আচ্ছা আঙ্কেল, আপনি কি চিটাগাঙ যাবেন?
না মা। আমি ফেনী নেমে যাব।
ও।
কুমিল্লা থেকে বাস ছাড়ার পর বেশ অনেক ক্ষণ কেটেছে। এই প্রথম পাশের সিটে বসে থাকা মাঝবয়েসী লোকটার সঙ্গে কথা বলল তন্বী। লোকটার গায়ের রং কালো, ব্যাক ব্রাশ করা শক্ত চুল, মুখে বসন্তের দাগ, সাদা ফ্রেমের চশমা, নীল রঙের শার্ট পরেছে তার ওপরে ধূসর রঙের কোট, কালো প্যান্ট । কেমন ‘আঙ্কেল’ ‘আঙ্কেল’ চেহারা। (সে জন্যই তো আঙ্কেল বলে ডাকল তন্বী।)
তন্বীর অল্প অল্প মন খারাপ । কারণ, লোকটা এতক্ষণ নিজে থেকে কথা বলেনি; কেন আমি কি মানুষ না! মিষ্টি করে দুটো কথা বললে কী এমন হত। লোকটা মাঝবয়েসি বলেই কথা বলল তন্বী, মানে অল্পবয়েসি হলে বলত না, মানে আগ বাড়িয়ে নিজে থেকে কথা বলত না, মানে সেই ছেলেটা খুব ভদ্রভাবে কথা বললে বলত, নইলে বলত না, চুপ করে থাকত।
তন্বী ভেবেছিল পাশের সিটে ফরসা করে আর লম্বা মতন একটা ছেলে বসে থাকবে। হল না। বাস ছাড়ার পর থেকেই এক ধরনের হতাশায় ভুগছিল তন্বী। তখন থেকেই ভাবছিল পাশের লোকটার সঙ্গে কথা বলবে। কথা অবশ্য না বললেও হত, কারণ একটা বই পড়ছিল তন্বী, শাহরিয়ার কবির-এর ‘হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা’। পাশের লোকটাও একটা বই পড়ছিল, না ঠিক বই না লোকটা একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা পড়ছিল। আড়চোখে পত্রিকার নামটিও দেখে নিয়েছিল: ‘মৌচাকে ঢিল।’ তন্বীর বাবাও এই ধরনের পত্রিকা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে।
লোকটা জিজ্ঞেস করল, তুমি কি চট্টগ্রাম থাক?
না, না। আমরা থাকি কুমিল্লা শহরে । চিটাগাঙে আমার নানাবাড়ি, বেড়াতে যাচ্ছি, পরীক্ষা শেষ তো, তাই।
ও, আচ্ছা। এবার তাহলে তুমি এস এস সি দিলে?
হ্যাঁ। মাথা নেড়ে বলল তন্বী।
আমার এক বোনের মেয়েও দিল। শম্পা। ওরা অবশ্য থাকে চাঁদপুর। তা কি নাম তোমার ?
তন্বী।
বাহ্, বেশ সুন্দর নাম তো।
তন্বী এবার চুপ করে যায়। মুখ ফিরিয়ে নেয়। লোকটার সঙ্গে ও আর কথা বলবে না। সুন্দর নাম কেন বলল লোকটা। আমার নামটা যদিও সুন্দর, সবাই বলে, তবে এত তাড়াতাড়ি লোকটার বলা মোটেও উচিত হয়নি। আমি বেশি কথা বলে ফেললাম নাকি? বেশি কথা বলার কি দরকার। হাজার হোক অচেনা যাত্রী। এখুনি হয়তো কিছু খেতে অফার করবে, হয়তো চকলেট, ক্যাডব্যারি চকলেট । অফার করলে তন্বী কিছুতেই খাবে না। খেলেই যে সেন্সলেস হয়ে যাবে। এমন তো হয়, হয় না? তন্বী দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে। ওর ষোল বছরের জীবনটা ভারি সাদামাটা, আজ পর্যন্ত তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি, মেয়েবেলায় মেয়েধরাও ধরেনি, জ্বীন-পরীও ধরেনি, কুকুরও কামড়ায়নি, বেড়াল অবশ্য একবার খামচি দিয়েছিল, এটা কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল? আজ পাশের সিটে ফরসা করে লম্বা মতন একটা ছেলেও তো বসতে পারত; তার বদলে হোতকা মতন দেখতে একটা লোক বসে রয়েছে, চালাকি করে আবার আমার নামের প্রশংসা করল। না লোকটার সঙ্গে আর কথা বলব না, বরং বই পড়ি।
বইতে মন বসাতে চেস্টা করে ও।
