আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

রবীন্দ্রনাথ ও আনা আখমাটোভা

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৩০

শেয়ারঃ
0 1 0



বিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান রুশ কবি আনা আখমাটোভা । রুশ ভাষায় তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা অনুবাদ করেছিলেন। এটাই ওঁর প্রতি আমার আগ্রহের মূল কারণ। দ্বিতীয় একটি কারণও আছে: আনা আখমাটোভাকে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ স্তালিনের নির্দেশে নানাভাবে মানসিক পীড়ন করেছিল। অথচ, স্তালিন আমৃত্যু যে আর্দশে বিশ্বাসী ছিলেন- আমিও সেই স্যোসিয়ালিষ্ট আদর্শের খুব একটা বিরোধী নই। বরং আমি শ্রমিকশ্রেণির ন্যয্য অধিকারের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল-এমন কী এই বাজার অর্থনীতির যুগে বেঁচেবর্তে থেকেও আমি স্রোতের বিপরীতে অবস্থান করে উৎপাদনযন্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানায় বিশ্বাসী-যেটি সমাজতন্ত্রের অন্যতম মূলমন্ত্র।
এ জন্যই আমি বুঝতে চেষ্টা করছি দু’ পক্ষকেই- কবি আনা আখমাটোভা কে এবং স্তালিন আমলের ব্যাক্তিপীড়নবাদী সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোটিকে ।
মধ্যিখানে অনিবার্যভাবেই রয়েছেন রবীন্দ্রনাথও ।
বললাম। আনা আখমাটোভা রুশ ভাষায় রবীন্দ্রনাথের কবিতা অনুবাদ করেছিলেন। সেজন্যই মনে একটি প্রশ্ন জাগে: রবীন্দ্রবলয়ে দাঁড়িয়ে আখমাটোভা রবীন্দ্রপ্রতিভায় আচ্ছন্ন হয়েছিলেন কি? যে রকম, আমরা হই। ১৯১৩ সালে লেখা আখমাটোভার In the Evening কবিতাটি পাঠ করা যাক।

The garden's music ranged to me
With dole that's beyond expression.
The frozen oysters smelled with freshness
And sharpness of the northern sea.

He told me, "I'm the best of friends!",
And gently touched my gown's laces.
Oh, how differs from embraces
The easy touching of these hands.

Like that they pet a cat, a bird...
Or watch the girls that run the horses....
And just a quiet laughter poses
Under his lashes' easy gold.

And the distressing fiddles' voice
Sings me from haze that's low flowed,
"Thank holly heaven and rejoice --
You are first time with your beloved."

দেখি কবিতাটির বাঙলা মানে করলে কি রকম দাঁড়ায়-

মনে হয়, উদ্যানসংগীত আমার কাছে আসে
অনির্বচনীয় এক বিষন্নতা নিয়ে ।
আর, উত্তর সমুদ্রের তীক্ষতাসহ
জমাট ঝিনুকের গন্ধ বড় সজীব।

সে আমায় বলেছিল,‘আমিই প্রকৃত বন্ধু।’
বলে সে ছুঁয়েছিল আমার আমার পোশাকের হেম।
ও হাতের সহজ স্পর্শ,
আলিঙ্গনের মতো সে তো নয়।

যেন তারা বেড়াল কি পাখি পোষে ...
কিংবা দেখে ঘোড়ায় চড়া মেয়েটিকে...
তার চাবুকের নিচের সহজ স্বর্ণ থেকে
শান্ত হাসির ভঙ্গিমায়।
(এ চারটে লাইন অনুবাদ সম্ভব হয়নি ...)

