার ঘটান। যা হোক। মহাবীর পরবর্তী সময়ে জৈনদের মধ্যেও ভাঙ্গন লক্ষ্য করা যায়। ভদ্রবাহুর নেতৃত্বে দক্ষিণ ভারতে জৈনদের অভিপ্রয়াণ জৈনধর্মের ভাঙ্গনকে ত্বরান্বিত করেছিল। “এই অভিপ্রয়াণের ফলে জৈনদের মধ্যে দুটি সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। অভিপ্রয়াণের নেতা ভদ্রবাহু মহাবীরের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে চান এবং জৈনদের সম্পূর্ন নগ্নতা সমর্থন করেন। এর ফলে তিনি ও তাঁর শিষ্যগন দিগম্বর নামে পরিচিত হন। অন্যদিকে উত্তর ভারতে যে সব জৈন থেকে যান, তাদের নেতা ছিল স্থূলভদ্র। তিনি মহাবীরের পূর্ববর্তী পার্শ্বের অনুশাসন অনুসরণ করে জৈনদের শ্বেতবস্ত্র ব্যবহান সমর্থন করেন। এই ভাবে তিনি ও তাঁর সমর্থকগন শ্বেতাম্বর নামে পরিচিত হন।” (সুনীল চট্টোপাধ্যায়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস। প্রথম খন্ড।)এই কারণে শ্বেতাম্বরপন্থি জৈনদের মূলকেন্দ্র হয়ে ওঠে উত্তর ও মধ্যভারত। শ্বেতাম্বরপন্থি জৈনদের অবশ্য এখন গুজরাটে ও পশ্চিম রাজপুতনাতেও দেখা মেলে। দিগম্বরগনকে যেমন দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় তেমনি উত্তর ভারতেও এদের দেখা মেলে; বিশেষ করে, উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে আর রাজপুতনার পুবে এবং পাঞ্জাবে।
খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের মধ্যেই শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর এই দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে যায় জৈনধর্ম। অবশ্য জৈনধর্মের মূল বিষয়ে এই দুই দলের মধ্যে বিশ্বাস ছিল অভিন্ন। অবশ্য, শ্বেতাম্বরপন্থিরা মহাবীর বিবাহিত ছিলেন বিশ্বাস করলেও দিগম্বরপন্থি জৈনরা মানতে নারাজ যে মহাবীর বিবাহিত ছিলেন! শ্বেতাম্বরপন্থি জৈনদের বিশ্বাস মহাবীরের ভ্র“ন নাকি প্রথমে স্থাপিত (প্রোথিত?) হয়েছিল দেবনন্দ নাম্মী এক ব্রাহ্মণ নারীর গর্ভে, পরে সেটি মহাবীরে মা ত্রিশলার গর্ভে বদলি করা হয়! দিগম্বরপন্থি জৈনরা এও মানতে নারাজ।
এই রকম পটভূমিতে ‘পূর্বাহ্নের আগুন’ নামে একটি দীর্ঘ গল্প লিখেছিলাম ...

গল্পটির ডাউনলোড লিঙ্ক

http://www.mediafire.com/?nwz2dqjvjtm
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×