পড়তে পড়তে মন খারাপ হয়ে যায় তন্বীর। সিলেটের কুয়াশা ঘেরা কমলাবাগানের স্বপ্লীল পরিবেশে দুটি কিশোর-কিশোরীর স্বপ্ন আর ভালোবাসার গল্প হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা। কিশোর-কিশোরীর স্বপ্ন আর ভালোবাসার গল্প বলেই মা এতদিন বইটা পড়তে দেয়নি, বইটা জব্দ করে রেখেছিল। এস এস সি টা দেওয়ার পরই পড়ার অনুমতি মিলেছে। (মার কড়া শাসনেই তো এখন পর্যন্ত ওর জীবনে ফরসা করে লম্বা মতন কেউ এল না ...) শাহরিয়ার কবির চমৎকার লেখেন। তন্বীর বড় মামা শাহরিয়ার কবিরকে খুব ভালো করেই চেনেন। শাহরিয়ার কবির কখনও চিটাগাং গেলে বড় মামার আশকার দীঘির পাড়ের বাসায় একবার যান । তন্বীর ছোট মামাও আশকার দীঘির পাড়ের বাসায় থাকেন। মিমি সুপার মার্কেটে খেলনার দোকান আছে রিন্টু মামার। আজ বাসস্টপে ছোট মামা থাকবে। বাসে ওঠার আগে ছোটমামার সঙ্গে কথা হয়েছে মোবাইলে। এই প্রথম কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম একা যাচ্ছে তন্বী। উপায় কী, বাবার অফিস, মায়ের স্কুল। তাই বলে ছুটিটা মাঠে মারা যাবে। চিটাগাঙ শহরটা কি সুন্দর! আশকার দীঘির পাড়ে বড় মামার হলুদ রঙের দোতলা বাড়িটা কি সুন্দর। দোতলার বারান্দায় দাঁড়ালে দীঘি চোখে পড়ে। বাড়ি সামনে গলি, সে গলি দিয়ে হেঁটে গেলে জামাল খান লেন। বড় খালার শ্বশুর বাড়ি। বড় খালার বড় মেয়ে ঝিনুক, ওরই সমবয়েসি। ঝিনুকের সঙ্গে ভোরবেলা ঘুরে বেড়িয়েছে ডিসি হিল, ব্রডওয়ে, লাভ লেইন। লাভ লেইন-এ ছোট খালার হবু বরের চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট। ১৮ তারিখে ছোট খালার বিয়ে। সবাই মিলে ফটিকছড়ি নানাবাড়ি যাবে। তখন ঢাকা থেকে মা-বাবা আসবে। ওদের সঙ্গে ঢাকা ফিরে যাবে তন্বী। তারপর নতুন জীবন। কলেজ। নতুন বান্ধবী। ওদেরই কারও হয়তো ফরসা করে লম্বা মতন ভাই আছে। তেমন যদি না হয়? এসব ভেবে ভেবে গভীর হতাশায় ভোগে তন্বী। ছোট খালার কথা মনে হলেও হতাশা বাড়ে। ছোট খালার জন্য বিয়ের গিফট কিনেছে তন্বী। বই। তো ছোট খালা বইটই পড়ে না। বই পড়তে ভালোবাসে তন্বী; উপহার হিসেবে সবাইকে ও বই ছাড়া অন্য কিছু দেয় না। সোহরাব সুমন তন্বীর ভীষণ প্রিয় ছড়াকার। উপহার হিসেবে ও সবাইকে সোহরাব সুমনের ছড়ার বইই গিফট করে । ছোটখালার জন্যও ছড়াকার সোহরাব সুমনের ছড়ার বই কিনেছে। ছোট খালা ভালো ভাবে নেবে না। সেজন্য ছোট খালার কথা মনে হলেও হতাশা বাড়ে।
ক্লাস এইটে পড়ার সময় প্রথম সোহরাব সুমনের ছড়া পড়েছিল তন্বী ।
ভালো লাগার সেই শুরু। তারপর ভালো লাগা আরও গভীর হয়েছে। দেবতার স্থানে বসিয়েছে সোহরাব সুমনকে। সোহরাব সুমন-এর সবগুলি বই আছে ওর কাছে। প্রতিটি ছড়া মুখস্ত। ছড়াকার সোহরাব সুমনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে তন্বী। মাকে নিয়ে বেশ কবার বইমেলায় গেছে। (ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলার সময় ঢাকা যাওয়া হয়) তবে বইমেলায় সোহরাব সুমনের সঙ্গে দেখা হয়নি। সোহরাব সুমনের সব বই প্রকাশ করে বাহার প্রকাশনী। বাহার প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী সফি আহমেদ-মধ্যবয়েসী ভদ্রলোক। তার কাছে তন্বীর মা
মোবাইল নম্বর চেয়েছিলেন; নিষেধ আছে বলে পাওয়া যায়নি। ছড়াকার সোহরাব সুমন নাকি ভারি ব্যস্ত লোক । প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা করেন।
নাহ্, বইয়ে মন বসছে না। নকিয়াটা হ্যান্ডব্যাগের ভিতরে। ওটা বার করে ঝিনুককে ফোন দিল। ঝিনুক ফোন ধরে বলল, হ্যালো, তন্বী?