আর নৈরাশ্যময় বেহালাবাদকের সুর
নিচের আবছা বহমানতা থেকে আমার কাছে আসে।
‘ধন্যবাদ পবিত্র স্বর্গ এবং আনন্দ কর’
প্রথমবারের মত তুমি তোমার প্রিয়জনের সঙ্গে।’

এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথকে পাওয়া গেল কি? মনে হয় না। অথচ তখন আমি বলছিলাম যে- আনা আখমাটোভা রুশ ভাষায় রবীন্দ্রনাথের কবিতা অনুবাদ করেছিলেন ...আর আমি সেই চিহ্ন খুঁজছি-এতো বছর পর-যদিও ওপরের ‘ইন দ্য ইভিনিং’ কবিতায় রবীন্দ্রছাপ তেমন পাওয়া গেল না বোধহয়। আখমাটোভা এমন একটি সন্ধ্যার ছবি এঁকেছেন-যা আমাদের বোঝার বাইরে রয়ে গেল। আখমাটোভার এই কবিতাটি ১৯১৩ সালের দিকে লেখা । রবীন্দ্রনাথ এরপরও আরও গান/কবিতা লিখেছেন। আখমাটোভা সেসব গান/কবিতা পড়ে রুশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন। সেই সময়কার ছাপ কি আখমাটোভার মনের ওপর পড়েছিল?
হতে পারে। কেননা, নিচের কবিতার শেষের দিকে রবীন্দ্রনাথকে পাই। কবিতার নাম:I came here, in idleness.

I came here, in idleness.
Where I am bored: all the same to me!
A sleepy hilltop mill, yes,
here years pass silently.

Over convolvulus gone dry
the bee swims past, ahead,
I call to that mermaid by
the pond: the mermaid ís dead.

Thick with mud, and rusted,
the wide pondís shallows:
over the trembling aspen
a weightless moon glows.

I see everything freshly.
The poplars smell moist.
I’m silent. Silent, ready
to be yours again, earth.

এবার কবিতাটি বাংলা অনুবাদ করা যাক।

আমি এই নির্জনতায় আসি

আমি এই নির্জনতায় আসি
এখানেও একঘেঁয়ে লাগছে!
পাহাড়ের ওপর ঘুম ঘুম মিল
এখানে বছরগুলি নিঃশব্দে বয়ে যায়।

ওপরের সবুজ উদ্ভিদ গেছে শুকিয়ে
সামনেই, মৌমাছির ঝাঁক ।
পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে মৎস্যকুমারীটিকে ডাকি-
মৎস্যকুমারীটি মৃত।

ঘন কাদায় মোড়ানো পুকুরটি।
বড়। আর বড় অগভীর।
ওপরের ঝিরঝিরে গাছটি
ওজনশূন্য চাঁদটিও বাড়ছে।

আমি সবই সজীব দেখি।
গাছের শিশিরভেজা গন্ধ।
আমি নির্জন; নির্জন
তোমার জন্য-হে পৃথিবী।

এ কবিতায় রবীন্দ্রনাথকে যেন পাই। বিশেষ করে শেষ চারটি চরণে-

I see everything freshly.
The poplars smell moist.
I’m silent. Silent, ready
to be yours again, earth.

আবার সেরকম নাও হতে পারে। মিলে গেছে মাত্র-কবিদের স্বভাবই এই। তবে বেশ বোঝা যায়। আখমাটোভা গভীর এক বিষাদে আক্রান্ত হয়েই শহর থেকে দূরে নির্জন বনপথে যেতেন প্রায়ই। বললাম, গভীর এক বিষাদে আক্রান্ত হয়েই ...কেন? তখন আমি বলছিলাম। ...সে জন্যই আমি বুঝতে চেষ্টা করছি দু’ পক্ষকেই- কবি আনা আখমাটোভা কে এবং স্তালিনের আমলে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক সমাজের ব্যাক্তিপীড়নকে।
মধ্যিখানে রবীন্দ্রনাথও রয়েছেন।





আখমাটোভার জন্ম ইউক্রেইনের ওডেসায়।কিয়েভ হল ইউক্রেইনের রাজধানী। কিয়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন কিছুকাল।



কিয়েভ বিশ্ববিদ্যালয়

তরুণী বয়সে আখমাটোভা সেন্ট পির্টাসবার্গএ গিয়েছেন। কেননা, ওটাই ছিল রাশিয়ার প্রাণকেন্দ্র। আর, মফস্বলের কবিদের কেন যেন বড় বড় শহরগুলি টানে। যে কারণে সেন্ট পির্টাসবার্গ শহরেই জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছিল আখমাটোভার।