তন্বী জিজ্ঞেস করল, কেমন শব্দ হচ্ছে, তুই এখন কই রে ঝিনুক?
ঝিনুক বলল, আমি এখন ফয়েস লেক।
সঙ্গে কে রে?
বলব না। হি হি।
না বললে মাকে বলে দেব। বলে বহু কষ্টে হাসি চাপল তন্বী।
ইচ্ছে হয় তো বলিস। তুই বাসে?
হ্যাঁ।
পাশে কে?
খুব সুন্দর একটা ছেলে।
মিথ্যা কথা।
মর তুই। বলে তন্বী ফোন অফ করে দেয়। মিটমিট করে হাসছে। তন্বী জানে ঝিনুকের সঙ্গে জাহিদ। লালখান বাজার থাকে জাহিদ । ঝিনুক আর জাহিদ তিন মাস আগে বিয়ে করে ফেলেছে। তন্বী শুধু জানে। মাকে না বলে পারেনি তন্বী। মা বলেছে সময় হলে দু পরিবারে মিটমাট করে দেবেন। ঝিনুক পড়–ক। ঝিনুক পড়বে কি! এবারও সিওর ফেল করবে।
আড়চোখে পাশের সিটে বসে থাকা লোকটার দিকে তাকাল তন্বী। একমনে পত্রিকা পড়ে যাচ্ছে। তন্বীর ইর্ষা হল; লোকটাকে বিরক্ত করবে ঠিক করল। জিজ্ঞেস করল, আঙ্কেল আপনি কি ফেনী থাকেন?
ভদ্রলোক মুখ তুলে বললেন, না মা। আমি থাকি ঢাকায়। প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা করি, আরামবাগে আমার প্রেস আছে। এই নাও চকোলেট খাও। বলে কোটের পকেট থেকে একটা ক্যাডব্যারি চকলেট বের করে দিলেন।
ওহ। থ্যাঙ্কস। তন্বী কাঁপা কাঁপা হাতে চকলেট নিল, ওর বুকটা ভীষণ কাঁপছে, তবে কিছুতেই চকলেট খাবে না ও। বরং সাবধানে জিজ্ঞেস করল, আপনার পকেটে চকলেট যে আঙ্কেল?
ও হো। চকলেট আমার বোনের মেয়ের জন্য কিনেছি।
আমায় দিয়ে দিলেন যে? তন্বীর বুক কাঁপা এখনও থামেনি।
দিলাম তো কি হল? খাও। ফেনী নেমে আবার কিনে নেব। ক্যাডবেরি চকলেট তো সব জায়গায় পাওয়া যায়,তাই না?
তা ঠিক। মাথা নাড়ল তন্বী। জিজ্ঞেস করল, ফেনী যাচ্ছেন কি ব্যবসার কাজে আঙ্কেল?
না। ফেনী আমার বোনের শ্বশুর বাড়ি। বোনকে আনতে যাচ্ছি, ঢাকায় আমার বাড়ি বেড়াবে। সোনিয়ার পরীক্ষা শেষ।
কে সোনিয়া?
আমার বোনের মেয়ে। ক্লাস সিক্সে পড়ে।
ও।
বাস থামল। লোকটা উঠে দাঁড়ায়। তার মানে ফেনী এসে গেছে। ওপর থেকে একটা কালো ব্রিফকেস আর পলিথিনের ব্যাগ নামিয়ে দ্রুত বাস থেকে নেমে যায়। জানালা দিয়ে তাকাল তন্বী । ঝরঝরে রোদ। রিকশার ভিড়। লোকটা খুঁজল পেল না। গেল কোন্ দিকে? ওর মন খারাপ হয়ে যায়। যাওয়ার আগে কিছু বলে গেল না। ‘আসি’ বললেও পারত, কিংবা ‘যাই কেমন, ভালো থেকো’ কিংবা ইংরেজিতে ‘টেক কেয়ার।’ ভারি অভদ্র লোক।
গাড়ি তখনও থেমে। হঠাৎ চোখে পড়ল পাশের সিটে একটা বই। বইটা ফেলে গেছেন ভদ্রলোক। তন্বী বইটা তুলে নিল। পরিচিত বই। ওর বুকটা ধরাস করে ওঠে। সোহরাব সুমন এর সদ্য প্রকাশিত বই, ‘ছড়ার হাটে/ঘুড্ডি কাটে।’ আশ্চর্য! ভদ্রলোক সোহরাব সুমন এর ছড়ার বই পড়ে? দ্রুত বইয়ের পাতা ওল্টায় তন্বী। ভিতরে লেখা: মামনি সোনিয়াকে সুমন মামা। কে সোনিয়া? সোনিয়া তো ভদ্রলোকের বোনের মেয়ে। ক্লাস সিক্সে পড়ে, যার ভাগের চকলেট। তা হলে সুমন মামা কে? তখন বললেন, আমি থাকি ঢাকায়। আমি প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা করি, আরামবাগে আমার প্রেস আছে। নাও চকলেট খাও। তন্বীর মনে পড়ল বাহার প্রকাশনীর মালিক সফি আহমেদ বলেছিলেন: সুমন সোহরাব ভীষণ ব্যস্ত। প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা করেন, প্রেস আছে। আশ্চর্য! এতক্ষণ আমার পাশে যে বসেছিলেন সেইই সোহরাব সুমন। ...ইস্ ...বলা হল না আপনার লেখা ছড়া আমার ভীষণ ভীষণ ভীষণ পছন্দ । কত কাছে এসেও জানানো ইস্ হল না। জীবনে এমনও হয়। ওর ষোল বছরের জীবনটা ভারি সাদামাটা, আজ পর্যন্ত তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি, আজ ঘটল; ইস! তন্বীর শরীর রীতিমতো কাঁপছে। খানিক ক্ষণ বাদে শান্ত হয়ে তন্বী ভাবল: ছড়াকার সোহরাব সুমন আমায় চকলেট দিলেন। না জেনে পরম এক ভক্তকে উপহার দিয়ে গেলেন! তা হলে তো চকলেটে অষুধ মেশানো নেই; চকলেট খাওয়াই যায়। সাবধানে প্যাকেট খোলে তন্বী। লাল রঙের প্যাকেটটা সারাজীবন লুকিয়ে রেখে দেবে। বাদামি চকলেটের কোণে আস্তে কামড় বসায়। প্রিয় ছড়াকারের উপহার বলেই স্বাদ অন্যরকম ঠেকল। ছড়াকার সোহরাব সুমন কী ভালো মানুষ। তন্বীর সিটটা জানালার ধারে পড়েনি। ছড়াকার সোহরাব সুমন তখন আশ্চর্য নরম কন্ঠে বলেছিলেন, জানালার ধারে বসবে তুমি? বস। যেন তিনি জানেন, কিশোরীরা দূরপাল্লার যাত্রায় বাসের জানালার ধারে বসতে ভালোবাসে। কবি আর ছড়াকার বলেই জানেন।
বাসটা আবার চলতে শুরু করেছে।
তন্বীর ভীষণ মন খারাপ হয়ে যেতে থাকে। ইস্ এত কাছে এসেও বলা গেল না আপনি ছড়াকার সোহরাব সুমন! আপনাকে ... আপনাকে ...আপনাকে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে চকলেটে আরেকটা কামড় দিয়ে মুখ তুলতেই দেখল শাদা রঙের টি শার্ট আর কালো রঙের প্যান্ট পরা ফরসা করে লম্বা মতন চশমা পরা মিষ্টি চেহারার একটা ছেলে এদিকেই আসছে। ছেলেটার কাঁধে একটা ব্যাগ। পকেট থেকে টিকেট বার করে দেখে নিয়ে ব্যাগট ওপরে রেখে তন্বীর ঠিক পাশের সিটে ধপ করে বসল। দ্রুত চকলেট লুকিয়ে ফেলল তন্বী । মুখের ভিতরে চকলেট, ছেলেটাকে বুঝতে দিবে না কিছু খাচ্ছে। সারা শরীর অবশ অবশ ঠেকছে। ছেলেটা যদি নাম জিজ্ঞেস করে তো প্রথমে ভীষণ রেগে যাবে ঠিক করল । যা তা বলবে। তারপরও ছেলেটা বারবার অনুরোধ করলে মিথ্যে করে বলবে: আমার নাম ঝিনুক ...
উৎসর্গ: আকাশ পাগলা
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