সেন্ট পির্টাসবার্গ। সেন্ট পির্টাসবার্গ-এ পৌঁছেই আখমাটোভা রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। কবিতার কারণেই। যে কারণে/পরবর্তীতে এই সেন্ট পির্টাসবার্গ শহরেই আখমাটোভাকে স্তালিনের নির্দেশে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষের পীড়ন করেছিল। করেছিল মানসিক নির্যাতন। কারণ-

সে আমায় বলেছিল,‘আমিই প্রকৃত বন্ধু।’
বলে সে ছুঁয়েছিল আমার আমার পোশাকের হেম।
ও হাতের সহজ স্পর্শ,
আলিঙ্গনের মতো সে তো নয়।

কিংবা-

আমি এই নির্জনতায় আসি
এখানেও একঘেঁয়ে লাগছে!
পাহাড়ের ওপর ঘুম ঘুম মিল
এখানে বছরগুলি নিঃশব্দে বয়ে যায়।

আখমাটোভার এই সমস্ত কবিতায় সমষ্টিকে পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া যাচ্ছে কেবল ব্যাক্তিকে। অথচ, স্তালিনের আমলে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষের ভাবনাচিন্তা ছিল ব্যাক্তিকেন্দ্রিক নয়-সমষ্টিকেন্দ্রিক। অথচ, কবি একা হতে চাইতেন।

আমি সবই সজীব দেখি।
গাছের শিশিরভেজা গন্ধ।
আমি নির্জন; নির্জন
তোমার জন্য-হে পৃথিবী।



রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানকার স্তালিনপন্থি জীবনধারা দেখে এসে রচলেন অবিস্মরণীয় এক যুগমন্ত্র-

আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?।
আমরা যা খুশি তাই করি, তবু তাঁর খুশিতেই চরি,
আমরা নই বাঁধা নই দাসের রাজার ত্রাসের দাসত্বে
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?।
রাজা সবারে দেন মান, সে মান আপনি ফিরে পান,
মোদের খাটো ক’রে রাখে নি কেউ কোনো অসত্যে
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?
আমরা চলব আপন মতে, শেষে মিলব তাঁরি পথে,
মোরা মরব না কেউ বিফলতার বিষম আবর্তে
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?।

তত্ত্ব হিসেবে সমাজতন্ত্র কিন্তু ভারি সুন্দর। কে না সাপোর্ট করে এটিকে। হালের অক্সফোর্ড-পন্ডিত অমর্ত্য সেন অবধি। কমরেড মোজাফফর আহমেদের সঙ্গে ১৯২০ সালের দিকে নজরুলও লাল খাতায় নাম লেখাতে গিয়েছিলেন কলকাতার এক গলিঘুঁজির ভিতরে। লিখেছিলেন: ‘গাহি সাম্যের গান ...’নজরুল কবি। কবিরা মানুষের দুঃখদারিদ্র সইতে পারেন না। আখমাটোভাও ...অনুমান করি। আখমাটোভাও সম্ভবত কল্যাণরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন প্লেটোর মতন -অবশ্য সে কল্যাণরাষ্ট্রে উপনীত হওয়ার পথটি সম্বন্ধে স্তালিনপন্থিদের সঙ্গে পোষন করতেন দ্বিমত।



আনা আখমাটোভা

বললাম যে- রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তখন নিশ্চয়ই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আখমাটোভা দেখা করেছিলেন। যে রকম কলকাতা থেকে জয় গোস্বামীরা ঢাকায় এলে কিংবা আগরতলা থেকে দীপঙ্কর সেনগুপ্তরা এলে জুবেরিরা দেখা করে ...আমার সর্বশেষ প্রশ্ন এই। যদি ... যদি আখমাটোভার সঙ্গে কবিগুরুর দেখা হয়ে থাকেই-তা হলে রবীন্দ্রনাথ কি আখমাটোভার সেই দুচোখে যন্ত্রনার ছাপ টের পেয়েছিলেন?


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রবীন্দ্রনাথ ও আনা আখমাটোভা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: রবীন্দ্রনাথ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৪২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৫০
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: হুমম, পড়লাম এবং জানলাম। আপনার পোস্ট পড়লে অনেক কিছু জানা যায়।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা রইল।

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৫২
নতুন রাজা বলেছেন: কেমন আছেন? আজ সকালে উঠেই আপনার পোস্ট খুঁজলাম। কিন্তু দেখি নাই... একটু পর একটা পোস্ট পেলাম যে দেশে ইন্টারনেট লাইন নাই। যাক, শেষে আপনার পোস্ট পেলাম...। অনেক বড় পোস্ট, পড়বো একটু পর। আগে +++

আমি সুসির পোস্ট লিখা শেষ করে এনেছি... আজ রাত অথবা কাল সকালেই পোস্ট দিবো আশা করছি...

ভালো থাকবেন...
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ। সুসির অপেক্ষায় রয়েছি।
শুভেচ্ছা রইল।

৪. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৫৩
কালপুরুষ বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। দুই মেরুর সহজ সমীকরণ খুঁজতে চেয়েছেন নিপূণ দক্ষতায়। আপনার অনুবাদ ভাল লাগলো। পুরো লেখাটায় যথেষ্ট পরিশ্রমের ছাপ পেলাম। লেখার প্রতি আপনার আগ্রহ, একাগ্রতা ও নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসা দাবী করে। চমৎকার এই পোস্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। শুভকামনা রইলো।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন: আপনার প্রতিও অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা রইল।

৬. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৫
অদৃশ্য বলেছেন: জুবায়ের ভাই...........চমৎকার ভাবনা। একবার পাঠ করা হলো তবে লিখাটা আবার পাঠ করতে হবে.......

শুভকামনা.....
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:০৬

লেখক বলেছেন: শুভকামনা।

৭. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:১৯
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: চমৎকার পোস্টের জন্যে প্লাস।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:২৫

লেখক বলেছেন: thanks.

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল।

৯. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১৭
অপ্‌সরা বলেছেন: বাহ ! অনেক কিছু জানা গেলো।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: শুভকামনা।

১০. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৩৩
নতুন রাজা বলেছেন: ইমন ভাই,

সুসির পোস্ট এখানে...

Click This Link

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: যাচ্ছি।

১১. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৬
দীপান্বিতা বলেছেন: I’m silent. Silent, ready
to be yours again, earth.

আমি নির্জন; নির্জন
তোমার জন্য-হে পৃথিবী।

খুব ভাল লাগল.....আনা আখমাটোভা সম্পর্কে আরো জানলাম ......ধন্যবাদ

ধন্যবাদ ....কথা রাখার জন্যেও :)
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৮

লেখক বলেছেন: হুমম।

১২. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৯
আকাশ অম্বর বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট, ইমন ভাই।

আনা আখমাটোভা-রবীন্দ্রনাথ-সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো !!
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: হু।

১৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৩০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: দারুণ পোস্ট।


ভাল্লাগলো খুব। আসলেই এসব নাড়া দেয়। মানে এইসব জানার জন্য এইসব খাঁটুনির কথা বলছি।

ভাল। খুব ভাল। চালিয়ে যান। আমরা আছি।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা।

১৪. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৫৪
দি ফ্লাইং ডাচম্যান বলেছেন: বারে বারে আপনার পোষ্ট পড়ে মন্তব্য করতে এসে থমকে যাই। প্রতিবারেই মনে হয় মন্তব্য করার মত যোগ্যতা বোধহয় এখনো অর্জন করতে পারিনি (...এবং এটাই সর্বৈব সত্যি)।

নিরন্তর গবেষণায় আলোকজ্জ্বল করুন এ ব্লগের প্রাঙ্গন।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১১

লেখক বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা।

১৫. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৪৯
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: কাব্য

তবু কি ছিল না তব সুখদুঃখ যত
আশানৈরাশ্যের দ্বন্দ্ব, আমাদেরই মতো
হে অমর কবি? ছিল না কি আনুক্ষণ
রাজসভা-ষড়চক্র, আঘাত গোপন?
কখনো কি সহ নাই অপমানভার,
অনাদর, অবিশ্বাস, অন্যায় বিয়ার,
অভাব কঠোর ক্রূর--নিদ্রাহীন রাতি
কখনো কি কাটে নাই বক্ষে শেল গাথি?
তবু সে সবার ঊর্ধ্বে নির্লিপ্ত নির্মল
ফুটিয়াছে কাব্য তব সৈন্দর্যকমল
আনন্দের সূর্য-পানে; তার কোনো ঠাঁই
দুঃখ দৈন্য-দুর্দিনের কোনো চিহ্ন নাই।
জীবনমন্থনবিষ নিজে করি পান
অমৃত যা উঠেছিল করে গেছ দান।।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫৮

লেখক বলেছেন: তবু সে সবার ঊর্ধ্বে নির্লিপ্ত নির্মল
ফুটিয়াছে কাব্য তব সৈন্দর্যকমল
আনন্দের সূর্য-পানে; তার কোনো ঠাঁই
দুঃখ দৈন্য-দুর্দিনের কোনো চিহ্ন নাই।
জীবনমন্থনবিষ নিজে করি পান
অমৃত যা উঠেছিল করে গেছ দান।।

১৬. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫১
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আমার সর্বশেষ প্রশ্ন এই। যদি ... যদি আখমাটোভার সঙ্গে কবিগুরুর দেখা হয়ে থাকেই-তা হলে রবীন্দ্রনাথ কি আখমাটোভার সেই দুচোখে যন্ত্রনার ছাপ টের পেয়েছিলেন?

আপনার প্রশ্নের উত্তর তো রবীন্দ্রনাথ নিজেই দিয়ে গেছেন--


কাব্য

তবু কি ছিল না তব সুখদুঃখ যত
আশানৈরাশ্যের দ্বন্দ্ব, আমাদেরই মতো
হে অমর কবি? ছিল না কি আনুক্ষণ
রাজসভা-ষড়চক্র, আঘাত গোপন?
কখনো কি সহ নাই অপমানভার,
অনাদর, অবিশ্বাস, অন্যায় বিয়ার,
অভাব কঠোর ক্রূর--নিদ্রাহীন রাতি
কখনো কি কাটে নাই বক্ষে শেল গাথি?
তবু সে সবার ঊর্ধ্বে নির্লিপ্ত নির্মল
ফুটিয়াছে কাব্য তব সৈন্দর্যকমল
আনন্দের সূর্য-পানে; তার কোনো ঠাঁই
দুঃখ দৈন্য-দুর্দিনের কোনো চিহ্ন নাই।
জীবনমন্থনবিষ নিজে করি পান
অমৃত যা উঠেছিল করে গেছ দান।।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: এই জন্যই তো রবীন্দ্রনাথ।

১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৯

লেখক বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা।

১৮. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩০
সোহানা মাহবুব বলেছেন: আমি নির্জন; নির্জন
তোমার জন্য-হে পৃথিবী।

চমৎকার লাগল।
+++

শেষদুটো লাইন কেন যেন জীবনানন্দীয় ঘ্রাণ আনে।

শুভকামনা।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪১

লেখক বলেছেন: আমিও তাইই ভাবছিলাম।
শুভকামনা।

১৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১২
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
শেষমেশ আমারেও একই লাইনে ফালায়া দিলেন, আমি আপনের যুগ্যি না, আমারে বড়জোড় মুটামুটি মানের পাঠক কইতে পারেন।

এইডা কি ঠিক হইল দাদা?
১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:০৬

লেখক বলেছেন: কি কন?

২০. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:২১
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: বেশ গবেষণাধর্মী পোষ্ট। অনেক কষ্ট করেছেন। অশেষ ধন্যবাদ।
কেমন আছেন ভাই?
১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:২৫

লেখক বলেছেন: আমি ভালো আছি।

২১. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪০
দীপঙ্কর বলেছেন:
আমি কী কইছি, আপনে বুঝবার পারেন নাই!!!! তাই না ???

/:)X(/:)
১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৪১

লেখক বলেছেন: কি কন? facebook e add koren .... zubaur imon

২২. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫
juddhobaaj বলেছেন: একসাথে অনেক গুলো ব্যপারে ধারণা পাওয়া যায় আপনার লেখা পড়লে।আজো একই রকম।ভালো থাকবেন।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৫

লেখক বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১২০৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